আমাদের মানচিত্র  |  বর্ষ: ৩, সংখ্যা: ২২     ঢাকা, বাংলাদেশ  |  আজ মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭  |  




আর্কাইভ সংখ্যা - মধ্যরাতে স্বাধীনতা!

আর্কাইভ সংখ্যার প্রচ্ছদ



বর্ষ: ৩, সংখ্যা: ২২
রবিবার, ২ আগষ্ট ২০১৫




 
একনজরে এই সংখ্যা -

  সম্পাদকীয় : জাতির পিতার প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা
  প্রচ্ছদ প্রতিবেদন : মধ্যরাতে স্বাধীনতা!
  ফিচার : অ্যামিশ: প্রকৃতিবাদী এক রহস্যময় গোষ্ঠি
  প্রবাস : ফিস্কেট্যুর
  কবিতা : প্রতিদিন: একটি পোস্টমডার্ন কবিতা(জীবনানন্দের ‘আটবছর আগের একদিন’ কবিতার প্যাশটিস )
  এক্সক্লুসিভ নিউজ : বিকাশের মাধ্যমে চলছে নানামুখী প্রতারণা!পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন
  চমক! : মহাবিলুপ্তির মুখে পৃথিবী!
  আন্তর্জাতিক : যেভাবে যৌনদাসীদের ভোগ করছে আইএস জঙ্গিরা
  প্রশাসন : সরকারি চাকরিতে সবাই এখন ‘কর্মচারী’
  প্রতিবেদন : বিদেশ ভ্রমণে জিও ছাড়া অফিশিয়াল পাসপোর্ট মিলবে না!
  মতামত : ২১৬ ফুট পানির নীচে চলে যাবে বাংলাদেশ!
  বিশেষ প্রতিবেদন : সৈয়দ আশরাফের ফেরা ও মধ্যবর্তী নির্বাচনের গুঞ্জন!মন্ত্রিসভার রদবদল!
  স্বাস্থ্য : স্মৃতিশক্তি কমে যাচ্ছে?
  অনুসন্ধান : বাংলাদেশ কি কোকেনের ট্রানজিট পয়েন্ট!
  কলাম : বঙ্গবন্ধুর সংগ্রাম
  পোস্টমর্টেম : নকল ডিমে রাজধানী সয়লাব
  রাজনীতি : যে কোন শর্তে নির্বাচনে রাজি বিএনপি!তত্ত্বাবধায়কের দাবি নেই
  বিশ্লেষণ : বদলে যাচ্ছে বিএনপি?
  ইনফোটেক : জিরো ফেসবুকের সঙ্গে ফ্রি ইন্টারনেট সেবার দ্ব›দ্ব!
 



