আমাদের মানচিত্র  |  বর্ষ: ১, সংখ্যা: ৩০     ঢাকা, বাংলাদেশ  |  আজ মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭  |  




আর্কাইভ সংখ্যা - আর কতটা পথ পেরুলে...

আর্কাইভ সংখ্যার প্রচ্ছদ



বর্ষ: ১, সংখ্যা: ৩০
রবিবার, ৩ নভেম্বর ২০১৩




 
একনজরে এই সংখ্যা -

  প্রচ্ছদ প্রতিবেদন : আর কতটা পথ পেরুলে...
  সম্পাদকীয় : ধ্বংসের মহড়া আর নয়টিআইবি রিপোর্ট: পোশাকশিল্প নিয়ে স্বেচ্ছাচার কাম্য নয়
  সাহিত্য : নাথ সাহিত্যের স্বরূপ
  খেলা : গর্জে উঠলো বাংলাদেশ
  কলাম : রবার্ট-মেলাণি-মণিকা
  প্রবাস : পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে
  ফিচার : তাঁতির গান তাঁতের গান
  বিশেষ প্রতিবেদন : জাতীয় পার্টিতে ভাঙ্গন?ট্র্যাম্প কার্ড এরশাদ!
  প্রতিবেদন : পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ না করলে জেল-জরিমানা
  স্মরণ : কত স্বপ্ন মেঘে ঢেকে যায়!
  প্রবাস : চিতোর, ইতিহাসের তিন নারী
  ইনফোটেক : গ্রাফিন: বিশ্বটাকে পাল্টে দেবে যে ধাতু
  রাজনীতি : সুজনের ৫+৫+১ ফর্মূলা
  বিশ্লেষণ : অনিশ্চিত গন্তব্য!
  আন্তর্জাতিক : দারদোপাড়ায় স্বামীদের অপেক্ষায়!
  অনৃসন্ধান : ক্রেডিট কার্ডে বাড়ছে ঝুঁকিগ্রাহকের কাছে মূর্তিমান আতঙ্ক!
  শিল্প আলোচনা : আসছে আয়না সুন্দরী
  এক্সক্লুসিভ নিউজ : বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে সিএনএনপরিকল্পনায় আইএসআই, বাস্তবায়নে সাকা চৌধুরী
  কলাম : খালেদা জিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রূপরেখা
 



