আমাদের মানচিত্র  |  বর্ষ: ৪, সংখ্যা: ২২     ঢাকা, বাংলাদেশ  |  আজ মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭  |  




আর্কাইভ সংখ্যা - গুলশান ট্র্যাজেডি! কেন এই নৃশংসতা?

আর্কাইভ সংখ্যার প্রচ্ছদ



বর্ষ: ৪, সংখ্যা: ২২
রবিবার, ৩১ জুলাই ২০১৬




 
একনজরে এই সংখ্যা -

  সম্পাদকীয় : সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি
  প্রবাস : জন্ম ও মৃত্যু নিয়ে এলিজাবেথ কুবলার রস
  বিশেষ প্রতিবেদন : ক্যাপ্টাগন: জঙ্গিদের টেরোরিস্ট ড্রাগ!
  প্রতিবেদন : লোন উলফ অ্যাটাক: সন্ত্রাসের নতুন মাত্রা!
  আন্তর্জাতিক : তুরস্কে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের নেপথ্যে...
  অনির্ধারিত : হতাশ তারেক রহমান! হাইকোর্টের রায়ে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ শঙ্কায়!
  অর্থনীতি : সঞ্চয়পত্র কিনতে হলে টাকার উৎস জানাতে হবে
  রাজনীতি : অবশেষে জামায়াত ছাড়ছে বিএনপি?
  চমক! : প্রথা মেনে ধর্ষণ!
  প্রচ্ছদ প্রতিবেদন : গুলশান ট্র্যাজেডি! কেন এই নৃশংসতা?
  অনুসন্ধান : রিটা কাৎজ! কার?
  পোস্টমর্টেম : ব্রেক্সিট: যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও বাংলাদেশে এর আর্থিক প্রভাব
 



বিশেষ প্রতিবেদন পড়া হয়েছে ৩৬২৯ বার

ক্যাপ্টাগন: জঙ্গিদের টেরোরিস্ট ড্রাগ!

