আমাদের মানচিত্র  |  বর্ষ: ১, সংখ্যা: ৫২     ঢাকা, বাংলাদেশ  |  আজ সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮  |  




আর্কাইভ সংখ্যা - অর্থহীন বিতর্ক!

আর্কাইভ সংখ্যার প্রচ্ছদ



বর্ষ: ১, সংখ্যা: ৫২
রবিবার, ১৩ এপ্রিল ২০১৪




 
একনজরে এই সংখ্যা -

  প্রচ্ছদ প্রতিবেদন : অর্থহীন বিতর্ক!
  সম্পাদকীয় : বৈশাখ হোক সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রেরণা
  ইনফোটেক : উইন্ডোজ এক্সপি আর নয়!
  প্রবাস : নশ্বর জীবনঃ শাশ্বত ভালবাসা
  সাহিত্য : কুসুমের স্বপ্ন
  ফিচার : কানামারা মাতসুরি উৎসব
  স্মরণ : মালয়েশিয়ার নিখোঁজ বিমান ও ভূ-রাজনীতির মারপ্যাঁচ!
  রাজনীতি : ভাঙনের কবলে ১৯ দলীয় জোট!
  অনুসন্ধান : ‘ক্রেস্টের স্বর্ণের ১২ আনাই মিছে!’ শীর্ষক প্রতিবেদন ও সরকারের এড়িয়ে যাওয়া!
  প্রশাসন : আমলারা কি সত্যিই শক্তিশালী স্থানীয় সরকার চান!
  সমকালীন : কোটি টাকার বাঁটোয়ারা! গণজাগরণ মঞ্চে টানাপড়েন ও ছাত্রলীগের পিছটান?
  চমক! : যুক্তরাষ্ট্রের গোপন নথিতেও ‘রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিব’
  আন্তর্জাতিক : মোদী না রাহুল?
  পোস্টমর্টেম : বিএনপি’র রাজনীতি ও সরকারবিরোধী আন্দোলন! কতটা সফল হবে?
  প্রতিবেদন : উপজেলা নির্বাচনে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ: ব্যবস্থা নেয় না ইসি!
  কলাম : রাষ্ট্র পরিচালনার মূল নীতি ও মৌলিক অধিকার: একটি পর্যালোচনা
  ফিচার : পহেলা বৈশাখ: বাঙালির আত্মানুসন্ধান
  বিশেষ প্রতিবেদন : অসহায় এরশাদ, জাতীয় পার্টির ক্রান্তিকাল!
  যাপিত জীবন : সবচেয়ে দামি ভোটার!বয়স ৬৯, স্ত্রী ৩৯, সন্তান ১২৭
 



স্মরণ পড়া হয়েছে ১৫০ বার

মালয়েশিয়ার নিখোঁজ বিমান ও ভূ-রাজনীতির মারপ্যাঁচ!

