আমাদের মানচিত্র  |  বর্ষ: ১, সংখ্যা: ৩৯     ঢাকা, বাংলাদেশ  |  আজ সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮  |  




আর্কাইভ সংখ্যা - নির্বাচন হচ্ছে তবে...

আর্কাইভ সংখ্যার প্রচ্ছদ



বর্ষ: ১, সংখ্যা: ৩৯
রবিবার, ৫ জানুয়ারী ২০১৪




 
একনজরে এই সংখ্যা -

  প্রচ্ছদ প্রতিবেদন : নির্বাচন! অতপর......
  সম্পাদকীয় : সংসদ নির্বাচন ও আমাদের প্রত্যাশা
  সাহিত্য : শিরোমণি আলাওল
  অনুসন্ধান : ডাবল ভ্যাটের ফাঁদে সুপারশপের ক্রেতারা
  ফিচার : গাইড
  যাপিত জীবন : স দা চা র শি ক্ষা
  প্রতিবেদন : দুঃসময়ে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প!ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে
  স্মরণ : নেলসন ম্যান্ডেলা মাদিবা: কাছে থেকে দেখার কিছু সুখস্মৃতি
  রাজনীতি : রূপকল্প ২০৪১ ঘোষণা, প্রধানমন্ত্রীর চোখে সমৃদ্ধির স্বপ্ন
  বিশ্লেষণ : নির্বাচন বর্জনে তারেকের ভিডিও ও সিনিয়র নেতাদের ভূমিকায় খালেদার সন্দেহ!
  ইনফোটেক : বায়োপ্লাস্টিক: আগামীদিনের খাবার
  সমকালীন : ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ ব্যর্থ হওয়ার নেপথ্যে
  প্রতিবেদন : আগামি সংসদে যেতে চানহত্যা মামলার আসামি ১২, ব্যবসায়ী ৫২, এসএসসি’র নিচে ১৭ ভাগ প্রার্থী
  কলাম : হায়রে কপাল মন্দ চোখ থাকিতে অন্ধ...
  ভ্রমণ : সাজেক-এ একদিন
  বিশেষ প্রতিবেদন : ভারত-মার্কিন বন্ধুত্বের জটিলতা ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: ইস্যু দেবযানী
  সম্পাদকীয় : বিএনপি’র রাজনৈতিক ভুল ও দশম সংসদের যাত্রা শুরু
 



কলাম পড়া হয়েছে ২৩০ বার

হায়রে কপাল মন্দ চোখ থাকিতে অন্ধ...