রবিউল ইসলাম সোহেল

ইসলাম সম্পর্কে মনগড়া বিভ্রান্তি আর মারণাস্ত্র ছাড়াও আইএস-এর আরেক গোপন অস্ত্র আছে। তার নাম হল ‘ক্যাপ্টাগন’। ক্যাপ্টাগন হল উচ্চমাত্রার যৌন উত্তেজক পিল, যা সৌদি আরব, সিরিয়া, ইরাকে সবচে’ জনপ্রিয়। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে গোপন স্থানে এ ধরনের উত্তেজক ওষুধ তৈরির পর চোরাচালানের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়ে।
হুর-পরীর স্বপ্নে বিভোর আর ভয়ঙ্কর ড্রাগ আসক্তিতে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েছে কথিত জঙ্গিরা। ইসলাম রক্ষা, শান্তিময় পৃথিবী গড়ে তোলার নীতিবাক্য নিজেরাই মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে না পথভ্রষ্টরা। তারা নেশায় বুঁদ হয়েই যাবতীয় নৃশংসতা ঘটিয়ে নিজেদের কাল্পনিক স্বপ্ন বাস্তবায়নে মেতে উঠেছে। মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের আদলে দেশে জঙ্গি নিরাময় কেন্দ্র গড়ে তোলার মাধ্যমে এসব পথভ্রষ্টকে সুপথে ফিরিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছেন অনেকেই।
আইএস (ইসলামিক স্টেট অব ইরাক সিরিয়া) জঙ্গিদের নিয়ে গবেষণাধর্মী নানা প্রতিবেদন ঘেঁটে দেখা যায়, ক্যাপ্টাগন অ্যাম্ফিটামিন নামের বড়ি উচ্চ ক্ষমতার নেশায় আসক্ত হয়েই জঙ্গিরা বিবেক বিবেচনা বর্জিত নানা নৃশংসতায় মেতে উঠছে। এই নেশাজাত দ্রব্যটি গ্রহণের কারণে জঙ্গিদের উন্মত্ততা আরও বেড়ে যায় এবং মৃত্যুর পরোয়া না করেই তারা যে কারও ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। মনোচিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ‘ওষুধটি খেলে মানুষের দেহমনে এক ধরনের উদ্দাম ও সুখ সুখ ভাব সৃষ্টি হয়। ওষুধটি খাওয়ার পর লোকে বেশি কথা বলা শুরু করে, ঘুম হারাম হয়ে যায়, খাওয়া-দাওয়ার রুচি কমে গেলেও শরীরে ব্যাপক শক্তি অনুভূত হয়।’ জাতিসংঘের মাদক এবং অপরাধ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৭ সাল থেকেই অ্যাম্ফিটামিন নামের এই ওষুধটির উৎপাদন বে আইনি ঘোষণা করা হয়। এরপরও মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে অ্যাম্ফিটামিনের প্রসার ঘটেই চলছে। সৌদি আরব, সিরিয়া, জর্ডান, লেবানন ও তুরস্কের ল্যাবগুলোতে এ ট্যাবলেটের উৎপাদন ও সরবরাহ হচ্ছে। আইএসের মাধ্যমে এসব নেশাজাত ট্যাবলেট এখন বাংলাদেশেও জঙ্গিদের হাতে হাতে পৌঁছেছে। এসব ট্যাবলেটের ভয়ঙ্কর নেশাতেই একশ্রেণির যুবক জঙ্গিবাদিত্বের নানা অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট তথা আইএস ইস্যুতে এখন খুবই উদ্বিগ্ন। প্রিয়জনরা যেমন ভীত, তেমনি শঙ্কিত তরুণ-তরুণীরাও। শঙ্কার ভয় বাসা বুনেছে সর্বস্তরে। সবার মনে একটা ভয়ঙ্কর বিভীষিকাময় প্রশ্ন! কেন মানুষ আইএসে যোগ দেয়? কী লোভনীয়তা লুকিয়ে আছে আইএস্তে একাকীত্ব, বেকারত্ব ও চরম হতাশা থেকে মুক্তির আকাক্সক্ষায় তরুণ-তরুণীরা নতুন কিছু করতে চায়। জীবনে চায় অ্যাডভেঞ্চার। কোনো কিছু না পারার যন্ত্রণায় হতাশাগ্রস্ততার সুযোগ নেয় চারপাশে ওত পেতে থাকা দুষ্ট মনের মানুষগুলো। ‘দেখো ছেলে, তুমি খারাপদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। চমৎকার একটা দেশের বাসিন্দা হবে তুমি। সেখানে তুমি অনেক সুন্দরী রমণী পাবে। তারা তোমার দাস হয়ে থাকবে। তোমাকে সেবা করার জন্য তারা অপেক্ষা করছে। কেন ঘরে বসে আছ। তোমাকে যারা চাকর বানাতে চায়, কেন তাদের চাকর হয়ে থাকবে। আমাদের সঙ্গে এসো। জীবনে বৈচিত্র্য পাবে। হিরোর মতো বাঁচার সাধ পাবে। সবার উপরে থাকবে তোমার ইচ্ছার প্রাধান্য। অর্থনৈতিক সচ্ছলতা।’ এমন সব প্রলোভনের কারণেই একশ্রেণির তরুণ জড়িয়ে পড়ে উগ্রপন্থি দলে। ধর্ম তাদের কাছে কোনো বিষয় নয়, নেশাই তাদের কাছে মুখ্য। ধর্মের কথা বলেও আইএস জঙ্গিরা মেয়েদের অপহরণ ও ধর্ষণের জন্য উদ্বুদ্ধ করে তারও আড়ালে আছে এই ক্যাপ্টাগন সেবনের ভয়ঙ্কর নেশা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যেমন সৈন্যরা ইয়াবা সেবন করত যুদ্ধের ভয়াবহতা ও হত্যাযজ্ঞের একঘেয়েমি কাটানোর জন্য, বর্তমানে আইএস জঙ্গিরা সেভাবেই ক্যাপ্টাগন ট্যাবলেটকে বেছে নিয়েছে। এর পাশাপাশি মারা গেলে জান্নাত ও হুরের লোভ ধরিয়ে দেওয়া হয় তাদের। বিকৃত যৌনতার সঙ্গে মাদকাসক্ত আর ধর্মীয় বিভ্রান্তির কবলে পড়ে বিভিন্ন দেশ থেকে তরুণ-তরুণীদের সংগ্রহ করে আইএস জঙ্গি সৃষ্টি করা হচ্ছে। ইরাক, সিরিয়ায় সম্মুখযুদ্ধে মৃত আইএস যোদ্ধাদের পকেটে ক্যাপ্টাগন পাওয়া যায়। সুইসাইড মিশনগুলোর আগে দীর্ঘ কয়েক মাস তাদের প্রস্তুতি নিতে হয়, এ সময়ে তাদের নিয়মিত ক্যাপ্টাগন পিল খাওয়ানো হয়। ঢাকায় মৃত জঙ্গিদের পূর্বেকার ছবি ও কয়েক মাস পরে হামলা করে নিহত ছবির চেহারা বা অবয়বগত কিছু পার্থক্যের মূল কারণ এই ক্যাপ্টাগন।
সাম্প্রতিক সময়ের বহুল আলোচিত ঘটনা গুলশান ট্র্যাজেডি। এটা নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। চলছে জঙ্গিদের নিয়ে বিস্তর গবেষণাও। গবেষণা চলছে সেসব যুবক ছেলেকে নিয়েও যারা তাদের বুদ্ধি-বিবেচনা হারিয়ে এরকম একটা ধ্বংসাত্মক কাজে নিজেদের জড়িয়েছে। তাহলে প্রশ্ন হলো তারা কীভাবে মানুষের ব্রেইন ওয়াশ করে? আদৌ কি কারও ব্রেইন ওয়াশ করা সম্ভব? কথাবার্তায় মোটিভেশন করার মাধ্যমে ব্রেইন ওয়াশ সম্ভব না হলেও কেমিক্যালের মাধ্যমে ব্রেইন ওয়াশ করা সম্ভব বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। ক্যাপ্টাগন ও অ্যাম্ফিটামিন জাতীয় বিভিন্ন ধরনের সিডেটিভ ড্রাগ রয়েছে যা দিয়ে অনেক কিছুই করা হয়। জঙ্গিদের কাছে এগুলো খুব সহজলভ্য আর তারা এভাবেই গাছের উপাদান দিয়ে তৈরি ড্রাগ দিয়ে মিশ্র পদার্থ তৈরি করে তাদেরকে হিপনোটাইজ বা পরিচালিত করে। জঙ্গিরা যে কোনোভাবে এসব ছেলেকে নিজেদের কব্জায় নিয়ে যায়। এরপর এসব ড্রাগ প্রয়োগ করে যা করতে বলে, তাই তারা করে। কারণ, তাদের তেমন কোনো হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। আর এত সংক্ষিপ্ত সময়ে কাউকে বুঝিয়ে ব্রেইন ওয়াশ করা সম্ভব নয়। কারণ, তার পরিবারের প্রতি ভালোবাসা থাকার কথা, আত্মীয়স্বজনদের কথা চিন্তা করার কথা। কিন্তু এসব ড্রাগ তাদের মস্তিষ্ককে নষ্ট করে দেয়। আর যে কোনো কিছু করার জন্য বাধ্য করে। আর সেসব হত্যাযজ্ঞের পর আমরা শুধু অবাকই হই যে এরকম একটা ছেলে এসব কাজ কেন করবে! কারণ, শুধু কথাতে ব্রেইন ওয়াশ হলে তাদের বিবেচনাবোধ অন্তত থাকত।
এই ড্রাগটির সাইকোলজিক্যাল কনসিকুয়েন্সের ফলে কারও মৃত্যুই (তা নিজের হোক আর অন্যের) ব্যবহারকারীর কাছে বিপজ্জনক বা বাঁধা বলে মনে হয় না। মানুষের মাঝে যে মৌলিক নিষেধাজ্ঞাগুলো সবসময় কাজ করে, এই ড্রাগ ব্যবহারের ফলে সেটা সম্পুর্ণ উধাও হয়ে যায়। এটা একইসাথে তাদেরকে প্রচুর সাহস দেয় যে কারণে তারা যেকোন কাজই করে ফেলতে পারে। যেহেতু মৃত্যুর কোন ভয় থাকে না, তাই তারা নিজেদেরকে অপরাজেও বলে মনে করে। আর তারা এমনভাবে কাজটা করতে পারে যেন তারা এরজন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছে। সব ক্যাপ্টাগন গ্রহণকারীই যে খুনি হয়ে যায় এমনটা নয়। অনেকে কেবল পরীক্ষায় ভাল করার জন্যেও এই ড্রাগ নিয়ে থাকে। এটা ব্যাথানাশক হিসেবেও কাজ করে।
এই ড্রাগটি সম্পর্কে যা জানা যায় তাতে দেখা যায়, এর ব্যবহারকারীর কাছ থেকে তার প্রতিপক্ষের প্রতি সবধরণের সিমপ্যাথি বা সহানুভূতি কেড়ে নেয়। এটা অনেকগুলো এফেক্টের মধ্যে একটি তবে এটা এর বেসিক মেকানিজম এর একটি ফলাফল মাত্র। এর মূল কাজটি হল শরীরের সবধরণের ভারসাম্যকে হারিয়ে ফেলা। এটার অর্থ হচ্ছে, মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সিস্টেম যা আমাদেরকে সবরকমের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা সম্পর্কে সচেতন করে রাখে তা পূর্ণ হয়ে যাওয়া। এই সারকিটটা (রিওয়ার্ড সিস্টেম) আমাদের ব্রেইনকে বলে যে সবকিছু ঠিক আছে, কোন রিস্ক বা ঝুঁকি নেই, আমরা তৃষ্ণার্ত নই, আমরা ক্লান্ত নই। যদি চারপাশের সব অবস্থাই খুব খারাপ থাকে তারপরও ক্যাপ্টাগন গ্রহণকারীর এরকমটাই মনে হবে।
