আমাদের মানচিত্র  |  বর্ষ: ৩, সংখ্যা: ১৬     ঢাকা, বাংলাদেশ  |  আজ মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭  |  




আর্কাইভ সংখ্যা - বাজেট: কতটুকু বাস্তবায়ন সম্ভব?

আর্কাইভ সংখ্যার প্রচ্ছদ



বর্ষ: ৩, সংখ্যা: ১৬
রবিবার, ২১ জুন ২০১৫




 
একনজরে এই সংখ্যা -

  সম্পাদকীয় : মাহে রমজান হোক আত্মশুদ্ধির মাস
  প্রবাস : প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনকাছে থেকে দেখা
  কলাম : স্বমেহনের দর্শন
  আন্তর্জাতিক : মায়ানমারে মুসলিম বিরোধী ‘নব্য নাৎসি’ আন্দোলন
  প্রচ্ছদ প্রতিবেদন : বাজেট: কতটুকু বাস্তবায়ন সম্ভব?
  অর্থনীতি : মূল্যস্ফীতি এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশেই বেশি
  রাজনীতি : জামায়াত নিয়ে বিএনপি’র অস্বস্তি!
  চমক! : জমজমের পানি নিয়ে জাপানী বিজ্ঞানীদের রহস্য আবিষ্কার!
  যাপিত জীবন : রক্তের সম্পর্ক!
  বাণিজ্য : উচ্চ সুদ ও সার্ভিস চার্জে দিশাহারা গ্রাহকরা
  ফিচার : বাবা দিবস ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা
  বিশ্লেষণ : বিএনপির মধ্যেই মাইনাসের ষড়যন্ত্র! ভেঙ্গে যেতে পারে ২০ দলীয় জোট
  প্রতিবেদন : বাড়ছে রেলের ভাড়া, বাড়ছে না সেবার মান!
  কলাম : বিএনপির মূল সংকটটি কোথায়?
  সমকালীন : বাংলাদেশ নিয়ে চীন-ভারত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও কূটনীতির দৃষ্টিতে মোদীর ঢাকা সফর
  অনুসন্ধান : সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের অর্থের পাহাড়!
  ধর্ম : ইসলামে রোজার উদ্দেশ্য
 