আন্তর্জাতিক পড়া হয়েছে ৪০১৪ বার

যেভাবে যৌনদাসীদের ভোগ করছে আইএস জঙ্গিরা

স্মৃতিময় ভট্টাচার্য্য

কাঁপা কাঁপা গলায় বলে যাচ্ছিল বছর সতেরোর ইয়াজিদি কিশোরী। গত বছর আগস্ট মাসে তাদের সিঞ্জার শহরটা যখন ইসলামিক স্টেটের দখলে চলে গেল, ইয়াজিদিরা ঘরবাড়ি ছেড়ে ঠাঁই নিয়েছিল কাছের পাহাড়টাতে। সে অবশ্য পালাতে পারেনি। তাকে আর তার দশ বছরের বোনকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল আইএস জঙ্গিরা। আর তার পরৃ শুরু নরক-দর্শন।
বরাবরই যুদ্ধবন্দি মেয়েরা জয়ীদের ভোগ্যপণ্য হয়ে এসেছে। ধর্ষণ, নির্যাতনের শিকার হয়েছে। যৌনদাসী হয়ে আশ্রয় পেয়েছে হারেমে। গোটা বিশ্বের ইতিহাস তার সাক্ষী। এ যুদ্ধেও তার অন্যথা হয়নি। আইএসের হাতে বন্দি হয়ে নিলামে উঠেছিল ইরাকের দুই বোন। যৌনদাসী হিসেবে বিক্রি হয়ে গিয়েছিল আল রুসাইয়া নামে এক জঙ্গির হাতে। তার পর প্রতিদিন ধর্ষণ হওয়া। কখনও মালিকের হাতে। কখনও বা মালিকের উচ্ছিষ্ট হিসেবে তার দেহরক্ষীদের হাতে।
সিঞ্জার থেকে প্রথমে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় মসুলে। আরও বেশ কিছু কিশোরী বন্দির সঙ্গে রাখা হয় একটি হোটেলে। তার পর সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় রাক্কায়। পরীক্ষা শুরু। কুমারীত্বের পরীক্ষা।
পাশ করতেই পরের ধাপ আরও ভয়াবহ। ‘একটা ঘরের মধ্যে নিয়ে যাওয়া হল আমাদের। জনা চলি­শ পুরুষ লাইন দিয়ে দাঁড় করিয়ে দিল। বাছাই শুরু। কার কাকে পছন্দ’, বলছিল মেয়েটি। ‘ভেবেছিলাম আমার ভাগ্যটা হয়তো ভাল। বাকিদের মতো আমাকে দেখতে অত সুন্দর নয়।’ কিন্তু বাস্তবে তা খাটল না। আল রুসাইয়া নামে লোকটি ১০ মিনিটের মধ্যে কিনে নিল দুই বোন ও অন্য দু’টি মেয়েকে। ‘সেই দিনই শেষ বার দেখেছিলাম মাকে। চুলগুলো খামচে ধরে চিৎকার করে কাঁদছিল।’ বলল সে।
মালিকের ঘরে দাসত্ব শুরু হল। প্রতিদিন সকালে আল রুসাইয়া ঠিক করত, সে দিন তার কাকে পছন্দ। পড়ে থাকাদের ফেলে দেওয়া হতো দেহরক্ষীদের হাতে। কিশোরীর কথায়, ‘মালিকের হাতে পড়লে ভাল, তুলনায় কম মারধর করত। বাধা দেওয়ায় এক দিন ফুটন্ত জল ঢেলে দিয়েছিল পায়ে।’ শুধু এ সবই নয়, জোর করে তাদের ধর্মগ্রন্থ পড়তে বাধ্য করা হতো। না পড়লেই চাবুক। তা ছাড়া ঘরের যাবতীয় সব কাজ তো করতে হতোই। ছলছল চোখে বলে চলল সে, ‘যা হুকুম করত, তামিল করতেই হতো। কিছু অনুভব হতো না। শরীর অবশ হয়ে যেত।’ যেন ‘মৃত্যু’ অথবা সেই ‘মৃত্যু’র মধ্যে বেছে নিতে বলা যে কোনও একটা পথ! তাঁর কথায়, ‘শুধু মনে হতো, কবে শেষ হবে এ সব। কিন্তু শেষ আর হতো না।’
এক দিন হঠাৎই শেষ হল। আচমকাই। ন’মাস বন্দি থাকার পরে আইএস-এর ডেরা থেকে পালানোর একটা সুযোগ এসে গেল। এপ্রিলে হঠাৎই পেশমেরগা বাহিনীর হাতে খুন হয়ে গেল আল রুসাইয়া ও তার সঙ্গীরা। পালাল দুই বোন।
তবে সবাই পারল না। একটি মেয়ে পালাতে গিয়ে ধরা পড়ে গেল জঙ্গিদের হাতে। শোনা গিয়েছিল, মেয়েটির দু’টো পা-ই কেটে দিয়েছিল জঙ্গিরা। ধরা পড়ার ভয়ে অনেকেই তাই ফিরে গেল আইএস ডেরায়।