মোঃ নূর নবী

সম্প্রতি বিশ্বের প্রায় সব মিডিয়ায় অন্যতম প্রধান খবরে পরিণত হয়েছে মালয়েশিয়ান উড়োজাহাজ নিখোঁজ হয়ে যাওয়া। এমএইচ ৩৭০ ফ্লাইটি ২৩৯ জন যাত্রী নিয়ে আকাশে ওড়ার পর আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের এই ফ্লাইটটি চীনের বেইজিং যাচ্ছিল। স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৪১ মিনিটে কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর থেকে বিমানটি বেইজিংয়ের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এর দুই ঘণ্টা পর ফ্লাইটটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ২৩৯ জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা করা এই ফ্লাইট বেইজিংয়ের স্থানীয় সময় সাড়ে ৬টায় অবতরণ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে সেখানে পৌঁছায়নি। বিমানটির অবস্থান জানার জন্য বা একে উদ্ধারের জন্য অনুসন্ধান চলছে। নিখোঁজ হওয়ার পর মালয়েশীয় উড়োজাহাজটি নিয়ে দিনভর পাল্টাপাল্টি বক্তব্য প্রচারে বেশ দ্বিধা-দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। ছড়িয়ে পড়ে নানা গুজব। কিন্তু কূলকিনার পাওয়া যায়নি এখনো। নিখোঁজ ২৩৯ জন যাত্রীবাহী মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৭৭-২০০ বিমানটির খোঁজে তল্লাশি চলছে। এমন ঘোলাটে পরিস্থিতিতে রহস্যের নতুন মাত্রা যোগ করেছে 'নিখোঁজ' উড়োজাহাজে দুটি চোরাই পাসপোর্ট ব্যবহারের তথ্য। যান্ত্রিক ত্র“টি, চালকের ভুল, বিরূপ আবহাওয়াসহ বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে বিমানটির সবশেষ অবস্থান জানতে নিরলস চেষ্টা চললেও চোরাই পাসপোর্ট ব্যবহারের খবরটিই এখন রহস্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি মালশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, হয়তো বিমানটি ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে, নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না ২২৭ জন যাত্রী ও ১২ জন ত্র“বাহী বিমানটির ভাগ্যে আসলে কী ঘটেছে, সে রহস্যজট খুলতেই এখন সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো। প্রায় প্রতিদিনই বিমানের ধ্বংসাবশেষ চিহ্নিত করার খবর মিললেও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অবশ্য গতসপ্তাহে একটি চীনা জাহাজ থেকে বিমানটির ব্লাকবক্স থেকে পাওয়া সংকেত চিহ্নিত করা গেছে।
নতুন তথ্য পাওয়ার পর বিমানটির খোঁজে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। দুটি করিডোর- থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চল থেকে কাজাখস্তান-তুর্কমেনিস্তান সীমান্ত এবং ভারত মহাসাগরের দক্ষিণাঞ্চলে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হবে। উপগ্রহের মাধ্যমে বিমানটির সর্বশেষ যে অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, তা ওই দুটি করিডোরের একটিতে পড়েছে।
উপগ্রহের মাধ্যমে বিমানটির গতিপথ বিষয়ে নতুন নতুন তথ্য পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিস্তৃত এলাকাজুড়ে অনুসন্ধান চালানোর প্রয়োজন দেখা দেওয়ায় অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা বাড়ানো হয়। তা ছাড়া সন্ত্রাসী তৎপরতার কথা মাথায় রেখে নতুনভাবে চলছে ঘটনার কারণ অনুসন্ধান কার্যক্রম।
এদিকে মালয়েশিয়ান পুলিশ ফ্লাইট এমএইচ৩৭০-এর দুই পাইলটের বাসায় তল্লাশি চালায়। এর মধ্যে ক্যাপ্টেন জাহারিয়ে আহমদ শাহের (৫৩) বাসা থেকে একটি ফ্লাইট সিম্যুলেটর (সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের সমন্বয়ে একটি ব্যবস্থা, যার ব্যবহারকারী বিমান পরিচালনার অভিজ্ঞতা পান) উদ্ধার করে তারা। মালয়েশিয়ান তদন্তকারীরা এখন সিম্যুলেটরটি পরীক্ষা করে দেখছেন। জানা গেছে, বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার পর পরই ওই বাসায় একবার তল্লাশি চালিয়েছিল পুলিশ। ওই তথ্য গোপন রাখা হয়েছিল। সে সময় সেখান থেকে দুটি ল্যাপটপ কম্পিউটার উদ্ধার করা হয়। একটিতে সিম্যুলেটর বিষয়ক কিছু তথ্য উদ্ধার করা হয়। তবে পাইলটের ব্যক্তিগত ল্যাপটপটি পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, সেটি তিনি নিয়েই বিমানে আরোহণ করেছিলেন। জাহারিয়ে মালয়েশিয়ার বিরোধী দলীয় রাজনীতিক আনোয়ার ইব্রাহিমের অনুসারী ছিলেন। ইব্রাহিমের বিচার ও কারাদণ্ডে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ জন্য তিনি প্রতিশোধ নিতে বিমানটি ছিনতাই করেছেন কি-না, এমন ধারণাও মাথায় রাখছেন অনুসন্ধানকারীরা। আরেক পাইলট ফার্স্ট অফিসার ফারিক আবদুল হামিদ সম্পর্কেও তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ। তবে তার সম্পর্কে খুব বেশি জানা যায়নি।
মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষা ও যোগাযোগমন্ত্রী হিশামুদ্দিন হোসেইন জানান, অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতায় যুক্ত দেশের সংখ্যা ১৪ থেকে ২৫টিতে উন্নীত করা হয়েছে। এতে সমন্বয় ও কূটনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ফ্রান্সের মতো দেশের সামরিক ও উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত ডাটাও অনুসন্ধান কাজে লাগানো হচ্ছে। এ ছাড়া বিমানটির সব যাত্রীর বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর গোয়েন্দা সংস্থারও দ্বারস্থ হয়েছে মালয়েশিয়া। ওই বিমানে ১৪টি দেশের ২৩৯ জন যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে ১৫৩ জনই ছিলেন চীনের। অন্তত ১৪টি দেশের শতাধিক বিমান ও জাহাজ কয়েকটি এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছিল। তবে বিমানের গতিপথ সম্পর্কে নতুন ধারণা পাওয়ায় আরও বিপুল এলাকাজুড়ে জল ও স্থলে অনুসন্ধান চালানোর প্রয়োজন দেখা দেয়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে এ অভিযানে যুক্ত করা হচ্ছে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও গতিপথ পরিবর্তন করতে উড়ন্ত বিমানের ভেতরেই ‘সুপরিকল্পিত কার্যক্রম চালানো হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে সেটি ‘ছিনতাই’র জন্য কি-না, তা নিশ্চিত করতে পারেননি। তিনি বলেন, উপগ্রহের মাধ্যমে পাওয়া নতুন তথ্যে প্রায় নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে, বিমানটির যোগাযোগ ব্যবস্থা সচেতনভাবে অকার্যকর করা হয়েছে, এরপর এটি গতিপথ পরিবর্তন করে বিপরীত পথে মালয়েশিয়ার ওপর দিয়ে উত্তর-পশ্চিমমুখী হয়ে বঙ্গোপসাগর বা ভারত মহাসাগরের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে গেছে। উপগ্রহের মাধ্যমে পাওয়া বেশ কিছু নতুন তথ্যের ভিত্তিতেই নাজিব এসব কথা বলেন। এরপর তল্লাশি অভিযানে সন্ত্রাসী তৎপরতার বিষয়টি গুরুত্ব পায় এবং এ বিষয়টিকে বিবেচনায় রেখে নতুন করে হিসাব কষা শুরু হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা এখনই কোনো সিদ্ধান্তে যেতে রাজি নন। ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব এয়ার সেফটি ইনভেস্টিগেটরসের একজন সদস্য অ্যান্থনি ব্রিকহাউজ বলেন, ‘আমাদের এটা মনে রাখতে হবে যে, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আমাদের হাতে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মতো এখনও পর্যাপ্ত তথ্য নেই।’ তার মতে, বিমানটির সাগরে বিধ্বস্ত হওয়াই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সম্ভাব্য ঘটনা। সেক্ষেত্রে উদ্ধার তৎপরতা খুবই জটিল হয়ে পড়বে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ককপিট ক্যাসানোভা
মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের নিখোঁজ সেই বিমানটির পাইলট জাহারিয়ে আহমদ শাহ দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা আনোয়ার ইব্রাহিমের ভক্ত ছিলেন। বিমান নিয়ে আকাশে ওড়ার কয়েক ঘণ্টা আগেও তিনি ইব্রাহিমের বিচার দেখতে আদালতে গিয়েছিলেন। প্রিয় নেতাকে কারাদণ্ড দেয়ায় ওই পাইলট খুবই হতাশ ছিলেন বলে মনে করছে পুলিশ। রাজনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে পাইলট নিজেই বিমানটি ছিনতাই করেছেন- এমন আশঙ্কার কথা বিবেচনায় রেখে তদন্ত করছে মালয়েশিয়া। জাহারিয়েকে ককপিট ক্যাসানোভা হিসেবে ও সহপাইলটকে গুডবয় বলে আখ্যায়িত করেছেন সহকর্মীরা।
পুলিশ বলছে, কুয়ালালামপুর ছাড়ার সাত ঘণ্টা আগে আনোয়ার ইব্রাহিমের বিচার কার্যক্রম আদালতে দেখতে গিয়েছিলেন জাহারিয়ে। ওই বিচারে ইব্রাহিমকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সে ১৯৮১ সালে যোগ দেন জাহারিয়ে। তার সহকর্মীরা বলছেন, তিনি খুব অভিজ্ঞ ও নিবেদিত একজন পাইলট। ফ্লাইট এমএইচ৩৭০-এ তার সঙ্গে ছিলেন ফার্স্ট অফিসার ফারিক আবদুল হামিদ। তার সম্পর্কে খুব বেশি জানা যায়নি। তবে ২০১১ সালে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিমানের ককপিটে এক নারী যাত্রীকে প্রবেশ করতে দেওয়ায় তাকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। তিনি ২০০৭ সালে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসে যোগ দেন।
৮ মার্চ ১৪টি দেশের ২৩৯ যাত্রী নিয়ে কুয়ালালামপুর ছাড়ার ঘণ্টাখানেক পর আকাশে উধাও হয়ে যায় ফ্লাইট এমএইচ৩৭০-এর বোয়িং ৭৭৭-২০০ইআর বিমানটি। এর পর থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম ধারণা করা হলেও তার সব ভুল বলে প্রমাণিত হয়। উপগ্রহের মাধ্যমে সর্বশেষ যে তথ্য পাওয়া যায় তাতে ধারণা করা হচ্ছে, বিমানটি হয়তো ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছে।
মালয়েশিয়া থেকে বেইজিংগামী বিমানটির রহস্যময় অন্তর্ধানের পর পুরো চীনসাগর তোলপাড় করেও এর কোনো খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি। এমনকি ভারত মহাসাগরের দিকে এর সীমানা প্রসারিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কোন হদিস নেই।
ষড়যন্ত্রতত্ত্ব
হারিয়ে যাওয়া এমএইচ৩৭০ বিমানটি নিয়ে এরই মধ্যে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। কারা বা কোন দেশ বিমানটি ছিনতাই করতে পারে, তা নিয়ে অনেক অনুমানের মধ্য থেকে পাঁচটি সম্পর্কে সংক্ষেপে কয়েকটি তত্ত্ব।