তারমধ্যে কোন স্বাভাবিক মানবিক চেতনা কাজ করে না। এরা নিজেদের বাক-স্বাধীনতার মুক্তির আলোকে পথ খোঁজ করেন। ধংস করে তা অর্জন করতে চান। ইউরোপের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, মধ্যপ্রাচ্যের অবিরাম যুদ্ধ, দাঙ্গারও মূল কারণ এই দলে যোগ দেয়ার। অনেকের জীবনে বেঁচে থাকার আশা যেখানে মূল্যহীন। তাদের দিকভ্রান্ত করে বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীদের দলে ভিড়িয়ে আনা আরও বেশি সহজ। হতাশা এসব ছেলেমেয়ের পথভ্রষ্টের অন্যতম কারণ। পারিবারিক অশান্তি, মতের অমিল এমনকি কখনও কখনও প্রেম ভালোবাসায় ব্যর্থ হওয়ার পর অনেকেই হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েন। এ সুযোগে বন্ধু বান্ধবের প্রলোভনে নাম লেখায় মাদকের মত মৃত্যুপুরীতে। ধীরে ধীরে মাদকের কাছে হার মানতে থাকে এ ধরণের ছেলের সব চাহিদা ও জীবনের অন্যান্য চাওয়া পাওয়া। হতাশা কাটাতে যে মাদকের আশ্রয়ে শান্তি খুঁজতে চায় এসব তরুণের সেই মাদকই তরাণ্বিত করে বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠিগুলোকে কাছে ডাকতে। অনেক পরিবারের অভিভাবক নিজেদের ব্যবসা বাণিজ্য বা অন্যান্য কাজে এত বেশি ব্যস্ত থাকেন যে, সন্তানদের খোঁজ খবর রাখার সুযোগ পান না। ফলে এসব পরিবারের সন্তান বাবা-মায়ের অবাধ্য হয়ে উঠতে পারে এবং সন্তানরা অভিভাবকদের অজান্তেই দুষ্ট চক্রের কবলে পড়ে ক্রমে মাদকাসক্ত হয়ে যায়। 
২০১৫ সালের জুনে সাইফেদ্দিন রেজগুই নামে একজন টেরোরিস্ট তিউনিশিয়ার সুস বিচে ৩৯ জনকে হত্যা করে। এরপর পুলিশের গুলিতে সে নিহত হয়। ময়নাতদন্ত বা অটোপসির মাধ্যমে তার শরীরে ক্যাপ্টাগন ড্রাগের উপস্থিতি ধরা পরে। এটা একটা সিন্থেটিক ড্রাগ (ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা ড্রাগ) যা গালফ কান্ট্রিগুলোতে ব্যবহার করা হয়। সৌদি আরব, লেবানন, সিরিয়া এবং এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশে এই ড্রাগটি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে। আর এই ড্রাগ উৎপাদনের প্রধান ফ্যাক্টরিটি যেই অঞ্চলে পাওয়া গেছে সেটা আজ ISIL এর দখলে।
ক্যাপ্টাগন জেহাদিদের পারফরমেন্স এর উন্নতি ঘটায়, তাদেরকে কোন রকম অবসাদ ও ভয় থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। আর কোন রকম এমপ্যাথি বা আবেগকেও এটা সম্পূর্ণ নির্মূল করে দেয়। (এমপ্যাথি না থাকলে যে কেউ ঠাণ্ডা মাথায় খুন করতে পারে। সাইকোপ্যাথদের এমপ্যাথি একেবারেই থাকে না বা অনেক কম থাকে)। অন্যভাবে বললে, মানুষকে দিয়ে অমানুষিক কাজ করানোর জন্য এই ড্রাগ হল একটি ‘আদর্শ’ ওষুধ।
২০১৪ সালে, আই এস গ্র“প আলেপ্পোর ক্যাপ্টাগন প্রস্তুতকারক ফারমাসিউটিকল প্লান্ট দখল করে নেয়-যার ফলে এখন তারা সমস্ত মিডল ইস্টেই এই ড্রাগ বিক্রি করছে। এরফলে তারা অনেক অর্থ তো পাচ্ছেই; সেই সাথে অনেক আই এস জঙ্গি এবং সিরিয়ান সিভিল ওয়ারের ফাইটাররা এই ড্রাগ ব্যবহার করার সুযোগ পেয়েছে। বিভিন্ন রিপোর্টে উঠে এসেছে যে তারা ক্যাপ্টাগন ব্যবহার করছে। গত নভেম্বর মাসে ১৯ বছর বয়সী একজন আই এস মিলিট্যান্ট ফাইটার সিএনএনকে জানায়- ‘তারা আমাদেরকে ড্রাগ ও হেলুসিনেটিং পিল দিয়েছিল। এগুলো যদি আপনি খান তাহলে জীবন মরণের কথা না ভেবেই আপনি যুদ্ধে চলে যাবেন’।
এই জেহাদিস্টদের ড্রাগ সম্পর্কে আরও বেশি তথ্য জানতে এবং কল্পিত কাহিনী থেকে বাস্তব বের অরে আনার জন্য কনবিনি নামক একটি ডিজিটাল মিডিয়া কোম্পানি ফ্রেঞ্চ ক্যাপ্টাগন স্পেশালিস্ট জিন পল টাসিন এর সাথে আলোচনা করেছে। জিন পল টাসিন একজন নিউরোবায়োলজিস্ট এবং ফ্রেঞ্চ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশন অব হেলথ এন্ড মেডিকেল রিসার্চ (ইনসারম) এর এমেরিটাস ডিরেক্টর অব রিসার্চ। তার কাজগুলোর মধ্যে একটি হল বিভিন্ন অবৈধ ড্রাগ যেমন সাইকো-স্টিমুল্যান্ট, এমফেটামিন, কোকেইন, হেরোইন বা মরফিনের মত ওপিয়েট, এক্সট্যাসি এবং বৈধ পদার্থ যেমন টোবাকো, এ্যলকোহল ইত্যাদির খারাপ প্রভাব সম্পর্কে গবেষণা করা। কনবিনি ক্যাপ্টাগন বিষয়ে তার একটি সাক্ষাতকার নিয়েছে। নিচে সেটা দেয়া হল:
কিভাবে ক্যাপ্টাগন ISILএর সাথে সম্পর্কিত?