সেই ভয়কে জয় করেও লড়াই অবশ্য থামেনি। কিশোরী এখন অন্তঃসত্ত¡া। তার শরীরে রয়েছে আল রুসাইয়ার সন্তান। এ দিকে ইয়াজিদিরা মারাত্মক পিতৃতান্ত্রিক গোষ্ঠী। আইএস-এর ডেরা থেকে ফিরে আসা মেয়েদের চরিত্রহীনা অচ্ছুৎ হিসেবে দেখা হয় সমাজে। মেয়েটির কাকা হুমকি দিয়ে রেখেছে। বলে দিয়েছে, যদি জানতে পারেন ধর্ষণ করা হয়েছে, তা হলে খুন করে ফেলবেন তাকে। তাই গোপনেই গর্ভপাত করানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সে। সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছেন এক সুইডিশ তরুণী, সমাজকর্মী ডেলাল সিন্ডি। ইয়াজিদি সমাজ যাতে তাকে তাড়িয়ে না দেয়, সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছেন সিন্ডি। না হলে এখনও সেই একটাই পথ, ‘মৃত্যু’।
মিশেল ওবামাকে নিয়ে ওই কদর্য কথাটি লিখেছিল যে, সে একজন নারীই। এক জিহাদির স্ত্রী। ওই ‘৪০ ডলার’ দামটা তার মাথায় এলো কী করে? কেন, রেট-চার্ট আছে তো! কোন ধরনের মেয়েদের কত দাম, একেবারে বলে দেওয়া আছে! যেমন রোলের দোকানে এগ রোল মাটন রোল চিকেন রোলের দাম বাইরেই টাঙানো থাকে! চূড়ান্ত অশিক্ষা আর ঔদ্ধত্য মিশিয়ে, এই ইসলামিক স্টেট (হ্যাঁ, এই সংগঠন নিজেদের এখন ‘স্টেট’ বলতে ভালোবাসে- যারা কিনা ইরাক, সিরিয়া আর ইয়েমেন-এর অনেকখানি জায়গা দখল করে নিয়ে ‘ইসলামি সাম্রাজ্য’ বিস্তার করতে চাইছে, আর প্রথম বিশ্বের বড? উন্নত, সভ্য, শিক্ষিত দেশ থেকে ফুসলে আনছে তরুণ-তরুণী জঙ্গি, আর সারা বিশ্বের মাস্তান দেশগুলোর ঘুম ও ঘিলু শুষে নিয়েছে- তাদের ‘সাম্রাজ্যে দাপিয়ে বুক ফুলিয়ে চালু করে দিচ্ছে খোলা বাজারে মেয়ে কেনাবেচার দুরন্ত ব্যবসা।
মেয়েও তো অঢেল, অভাব নেই। আইএস জঙ্গিরা ইরাকের উত্তর প্রান্ত অধিকার করে সেখানকার সংখ্যালঘু ইয়েজিদি ও খ্রিস্টান স¤প্রদায়ের লোকজনকে বন্দি করছে। তার পর মেয়েদের তাদের পরিবারের থেকে আলাদা করে রাখছে অন্য জায়গায়। তার পর বিক্রি করছে চড়া দামে। মেয়েগুলিকে ভোগ করছে একাধিক আইএস জঙ্গি সৈন্য বা সদস্য। বিদেশি জঙ্গিদের হক আগে। কারণ তাদের ফুসলে আনার জন্য অনেক বেশি চেষ্টা করতে হয়েছে।
‘ইয়েজিদি ও খ্রিস্টান মেয়েদের তুলে নিয়ে গিয়ে যৌন ক্রীতদাসী করলে তাতে পাপ তো নেই-ই, বরং পুণ্য আছে, কারণ এই স¤প্রদায়ের মানুষরা ইসলাম অমান্য করে অন্য ধর্ম পালন করেছে। ব্যস, তাদের তো উচিত শিক্ষা দিতেই হবে।’ ইন্টারনেটের একটি সাইটে আইএস এ রকম ভূরি ভূরি যুক্তি দিয়েছে। বলেছে, ‘যে সব পরিবার কাফের, তাদের বন্দি করে বা অধিকার করে দাস বানানো এবং তাদের মেয়েদের রক্ষিতা করার অধিকার শরিয়তে দেওয়া রয়েছে।’ ওয়েবসাইট আরও বলছে, ‘আমরা খবর পেয়েছি, নারী এবং গরুর বাজারে চাহিদা বিস্তর কমে গেছে, এবং এর ফলে ইসলামিক স্টেট-এর রাজস্বে টান পড়বে, টান পড়বে মুজাহিদিনদের যুদ্ধের রসদেও। এই অবস্থায় আমরা (বাজারদরের) কিছু পরিবর্তন করছি। ইয়েজিদি ও খ্রিস্টান মেয়েদের দাম নিচে দেওয়া হলো।’