সমকালীন পড়া হয়েছে ৩৭৬১ বার

বাংলাদেশ নিয়ে চীন-ভারত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও

কূটনীতির দৃষ্টিতে মোদীর ঢাকা সফর

মোস্তাফিজুর রহমান বাহার

চীনের সাথে ভারতের অস্বস্তিকর সম্পর্ক কয়েক দশক ধরে। তারই রেশ ধরে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো বিশেষ করে পাকিস্তানের সাথে বেইজিংয়ের সামরিক সহযোগিতা নিয়ে ভারত দীর্ঘ দিন ধরেই ক্ষুব্ধ হয়ে আছে। ভারত মহাসাগরে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার ও বাংলাদেশে বন্দর বানিয়ে চীনের কথিত ‘মুক্তার মালায়’ অন্তর্ভূক্ত নিয়েও ভারত উদ্বিগ্ন।
নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশের সাথে সামান্য একটু ভূমি বিনিময়বিষয়ক একটি চুক্তির পক্ষে পার্লামেন্টে অনুমোদন পেয়েছেন। আগের মনমোহন সরকার এই চুক্তি করলেও নির্বাচনে ভোট হারানোর ভয়ে তারা এটি অনুমোদনের তেমন চেষ্টা করেননি। বাংলাদেশে রওনা হওয়ার আগে নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তিতে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন। বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার মানুষ ভারতে অভিবাসী হচ্ছে - ভারতে মোদীর হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি এটাকে প্রধান ইস্যুতে পরিণত করেছে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর থেকে অভিবাসন নিয়ে পুরোপুরি চুপ করে আছেন মোদী। এর বদলে তিনি বাংলাদেশে ভারতের কৌশলগত লক্ষ্য নিশ্চিত করার দিকে মনোনিবেশন করেছেন।
নয়া দিল্লির জওহেরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা বিশেষজ্ঞ শ্রীকান্ত কোন্দাপালি বলেন, দক্ষিণ এশিয়া কূটনীতিতে বাংলাদেশের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সৃষ্টি করেছিল চীন, তা ছিল ভারতের জন্য উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, ভারতে চীনের যত কর্মকর্তা সফর করেছেন, প্রায় ততজনই বাংলাদেশ সফর করেছেন। মোদী তার প্রতিবেশী দেশে গিয়ে বিষয়টি মোকাবিলা করার চেষ্টা করছেন। মোদীর লক্ষ্য ছিল উত্তর-পূর্বের ট্রানজিট করিডোর-সম্পর্কিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। স্বাধীনতাকামীদের ঠেকাতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে ভারতকে প্রায় দুই লাখ সৈন্য ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করতে হয়। এতে অর্থনৈতিক ‘কানেকটিভিটি’ও উন্নত হবে। ঢাকা বিরাজমান ট্রানজিট সুবিধা বহাল রাখতে প্রস্তুত। নিরাপত্তাগত দিক থেকে যে উদ্বেগ রয়েছে, সেটা চীনা দিক থেকেও। বেইজিংয়ের সামরিক সহযোগিতা এবং ঢাকায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বাড়ায় দিল্লি উদ্বিগ্ন। ঢাকা সফরের মাধ্যমে মোদী তা মোকাবিলাই করতে চেয়েছেন।
চীনা বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও সাবমেরিন : এক বছর আগে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পাকিস্তান ছাড়া সব দেশই সফর করেছেন মোদী। তবে চীনের সাথে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সামরিক সম্পর্কে উদ্বিগ্ন ভারত। বিশেষ করে চীন থেকে ডিজেল-বিদ্যুৎচালিত দুটি সাবমেরিন কেনার পরিকল্পনায় ভারতের উদ্বেগ ঢাকা আমলেই নেয়নি, জানিয়েছেন বাংলাদেশের এক সাবেক সামরিক কর্মকর্তা এবং ভারত বিশেষজ্ঞ।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপরি) হিসাব অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৩ সময়কালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কেনা অস্ত্রের ৮২ শতাংশ ছিল চীন থেকে। এর মাধ্যমে বিশ্বে চীনা অস্ত্রের শীর্ষ তিন ক্রেতার একটি হয়েছে বাংলাদেশ। সিপরি’র তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮-১২ সময়কালে চীন থেকে বাংলাদেশ জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, ট্যাংক, যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য অস্ত্র কিনেছে। গত বছর চীন থেকে কেনা দুটি নতুন ফ্রিগেট নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহেদুল আনাম খান বলেছেন, ভারতের সাথে সম্পর্কে টানাপোড়েনের মধ্যে চীন পরিণত হয়েছে বাংলাদেশে সামরিক সম্ভার প্রধান সরবরাহকারী। ঢাকায় এক সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, মোট ২০৬ মিলিয়ন ডলারে কেনা বাংলাদেশের প্রথম সাবমেরিনটি সরবরাহ করা হতে পারে ২০১৯ সালের আগে। চীন বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ অংশকে তার যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনগুলোর ডক হিসেবে ব্যবহার করার আদর্শ স্থান মনে করতে পারে। আর এটা ভারতীয় সামরিক পরিকল্পনাবিদদের বেশ শঙ্কিত করছে।
গত বছর শ্রীলঙ্কায় যখন চীনা সাবমেরিনগুলো গিয়েছিল, তখন ভারত আশঙ্কা ব্যক্ত করেছিল। তবে শ্রীলঙ্কায় নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় অদূর ভবিষ্যতে দ্বীপ দেশটিতে চীনা সাবমেরিন ভেড়ার সম্ভাবনা বলতে গেলে নেই। তবে বাংলাদেশের সাথে সামরিক সম্পর্ক নিয়ে চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যকার সহযোগিতা স্বাভাবিক।