প্রবাস পড়া হয়েছে ৬১৫১ বার

চিতোর, ইতিহাসের তিন নারী

লিয়াকত হোসেন, সুইডেন থেকে

ভারত ভ্রমণে চিতোরে পা ফেলেই মনটা বিষণœ হয়ে উঠলো।
চিতোর, চিতোরের রূপবতী রানী পদ্মাবতী, শ্রীকৃষ্ণ প্রেমিকা মীরাবাঈ, রানী কর্ণাবতী ইতিহাসে এঁদের আত্মত্যাগের কথা পড়েছি। সেই থেকেই স্মৃতির বিষণœ কোঠায় চিতোর আত্মগোপন করেছিল। অদ্ভূত এক আকর্ষণে আজমীর হতে ছুটে চললাম চিতোরের দিকে। দূরত্ব প্রায় ১৯০ কিলোমিটার। দূরত্ব যতই হোক চিতোর যেন টানছে। আর ভেতরটা বারবার ফুঁসে উঠছে সুলতান আলাউদ্দিন খিলজীর উপর। খিলজীরতো পত্মী, উপপতœী, হারেমভর্তি রূপবতী রমনী, নর্তকী কম ছিলনা, তবু রাজপুত সমাজ সামাজিকতা জেনেও পদ্মাবতীর দিকে কেন হাত বাড়ালেন? তা’হলেতো পদ্মাবতীকে এভাবে আত্মাহুতি দিতে হতোনা।
অনেক চড়াই উৎড়াই আর বিশাল বিশাল দরজা পার হয়ে চিতোর দূর্গদ্বারে যখন এসে দাঁড়ালাম তখন দুপুর গড়িয়ে বিকেল। সূর্যের হালকা আলো চারদিক ছড়িয়ে। দূর্গের ভগ্নস্তুপের উপর আলো যেন বিষণœতায় হাহাকার করছে। সিঁড়ি ভেঙ্গে উপরে উঠে এলাম। শরীরে বিদ্যুত খেলে গেল। এখানে কোথাও রানী পদ্মাবতীর মহল। এখানে কোথাও আত্মাহুতির আগুন জ্বলে উঠেছিল। চিতোর দূর্গ সমতলভূমি হতে পাঁচশত ফিট আর সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে আঠোরো শত ফিট উচ্চতায় অবস্থিত। প্রায় সাতশ একর জমির উপর তিন মাইল দীর্ঘ বিশাল সুরক্ষিত এক দূর্গ। জনৈক বৃটিশ প্রতœতত্ত্ববিদ চিতোর দূর্গ পরিমাপ করতে এসে দূর্গের বিশালতা দেখে বলেছিলেন, ‘হাটছিতো হাটছি, পথ আর শেষ হয়না, যেন বিশাল এক জাহাজের ডেকের উপর দিয়ে হেঁটে চলেছি।’  কিন্তু আমি জাহাজের ডেকে নয় দাঁড়িয়ে আছি কালের গর্ভে ধ্বংসপ্রাপ্ত এক বিশালতার মাঝে। চিতোর দূর্গকে বলা হয় রাজস্থানের গর্ভ। মহাভারতে কথিত আছে পঞ্চপাণ্ডবের পরাক্রমশালী পাণ্ডব ভীম এই দূর্গ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মহাভারত যাই বলুক, এই দূর্গের আনাচে কানাচে আছে হাহাকার, প্রেম-ভালবাসা আর জীয়নশক্তি। মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ কবি মালিক জয়সী পদ্মাবতীর আত্মাহুতির উপাখ্যান নিয়ে দুইশত সাঁইত্রিশ বছর পর লিখেছিলেন যুগান্তরকারী মহাকাব্য ‘পদ্মাবতী’। রানী পদ্মাবতী যেন জয়সীর কাব্যে জীবন্ত হয়ে আছেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এই কাব্যের উপর আলোচনা পর্যালোচনা করতে গিয়েই হয়তো চিতোরের প্রতি আকর্ষণ জন্মে গিয়েছিল।
সিংহাল দেশের রাজা গন্ধর্ব সেন ও রানী চম্পাবতীর কন্যা রাজকুমারী পদ্মাবতী।
পদ্মাবতী বয়ঃপ্রাপ্তা হলে রাজা গন্ধর্ব সেন কন্যার বিবাহ উপলক্ষে এক স্বয়ম্ভর সভার আয়োজন করেন। স্বয়ম্ভর সভায় বিভিন্ন দেশ থেকে আগত রাজা, রাজপুত রানা, মহারানাদের আগমনে উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। সে সভায় চিতোরের রানা রাওয়াল রতন সিং পতœী রানী নাগবতীসহ উপস্থিত হন এবং বিজয়ী হয়ে রাজকুমারী পদ্মাবতীকে দ্বিতীয় রানী হিসেবে বিবাহ করে চিতোর প্রত্যাবর্তন করেন। দিল্লীর শাসক আলাউদ্দিন খিলজী কেন চিতোর আক্রমণ করেছিলেন সে সর্ম্পকে ইতিহাসে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য আছে। প্রায় সব তথ্যেই পদ্মাবতীর প্রতি শাসক খিলজীর আকর্ষণই প্রাধান্য পেয়েছে। পদ্মাবতীর বিবাহে রানা রাওয়াল উপঢৌকন