১ থেকে ৯ বছরের মেয়েদের দাম ১৭২ মার্কিন ডলার, ১০ থেকে ২০ বছরের মেয়েদের দাম ১২৯ ডলার, ২০ থেকে ৩০ বছরের মেয়েদের দাম ৮৬ ডলার, ৩০ থেকে ৪০ বছরের মেয়েদের দাম ৫৬ ডলার, আর ৫০ বছরের ওপরের মেয়েদের দাম ৪৩ ডলার। একজন তিনটির বেশি যৌন ক্রীতদাসী রাখতে পারবে না। শুধু বিদেশি জঙ্গিদের ক্ষেত্রে এবং তুরস্ক ও পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে যারা জঙ্গি হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে। তারা তিনের বেশি ক্রীতদাসী রাখতে পারে।
এক বছরের মেয়ে? তিন বছরের মেয়ে?- এরা যৌন ক্রীতদাসী?! এদের শরীর থেকে কী যৌন তৃপ্তি আদায় করে নেবে এরা? কতখানি অমানুষ হলে এদের ওপর চড়াও হওয়া যায়! অনেকে বলছেন, না না, এদের তখনই ভোগ করা হয় না, নাইয়ে খাইয়ে ডাগরডোগর করে বড় করে বেঁচে দেওয়া হয় অন্যের ভোগের জন্য। এদের কেনা হচ্ছে ‘বিনিয়োগ’ হিসেবে। আর, বেশি বছর তো অপেক্ষা করতে হবে না। কারণ, অল্পবয়সী পবিত্র-যোনির চাহিদা একেবারে তুঙ্গে!
এই অল্প-বয়সটা ঠিক কত বয়স হতে পারে? তারও উত্তর দিয়েছে আইএস তাদের ইশতেহারে। প্রশ্ন আছে- যে মেয়ে ঋতুমতী হয়নি তার সঙ্গে সঙ্গম কি উচিত? উত্তরে বলা হয়েছে- যদি সেই মেয়ের শরীর সঙ্গমের জন্য প্রস্তুত থাকে, তবে ঋতুমতী না হলেও তাকে ভোগ করা যায়। যেমন, পঞ্চাশ বছরের একজন জঙ্গি আট বছরের ফাদিদাকে কিনে নিয়ে গিয়েছিল, বলেছিল তাকে মেয়ের মতো রাখবে। সেই লোকটিই রাতে ফাদিদাকে খাইয়ে দাইয়ে হাত ধরে শুতে নিয়ে গিয়েছিল নিজের ঘরে। কী কী যেন করছিল, ফাদিদার খুব কষ্ট হচ্ছিল। সকাল বেলায় ফাদিদা দেখে তার উরু বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে রক্ত, আর খুব কষ্ট সারা শরীরে। তারপর প্রায়ই এই যন্ত্রণা তাকে সইতে হয়েছে। দগ্ধে দগ্ধে বেশ কিছু দিন কেটেছে। তার পর এক দিন সে উদ্দেশ্যহীন ভাবে হাঁটতে শুরু করে। রাক্কা শহরের কোনও এক দরজায় ঘা দিয়ে আশ্রয় চায়। সেই পরিবার তাকে আশ্রয় দিলেও ফাদিদার পরিবারের কাছ থেকে মোটা টাকা নিয়ে তবে ছেড়েছে তাকে। সে এখন একটা ক্যাম্পে থাকে। চিকিৎসা চলছে। প্রথম যখন পরিবারের লোক তাকে পায়, আর ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে স্বেচ্ছাসেবীদের সাহায্য চায়, তখন টানা দুই দিন আবোলতাবোল বকে গিয়েছিল ফাদিদা। তার পর দুই মাস একটাও কথা বলেনি।
কিংবা ওই যে ৯ বছরের মেয়েটা, যাকে বেশ কিছু দিন ধরে ১০ জন জঙ্গি লাগাতার ধর্ষণ করেছে, সে এখন অন্তঃসত্ত¡া। তাকে উদ্ধার করা হয়েছে বটে, কিন্তু এই নিষ্ঠুর সত্যিটা সবাই নিশ্চিত করেই জানে যে, এক দিন কিতকিত খেলার বদলে বাচ্চার জন্ম দিতে গিয়ে সে মরে যাবে। এই অবস্থায় তাকে বাঁচানো সম্ভব নয়। গর্ভপাত করাতে গেলেও মরবে, বাচ্চার জন্ম দিতে গেলেও মরবে। আর এইসব মেয়েকে লুটেপুটে ভোগ করাই নাকি চূড়ান্ত আনন্দের। নানা বয়সের জঙ্গিদের এটাই মত। বয়সে যত কচি, ভোগে তত আনন্দ- ‘আরে একটু বড় হয়ে গেলেই তো মেয়েরা বুঝতে পারে, রেপ কাকে বলে, যৌন অত্যাচার কাকে বলে। কিন্তু ছোট্ট মেয়েগুলো তো বুঝতেও পারে না। আর সেটাই আসলি মজা। আহাহা, ওই নিষ্পাপ ইনোসেন্সটাই তো কিক দেয়।’