ক্যাপ্টাগন আসলে একটি মেডিসিন যার একটি অংশ হল এমফেটামিন আর একটি অংশ হল থিওফিলিন। বিংশ শতকের শুরু থেকেই এমফেটামিনকে ল্যাবে তৈরি করা হচ্ছে। এমফেটামিন অবসাদের বিরুদ্ধে কাজ করে এবং একইসাথে এটা একটি এনারকোটিক, এন্টিডিপ্রেসর এবং এন্টি নারকোলেপ্টিক। ক্যাপ্টাগনকে প্রথম তৈরি করা হয় ১৯৬১ সালে এই ভেবে যে এখানে একইসাথে এমফেটামিন ও থিওফিলিন এর বৈশিষ্ট্য মিলে রোগীর মাঝে একটি ব্রংকোডিলেটর এফেক্ট তৈরি করবে (ব্রংকোডিলেটর একধরণের ড্রাগ যা ব্রংকাইকে প্রশস্ত করে। এই ড্রাগগুলো তাই এজমা দূরীকরণে কাজ করে)। এটা তৈরি করার পর দেখা যায় ক্যাপ্টাগন স্টিমুল্যান্ট হিসেবেও একটি মজাদার বৈশিষ্ট্য দেখাচ্ছে। এটা একটি ইনটেলেকচুয়াল স্টিমুলেন্ট হিসেবে কাজ করছে-যা ছাত্র-ছাত্রীরা পরীক্ষার আগে ব্যবহার করলে ভাল ফল পেতে পারে, আবার ফিজিকাল স্টিমুলেন্ট হিসেবেও কাজ করছে যা খেলাধুলায় অংশহগ্রহণকারীরা ব্যবহার করলে ভাল সাফল্য পেতে পারে। এটা ফ্রান্সে ৭০ এর দশকে এবং ইংল্যান্ডে ৮০ এর দশকে নিষিদ্ধ হয়ে যায়। আর এই নিষিদ্ধ হবার কারণ ছিল এর অনেকগুলো সেকেন্ডারি এফেক্ট যেমন হার্ট এটাকের সম্ভাবনা, ডিপ্রেশন এবং ড্রাগ এডিকশন। কিন্তু এখনও এটা ইউরোপ এবং মিডল ইস্টের অনেক অবৈধ ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা হয়। যেহেতু অবৈধ প্রোডাক্ট এর সারভেইল্যান্স ইউরোপের থেকে মিডল ইস্টে অনেক কম তাই মিডল ইস্টে সহজেই ক্যাপ্টাগন ছড়িয়ে পড়ে। ভুলে যাবেন না যে গবেষণায় পাওয়া ক্যাপ্টাগনের বেশ কিছু এফেক্টের মধ্যে কয়েকটি হল সেনসেশন অব প্লেজার বা আনন্দের অনুভূতি, ইউফোরিয়া বা চঞ্চল অবস্থা অন্যতম। ধীরে ধীরে ডোজ বাড়ানোর সাথে ব্যবহারকারী এর সাইকোলজিক্যাল এবং ফিজিক্যাল এফেক্ট বুঝতে থাকে।
কোন নন-ফাটাল এরিয়ায় গুলিবিদ্ধ হয়েছে এমন জঙ্গি কি সমস্যামুক্ত হতে পারে?
অবশ্যই। আর যদি বুলেট কোন ফাটাল এরিয়াতেও প্রবেশ করে তাহলে জঙ্গি মারা গেলেও তেমন বেদনা অনুভব করবে না। এই ড্রাগ নিলে কি ব্যবহারকারী তার কৃতকার্যের ফলাফল এবং কাজ কতটা খারাপ এই বিষয়ে সচেতনতাও হারিয়ে ফেলে? হ্যাঁ। তবে এটা কোন এক্সকিউজ বা অজুহাত হতে পারে না। এই পর্যন্ত এরকম অনেক ঘটনাই দেখা গেছে যেখানে ড্রাগ নেয়া হয় নি কিন্তু এটাক এর পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
ফ্রি উইল বা স্বাধীন ইচ্ছার ব্যাপারে কি বলবেন? অনেক জায়গা থেকেই বলা হয়েছে যে টেরোরিস্টরা রোবটের মত আচরণ করেছে। এই ড্রাগ কি যে কোন অনুভূতি যেমন দর্শন, ঘ্রাণ, শ্রবণ, স্পর্শ সব পালটে দেয়? যেই সময়ে তারা ক্যাপ্টাগন গ্রহণ করে তখন তারা তাদের ফ্রি উইল বা স্বাধীন ইচ্ছা ড্রাগের এফেক্ট এর কারণে হারিয়ে ফেলবে। কিন্তু এর ফলে তার অনুভূতি পালটে যাবে না, পালটে যাবে কেবল তাদের জাজমেন্ট বা বিচারবুদ্ধি।
সবাই দেখছে যে, টেরোরিস্টরা এই ড্রাগের কার্যকারিতা দেখে আকৃষ্ট হচ্ছে। কিন্তু ড্রাগের এমন কি কোন এফেক্ট আছে যা টেরোরিস্টদের পক্ষে যায় না?
না, এটাকের সময় টেরোরিস্টদের মূলত ছোটাছুটি আর নির্ভয়ে ক্লোজ রেঞ্জে গোলাগুলির মধ্যে থাকতে হয়। এসব কাজে ড্রাগে কোন সমস্যা নেই। তবে যদি টেরোরিস্টকে দূর থেকে কোন লক্ষ্য স্থির করে গুলি করতে হয় বা কোন ফাইটার প্লেন ওড়াতে হয় তখন অবশ্যই এই ড্রাগ গ্রহণে সমস্যা হবে।
কেন এই ব্রেইনওয়াশড, ফ্যানাটিসাইজড, ডিটারমিনড এবং ট্রেইনড জিহাদিস্টদের তাদের এই হত্যাযজ্ঞ চালানোর জন্য এই ড্রাগের প্রয়োজন হবে? কারণ এতকিছু সত্তে¡ও তারা আমাদের সবার মতই। তাদেরকে তাদের বছরের পর বছর জুড়ে অর্জিত শিক্ষার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়। একজন বাস ড্রাইভার যিনি এই টেরোরিস্টদের সাথে ১৫ মাস কাজ করেছেন, তিনি বলেন, তিনি এই পৃথিবীর সব থেকে ভাল মানুষ ছিলেন। এই টেরোরিস্টদের প্রতিবেশীদেরকে যখন তাদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, সবাই বলেছেন যে এরা সবাই ব্যতিক্রমধর্মী মানুষ ছিলেন যারা বিনয়ের সাথে ‘হেলো’ বলতেন, অনেক ভাল ব্যবহার করতেন ইত্যাদি, ইত্যাদি।
এই ড্রাগ ব্যবহার করে কি টেরোরিস্টদেরকে এই ড্রাগের উপর নির্ভর করে তুলে তারপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আনা সম্ভব?