১. ভিনগগ্রহের প্রাণীর হাত। ফরবিডেন-নলেজ-টিভিতে ফ্লাইটম্যাপিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার টোয়েন্টিফোরের রেকর্ডের বরাত দিয়ে আলেকজান্দ্রা ব্রস দাবি করেন, বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার পেছনে ভিনগ্রহের প্রাণী বা ইউএফওর হাত রয়েছে। ইউটিউবের এক ব্যবহারকারী ডিএএইচবি০০৭৭-এর তৈরি একটি ভিডিও এর প্রমাণ হিসেবে হাজির করেছেন। ভিডিওটিতে বিমানটি হারানোর আগমুহূর্তকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ভিডিওটিতে এমএইচ৩৭০-এর আশপাশে দ্রুতগতিতে একটি বিমান ও কিছু বস্তুকে ছুটতে দেখা যায়। ওই বিমানটি আসলে ভিনগ্রহের যান নয়, কোরিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট-৬৭২।
২. যাত্রীরা এখনও জীবিত। যাত্রীদের পরিবার ও স্বজনরা জানিয়েছেন, তারা যাত্রীদের মোবাইলে কল করে মোবাইল বাজতে শুনেছেন। অনেকে জানিয়েছেন, যাত্রীদের ইন্সট্যান্ট মেজেস সার্ভিসটিও সক্রিয় আছে।
এ আসলে বিভ্রান্তিমাত্র। মোবাইলে কল করলেই সব সময় যে সরাসরি যাকে কল করা হয় তার ভয়েস মেইলে পৌঁছায়, তা নয়। কলটি কোথায় করা হচ্ছে কিংবা নেটওয়ার্কের ধরনের ওপর নির্ভর করে কল গ্রহণকারীর মোবাইল নিষ্ক্রিয় বা বন্ধ থাকলেও কলকারী নিজের মোবাইলে কল হওয়ার শব্দ শুনতে পায়।
৩. স্নোডেনের হাত। সামাজিক মিডিয়া রেড্ডিট ব্যবহারকারী একজন হলেন ডার্ক স্পেক্টার। তিনি ওয়েবসাইটের কন্সপাইরেসি বোর্ডে ব্যতিক্রমী ষড়যন্ত্রতত্ত্বের কথা জানিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন। ধারণা করা হয়, টেক্সাসভিত্তিক ইলেকট্রনিক্স কোম্পানি ফ্রিস্কেল সেমিকন্ডাক্টরের ২০ কর্মীও মালয়েশিয়ার নিখোঁজ বিমানটিতে ছিলেন। এই কর্মীদের কথা মাথায় রেখেই তিনি এ তত্ত্ব দিয়েছেন। এই কর্মীদের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের একজন আইবিএম টেকনিক্যাল মাস স্টোরেজ এক্সিকিউটিভও আছেন, যিনি মালয়েশিয়ায় আইবিএমের পক্ষে কাজ করেন এবং স্নোডেনের তথ্য ফাঁসের পর এনএসএর জন্য চীনের প্রতি নজরদারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ডার্ক স্পেক্টার মনে করছেন, চীন তাদের নাগালে পেতেই বিমানটি অপহরণ করেছে। বিমানটিকে সাগরে অবতরণ করিয়ে চীন নিজেদের কোনো সামুদ্রিক জাহাজে সেটি লুকিয়ে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। ডার্ক স্পেক্টারের অনুমান, চীন বিমানটি ধ্বংস করে ফেলেছে।
৪. ইরানিরা প্রকৌশলীদের অপহরণ করেছে। ইউএফও ডাইজেস্টে টনি এলিয়ট নামের একজন নাগরিক যুক্তি দিয়েছেন, চুরি যাওয়া পাসপোর্ট ব্যবহার করে একজন ইরানি নাগরিক দুই যাত্রীর জন্য টিকিট কিনেছিলেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিমানটির অপহরণের সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতা আছে বলে তিনি মনে করেন। টনি এর কারণ হিসেবে ফ্রিস্ক্যাল সেমিকন্ডাক্টরের কর্মীদের কাছ থেকে প্রযুক্তিগত জ্ঞান হাতিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন, বিমানটি এখন পূর্ব তিমুরে।
৫. উত্তর কোরিয়া বিমানটি ছিনতাই করেছে, যাত্রীদের নেওয়া হয়েছে পিয়ংইয়ংয়ে। কেউ কেউ মনে করছে, বিমান অপহরণের এ পরিকল্পনায় একটু ছলচাতুরী রয়েছে। বেইজিং ও পিয়ংইয়ং সমান দূরে। তত্ত্বটা দাবি করছে, রাডার ফাঁকি দেওয়ার জন্য খুব নিচু দিয়ে বিমানটিকে উড়তে হবে। এ ক্ষেত্রে সমান দূরত্বের জন্য বিমানকে বেশি ঘনত্বের বাতাস কেটে চলতে অধিক জ্বালানি ব্যয় করতে হবে। তবে পিয়ংইয়ংয়ে পৌঁছার জন্য তা যথেষ্ট। তা ছাড়া তা সেলফোনের নেটওয়ার্কের আওতায় থাকায় কল করলে রিংটোন বাজে।
৬. সন্ত্রাসী হামলার তত্ত্ব, ৯/১১ : একদিকে পরিকল্পিতভাবে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জঙ্গি সংগঠনের সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনাকে সামনে নিয়ে এসেছে। অন্যদিকে চুরি যাওয়া পাসপোর্টে দু’জন যাত্রীর উপস্থিতিও সন্ত্রাসী সংগঠনের যোগসাজশের বিষয়কে উস্কে দিচ্ছে। এই চুরি যাওয়া পাসপোর্টধারী যাত্রীরা ইরানি নাগরিক। মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস, তারা কেবল অবৈধভাবে অভিবাসনের চেষ্টা করছিল। তবে সিআইএ পরিচালক জন ব্রেনান জানিয়েছেন, তিনি সন্ত্রাসী হামলার সম্ভাবনা বাতিল করে দেন না। ধাপে ধাপে বিশাল অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত হয়েছে হারানো বিমান অনুসন্ধানের দুটি করিডোর- কাজাখস্তান ও তুর্কেমেনিস্তানের সীমান্ত এলাকা থেকে থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলীয় করিডোর এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে ভারত মহাসাগরের দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলীয় করিডোর। তবে কোনো শক্তিশালী লক্ষ্য কিংবা সুনির্ধারিত গন্তব্য চিহ্নিত না করেই এই দুই করিডোরে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে । জাকার্তাভিত্তিক এভিয়েশন বিশ্লেষক গেরি সোয়েজাটম্যান মনে করেন, কোনো দিকনির্দেশনা ছাড়া ঘণ্টার পর ঘণ্টা একটা বিমানকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে বিপুুল অভ্যন্তরীণ তথ্য এবং বিশেষজ্ঞ জ্ঞান থাকা দরকার। এ কাজে ব্যাপকভিত্তিক পূর্বপরিকল্পনার দরকার। তিনি মন্তব্য করেন, ‘এটা যদি পরিকল্পিতভাবে ঘটে থাকে তাহলে আমরা হয়তো ৯/১১-এর সন্ত্রাসী পরিকল্পনা চেয়েও জটিল কোনো বিষয়ের মুখে পড়েছি।’ তিনি জানান, দক্ষিণাঞ্চলীয় করিডোরে তেমন নজরদারি চলে না। উত্তরাঞ্চরের করিডোরটিতে রাডারের ব্যাপক নজরদারি রয়েছে। যতদূর সম্ভব অনেক নিচ দিয়ে উড়ে গেলে রাডারে ধরা পড়ার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হতে পারে। তবে অস্ট্রেলিয়ার উলঙ্গং ইউনিভার্সিটির একজন সন্ত্রাসবাদবিষয়ক প্রফেসর আদম দলনিক এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন, মালয়েশিয়ার বিমান সংস্থায় নিরাপত্তা একটু ঢিলেঢালা অবস্থায় রয়েছে। তাই সন্ত্রাসী হামলা অসম্ভব নয়।
পাইলটের আত্মহত্যা: পাইলটরা আত্মহত্যা করার লক্ষ্যে বিমান দুর্ঘটনা ঘটানোর নজির আছে। ১৯৯৭ সালে জাকার্তা থেকে সিঙ্গাপুরগামী সিল্ক এয়ারের বোয়িং ৭৩৭ ইন্দোনেশিয়ার এক নদীতে ছিটকে পড়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা এর কারণ হিসেবে পাইলটের আত্মহত্যার কথা বলেন।
সিঙ্গাপুর ম্যানেজম্যান্ট ইউনিভার্সিটির একজন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ টেরেন্স ফ্যান মনে করেন, আত্মহত্যার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এমন হলে বিমানটি কাঠামোগত অবস্থা বজায় রেখেই নিচে নেমে আসবে। ফলে বিমানটি প্রচুর টুকরোয় পরিণত নাও হতে পারে। তিনি মনে করেন, বিমানটি ভেসে থাকার কথা নয়। আর ডুবে গেলে এর ভেতরে পানি প্রবেশ করবে। পাইলটদের বড় ধরনের মানসিক সমস্যা আছে বলে জানা যায়নি।
ভূ-রাজনীতির মারপ্যাঁচ!
মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের সদ্য হারিয়ে যাওয়া যে এয়ারক্রাফটি এখন আন্তর্জাতিক সংবাদ শিরোনাম সেই এম এইচ ৩৭০ অন্যান্য সাধারণ বিমানের মতোই একটি সাধারণ যাত্রীবাহী বিমান। সাত মার্চ মধ্যরাতে চৌদ্দটি দেশের দু’শ’ ঊনচল্লিশ জন যাত্রী নিয়ে মালয়েশিয়া থেকে বেজিং যাওয়ার পথে মালাককা প্রাণালীর আকাশ সীমা থেকে নিখোঁজ হয়। দু’শ’ ঊনচল্লিশ জন যাত্রীর মধ্যে এক শ’ তেপ্পান্ন জন্যই ছিলেন চীনের। কেউ কেউ বলছেন, বিমানটি সর্বশেষ উড়েছে দক্ষিণ চীন সাগরের আকাশে। ওখানে ওড়ার সময় আরোহীদের কেউ দক্ষিণ চীন সাগরের দ্বীপমালা নিয়ে স্মৃতি কিংবা ইতিহাস তাড়িত হয়েছিলেন কিনা আমরা জানি না। আন্দমান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের মতো ঐতিহাসিক কাহিনী এর আছে কি না তাও জানা নেই। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন তথ্য আমাদের এটুকু জানায় যে, গত শতকের মধ্য নব্বই থেকে দক্ষিণ চীন সাগরের দ্বীপমালার মালিকানা নিয়ে চীনের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্কের টানাপড়েন চলছিল। দু’হাজার দুই সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সংগঠন আসিয়ান এবং চীন এ সমস্যা বহুপক্ষীয়ভাবে মীমাংসা করবে বলে একমত হলেও পরে চীন এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে এবং বহুপক্ষীয় নয়, প্রত্যেক প্রতিবেশীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিকভাবে সমস্যা সমাধানের ঘোষণা দেয়। আন্তর্জাতিকভাবে নিজেদের ক্ষমতা, প্রভাব ও শক্তি প্রতিষ্ঠায় শক্ত অবস্থানে থাকা চীন দু’হাজার দশে আবার বেপরোয়া হয়ে দক্ষিণ চীন সাগরের দ্বীপমালার মালিকানা দাবি করে। দ্বীপমালার মালিকানা দাবির সঙ্গে প্লেন হারিয়ে যাওয়া বা বিধ্বস্ত হওয়ার সম্পর্ক নেই। তবে চীন যেভাবে দ্রুত পরাশক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে যাচ্ছে, বিভিন্ন দিকে তার যে আয়োজন এর রাজনৈতিক অর্থনৈতিক কূটনৈতিক নানা অভিঘাত তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। সেদিক থেকে দেখলে নির্দোষ বোয়িং এম এইচ ৩৭০ অন্তর্ধানের পেছনে বিভিন্ন ধরনের ভাষ্য থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। বিশেষত ফ্লাইটটি মালয়েশীয় এয়াররাইন্সের হলেও যাত্রীদের অর্ধেকের বেশি ছিল চীনা। প্রথমদিকে ভুয়া পাসপোর্টধারী ইরানের দুই নাগরিককে সন্ত্রাসী সন্দেহ করা হলেও তদন্তকারীরা বলছেন, দৃশ্যত সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে তাদের কোন সর্ম্পক নেই। তারা আরও বলছেন, হারিয়ে যাওয়ার আগে এটি পরিকল্পিত রুট থেকে ঘুরে পশ্চিমে মোড় নিয়েছিল। এবং এটা মোটামুটি পরিষ্কার যে, দক্ষ কোন হাতে এ কাজ হয়েছে। আকাশে ওড়ার আগে প্রতিটি ফ্লাইট পরিকল্পানায় গতিপথের প্রতিটি স্থানের খুঁটিনাটি নির্দেশনা দেয়া থাকে। হারিয়ে যাওয়া বিমান গতিপথের নির্দেশনা ওড়ার আগে না পরে পরিবর্তন করা হয়েছিল তা স্পষ্ট নয়। বিমানের যোগাযোগের দুটো ব্যবস্থা চৌদ্দ মিনিটের ব্যবধানে একে একে বন্ধ হয়ে যায়। তদন্তকারীদের মতে, দৃশ্যত এগুলো পরিকল্পিভাবে বন্ধ করা হয়েছিল, যা থেকে মনে করা যায় কোন আকস্মিক বিপর্যয় বা দুর্ঘটনায় যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার পরও বিমাটি পাঁচ ঘণ্টা ধরে ব্রিটিশ স্যাটেলাইটে সিগন্যাল পাঠিয়েছিল। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে, ম্যানুয়াল পদ্ধতির বদলে প্লেনের ককপিটে ক্যাপ্টেন ও ফার্স্ট অফিসারের সিট লেভেলে থাকা কম্পিউটারের সাত আটটি বোতাম টিপে কেউ এর গতিপথ বদলে দিয়েছে।