হিসেবে প্রচুর ধন ও জহরত লাভ করেন। রানা রাওয়ালের দুই ভাই উপঢৌকনের কিছু অংশ ভাগ হিসেবে দাবি করলে রানা তাদের রাজ্য হতে বিতারিত করেন। বিতাড়িত ভায়েরা চিতোর আক্রমণে দিল্লীর শাসক খিলজীকে প্ররোচিত করেন। ধন দৌলতের সঙ্গে পদ্মাবতীর আকর্ষণ বাড়তি মাত্রা যোগ দেয়। ইতিহাসের অন্য এক কোণে পাওয়া যায় ১২০৬ সালে দিলীর সিংহাসনে আরোহণ করে আলাউদ্দিন খিলজী দ্বিতীয় আলেকজান্ডার বা ‘সিকান্দার সানী’ উপাধী ধারণ করে রাজ্য বিস্তারকল্পে প্রথমে রানথাম্বর দূর্গ ও পরে চিতোর দূর্গ আক্রমণ করেন। কিন্তু চিতোরে এসে রাজপুত রানাদের দ্বারা প্রবল বাধাপ্রাপ্ত হন। সে সময় চিতোরের শাসনকর্তা রানা রাওয়াল রতন সিং।
বাধাপ্রাপ্ত সুলতান খিলজী এক বার্তায় রাওয়াল রতন সিংহকে জানালেন, শুধু এক মুহূর্ত রানী পদ্মাবতীর দর্শন পেলে তিনি দিল্লি প্রত্যাবর্তন করবেন। চিতোর রক্ষার্থে ও অনর্থক রক্তপাত এড়াতে রাওয়াল রতন সিং অনৈতিক প্রস্তাবটি মেনে নিলেন। সুলতান খিলজী দেহরক্ষীসহ চিতোর দূর্গে প্রবেশের অনুমতি পেয়ে রানী পদ্মাবতীর রূপ আয়নায় দর্শন করে ফিরে এলে রাওয়াল রতন সম্মান প্রদর্শনপূর্বক সুলতান খিলজীকে দূর্গদ্বার পর্যন্ত এগিয়ে দিতে গেলে সুলতান খিলজী শঠতাপূর্বক রানা রাওয়ালকে বন্দি করেন।
রানা রাওয়ালকে বন্দি করে সুলতান এক আদেশে রানী পদ্মাবতীকে জানালেন, রানীকে তাঁর সঙ্গে দিল্লি সহগামী হতে হবে নতুবা রাওয়ালকে মুক্তি দেয়া সম্ভব নয়। রাজপুত শৌর্য্য ও সংস্কৃতি অনুযায়ী রানী পদ্মাবতীর পক্ষে সুলতানের প্রস্তাব মেনে নেয়া সম্ভব ছিলনা। রানী দূত মারফৎ জানালেন, সুলতান যদি তাঁর সাতশ দাসীকে বহন করার জন্য সাতশ পাল্কীর ব্যবস্থা করতে পারেন তবে তিনি সুলতানের সহগামী হবেন। কারণ রানী হিসেবে বাদী ব্যাতিরেকে যাওয়া সম্ভব নয়। সুলতান খিলজী উপায়ন্ত না পেয়ে সাতশ পাল্কীর ব্যবস্থা করে পদ্মাবতীর মহলে পাঠালেন। এদিকে রানী পদ্মাবতী নিজ বুদ্ধিমত্তায় প্রতিটি পাল্কীতে নারীর ছদ্মবেশে পাল্কী বাহকসহ ছ‘জন করে যোদ্ধা পাঠালেন। সে সঙ্গে ছ’জনের উপযোগী যুদ্ধাস্ত্র। রানীর চাচা গৌর পাল্কী বহর নিয়ে সুলতান খিলজীর দরবারে উপস্থিত হয়ে জানালেন, রানী পদ্মাবতী শেষবারের মত স্বামী রাওয়ালকে দর্শন করতে চান। সুলতানের অনুমতিক্রমে পাল্কী বহর উপস্থিত হয় রানা রাওয়ালের বন্দি শিবিরে। সাতশ পাল্কীর ৪২০০ যোদ্ধা দ্রুতই রানা রাওয়ালকে মুক্ত করে দূর্গে পাঠিয়ে দিয়ে সুলতান খিলজীকে চিতোর থেকে বিতারিত করে। বিতারিত ও পরাজিত সুলতান দিল্লি প্রত্যাবর্তন করেও চিতোরের তপ্ততা ভুলতে পারেননি। তাই পুনরায় সেনাবাহিনী পূনর্গঠন করে ১৩০৩ সালে চিতোর আক্রমণ করেন। বিখ্যাত লেখক আমীর খসরু যিনি চিতোর অভিযানে ছিলেন, পরবর্তীতে তাঁর বিখ্যাত ‘তারিখ-ই-ইলাহি’ পুস্তকে লিখেছেন, ১৩০৩ সালের ২৩ জানুয়ারি সুলতান খিলজী দিল্লি হতে রওয়ানা হয়ে ১৩০৩ সালের ২৫ আগস্ট চিতোর দূর্গ অধিকার করেন। এই অভিযানে ত্রিশ হাজার চিতোরবাসীকে হত্যা করে চিতোরের শাসনভার পুত্র খিদির খানের উপর ন্যস্ত করা হয় ও চিতোরের নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম করন করা হয় খিদিরাবাদ।
২৬ আগস্ট, ১৩০৩