এর দ্বারা ISIL কি টেরোরিস্টদের উপর সহজে কর্তৃত্ব ফলাতে সক্ষম হয়?
আসলে এই ড্রাগ ব্যবহার করে কেউ এর উপর নির্ভরশীল হয়ে গেছে এরকম উদাহরণ খুব কম। মাত্র ১২ শতাংশ ড্রাগ ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রেই এরকম নির্ভরশীলতা দেখা গেছে। তবে এই প্রোডাক্টটি আনন্দ দেয় আর যেহেতু তারা কষ্ট না করে বিনামূল্যেই এই ড্রাগ পাচ্ছে তাই মনে হয় তারা সাপ্লাইয়ারদের উপর নির্ভরশীল হয়ে যায়।
নেপোলিয়নও তার সৈন্যদেরকে তাদের মিলিটার সারভিসের সময় গলইসেস (সিগারেট) দেবার পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু পার্থক্য হল তিনি তাদের ক্রয়কে আরও সুবিধাজনক করেছিলেন যাতে তাদের সারভিসের পর ট্যাক্স রিকভার করা যায়। কোনভাবেই এমফেটামিন যথেষ্ট পরিমাণে ডিপেন্ডেন্সি বা নির্ভরশীলতা তৈরি করে না যাতে কেউ এরকম জাংকি টেরোরিস্ট হয়ে যাবে। ক্যাপ্টাগন কি ISIL এর অর্থনীতির ক্ষেত্রেও সুবিধাজনক হতে পারে? আমরা জানি যে এই পিল ৫ থেকে ২০ ডলারের মধ্যে বিক্রি হচ্ছে, আর যে ফ্যাক্টরি এটা তৈরি করছে তা আসলে সিরিয়াতেই পাওয়া গেছে।
অবশ্যই। একটা পিল তৈরি করতে প্রায় ২০ সেন্ট খরচ হয় আর সেখানে তারা এটা ৫ থেকে ২০ ডলারে বিক্রি করতে পারছে। এটায় মাল্টিপ্লিকেশন ফ্যাক্টর হল ৫০। যদি আপনি এই ফ্যাক্টরকে ১১ টন দিয়ে গুণ দেন যা প্রতি বছর গ্রহণ করা হয় (মনে রাখবেন এই পিলগুলোর ভর গ্রামে মাপা হয়), তাহলে আপনি একটা ‘এস্ট্রোনমিকাল সাম’ এর অর্থ পাবেন যার জন্য খুব সামান্য পরিমাণ ইনভেস্ট করলেই কাজ হয়ে যায়। এগুলো তৈরি করা একেবারেই সহজ, কারণ কেমিকেল ইন্ডাস্ট্রির খুব সস্তা উপকরণ দিয়েই এগুলো তৈরি করা যায়। ইউরোপে এই প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো কনট্রোলে থাকে।
আপনাকে যদি আমাদের এলিট ফোর্স ও কমান্ডোদেরকে টেরোরিস্টদের বিরুদ্ধে আমাদের রক্ষার জন্য তাদের মিলিটারি এফেক্টিভনেস বৃদ্ধির করতে এরকম কোনকিছু ব্যবহার করার পরামর্শ দিতে বলা হয় তাহলে আপনি এরকম কোন সাবস্টেন্সকে সাজেস্ট করবেন?
যদি সিভিলিয়ান বা সাধারণ মানুষ ও হস্টেজ বা জিম্মিদের কথা না ভেবে টেরোরিস্টদের টারগেট করার কথা বলা হয় তাহলে ক্যাপ্টাগন ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু এটাই কমান্ডোদের কাজকে কঠিন করে তুলবে কেননা তাদেরকে কেবল টেরোরিস্টদেরকেই টারগেট করতে হয়। বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান, খুবই উন্নতমানের ফিজিক্যাল ও সাইকোলজিক্যাল সিলেকশন এবং অবিরত ট্রেইনিং- এসবই একজনকে কমান্ডো হিসেবে গড়ে তোলে।
ক্যাপ্টাগন কি টেরোরিস্টদের জন্য একটি মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচ্য হবে, নাকি দীর্ঘ সময়ের কথা ভাবলে শেষপর্যন্ত এটা তাদের জন্য একটি ক্ষতিকারক ড্রাগ হিসেবেই পরিগণিত হবে? এটা খুবই পরিষ্কার যে, তারা যে উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছে, তার জন্য ক্যাপ্টাগন নিঃসন্দেহেই টেরোরিস্টদের কাছে একটা মূল্যবান সম্পদ। এটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই।
আরও কিছু কথা:
ক্যাপ্টাগন সম্পুর্ণ সিন্থেটিক, তবে নেচারাল নিউরোট্রান্সমিটার যেমন ডোপামিন এবং এড্রেনালিনে এর প্রভাব আছে। কেউ ক্যাপ্টাগন গ্রহণ করলে সেখানে যাই থাকে তা মেটাবলিজমের দ্বারা এমফেটামিন ও থিওফিলিনে পরিণত হয়। পারফরমেন্স বুস্টিংসহ যে প্রভাবগুলো পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে সেগুলোর সব এই এমফিটামিনের প্রভাব। তাই একে এমফিটামিন ড্রাগও বলে। টেরোরিস্টরা একে কাজে লাগায় বলে একে টেরোরিস্ট ড্রাগ বলে। পূর্বে একবার ফেইক ক্যাপ্টাগন উদ্ধার করা হয়েছিল, সেটাতে ক্যাপ্টাগনের মূল উপাদান ফেনেথিলিন হাইড্রোক্লোরাইড এর বদলে কেবল এমফিটামিন ও ক্যাফেইন পাওয়া গিয়েছিল। এখানেও যেহেতু এমফেটামিন আছে তাই বলে যায় জঙ্গিদের ক্ষেত্রে এটাও আসল ক্যাপ্টাগন এর মতই কাজ করবে।
টেরোরিস্টরা যে সবসময়ই এটাকের সময় ক্যাপ্টাগন ব্যবহার করে তেমনটা বলা যাবে না। প্যারিস এটাকের ক্ষেত্রে ধারণা করা হলেও এটাকারদের রক্তে এরকম কিছু পাওয়া যায় নি। তাদের রক্তে কিছু পরিমাণ এ্যালকোহল, ক্যাফেইন, কোকেইন পাওয়া গেলেও বলা হয় এগুলো আক্রমণের দিন ১৩ নভেম্বর নেয়া হয় নি। ফরেনসিক এনালাইসিস করে নির্ধারণ করা যায় যে আক্রমণকারী ড্রাগ নিয়েছিল নাকি নেয় নি বা কোন ড্রাগটি নিয়েছিল। বেশ কিছু ক্ষেত্রে আক্রমণকারীর রক্তে এটা সনাক্ত করা গেলেও প্যারিস হামলায় এটা ধরা পরে নি বলে বলা যায় সব এটাকে টেরোরিস্টরা এই ড্রাগ ব্যবহার করে না। আর এটাও বলতে হয়, এই ড্রাগের এফেক্ট পারমানেন্ট না। এফেক্টের জন্য কাউকে এই ড্রাগ এটাকের দিনে গ্রহণ করতে হবে।
২০১৩ সালে লেবানন-সিরিয়া সীমান্তে ১২ মিলিয়ন ক্যাপ্টাগন পিলের বড় একটি চালান আটক করে, একই বছর তুরস্ক ৭ মিলিয়ন পিল আটক করে, গত বছরের ডিসেম্বরে দুবাই সরকার সাড়ে চার মিলিয়ন পিল আটক করে। সৌদি আরবে ৪০ ভাগ মানুষ ক্যাপ্টাগন ও অন্যান্য ধরনের মাদকে আসক্ত। ১৯৬১ সালে জার্মানীর তৃতীয় বৃহত্তম ওষুধ কোম্পানী Degussa যেসব শিশুর Attention Deficit Hyperactivity Disorde আছে তাদের চিকিৎসার জন্য এ amphetamin ev Fenethylline আবিষ্কার করে। ক্যাপ্টাগন হল এর একটি ব্রান্ড বা ড্রাগ ককটেলের নাম। জেহাদীরা সারা বিশ্বে এ ক্যাপ্টাগন পিল খাচ্ছে, যে কারণে তারা মৃত্যুর ভয় করছে না, এছাড়া ধর্ম সম্পর্কে একধরনের বিভ্রান্তির মধ্যে উচ্চ বিত্ত থেকে শুরু করে উচ্চ শিক্ষিত তরুণ তরুণীরা সহজেই জঙ্গিদের খপ্পরে পড়ার এক গোপন কারণ হচেছ ক্যাপ্টাগন সেবন। ধর্মের কথা বলেও আইএস জঙ্গিরা মেয়েদের অপহরণ ও ধর্ষণের জন্যে উদ্বুদ্ধ করে তারও আড়ালে আছে এই ক্যাপ্টাগন সেবন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যেমন সৈনরা ইয়াবা সেবন করতো যুদ্ধের ভয়াবহতা ও হত্যাযজ্ঞের একঘেয়েমি কাটানোর জন্যে, বর্তমানে আইএস জঙ্গিরা সেভাবেই ক্যাপ্টাগনকে বেছে নিয়েছে। এর পাশাপাশি মারা গেলে  জান্নাত ও হুরের লোভ ধরিয়ে দেয়া হয় তাদের।
বিকৃত যৌনতার সঙ্গে মাদকাসক্ত আর ধর্মীয় বিভ্রান্তির কবলে পড়ে বিভিন্ন দেশ থেকে তরুণ তরুণীদের কারা সংগ্রহ করে আইএস জঙ্গি সৃষ্টি করেছে তা রীতিমত গবেষণার বিষয়। ইরাক, সিরিয়ায় সম্মুখযুদ্ধে মৃত আইএস যোদ্ধাদের পকেটে ক্যাপ্টাগন পাওয়া যায়। ধারণা করা হয়, এ পিল খাওয়ার কারণেও তারা উন্মাদের মত আচরণ করার সুযোগ পায় এবং সুইসাইড মিশনগুলোর আগে দীর্ঘ কয়েক মাস তাদের প্রস্তুতি নিতে হয়, এ সময়ে তাদের নিয়মিত ক্যাপ্টাগন পিল খাওয়ানো হয়। ঢাকায় মৃত জঙ্গীদের পূর্বেকার ছবি ও কয়েকমাস পরে হামলা করে নিহত ছবির চেহারা বা অবয়বগত কিছু পার্থক্যের মূল কারণ আসলে ক্যাপ্টাগন।