তবে এসব কোন কিছুতেই সন্তুষ্ট নন প্লেনের এক শ’ তিপ্পান্ন চীনা আরোহীর স্বজনরা। তাদের ধারণা মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ তথ্য গোপন করছে। দ্রুত সঠিক তথ্য না পেলে তারা অনশনে যাবেন। বিবিসি জানিয়েছে, হারানো প্লেনের সন্ধানে চীনও নিজের ভূখণ্ডে তদন্ত শুরু করেছে, এবং সম্ভাব্য বিমান ছিনতাই বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে চীনা আরোহীদের সম্পৃক্ত থাকার কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে চীনের সরকারী কর্তৃপক্ষ সিএনএনকে জানিয়েছে, সব কিছুই এখনও ধোঁয়াশা। কেউ কেউ সন্দেহ করছেন এরকম রহস্যময়তার আড়ালে হয়ত ভূ- রাজনীতির অন্য কোন হিসাব নিকাশ চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তালেবান ইস্যু যেমন সদা জাগ্রত ঠিক সেরকম না হলেও চীনের রয়েছে উইঘুর ইস্যু। উইঘুররা তুর্কীভাষী মুসলিম সংখ্যালঘু। উইঘুর ও হান চীনাদের মধ্যে উত্তেজনা বহুদিনের।
সম্প্রতি শোনা যাচ্ছে উইঘুর জঙ্গী সংগঠন ইস্ট তুর্কিস্তান ইসলামিক মুভমেন্ট (ইটিম)-এর সঙ্গে তালেবানের যোগাযোগ আছে এবং চীনাদের অনেকের ধারণা, মালয়েশীয় বিমান ছিনতাইয়ের সঙ্গে ইটিম জড়িত। বিষয় সেটা নয়। সম্ভবত উইঘুরের জঙ্গীপনাকে কাল্পনিকভাবে বাড়িয়ে দেখা হচ্ছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। এমন একটা প্রেক্ষাপট তৈরি করা হচ্ছে যাতে আপাতদৃষ্টে মনে হচ্ছে, উইঘুর জঙ্গীদের সঙ্গে পাকিস্তানের যোগাযোগ আছে এমন ধারণা থেকে আফগানিস্তানে চীন তার ভূমিকা পরিবর্তন করছে। আসল ঘটনা সেরকম হতে পারে।
দু’হাজার আট সালে আফগানিস্তানের লোগার প্রদেশে বিশ্বের বৃহত্তম তামা খনি এলাকা এক চীনা কোম্পানি তিন শ’ কোটি ডলারে লিজ নিয়েছিল। সেসময় আফগানিস্তান ছিল চীনের অর্থনৈতিক শক্তি সম্প্রসারণের শক্তিশালী উৎস। হাইড্রোকার্বন ও খনিজ সম্পদের ভাণ্ডার। যেখানে কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের তেল গ্যাস লোহা তামা সোনা ও লিথিয়াম মজুদ ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জঙ্গীবাদ মোক্ষম অস্ত্র। একে নানাভাবে ব্যবহার করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে খনিজ সম্পদসমৃদ্ধ দেশগুলোতে নিজেদের স্বার্থ অতীতে উদ্ধার করেছে, সমান গতিতে এখনও করছে। সম্ভবত এ অস্ত্রের ভিন্ন মাত্রার প্রয়োগ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সম্পর্কের নতুন ব্যাখ্যা হাজির করছে। তালেবান ও উইঘুর জঙ্গীবাদ মোকাবেলায় দুদেশের সম্পর্ক এখন আগের চেয়ে অনেক ঘনিষ্ঠ বলে মনে করছেন ওয়াকিফহালরা। যা মধ্য এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে হয়ত নতুন মেরুকরণের পথরেখা তৈরি করছে। মালয়েশীয় বিমান নিখোঁজ নিয়ে যখন পৃথিবী ময় হৈ চৈ হচ্ছে ঠিক তখন যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র কর্মকর্তা ও পাক- আফগান বিশেষজ্ঞের একটি দল চীনের সঙ্গে গোপন আলোচনার জন্য বেজিং পৌঁছেছে। আলোচনার বিষয় আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্য সরে গেলে সেখানে চীনের ভূমিকা। গুরুত্বপূর্ণ এ ঘটনার খবর বিমান নিখোঁজ রহস্যের ডামাডোলের আড়ালেই থেকে গেছে। দু’ হাজার বারো সাল থেকে চীন-মার্কিন সহযোগিতায় আফগানিস্তানে স্বাস্থ্যকর্মী, কূটনীতিক, প্রকৌশলী ইত্যাদি পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু হয়। তৃতীয় পক্ষের সহযোগিতায় অন্য কোন দেশে প্রথমবারের মতো চীনের আনুষ্ঠানিক তৎপরতা।
চীনাদের রয়েছে হাসপাতাল জাহাজ ‘পীস আর্ক।’ দু’হাজার দশ সালে মিশন হারমিন টু থাউজেন্ড টেন নামে শুভেচ্ছা সফরে বেরোয় পীস আর্ক। আফ্রিকা ও এশিয়ার পাঁচটি দেশে পরিচালিত এ সফরের সমাপনী অনুষ্ঠান হয় বাংলাদেশের চট্টগ্রামে। দশ হাজার টন ধারণক্ষমতার এ জাহাজই বিশ্বের প্রথম হাসপাতাল জাহাজ। এতে কাজ করছেন চার শ’র বেশি সেনা কর্মকর্তা ও চিকিৎসা কর্মী। ইউক্রেন থেকে আনা বিমানবাহী জাহাজ চীনারা সমুদ্রে ভাসিয়েছে এ তথ্য পুরনো। এক শ’ সাতান্ন জন চীনা নগরিকসহ মালয়েশীয় বিমানের রহস্যময় অন্তর্ধানের সঙ্গে এসব তথ্যের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই। তবে এটুকু বলা যায়, বিশ্বের নীতিনির্ধারণী বড় বড় ঘটনা অনেক সময়েই অনেক রহস্যময় ঘটনার আড়ালে ঘটে। আর এ মুহূর্তে বিশ্বের ক্ষমতা সম্পর্কগুলোর পুনর্বিন্যাস চলছে বিভিন্ন ঘটনায় তার আলামত তো আমরা পাচ্ছিই।


