আমাদের মানচিত্র  |  বর্ষ: ৩, সংখ্যা: ৩৫     ঢাকা, বাংলাদেশ  |  আজ মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭  |  




আর্কাইভ সংখ্যা - রক্তে রাঙ্গলো তাজিয়া মিছিল!

আর্কাইভ সংখ্যার প্রচ্ছদ



বর্ষ: ৩, সংখ্যা: ৩৫
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০১৫




 
একনজরে এই সংখ্যা -

  সম্পাদকীয় : ভূমিকম্প ঝুঁকি ও বাংলাদেশ!
  কলাম : প্রবাসী বাঙালির সম্ভাবনা
  প্রবাস : জন্ম ও মৃত্যু এলিজাবেথ ক্বুলার রস
  শিল্প আলোচনা : পিকাসোর যৌনতা
  চমক! : অবসরে যাচ্ছেন খালেদা!
  রাজনীতি : অসন্তোষ বাড়ছে জোট রাজনীতিতে!
  অনুসন্ধান : কয়টি সিম রাখা যাবে?
  বিশেষ প্রতিবেদন : ক্ষোভে ফুঁসছে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারিবৃন্দ! টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বাতিলের নেপথ্যে...
  বিশ্লেষণ : বিএনপি’র জামায়াত ত্যাগ? তারেক রহমানের উপলব্ধি ও নতুন চেয়ারপারসন নিয়ে গুঞ্জন!
  প্রচ্ছদ প্রতিবেদন : রক্তে রাঙ্গলো তাজিয়া!
  সমকালীন : সহিংসতায় উদ্বেগ-অস্থিরতা শঙ্কায় দেশের জনগণ!
  গল্প : অহনা
  প্রতিবেদন : সরকারকে চাপ দিতে হিলারির কাছে ইউনূসের ই-মেইল ফাঁস
  যাপিত জীবন : মৃত্যুমুখের যন্ত্রণাগুলো...
  প্রশাসন : স্থানীয় সরকারে সঙ্কট! সব নির্বাচন হবে দলীয় প্রতীকে
  যাপিত জীবন : ফাস্ট ফুড ও আমাদের যাপিত জীবন!
 



অনুসন্ধান পড়া হয়েছে ৮২৫০ বার

কয়টি সিম রাখা যাবে?