চট্টগ্রাম বন্দর উন্নয়নে সহায়তা করছে চীন। কক্সবাজারের কাছে সোনাদিয়া দ্বীপে ৮ বিলিয়ন ডলারে একটি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে চীন আগ্রহী। ভারতের আদানি গ্র“পও এই প্রকল্পটি পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও নেদারল্যান্ডও এই বন্দর নির্মাণ করিয়ে দিতে চায়। তবে বন্দরটি কবে নাগাদ শুরু হবে তা নিশ্চিত নয়। চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমদ মনে করেন, তার মতে চীনা প্রস্তাবটিই সবচেয়ে সেরা। তাছাড়া বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে চীন বেশ কয়েকটি বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণ করেছে।
বাংলাদেশের সাথে চীনা সামরিক সম্পর্কের বিষয়টিতে ভারত গভীরভাবে নজর রাখছে। ভারতীয় নৌবাহিনী ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে সাগর দ্বীপে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারি ও রাডার পর্যবেক্ষণ স্থাপন করেছে। তারা মনে করছে, সেখানে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করা হলে তারা সহজেই বঙ্গোপসাগরে যেতে পারবে। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় সাবেক হাইকমিশনার পিনাকি চক্রবর্তী বলেছেন, ‘বাংলাদেশের সামরিক সামর্থ্য নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা নেই। উদ্বেগ হলো পাশের বাড়িতে চীনা প্রভাব নিয়ে’।।
ডিপ্লোম্যাটের দৃষ্টিতে মোদির ঢাকা সফর
গত ৬ ও ৭ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফর শেষ করলেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি দক্ষিণ এশিয়াকে ঘিরে রাখা প্রতিবেশী দেশগুলোতে সফর সম্পন্ন করেন। তবে এখনও অবশ্য দুটি দেশ বাকি রয়ে গেছে। সেগুলোর একটি হলো মালদ্বীপ, যেখানে সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। আরেকটি দেশ হলো পাকিস্তান। দুদেশের সঙ্গেই ভারতের সম্পর্ক তলানিতে। তবে এসব ব্যতিক্রম সত্ত্বেও, এক বছর বয়সী ভারতীয় জনতা পার্টির বর্তমান সরকার সফলভাবে ভারতের ‘প্রতিবেশীর অগ্রাধিকার’ (নেইবারহুড ফার্স্ট) পররাষ্ট্রনীতির জানান দিয়েছে। ভারত অতীতে প্রতিবেশীদের সঙ্গে নীরব সম্পর্ক বজায় রেখেছে। কিন্তু বর্তমানে আগের সে নীতি পাল্টে গেছে। এ বিষয়টি সপষ্ট হয়েছে বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভুটানে মোদিকে দেশগুলোর পার্লামেন্ট ও জনগণের দেয়া উষ্ণ সম্বর্ধনায়। স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া এবং বহু চুক্তি ও প্রকল্প স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোও পরিষ্কার করে দিয়েছে, তারাও অধিকতর সক্রিয় ও সহযোগিতা-প্রবণ ভারতকে দেখতে চায়। জাপানের ডিপ্লোম্যাট ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক মতামত কলামে এমন মন্তব্য করা হয়েছে। এতে আরও লেখা হয়েছে, মোদিও নিজের পররাষ্ট্রনীতিতে জোর দিয়েছেন দ্বিপক্ষীয় সহায়তার গুরুত্বের প্রতি। তিনি শ্রীলঙ্কায় বিরোধী দলের নেতা মাহিন্দ রাজাপাকসে ও বাংলাদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। উভয় বৈঠকই ইতিবাচক ছিল বলে খবর বেরিয়েছে। বৈঠকগুলো ছিল অতীত অবস্থান থেকে প্রস্থানের মতো। যেমন: ২০১৩ সালে খালেদা জিয়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী প্রণব মুখার্জির সঙ্গে সাক্ষাতের আমন্ত্রণ রক্ষা করেননি।
মোদির সফরের সময়, বিভিন্ন চুক্তির ঘোষণা বা সমাপ্তি ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে, ভুটানের পাশে জল-বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণবিষয়ক ২০১৪ সালের একটি চুক্তি। রয়েছে খোলংচু পানি-বিদ্যুৎ প্রকল্পের সূচনা, নেপালে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ভারতীয় কোম্পানির সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তি। এ সবই উভয় পক্ষের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ঘটায়। বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে ভারত। কিন্তু এসব শুধুই সূচনা। যদি ভারত সরকার ও প্রতিবেশী দেশগুলো রাজনীতিকরণ বন্ধ করে, তাহলে সম্ভাবনা আকাশচুম্বী। তবে সমস্ত অগ্রগতি সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে থমকে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক দিন ধরেই আছে। এছাড়া ভারতের অতীত কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে প্রতিবেশী দেশগুলোর দৃষ্টিভঙ্গিও বড় নিয়ামক। উদাহরণস্বরূপ, শ্রীলঙ্কায় ভারতীয় শান্তিরক্ষী বাহিনীর অবদানের জন্য ২০০৮ সালে একটি স্মৃতিফলক নির্মিত হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতালাভে ভারতের অবদানও বাংলাদেশের সরকার স্বীকৃতি দিয়েছে। সাবেক ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ী অ্যাওয়ার্ড অব লিবারেশন ওয়ার অনার পেয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে। একই পুরষ্কার পেয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধীও। অবশ্য দুজনের কেউই সশরীরে হাজির হয়ে নিতে পারেননি ওই পুরস্কার।