এক সূর্যস্নাত সকাল। একদিন আগে দূর্গের পতন হয়েছে। রানী পদ্মাবতী এক দরজাবিশিষ্ট কুম্বা মহলের বিশাল এক কক্ষে দাসী, সহচরী, দরবারের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের স্ত্রী, কন্যাদের নিয়ে বিবাহ সাজ পরিধান করে কক্ষে প্রবেশ করেন। রানী পদ্মাবতী চিতোর পতনে সুলতান খিলজীর হাতে ধরা দেয়ার পরিবর্তে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন। পূর্বেই ছোট শিশু ও বালক-বালিকাদের সুরক্ষিত স্থানে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। সবাই কক্ষে প্রবেশ করার পর কক্ষের ভারী দরজা বন্ধ করে দেয়া হল। এরপর একে একে সবাই কক্ষের ভেতর জ্বলন্ত অগ্নিকুন্ডে ঝাঁপিয়ে পরে আত্মাহুতি দিলেন। সুলতান খিলজী বিজেতার বেশে দূর্গে প্রবেশ করে পদ্মাবতীর দেহের ভষ্ম ছাড়া আর কিছু পাননি। রানী পদ্মাবতীর আত্মাহুতির মধ্য দিয়ে চিতোর রাজ্যে প্রবর্তিত হয় ‘জওহর’ প্রথা। বিজেতাদের হস্ত হতে নিজেদের সম্ভ্রম রক্ষার্থে রাজপুত রমনীরা ‘জওহর’ প্রথা বেছে নিতেন। যেমন নিয়েছিলেন শ্রীকৃষ্ণ প্রেমিকা মীরাবাই। তবে মীরাবাই কোন বিজেতার দ্বারা আক্রান্ত হননি, হয়েছিলেন সমাজ দ্বারা।
চিতোরের যে তিনজন ইতিহাসের পাতায় ও সাধারন মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন তাঁদের তিনজনই নারী। রানী পদ্মাবতী, মীরাবাই ও রানী কর্ণাবতী। শ্রীকৃষ্ণ প্রেমে আপ্লুত মীরাবাইয়ের ভক্তিমূলক সঙ্গীত শোনেননি এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া কঠিন। তবে রানী পদ্মাবতী ও মীরাবাইয়ের মধ্যে সময়ের পার্থক্য প্রায় দু’শ বছর। ১৩০৩ সালে পদ্মাবতীর আত্মাহুতির দু’শ বছর পর ১৫০৩ সালে কুদকী গ্রামে মীরার জন্ম। রাজস্থানের কুদকী গ্রামটি খুবই অখ্যাত ও ছোট। অখ্যাত হলেও মীরার জন্মস্থান হিসেবে সুখ্যাতি পেয়েছে। মীরার পিতা রতন সিং, মীরার দশ বছর বয়সে মায়ের মৃত্যু হলে দাদা রাও দুদাজীর আশ্রয়ে লালিত পালিত হন। ১৫১৫ সালে দাদার মৃত্যু হলে মেওয়াদের রাজা রানা সাংগার পুত্র ভোজরাজের সঙ্গে মীরার বিবাহ দেয়া হয়। ছোট বেলা থেকেই মীরা শ্রীকৃষ্ণ প্রেমে আপ্লুত। কণ্ঠ সুমধুর হওয়ায় গানও গাইতেন। বিয়ের পরও তাঁর কৃষ্ণ ভক্তি উত্তেরোত্তর বৃদ্ধি পায়। বিবাহের বার বছর পর স্বামীর মৃত্যু হলে মীরা ধর্ম কর্মে নিজেকে আরো জড়িয়ে ফেলেন। সে সময় মীরার বয়েস মাত্র চব্বিশ। মীরার কৃষ্ণ ভক্তি, সঙ্গীত প্রীতি ও জনপ্রিয়তা রানা পরিবার থেকেই বাধার সৃষ্টি করে। মীরার দেবর বিক্রমাদিত্য চিতোরের সিংহাসনে অধিষ্ঠ হলে মীরার প্রতি দেবরের নির্যাতন বৃদ্ধি পায় এবং রাজা বিক্রমাদিত্য মীরার হাতে বিষের পেয়ালা তুলে দিয়ে ‘জওহর’ ব্রত পালন করতে বলেন। কিন্তু বিষ পানে রক্ষা পেলে মীরাকে রক্ষার্থে চাচা রাও বিক্রমদেব মীরাকে পিতৃগৃহে পাঠিয়ে দেন।
বিবাহের পর মীরাবাই চিতোর এলে নিজ ব্যবহার ও শ্রীকৃষ্ণ পূজার জন্য একটি মন্দির তৈরি করে দিতে বলেন। মীরার শশুর মহারানা প্রথম সংগ্রাম সিং পুত্রবধূর জন্য কুম্বা মন্দিরের পাশে ছোট একটি মন্দির নির্মাণ করেন। এই মন্দিরটি কালক্রমে মীরামন্দির নামে খ্যাতি লাভ করে। সম্ভবত ১৫৩২ সালে মীরাবাই চিতোর ত্যাগ করে বৃন্দাবন গমন করেন। জীবনের বেশ কিছুটা সময় বৃন্দাবনে অতিবাহিত করার পর মীরা ছোটগ্রাম দারকায় প্রত্যাবর্তন করেন। এখানেই তিনি তাঁর বিখ্যাত ভক্তিমূলক গানগুলো রচনা করেন। এবং শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন এই গ্রামেই।
চলে এলাম বিজয় স্তম্ভের কাছে