তা হলে এ তো কেবল বিচ্ছিন্ন কয়েক জনের মানসিক বিকৃতির ঘটনা নয়। এ তো শ’য়ে শ’য়ে ছেলের চাহিদা, যা জেহাদের নামে পূরণ করছে আইএস। ঠান্ডা মাথায় মেয়েদের তুলে নিয়ে এসে ঠুসে দিচ্ছে বদ্ধ হলঘরে বা কোনও উচ্চপদস্থ জঙ্গির ডেরায় কিংবা পরিত্যক্ত কারখানা বা পতিতালয়ে। তার পর তাদের নিলাম হচ্ছে। অনেক সময়ে নিলামের বদলে, বসে ‘রেপ লটারি’র আসর। ওই ওই আট বছরের মেয়েটা, আর ও দিকের কোনায় বছর কুড়ির যৌবনবতী, আর ডান দিকের তিন নম্বর জানলার নিচে ওই বেশি তেজ দেখানো ডাগর মেয়েটা? নিয়ে আয় এদের। বাকিগুলো ভয়ে কাঁপুক, কবে ওদের নম্বর উঠবে।
যারা ‘নির্বাচিত’ হল, তাদের নিদান আসে স্নান করার। বলি দেওয়ার আগে যেমন স্নান করানোর রেওয়াজ আছে বহু ধর্মে। মেয়েদের স্নান করতে বললেই তাদের বুক ঢিপঢিপ, পেট গুড় গুড়। এই বার নেমে আসবে সেই ভয়ংকর খাঁড়া। অমান্য করেছ কী মার! চাবুক, লাঠি, চুল ধরে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া, দেওয়ালে মাথা ঠুকে দেওয়া। এ সবের পর ব্যথা, জমাট রক্ত, খিদে আর তেষ্টা নিয়ে অন্ধকার কুঠুরিতে পড়ে থাকা। একটু ভাল হলেই ফের স্নান।
জালিলা, বছর কুড়ির তরুণী, অনেক কাকুতি-মিনতি করেছিল ছেড়ে দেওয়ার জন্য। সাত জন ভোগ করার পর একটু নিস্তার মিলেছিল তার। আবার রাসিদা যখন জানল যে আজ তার পালা, তখন সে মরিয়া, কী করে পালাবে। না পারলে অন্তত মরে তো যাওয়াই যায়। স্নান করতে গিয়ে খুঁজে পেল একটা শিশি, তাতে বেশ কিছুটা উগ্র গন্ধের তরল। আঁচ করল, নিশ্চয়ই বিষ। জলে মিশিয়ে সে আর বাকি মেয়েরা গলায় ঢেলে দিল। কিন্তু এমনই ভাগ্য যে অসুস্থ হয়ে পড়লেও কেউ মরল না। ভেজাল বিষও বিট্রে করল।
এগারো বছরের জামার কিন্তু মরতে পেরেছিল। গলায় ওড়নার ফাঁস লাগিয়ে বাথরুমে গিয়ে কোনও মতে ঝুলে পড়েছিল। অবশ্য তার আগে কয়েক জন জঙ্গি তাকে বেশ করে ভোগ করে নিয়েছিল। তাদের পয়সা পুরোটা জলে যায়নি। ওয়াফা নামের এক তরুণী অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-কে জানিয়েছে, সে আর তার বোন এক দিন রাতে দুজনে গলায় ওড়না জড়িয়ে একে অন্যের ওড়না ধরে টানছিল। জীবনের শেষ শক্তি জড়ো করে। কিন্তু ঘরের অন্য মেয়েরা ঘুম থেকে উঠে পড়ায় তাদের আর মরা হয়নি। এর পর মাসখানেক দুই বোনই আর কথা বলতে পারেনি।