তথ্যসূত্র: ডেইলি মেইল ও অনলাইন


 
এ পর্যন্ত সর্বাধিক পঠিত

  ইনফোটেক : ইন্টারনেট নিয়ে গ্রাহক প্রতারণা!
  অনুসন্ধান : কয়টি সিম রাখা যাবে?
  পোস্টমর্টেম : নকল ডিমে রাজধানী সয়লাব
  প্রবাস : চিতোর, ইতিহাসের তিন নারী
  সাহিত্য : নাথ সাহিত্যের স্বরূপ
  আন্তর্জাতিক : যেভাবে যৌনদাসীদের ভোগ করছে আইএস জঙ্গিরা
  অর্থনীতি : মূল বেতন দ্বিগুণ করার সুপারিশজাতীয় বেতন কমিশনের রিপোর্টে যা আছে
  সমকালীন : বাংলাদেশ নিয়ে চীন-ভারত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও কূটনীতির দৃষ্টিতে মোদীর ঢাকা সফর
  বিশেষ প্রতিবেদন : ক্যাপ্টাগন: জঙ্গিদের টেরোরিস্ট ড্রাগ!
  প্রশাসন : চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল হচ্ছে!
  সাহিত্য : শিরোমণি আলাওল
  আন্তর্জাতিক : ভয়ঙ্কর আইএস-এর উত্থান ও নৃশংসতা!
  চমক! : জমজমের পানি নিয়ে জাপানী বিজ্ঞানীদের রহস্য আবিষ্কার!
  সাহিত্য : মগের মুল্লুকে বাংলা সাহিত্যের বিকাশ
  প্রচ্ছদ প্রতিবেদন : গুলশান ট্র্যাজেডি! কেন এই নৃশংসতা?
 





free counters



উপদেষ্টা সম্পাদক : আবদুল্লাহ আল-হারুন   |  সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ জিয়াউল হক   |  প্রধান সম্পাদক : আসিফ হাসান

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: দেওয়ান কমপ্লেক্স, ৬০/ই/১ (৭ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: +৮৮-০২-৯৫৬৬৯৮৭, ০১৯১৪ ৮৭৫৬৪০  |  ফ্যাক্স: +৮৮-০২-৯৫৬৬৩৯৮

ইমেইল: editor@weeklymanchitra.com, manchitra.bd@gmail.com
©  |  Amader Manchitra

Developed by   |  AminMehedi@gmail.com