শিশিরাদ্র মামুন, ফ্রাংকফুর্ট থেকে

হায়রে কপাল মন্দ, চোখ থাকিতে অন্ধ, এই জীবন জ্বইলা-পুইড়া .. ..
এই গানটি মনে হয় আমাদের বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির সাথে পুরোপুরি মিলে গেছে। যিনি এই গানটি লিখেছেন তাকে সালাম। যদি বিগত কয়েকমাসের ঘটনা আমরা দেখি তাহলে পরিস্কার। যারা দেশে থাকেন তারা যেমন বাংলাদেশের পরিস্থিতি অবহিত, ঠিক আমার মত প্রবাসে যারা আছেন তারাও ব্যাকুল থাকেন সর্বদা দেশের জন্য। আমরাও প্রতিদিনের খবর পেয়ে যাচ্ছি ইন্টারনেট এবং বাংলা চ্যানেলের মাধ্যমে। এখানে এখন দেখা হলে কাউকে জিজ্ঞাসা করা হয় না কেমন আছেন? জিজ্ঞাসা করা হয় বর্তমান দেশের নতুন খবর কি? কখন কাটবে এই মেঘ?  আসলে কি মেঘ জমে আছে? বলা চলে আমাদের ভাগ্যই খারাপ। কালো মেঘ থেকে মুক্তি নেই। প্রতি পাঁচ বছর আমরা ভোট নেই মুক্তির জন্য। শান্তির জন্য। কিন্তু অভাগাদের মুক্তি নেই। কেউ একশত বিঘা থেকে আটহাজার একরের মালিক হয়। অবশ্যই আল্লাহপাকের ইচ্ছা। তার ইশারা ছাড়া এক গাছের পাতায় নড়ে না।
গত মহান বিজয়ের মাসে ফাঁসি দেয়া হলো কাদের মোল্লার।এটা অবশ্যই আমাদের খুশির ও আনন্দের ব্যাপার। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা প্রাণ দিয়েছে তাদের আত্মা শান্তি পাচ্ছে। বিপদ হলো ফাঁসির পর। একদল আনন্দিত অন্যপক্ষ বলছে এই কাদের মোল্লা সেই কসাই কাদের মোল্লা নয়। কাদের মোল্লা একজন শিক্ষিক, একজন সাংবাদিক! টকশো সেলিব্রিটি রনিসহ অনেকেই তার জন্য কলাম লিখেছেন। হায়রে কপাল! দেখা গেলো দুদিনে কাদের মোল্লার পেজে তিনলক্ষ লাইক পড়েছে। বাঙলাদেশে সবই সম্ভব! তবে পাকিস্তানকে একটা ধন্যবাদ দেয়া যেতে পারে কারণ, কাদের মোল্লার ফাঁসির পর তাদের পার্লামেন্টে প্রস্তাব পাশ করে নিন্দা প্রকাশ করেছেন। তাতেই কাদের মোল্লাকে নিয়ে এই বিষয় ধোঁয়া কেটে যায়।
আবার ওদিকে বাঘা সিদ্দিকী, ডঃ জাফরুল্লাহ’র মত ব্যক্তিরা বলেন, শাহরিয়ার কবির ও মুনতাসির মামুনকে বলা হচ্ছে, তারাও পাকিস্তানি দালাল। শাহরিয়ার কবির ছিলেন পাকিস্তানিদের মুরগী সাপ্লায়ার।
আর তাতে বিভ্রান্ত আমরা এই প্রজন্ম। আমরা কার কথা বিশ্বাস করবো? আমাদের এবং পরবর্তি প্রজন্মকে এভাবে বিকৃতি করার অধিকার তাদের কে দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে অবদান প্রমাণ করলেই কি সবার শ্রদ্ধা পাওয়া যায়? আমাদের প্রয়াত কবি শ্রদ্ধেয় শামসুর রাহমান, শ্রদ্ধেয় হুমায়ূন আহমেদ অনেক লেখায় বলেছেন তারা যুদ্ধ করতে পারেন নি। তাই বলে কি তাদেরকে অশ্রদ্ধার চোখে সবাই দেখে? সম্মান, শ্রদ্ধা তাঁর কর্মে পেয়ে যায়। আমরা চাই আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি না হোক।
৫ই জানুয়ারি নিয়ে মহা উত্তেজনা চলছে। এক পক্ষ বলছে নির্বাচন হবেই। অন্যদিকে অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপিসহ সকল শ্রেণীর মানুষ বলছে নির্বাচন বর্জন। অবশ্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ইতোমধ্যে ১৫৪ জন নির্বাচিত হয়ে গেছেন। এটা বিশ্ব রের্কড শুধু নয় এটা গ্রিনিজবুকে স্থান পাবার যোগ্য। শুধু তাই নয় নতুন ফমুর্লা এসেছে ভাগ-ভাঁটোয়ারা করে সদস্য। এটা আনন্দের ব্যপার। কারণ আমাদের নির্বাচন করে টাকা ব্যয় করতে হবে না। এই টাকা দেশের অন্যখাতে ব্যয় করা যাবে। এই ৫ জানুয়ারি নির্বাচন নিয়ে দেশ-বিদেশ অনেক কথাই হচ্ছে। কিন্তু একটা সহজ কথা আমরা বুঝতে চাই না। আমাদের দেশে গণতন্ত্র বলি, আর যাই বলি ক্ষমতার চেয়ার নিয়ে টানাটানি। রেশারেশি দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে। দেশ, জনগণ নিয়ে তাদের মোটেও মাথা নেই। বরং কার দল উপরে থাকবে, তার কর্মীরা বড়াই করতে পারবে। সুতরাং বিএনপি ৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লিগবিহীন নির্বাচন করেছিলো তাই এবার তাদের নির্বাচন করতে হবে। কোন দল আসুক তাতে তাদের কিছু যায় আসে না। এবং এটাও ঠিক বর্তমান সরকার ৫ জানুয়ারি নির্বাচন করবেনই এবং ৯৬ সালে বিএনপি যতদিন ক্ষমতায় ছিলেন তার চেয়ে বেশীদিন এই সরকার থাকবেন। তবে এই নির্বাচনে তারা পাচ্ছেন জাতীয় পার্টিকে। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রযোজনায় নির্বাচনী নাটকে এরশাদ চমৎকার অভিনয় করে যাচ্ছেন। সরকার এই অভিনেতাকে সংলাপবিহীন স্ক্রিপ্ট দিয়েছেন। আর মহাঅভিনেতা সংলাপ নিজের মত করে সাজিয়েছেন। এক্সিলেন্ট!
আবার নির্বাচন ঘিরে দেশ আরেকটি ব্যাপার দেখা যাচ্ছে, ভারতপন্থি ও পাকিস্থানপন্থি আর আমেরিকা..।
আমি বুঝি না আমরা কেনো ভারতপন্থি ও পাকিস্থানপন্থি আর আমেরিকা.. হবো? একজন ভারতীয় কি বাংলাদেশপন্থি হবে? একজন পাকু কি পাকিস্তানপন্থি হবে? আমাদের নির্বাচন আমরা করবো। কারো ইশারা বা দয়ায় নয়। ভারত আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য করে তাতে আমরা চিরকৃতজ্ঞ। আমরা এই অবদানের কথা মনে রাখবো। তাই বলে এই না যে, কেউ আমার কোন বিপদে সাহায্য করেছে, কিন্তু তার কৃতজ্ঞতাস্বরূপ ঐ বন্ধু যখন বাসায় আসবে আমি আমার বৌকে তার হাতে রেখে বাহিরে চলে যাবো। কিন্তু ভারতের ব্যপারে ঠিক আমাদের একশ্রেণীর বুদ্ধিজীবিদের মনোভাব তাই দেখা যায়। হায়রে সোনার বাংলা। কাদের মোল্লার জন্য পাকিস্তানের প্রেমে বাংলাদেশে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে। আর এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ যখন মার্কিন কূটনীতিককে বলেন, ‘এটা আমাদের অঞ্চল, এলাকার ভালমন্দ আমরাই বুঝি।’ তখন কোন প্রতিবাদ হয় না। সবাই মুখে কুলুপ এঁটে থাকে। বিচিত্র এই দেশ, সত্যিই সেলুকাস!       
আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের আসলেই রসবোধ আছে। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আওয়ামী লীগের সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মার্জিত কথাবার্তা ও ব্যবহার সকলকে মোহিত করেছিল। কিন্তু এখন ভিন্নরূপ। হয়ত সময়ের জন্য। ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ তে অংশগ্রহণ করার জন্য খালেদা জিয়া বাধার সম্মুখিন হন। দেশের সবাই টিভির কল্যাণে সেই চিত্র দেখেছেন। সৈয়দ আশরাফুল সাহেব বলছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গুলশানের বাড়ি থেকে বের হওয়া নিয়ে ‘নাটক’ করেছেন তিনি বললেন, যাবেন যাবেন করে নাটক করলেন। ধন্যবাদ চমৎকার এই রসিকতার জন্য।
আসছে দিনগুলোতে আরও ভাল ভাল রসিকতার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি। যে দলই ক্ষমতায় আসুক দেশের জনগণ এবং দেশের ভাগ্যের কোন উন্নতি হবে না। কে কার থেকে বেশী দুর্নীতির রেকর্ড করতে পারে তার প্রতিযোগিতা। শূন্য অবস্থা থেকে মুবুতোর মত সম্পদশালী হবে। আর আমরা অভাগারা গাইবো ‘হায়রে কপাল মন্দ, চোখ থাকিতে অন্ধ।’