রবিউল ইসলাম সোহেল

সিমের তথ্যে মিলছে হরেক জালিয়াতি। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে তোলা হয়েছে সাড়ে ছয় হাজার মোবাইল সিম। অনেক সিম নেওয়া হয়েছে ভুয়া পরিচয়পত্র দেখিয়ে। কোনো কোনো সিম কেনা হয়েছে পুরুষের নামে, অথচ পরিচয়পত্র নারীর।
মোবাইল ফোন গ্রাহকদের জাতীয় পরিচিতির তথ্য যাচাইয়ে জালিয়াতির এরকম হাজারো নমুনা পেয়ে এজন্য মোবাইল ফোন অপারেটরদের দুষছে জাতীয় পরিচয় ও নিবন্ধন অনুবিভাগ।
নির্বাচন কমিশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল ফোন কোম্পানি টেলিটকের দেওয়া অধিকাংশ তথ্য সঠিক; বেশি ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে বড় অপারেটরদের গ্রাহক তথ্য নিয়ে।
‘প্রিপেইড গ্রাহকদের অধিকাংশের তথ্য তাদের হাতে নেই। অথচ এ গ্রাহকরা ফোন ব্যবহারের আগেই সিমে টাকা ভরেন। অন্যদিকে পোস্টপেইড গ্রাহকদের ডেটা কোম্পানিটির হাতে রয়েছে। এ ধরনের অবিবেচনাপ্রসূত কাজের সঠিক জবাবও তারা দিতে পারেনি।’
নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশের ছয়টি মোবাইল ফোন অপারেটরের মোট গ্রাহক সংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৮৭ লাখ।
ভুয়া পরিচয়ে সিম কিনে নানা অপরাধে ব্যবহারের অভিযোগ বাড়তে থাকায় সম্প্রতি এ বিষয়ে কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় সব অপারেটরের গ্রাহকদের তথ্য যাচাই করে সিম পুনঃনিবন্ধনের নির্দেশনা এসেছে।
তিন মাসে পুনঃনিবন্ধনের পর অনিবন্ধিত সব সিম বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ার করেছেন টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।
সরকারের ওই সিদ্ধান্তের পর মোবাইল গ্রাহকদের সিমের তথ্য যাচাইয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ভাণ্ডার ব্যবহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মোবাইল কোম্পানিগুলো সিম নিয়ে যা করেছে, তা বলতে গেলে খুব ভয়ঙ্কর। ভুয়া নিবন্ধন পাওয়া যাচ্ছে, এটা উদ্বেগের। এতে তো ব্যক্তি নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়বে। ভুয়া পরিচয়ে সিম নিয়ে একজন অপরাধ করলে অন্য কেউ ফেঁসে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে।’
তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তফা জব্বারও এই অনিয়মের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর ফেইসবুকে তিনি লেখেন, সিম নিবন্ধন বিষয়ক উপাত্তসমূহের মাঝে মাত্র কয়েক লাখ তথ্য যাচাই করা হয়েছে। এরই মাঝে একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের নামে ৬৫০০ সিম নিবন্ধিত পাওয়া গেছে।
‘একটি মোবাইল অপারেটর জানিয়েছে, তাদের শতকরা ৯০ ভাগ সিম ভুয়া। দায়িত্বশীল সূত্রে প্রাপ্ত খবর এটি। বিটিআরসি কেমন করে এইসব জঘন্য অনাচার হজম করে আসছিল, কেউ ব্যাখ্যা দিতে পারেন কি? তারানা হালিমের উচিত, সুনীল বোসসহ লাইন ধরে বিটিআরসির কর্মকর্তাদেরকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো।’
তবে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তথ্য যাচাইয়ের ফলাফল নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলতে রাজি নন ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান মো. সালেহ উদ্দীন।
একটি সংবাদ সংস্থাকে তিনি বলেন, ‘তথ্য যাচাইয়ে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এরই মধ্যে আমরা অপারেটরদের কাছ থেকে প্রায় ৫০ লাখের মতো ডাটা পেয়েছি। চুক্তির জন্য সবার আবেদনও পেয়েছি। গ্রাহক ও নাগরিক তথ্য যাচাইও চলছে।’
সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষার সঙ্গে বিষয়টি জড়িত থাকায় ‘খুব’ গুরুত্বসহকারে তথ্য যাচাই হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ডিসেম্বরেরর মধ্যে সবগুলো অপারেটরের সব তথ্য পাওয়ার পাশাপাশি যাচাইও শেষ হতে পারে। ‘তখন ফলাফল সম্বন্ধে বলা যাবে।’
সব গ্রাহককে সঠিক সেবা এবং পুনঃনিবন্ধনের সুযোগ দিতে স্ব স্ব মোবাইল কোম্পানি থেকে গ্রাহককে এসএমএস দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এনআইডি ডিজি।‘যেভাবে সিম ছড়িয়েছে সবখানে, সেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রাহকের এনআইডি তথ্য না-ও মিলতে পারে। কিন্তু সিকিউরিটির কথা চিন্তা করে গ্রাহকদের মোবাইলে তাদের এনআইডি নম্বর, নাম ও জন্ম তারিখের তথ্য ফিরতি বার্তার মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়ার আহবান জানানো যেতে পারে।’
পরবর্তীতে ছবি সংগ্রহ, আঙ্গুলের ছাপ ও অন্যান্য কাজগুলো সংশ্লিষ্ট মোবাইল কোম্পানি ধীরে ধীরে সম্পন্ন করতে পারবে বলেও মত দেন তিনি।
কয়টি সিম রাখা যাবে?
মোবাইল ফোন অপারেটরদের গ্রাহক বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় নিবন্ধন নিয়ে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলার অবসানে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ কয়টি সিম রাখতে পারবেন সেই সংখ্যা বেঁধে দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার।
টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি সম্প্রতি ডাক ও টেলিযোগযোগ বিভাগে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যাতে একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে সর্বোচ্চ ২০টি মোবাইল সিম রাখার সীমা বেঁধে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে একজন গ্রাহক তার এনআইডি দেখিয়ে এক অপারেটরের পাঁচটির বেশি সিমের মালিক হতে পারবেন না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিটিআরসি সচিব মো. সরওয়ার আলম বলেন, ‘সিমের মালিকানায় শৃঙ্খলা আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
বিষয়টি এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) মহাসচিব টি আই এম নুরুল কবির বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা করেই নেওয়া উচিৎ।
ভুয়া পরিচয়ে অথবা নিবন্ধন না করে সিম কিনে নানা অপরাধে ব্যবহারের অভিযোগ বাড়তে থাকায় সম্প্রতি গ্রাহকদের তথ্য যাচাই ও সিম পুনঃনিবন্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হলে বিস্ময়কর সব তথ্য বেরিয়ে আসতে থাকে।
সিমের তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে গিয়ে একটি ‘ভুয়া’জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে ১৪ হাজার ১১৭টি সিম তোলার তথ্য জানা যায়।
যাচাই প্রক্রিয়া শুরুর পর প্রথম এক কোটি সিমের মধ্যে সঠিকভাবে নিবন্ধিত সিম পাওয়া যায় মাত্র ২৩ লাখ ৪৩ হাজার ৬৮০টি।
তথ্যভাণ্ডারে মিলিয়ে তিনটি এনআইডি নম্বর পাওয়া যায়, যেগুলোর বিপরীতে ১১ হাজার ৮৬৬টি, ১১ হাজার ৩২৮টি ও ৬ হাজার ১৭৯টি সিমের নিবন্ধন হয়েছে। বিশৃঙ্খলার এই বিস্তৃতি অনুধাবন করার পর সিম সংখ্যার সীমা বেঁধে দিতে বিট্আিরসিকে একটি চিঠি দেয় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ।
ওই চিঠিতে বলা হয়, এক এনআইডির বিপরীতে এক অপারেটরের সর্বোচ্চ সাতটি এবং সব মিলিয়ে ২৪টির বেশি সিম না রাখার নিয়ম করা যেতে পারে। বিটিআরসিকে এর যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখতে বলা হয়।
বিষয়টি পর্যালোচনা করে বিটিআরসি যে জবাব দিয়েছে, তাতেই এক গ্রাহকের সর্বোচ্চ  ২০টি সিম এবং এক অপারেটররের সর্বোচ্চ পাঁচটি সিম রাখার সীমা বেঁধে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়।
বাংলাদেশে বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ব অপারেটর টেলিটকসহ মোট ছয়টি অপারেটর মোবাইল ফোন সেবা দিচ্ছে। বিটিআরসি’র সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, মানুষের হাতে থাকা মোবাইল সিমের সংখ্যা ১৩ কোটি ১৪ লাখ ছাড়িয়ে গেছে, যেখানে দেশের জনসংখ্যাই ১৬ কোটি।
নিবন্ধনে শৃঙ্খলা আনতে ১৬ ডিসেম্বর থেকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে চূড়ান্তভাবে সিম পুনঃনিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে মোবাইল ফোন অপারেটররা।
এছাড়া গ্রাহকরা আগামী বছরের শুরুতেই মোবাইল ফোন নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর বদলানোর সুযোগ (এমএনপি) পেতে যাচ্ছেন বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।
তথ্যসূত্র: অনলাইন