নিখোঁজ বিমানটি কান্দাহারে, আরোহীরা জীবিত!
মালয়েশিয়ার নিখোঁজ বিমান নিয়ে চারদিকে নানা কথা। এর মধ্যে কোনটি সত্য, কোনটি মিথ্যা তা যাচাই করা কষ্টকর। এই যেমন রাশিয়ার বহুল প্রচারিত একটি পত্রিকা বলছে বিমানটিকে কান্দাহারে দেখা গেছে। এর পাখা ভাঙা। আরোহীরা বেঁচে আছেন। তারা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে পাহাড়ি এলাকায় রয়েছেন। তাদের ধারণা বিমানটি ছিনতাই করা হয়েছে। এ জন্য পাইলট দায়ী নন। আবার কয়েক দিন আগে ডেইলি মেইল ও সিএনএন এক রিপোর্টে জানায়, একটি ই-মেইলে দাবি করা হয়েছে যে বিমানটি ছিনতাই হয়েছে। ওদিকে মালয়েশিয়ার পরিবহন মন্ত্রী হিশাম উদ্দিন হোসেন বলেছেন, তারা আরোহীদের অন্তত একজনকে জীবিত উদ্ধারের আশা করছেন। অনুসন্ধানকারীরা ভারত মহাসাগরে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে এমনটা ধরে নিয়ে তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। এর মধ্যে তারা ব্ল্যাক বক্স থেকে আসা সঙ্কেতের মতো সঙ্কেত পেয়েছেন। ফলে জটিল এক হিসাবের আবর্তে এ ঘটনা। রাশিয়ার পত্রিকার রিপোর্ট, ডেইলি মেইল ও সিএনএন-এর রিপোর্ট, মালয়েশিয়ার পরিবহন মন্ত্রী হিশাম উদ্দিন হোসেনের বক্তব্যের মধ্যে অনেকটাই সামঞ্জস্য রয়েছে। ফলে বিমান দেখা যাওয়ার খবর, তা ছিনতাই হওয়ার আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছে না আমজনতা। আবার ভারত মহাসাগর থেকে যে সঙ্কেত পাওয়া যাচ্ছে সে কথাকেই বেশির ভাগ মানুষ বিশ্বাস করছে। গুজব আকারে হলেও রাশিয়ার পত্রিকাটি বলছে, ২৩৯ আরোহীসহ নিখোঁজ মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের বোয়িং-৭৭৭ বিমানটি আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী কান্দাহারের কাছে পাকিস্তানে শনাক্ত করা হয়েছে। সেখানে একটি গ্রামের রাস্তায় ডানা ভাঙা অবস্থায় রয়েছে বিমানটি। শুধু তা-ই নয়, এতে আরও বলা হয়েছে, বিমানটির সব আরোহী বেঁচে আছেন। তাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে মাটির তৈরি বিভিন্ন কুঁড়েঘরে থাকতে দেয়া হয়েছে। বিমানটি বিধ্বস্ত হয় নি। ছিনতাই করা হয়েছে। এ সম্পর্র্কে বিস্তারিত আর তথ্য জানানো হয়নি। রাশিয়ায় বহুল প্রচারিত পত্রিকা দ্য মস্কোভস্কি কমসোমোলেটস এ খবর দিয়েছে। এ পত্রিকাটির প্রচারসংখ্যা ১১ লাখ। তারা যে সূত্র উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয় নি। আবার এটাও বলা হয়েছে- ওই সূত্রটি নির্ভরযোগ্য নয়। ফলে পত্রিকাটির এ দাবি কতটুকু বিশ্বাসযোগ্য তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে ওই পত্রিকায় বলা হয়েছে, ৮ মার্চ ২৩৯ আরোহীসহ মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স-এর নিখোঁজ ফ্লাইট এমএইচ ৩৭০ আসলে ছিনতাই হয়েছে। অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা বিমানটি ছিনতাই করেছে। আমরা জানতে পেরেছি যে, সন্ত্রাসী পাইলটদের নির্দেশনা দিয়েছে সে ‘হিটচ’ নামে পরিচিত। বিমানটি এখন আফগানিস্তানের কান্দাহারে রয়েছে। এ স্থানটি পাকিস্তান সীমান্ত থেকে কাছে। পাহাড়ি এলাকায় একটি সড়কে রাখা হয়েছে বিমানটি। এর পাখা ভাঙা। সম্ভবত এটি অবতরণ করানো হয়েছে খুব কষ্টে। বিমানের আরোহীদের সবাই বেঁচে আছেন। তারা প্রায় খাবার ছাড়াই বেঁচে আছেন। ওই রিপোর্টে গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র উল্লেখ করা হলেও তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। শুধু তাকে বিমান বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় করানো হয়েছে।
এ রিপোর্টের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা দুনিয়ার অন্য কোথাও থেকে কোন মন্তব্য করা হয় নি। তবে বিমানটি ছিনতাই হওয়া নিয়ে এর আগেও কয়েকটি মিডিয়া রিপোর্ট প্রকাশ করে। সম্প্রতি ডেইলি মেইল ও সিএনএন খবর প্রকাশ করে যে, তাদের হাতে একটি ই-মেইল গিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, বিমানটি ছিনতাই করা হয়েছে। তার পর মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করার জন্য সাড়ে চার থেকে ৫ ঘণ্টার মতো সময় নেয়া হয়। এ সময় বিমানটিতে রাডার ফাঁকি দেয়ার জন্য মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার কাছাকাছি আকাশসীমায় রাখা হয়। কিন্তু এক পর্যায়ে এর জ্বালানি ফুরিয়ে যায়। ফলে তা বিধ্বস্ত হয় ভারত মহাসাগরে। এই ই-মেইল কে পাঠিয়েছে তাও নির্দিষ্ট করা যায় নি। ফলে আসল সত্য কোনটি তা এখনও নির্ণয় করা দুরূহ ব্যাপার। ওদিকে দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট লিখেছে, মালয়েশিয়ার নিখোঁজ বিমানটি তালেবান নিয়ন্ত্রিত সীমান্তের দিকে রাডার ফাঁকি দিয়ে নিয়ে যাওয়া হতে পারে। আবার ভারত মহাসাগরে পাওয়া যাচ্ছে সঙ্কেত। একবার-দু’বার নয় তিনবার। ফলে অনুসন্ধানকারীরা নিখোঁজ বিমানের ব্ল্যাক বক্স উদ্ধারে তৎপরতা বাড়িয়েছে। ধরে নেয়া হচ্ছে, বিমানটি ভারত মহাসাগরেই বিধ্বস্ত হয়েছে। এ বিশ্বাস থেকেই কোটি কোটি ডলার অর্থ খরচ করে চলছে অনুসন্ধান। নতুন করে সঙ্কেত পাওয়ায় ফের আশার আলো দেখা দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: অনলাইন