 
এ পর্যন্ত সর্বাধিক পঠিত

  ইনফোটেক : ইন্টারনেট নিয়ে গ্রাহক প্রতারণা!
  প্রবাস : চিতোর, ইতিহাসের তিন নারী
  অনুসন্ধান : কয়টি সিম রাখা যাবে?
  পোস্টমর্টেম : নকল ডিমে রাজধানী সয়লাব
  সাহিত্য : নাথ সাহিত্যের স্বরূপ
  আন্তর্জাতিক : যেভাবে যৌনদাসীদের ভোগ করছে আইএস জঙ্গিরা
  অর্থনীতি : মূল বেতন দ্বিগুণ করার সুপারিশজাতীয় বেতন কমিশনের রিপোর্টে যা আছে
  সমকালীন : বাংলাদেশ নিয়ে চীন-ভারত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও কূটনীতির দৃষ্টিতে মোদীর ঢাকা সফর
  প্রশাসন : চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল হচ্ছে!
  ফিচার : জিগোলো! রমরমা এক ব্যবসা
  বিশেষ প্রতিবেদন : ক্যাপ্টাগন: জঙ্গিদের টেরোরিস্ট ড্রাগ!
  সাহিত্য : শিরোমণি আলাওল
  চমক! : জমজমের পানি নিয়ে জাপানী বিজ্ঞানীদের রহস্য আবিষ্কার!
  আন্তর্জাতিক : ভয়ঙ্কর আইএস-এর উত্থান ও নৃশংসতা!
  সাহিত্য : মগের মুল্লুকে বাংলা সাহিত্যের বিকাশ
 





free counters



উপদেষ্টা সম্পাদক : আবদুল্লাহ আল-হারুন   |  সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ জিয়াউল হক   |  প্রধান সম্পাদক : আসিফ হাসান

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: দেওয়ান কমপ্লেক্স, ৬০/ই/১ (৭ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: +৮৮-০২-৯৫৬৬৯৮৭, ০১৯১৪ ৮৭৫৬৪০  |  ফ্যাক্স: +৮৮-০২-৯৫৬৬৩৯৮

ইমেইল: editor@weeklymanchitra.com, manchitra.bd@gmail.com
©  |  Amader Manchitra

Developed by   |  AminMehedi@gmail.com