দু’শ বাইশ ফিট লম্বা নয় তলাবিশিষ্ট স্তম্ভটির চারদিক দেবদেবীর মূর্তিখচিত। ১৪৪৬ সালে নির্মান শুরুর পর শেষ হয় ১৪৪৮ সালে। মালওয়ার সুলতান মেহমুদ খিলজীকে ১৪৩৭ যুদ্ধে পরাজিত করে মহারাজা কুম্বা বিজয় প্রতীকস্বরূপ এই স্তম্ভ নির্মাণ করেন। বিজয়স্তম্ভের অদূরেই মীরাবাইয়ের মন্দির। মন্দিরের নির্মাণ কাজ চোখে লাগার মত। মন্দির ছাড়িয়ে আর একটু দূরে সরোবরের মাঝে রানী পদ্মাবতীর গ্রীষ্মকালীন প্রাসাদ। বিজয়স্তম্ভের দক্ষিণে স্বামীদেশ্বর মন্দির। মন্দির ও স্তম্ভের মাঝে বেশ বড় সমতল ভূমি। এই স্থানটি ছিল রাজকীয় মহিলাদের সতীদাহ স্থান। স্বামীদেশ্বর মন্দিরের উত্তরদ্বারে বেশ কয়েক বছর আগে মানুষের মৃতদেহের প্রচুর ছাই ভষ্ম পাওয়া যায়। অনুমান করা হয় মহারানা বিক্রমাদিত্য ও উদয় সিংহের মাতা রানী কর্ণাবতী ১৫৩৫ সালে গুজরাতের রাজা বাহাদুর শাহের হস্তে চিতোরের পতন হলে ১৩,০০০ হাজার রাজপুত রমনীসহ ‘জওহর’ ব্রত পালনে আত্মাহুতি দিয়েছিলেন এই স্থানে। রানী কর্ণাবতীর সঙ্গে দিল্লির সম্রাট হুমায়ুনের রাখী বন্ধনের বিয়োগান্ত ঘটনাটি জড়িত।
মহারানা দ্বিতীয় রতন সিংহের মৃত্যুর পর রানা সাঙ্গার পুত্র বিক্রমাদিত্য চিতোরের সিংহাসনে আরোহণ করেন। কিন্তু তার বালকসুলভ আচরণে মেওয়ার রাজ্যের রাজন্যবর্গ, আমাত্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে ব্যথিত করে।  এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে গুজরাতের সুলতান বাহাদুর শাহ ১৫৮৪ খৃষ্টাব্দে চিতোর আক্রমণ করেন। এদিকে বিক্রমাদিত্যের মাতা বিধবা রানী কর্ণাবতী দিল্লির সম্রাট হুমায়ুনকে রাখী বন্ধন পাঠিয়ে বাহাদুর শাহর কবল থেকে চিতোর রক্ষার্থে সাহায্য প্রার্থনা করেন। বোনের সাহায্যে দিল্লি হতে ছুটে আসেন সম্রাট হুমায়ুন। কিন্তু দিন কয়েক দেরি হয়ে যাওয়ায় বাহাদুর শাহ চিতোর দূর্গ অধিকারে নেন ও রানী কর্ণাবতী জরহরব্রত পালন করেন। বাহাদুর শাহ চিতোর দূর্গে ১৫ দিন অবস্থান করেন। ১৫ দিন পর সম্রাট হুমায়ুন চিতোর পদার্পণ করে রানী কর্ণাবতীর জরহরব্রত পালনের সংবাদে বিষণœ ও বাহাদুর শাহ’র উপর রাগান্বিত হন। সম্রাটের আগমনে বাহাদুর শাহ দূর্গ হতে পলায়ন করলে সম্রাট তাঁকে মান্ডুতে বন্দি করে লোহার খাঁচায় পুরে পর্তুগিজ অধিকৃত দিউতে প্রেরণ করেন। সেখানে পর্তুগিজরা বাহাদুর শাহকে হত্যা করে।
এই ঘটনার ৩২ বছর পর ১৫৬৭ সালে দিল্লির সম্রাট আকবরের চিতোর আক্রমণে পুনরায় আত্মাহুতির ঘটনা ঘটে। সে যুদ্ধে প্রাণ হারায় আট হাজার চিতোরবাসী। এরপর ১৫৭৬ সালে চিতোর থেকে মেওয়ারের রাজধানী উদয়পুর সরিয়ে নেয়া হয়। দূর্গের ভগ্নস্তুপের উপর দাঁড়িয়ে তাকিয়ে ছিলাম স্বামীদেশ্বর মন্দিরের দিকে। দেয়ালের পাশেই একটি শানবাঁধানো গর্ত। বাঁধাই করা সিঁড়ি নেমে গেছে মাটির নিচে। সিঁড়ির মুখ বন্ধ। গাইড জানালেন, সিঁড়ি নেমে গেছে মাটির ভেতর সুরুঙের ভেতর। কিছুদিন আগে প্রতœত্ববিদরা সুরুঙের ভেতর পেয়েছেন শত শত মৃতের হাড়, কংকাল। হাতে চুড়ি, বালা ও শাখা। অনুমান করা হয় বহিরাক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষার প্রয়াসে অতিদ্রুত এই সুরুঙে মহিলারা আশ্রয় নিয়েছিলেন। জীবিত কেউ আর বের হতে পারেননি। চিতোরের আকাশে বাতাশে মিশে আছে শত সহস্র নারীর কান্না, হাহাকার আর দীর্ঘশ্বাস। হ
স্টকহোম, সুইডেন, ষরধশধঃ.ংঃড়পশযড়ষস@ুধযড়ড়.পড়স