 
এ পর্যন্ত সর্বাধিক পঠিত

  ইনফোটেক : ইন্টারনেট নিয়ে গ্রাহক প্রতারণা!
  অনুসন্ধান : কয়টি সিম রাখা যাবে?
  পোস্টমর্টেম : নকল ডিমে রাজধানী সয়লাব
  প্রবাস : চিতোর, ইতিহাসের তিন নারী
  সাহিত্য : নাথ সাহিত্যের স্বরূপ
  আন্তর্জাতিক : যেভাবে যৌনদাসীদের ভোগ করছে আইএস জঙ্গিরা
  অর্থনীতি : মূল বেতন দ্বিগুণ করার সুপারিশজাতীয় বেতন কমিশনের রিপোর্টে যা আছে
  সমকালীন : বাংলাদেশ নিয়ে চীন-ভারত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও কূটনীতির দৃষ্টিতে মোদীর ঢাকা সফর
  বিশেষ প্রতিবেদন : ক্যাপ্টাগন: জঙ্গিদের টেরোরিস্ট ড্রাগ!
  প্রশাসন : চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল হচ্ছে!
  সাহিত্য : শিরোমণি আলাওল
  আন্তর্জাতিক : ভয়ঙ্কর আইএস-এর উত্থান ও নৃশংসতা!
  চমক! : জমজমের পানি নিয়ে জাপানী বিজ্ঞানীদের রহস্য আবিষ্কার!
  সাহিত্য : মগের মুল্লুকে বাংলা সাহিত্যের বিকাশ
  প্রচ্ছদ প্রতিবেদন : গুলশান ট্র্যাজেডি! কেন এই নৃশংসতা?
 





free counters



উপদেষ্টা সম্পাদক : আবদুল্লাহ আল-হারুন   |  সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ জিয়াউল হক   |  প্রধান সম্পাদক : আসিফ হাসান

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: দেওয়ান কমপ্লেক্স, ৬০/ই/১ (৭ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: +৮৮-০২-৯৫৬৬৯৮৭, ০১৯১৪ ৮৭৫৬৪০  |  ফ্যাক্স: +৮৮-০২-৯৫৬৬৩৯৮

ইমেইল: editor@weeklymanchitra.com, manchitra.bd@gmail.com
©  |  Amader Manchitra

Developed by   |  AminMehedi@gmail.com