জয়নাব অবশ্য পালিয়ে বেঁচেছিল। বাঁচার আগে সাত বার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। তিন বার হাতের শিরা কেটে, আর বেশ কয়েক বার গলার ফাঁস দিয়ে। পারেনি। প্রত্যেক বার বাঁচিয়ে নিয়েছিল ওর প্রভুরা। আর তার পর মার কাকে বলে! কালশিটের রং দেখে বোধ হয় কালশিটে নিজেও লজ্জা পেয়েছিল। প্রথম বার পালানোর পর, প্রভু বেঁচে দিয়েছিল এক জন লেবাননের লোককে। সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিল বলে ফের ফেরত এসেছিল ইরাকে। আবার পালাতে গিয়েছিল, তখন দু’দিন অন্ধকার ঘরে বন্দি ছিল। শেষরক্ষা হয়নি। এর পর স্নান শুরু হয় বার বার, বার বার। তবু পালাতে গিয়েছিল। তখন ওকে নিয়ে গিয়ে রাখা হয়েছিল ধু-ধু মরুভূমির মধ্যে একটা ট্রেলারে। সেখানে গিয়ে জয়নাব দেখে, আরও সাত জন মেয়ে রয়েছে। তারাও যৌন ক্রীতদাসী। কিন্তু কাজ করতে হয় সবই। কাপড়-জামা কাঁচা, ট্রেলার পরিষ্কার রাখা, খাবার তৈরি করা। আর ‘উঃ’ বললেই পেটানি খাওয়া- সেটাও একটা নিত্য কাজ।
এক দিন রাতে পালাতে গিয়েছিল জয়নাব। এমন মার জুটেছিল যে কথা বলতে পারেনি সাত দিন। কিন্তু তক্কে তক্কে ছিল। এক রাতে যখন জয়নাবের সঙ্গীদের দুজনকে নিয়ে ব্যস্ত ছিল কমান্ডাররা, তখন ট্রেলার থেকে নিঃশব্দে একটা ফালি দিয়ে স্লিপ করে নেমে যায় বাকি ছ’জন। হাঁটতে থাকে মরুভূমি ধরে। কোন দিকে, কোথায় যাচ্ছে, কেউ জানে না। চার-পাঁচ দিন খাবার ছাড়া, জল ছাড়া হাঁটার পর, একটা শহরে এসে একটা দরজায় ধাক্কা দেয় জয়নাব। আশ্রয় দিতে রাজি হয়নি গৃহকর্তা। কিন্তু তার চালাক ছেলে রাজি ছিল, এই মওকায় কিছু যদি কামিয়ে নেওয়া যায়। পেরেওছিল। ছ’টা মেয়ের বাড়ির লোকের কাছ থেকে মোটা টাকা নিয়ে তবে ছেড়েছিল মেয়েগুলোকে। তারা এখন বিভিন্ন ক্যাম্পে। জয়নাব অনেক পরে জানতে পেরেছিল, বাকি দুটো মেয়ে, সে দিন যারা ট্রেলারে জঙ্গিদের ভোগের বস্তু ছিল, পরের রাতে চেষ্টা করেছিল পালাবার। দুজনকেই মাথায় গুলি করে মেরে দেয় ওই বীরপুঙ্গবরা।
এখনও আইএস জঙ্গিদের কাছে প্রায় হাজার তিনেক ইয়েজিদি আর খ্রিস্টান মেয়ে রয়েছে। সে সংখ্যা আরও বাড়বে। মেয়েদের এই দশা দেখে যদি কেউ ভাবেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক, কিন্তু কী করা যাবে, যে কোনও বড় আগ্রাসনের কো-ল্যাটারাল ড্যামেজ তো আছেই’, তা হলে তিনি ভুল করছেন। এ শুধু অসহায় মেয়েদের বাগে পেয়ে যৌন আনন্দ ভোগ করার ব্যাপার নয়, এখানে আছে একটা গোটা বাজার চালাবার আস্ত ব্লুপ্রিন্ট! ব্যবসা বজায় রাখতে গেলে ক্রমাগত সাপ্লাই থাকতে হবে। সে জন্য মেয়েদের তুলে আনতে হবে রোজ রোজ। তার পর, কত জন পালাতে পারে, কাকে পিটিয়ে শিক্ষা দিতে হবে আর কাকে একদম মেরে ফেলতে হবে, ডিমান্ড অনুযায়ী কাকে কোন দামে বেচা হবে-তারও পরিষ্কার আইডিয়া থাকতে হবে। গোছালো ভাবে ব্যবসা না ফাঁদলে, লাভ কমে যাবে। পয়সা জোগানে টান পড়লে জেহাদি পুষবে কী করে, আর যুদ্ধই বা করবে কী করে? তাই মেয়েরা এখানে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কাঁচামাল। পুঁজি।
গ্যাস চেম্বার, আবু গ্রাইব, কঙ্গো-রেপ, দারফুর-রেপ দেখেছে বিশ্ব। এ বার এটা একটা নতুন মডেল। এরা খেল দেখাক। আর আমরা- দুর্বল, পিতপিতে, সভ্য মানুষ- নতজানু হয়ে ক্ষমা, শান্তি আর মহানুভবতার কাছে গিড়গিড়াই।