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থাপনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে দেয়া ঋণের পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি করেছেন মোদি। এগুলো বাংলাদেশের সড়ক ও রেলপথের অবকাঠামো নির্মাণে ব্যবহৃত হবে। ভারতের জন্য উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোর সঙ্গে সংযোগ রক্ষায় বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ট্রানজিট খুবই প্রয়োজন। আসিয়ান দেশগুলোতে প্রবেশাধিকার পেতে মিয়ানমার হয়েও সংযোগ দরকার ভারতের। বাংলাদেশের মংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর ভারতীয় জাহাজ ভিড়তে পারবে এখন। এর ফলে উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোর সঙ্গে সমুদ্র বা নৌ যোগাযোগেও অগ্রগতি ঘটবে। ৪০ বছরেরও বেশি সময় পর স্থলসীমান্ত চুক্তির অনুমোদন হয়েছে। এটি ভাল সূচনা। কিন্তু এখন উভয় দেশকেই বিরতিহীনভাবে সীমান্ত সমস্যা নিয়ে কাজ করতে হবে। পাচার, মানব পাচার, অবৈধ অভিবাসনসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনের পাশাপাশি সীমান্তের উন্নততর ব্যবস্থাপনা উভয় দেশকেই লাভবান করবে। মোদিকে এখন কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারসমূহের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করে চলতে হবে। রাজ্য সরকারসমূহের সহযোগিতা ছাড়া স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এছাড়া সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকেও এ চুক্তি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে হবে।
যেহেতু ভারত একটি ফেডারেশন, তাই একই ইস্যুতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্য থাকতে পারে। এখন পর্যন্ত, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও আসামে বিজেপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল স্থলসীমান্ত চুক্তি নিয়ে একমত হয়েছে। আসামে কংগ্রেসদলীয় মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ আগে থেকেই এ চুক্তির সমর্থক। তবে মোদির সফরে তাকেসহ মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। অথচ এ সবগুলো রাজ্যের সঙ্গেই বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে।
অনেক জটিলতা সত্ত্বেও স্থলসীমান্ত চুক্তি হয়েছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাজ্য সরকারসমূহের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করতে আরও সময় লাগবে। বিশেষ করে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা নদীসমূহের পানি বণ্টনের ইস্যুতে। নদীর পানির ওপর সীমান্তের উভয় পাশের মানুষের জীবনযাত্রা নির্ভরশীল। তাই কেউই এ ব্যাপারে ছাড় দিতে রাজি নয়। সীমান্তের সবকিছু ঠিকঠাক হওয়ার পর পানি-বণ্টন নিয়ে সমাধানের দেখা মিলতে পারে। এছাড়া চীনের কাছ থেকেও পানির হিস্যা আদায়ে ঢাকার ভূমিকাকে বিবেচনা করতে হবে ভারতকে। কেননা, চীন থেকে যেসব নদী ভারতে প্রবেশ করেছে, সেসব অনেক নদীর পানিই চীন আটকে রেখেছে। যদি বাংলাদেশ-ভারত এ ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে চীনের সঙ্গে পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে ইতিবাচক কিছুর দেখা মিলতে পারবে।
বাণিজ্যের বিষয়ে ভারতকে অবশ্যই বাংলাদেশের সংবেদনশীল ৫০০ কোটি ডলারের ঘাটতির অভিযোগের বিষয়ে নজর দিতে হবে। ভারত বাংলাদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের মাধ্যমে বিনিয়োগ করতে পারে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে সে ধরনের একটি প্রস্তাবও দিয়েছে।
ভারতের নিরাপত্তা বিষয়ক উদ্বেগের প্রতি বাংলাদেশের শেখ হাসিনার সরকার ইতিবাচক সাড়া দেয়ায়, ভবিষ্যৎ সহযোগিতার একটি ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এক সময় এটি উপ-আঞ্চলিক ধারণার সূত্রপাত ঘটাতে পারে। যেমন, বঙ্গোপসাগরের নিরাপত্তার বিষয়ে বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড, মিয়ানমারের পারস্পরিক সহযোগিতার ধারণা। বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডরের ব্যাপারেও অগ্রগতি অর্জন সম্ভব। বহু বছর ধরে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে এর জন্য প্রয়োজন অবকাঠামোগত উন্নয়ন। এটি উপ-আঞ্চলিক অর্থনীতিতে বড় ধরণের ভূমিকা রাখবে। ক্রমেই মিয়ানমারের মাধ্যমে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোতে প্রবেশের করানোর মাধ্যমে এটি মোদির ‘প্রতিবেশীর অগ্রাধিকার’ নীতিকে ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতিতে প্রসারিত হতে সাহায্য করবে।
অনলাইন অবলম্বনে