 
এ পর্যন্ত সর্বাধিক পঠিত

  ইনফোটেক : ইন্টারনেট নিয়ে গ্রাহক প্রতারণা!
  অনুসন্ধান : কয়টি সিম রাখা যাবে?
  পোস্টমর্টেম : নকল ডিমে রাজধানী সয়লাব
  প্রবাস : চিতোর, ইতিহাসের তিন নারী
  সাহিত্য : নাথ সাহিত্যের স্বরূপ
  আন্তর্জাতিক : যেভাবে যৌনদাসীদের ভোগ করছে আইএস জঙ্গিরা
  অর্থনীতি : মূল বেতন দ্বিগুণ করার সুপারিশজাতীয় বেতন কমিশনের রিপোর্টে যা আছে
  সমকালীন : বাংলাদেশ নিয়ে চীন-ভারত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও কূটনীতির দৃষ্টিতে মোদীর ঢাকা সফর
  বিশেষ প্রতিবেদন : ক্যাপ্টাগন: জঙ্গিদের টেরোরিস্ট ড্রাগ!
  প্রশাসন : চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল হচ্ছে!
  সাহিত্য : শিরোমণি আলাওল
  আন্তর্জাতিক : ভয়ঙ্কর আইএস-এর উত্থান ও নৃশংসতা!
  চমক! : জমজমের পানি নিয়ে জাপানী বিজ্ঞানীদের রহস্য আবিষ্কার!
  সাহিত্য : মগের মুল্লুকে বাংলা সাহিত্যের বিকাশ
  প্রচ্ছদ প্রতিবেদন : গুলশান ট্র্যাজেডি! কেন এই নৃশংসতা?
 





free counters



উপদেষ্টা সম্পাদক : আবদুল্লাহ আল-হারুন   |  সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ জিয়াউল হক   |  প্রধান সম্পাদক : আসিফ হাসান

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: দেওয়ান কমপ্লেক্স, ৬০/ই/১ (৭ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: +৮৮-০২-৯৫৬৬৯৮৭, ০১৯১৪ ৮৭৫৬৪০  |  ফ্যাক্স: +৮৮-০২-৯৫৬৬৩৯৮

ইমেইল: editor@weeklymanchitra.com, manchitra.bd@gmail.com
©  |  Amader Manchitra

Developed by   |  AminMehedi@gmail.com