তথ্যসূত্র: অনলাইন


 
এ পর্যন্ত সর্বাধিক পঠিত

  ইনফোটেক : ইন্টারনেট নিয়ে গ্রাহক প্রতারণা!
  অনুসন্ধান : কয়টি সিম রাখা যাবে?
  পোস্টমর্টেম : নকল ডিমে রাজধানী সয়লাব
  প্রবাস : চিতোর, ইতিহাসের তিন নারী
  সাহিত্য : নাথ সাহিত্যের স্বরূপ
  আন্তর্জাতিক : যেভাবে যৌনদাসীদের ভোগ করছে আইএস জঙ্গিরা
  অর্থনীতি : মূল বেতন দ্বিগুণ করার সুপারিশজাতীয় বেতন কমিশনের রিপোর্টে যা আছে
  সমকালীন : বাংলাদেশ নিয়ে চীন-ভারত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও কূটনীতির দৃষ্টিতে মোদীর ঢাকা সফর
  বিশেষ প্রতিবেদন : ক্যাপ্টাগন: জঙ্গিদের টেরোরিস্ট ড্রাগ!
  প্রশাসন : চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল হচ্ছে!
  সাহিত্য : শিরোমণি আলাওল
  আন্তর্জাতিক : ভয়ঙ্কর আইএস-এর উত্থান ও নৃশংসতা!
  চমক! : জমজমের পানি নিয়ে জাপানী বিজ্ঞানীদের রহস্য আবিষ্কার!
  সাহিত্য : মগের মুল্লুকে বাংলা সাহিত্যের বিকাশ
  প্রচ্ছদ প্রতিবেদন : গুলশান ট্র্যাজেডি! কেন এই নৃশংসতা?
 





free counters



উপদেষ্টা সম্পাদক : আবদুল্লাহ আল-হারুন   |  সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ জিয়াউল হক   |  প্রধান সম্পাদক : আসিফ হাসান

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: দেওয়ান কমপ্লেক্স, ৬০/ই/১ (৭ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: +৮৮-০২-৯৫৬৬৯৮৭, ০১৯১৪ ৮৭৫৬৪০  |  ফ্যাক্স: +৮৮-০২-৯৫৬৬৩৯৮

ইমেইল: editor@weeklymanchitra.com, manchitra.bd@gmail.com
©  |  Amader Manchitra

Developed by   |  AminMehedi@gmail.com