 
এ পর্যন্ত সর্বাধিক পঠিত

  ইনফোটেক : ইন্টারনেট নিয়ে গ্রাহক প্রতারণা!
  অনুসন্ধান : কয়টি সিম রাখা যাবে?
  পোস্টমর্টেম : নকল ডিমে রাজধানী সয়লাব
  প্রবাস : চিতোর, ইতিহাসের তিন নারী
  সাহিত্য : নাথ সাহিত্যের স্বরূপ
  আন্তর্জাতিক : যেভাবে যৌনদাসীদের ভোগ করছে আইএস জঙ্গিরা
  অর্থনীতি : মূল বেতন দ্বিগুণ করার সুপারিশজাতীয় বেতন কমিশনের রিপোর্টে যা আছে
  সমকালীন : বাংলাদেশ নিয়ে চীন-ভারত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও কূটনীতির দৃষ্টিতে মোদীর ঢাকা সফর
  বিশেষ প্রতিবেদন : ক্যাপ্টাগন: জঙ্গিদের টেরোরিস্ট ড্রাগ!
  প্রশাসন : চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল হচ্ছে!
  সাহিত্য : শিরোমণি আলাওল
  আন্তর্জাতিক : ভয়ঙ্কর আইএস-এর উত্থান ও নৃশংসতা!
  চমক! : জমজমের পানি নিয়ে জাপানী বিজ্ঞানীদের রহস্য আবিষ্কার!
  সাহিত্য : মগের মুল্লুকে বাংলা সাহিত্যের বিকাশ
  প্রচ্ছদ প্রতিবেদন : গুলশান ট্র্যাজেডি! কেন এই নৃশংসতা?
 





free counters



উপদেষ্টা সম্পাদক : আবদুল্লাহ আল-হারুন   |  সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ জিয়াউল হক   |  প্রধান সম্পাদক : আসিফ হাসান

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: দেওয়ান কমপ্লেক্স, ৬০/ই/১ (৭ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: +৮৮-০২-৯৫৬৬৯৮৭, ০১৯১৪ ৮৭৫৬৪০  |  ফ্যাক্স: +৮৮-০২-৯৫৬৬৩৯৮

ইমেইল: editor@weeklymanchitra.com, manchitra.bd@gmail.com
©  |  Amader Manchitra

Developed by   |  AminMehedi@gmail.com