 
এ পর্যন্ত সর্বাধিক পঠিত

  ইনফোটেক : ইন্টারনেট নিয়ে গ্রাহক প্রতারণা!
  প্রবাস : চিতোর, ইতিহাসের তিন নারী
  অনুসন্ধান : কয়টি সিম রাখা যাবে?
  পোস্টমর্টেম : নকল ডিমে রাজধানী সয়লাব
  সাহিত্য : নাথ সাহিত্যের স্বরূপ
  আন্তর্জাতিক : যেভাবে যৌনদাসীদের ভোগ করছে আইএস জঙ্গিরা
  অর্থনীতি : মূল বেতন দ্বিগুণ করার সুপারিশজাতীয় বেতন কমিশনের রিপোর্টে যা আছে
  সমকালীন : বাংলাদেশ নিয়ে চীন-ভারত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও কূটনীতির দৃষ্টিতে মোদীর ঢাকা সফর
  প্রশাসন : চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল হচ্ছে!
  ফিচার : জিগোলো! রমরমা এক ব্যবসা
  বিশেষ প্রতিবেদন : ক্যাপ্টাগন: জঙ্গিদের টেরোরিস্ট ড্রাগ!
  সাহিত্য : শিরোমণি আলাওল
  চমক! : জমজমের পানি নিয়ে জাপানী বিজ্ঞানীদের রহস্য আবিষ্কার!
  আন্তর্জাতিক : ভয়ঙ্কর আইএস-এর উত্থান ও নৃশংসতা!
  সাহিত্য : মগের মুল্লুকে বাংলা সাহিত্যের বিকাশ
 





free counters



উপদেষ্টা সম্পাদক : আবদুল্লাহ আল-হারুন   |  সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ জিয়াউল হক   |  প্রধান সম্পাদক : আসিফ হাসান

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: দেওয়ান কমপ্লেক্স, ৬০/ই/১ (৭ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: +৮৮-০২-৯৫৬৬৯৮৭, ০১৯১৪ ৮৭৫৬৪০  |  ফ্যাক্স: +৮৮-০২-৯৫৬৬৩৯৮

ইমেইল: editor@weeklymanchitra.com, manchitra.bd@gmail.com
©  |  Amader Manchitra

Developed by   |  AminMehedi@gmail.com