আমাদের মানচিত্র  |  বর্ষ: ৪, সংখ্যা: ২৮     ঢাকা, বাংলাদেশ  |  আজ শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৭  |  




আর্কাইভ সংখ্যা - বিএনপি’র দুর্বলতা ও রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা!

আর্কাইভ সংখ্যার প্রচ্ছদ



বর্ষ: ৪, সংখ্যা: ২৮
রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬




 
একনজরে এই সংখ্যা -

  সম্পাদকীয় : পবিত্র ঈদুল আজহা ও ত্যাগের পরীক্ষা
  প্রবাস : জন্ম ও মৃত্যু নিয়ে এলিজাবেথ কুবলার রস
  বিশেষ প্রতিবেদন : অর্থের জোরও ঠেকাতে পারেনি মীর কাসেম আলীর ফাঁসি
  ফিচার : রূপকথার এক প্রেমকাহিনী!
  অনুসন্ধান : পিলার চুরি ও বজ্রপাতে প্রাণহানির নেপথ্যে...
  পোস্টমর্টেম : ফারাক্কা নিয়ে নীতিশের প্রস্তাব ও প্রকৃতির প্রতিশোধ!
  স্মরণ : ঢাকায় থাকেন সিরাজ উদ-দৌলার বংশধর!
  ইনফোটেক : স্মার্ট কার্ড: যেভাবে পাবেন
  স্মৃতিচারণ : আঠারোটি বুলেট ও রক্তস্নাত বাংলাদেশ
  প্রতিবেদন : দুই জোটের অর্ধেক রাজনৈতিক দলেরই নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ নেই
  অর্থনীতি : গ্যাসের মূল্য: আবার বাড়ছে কার স্বার্থে?
  প্রচ্ছদ প্রতিবেদন : বিএনপি’র দুর্বলতা ও রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা!
  ধর্ম : জরথ্রুস্টঃ ইরানের প্রাচীন ধর্ম
  বিশেষ প্রতিবেদন : জঙ্গি দমনে সরকারের জিরো টলারেন্স!
  রাজনীতি : দুই ডজনেরও বেশি নেতা বিএনপিকে বিদায় জানাচ্ছেন!
  কলাম : জেলা, মহকুমা ও উপজেলার ইতিবৃত্ত
  দুর্নীতি প্রতিবেদন : মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রতারণা?
  চমক! : ফেরাউন ও মূসা
 



বিশেষ প্রতিবেদন পড়া হয়েছে ২১৬ বার

জঙ্গি দমনে সরকারের জিরো টলারেন্স!

জিয়াউল হক শামীম

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আত্মঘাতী ২০ জন জঙ্গির পতন ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিশানায় রয়েছে আরও অন্তত ১৪ জন। ঘাপটি মেরে থাকা প্রথম সারির এই আত্মঘাতী জঙ্গিদের দমনে পুলিশ ও গোয়েন্দাদের সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জঙ্গি নিধনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন ‘ক্যাচ কিল অ্যান্ড ডেসট্রয়’ ‘ধর, আর খতম কর’ নীতি অনুসরণ করছে। এত দ্রুত সময়ের মধ্যে অধিক সংখ্যক আত্মঘাতী জঙ্গির পতনের ঘটনা এবারই প্রথম।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) সূত্রগুলো বলছে, নিউ জামা’আতুল মোজাহিদীন বাংলাদেশের (নিউ জেএমবি) শীর্ষ নেতা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরী নিহত হওয়ার পর সংগঠনটির দায়িত্ব নিয়েছেন সেকেন্ড ইন কমান্ড নুরুল ইসলাম মারজান। তার তত্ত¡াবধানে আরও অন্তত দুর্র্ধষ ১৪ আত্মঘাতী জঙ্গি রয়েছে। বড় ধরনের ঘটনা ঘটাতে এরা প্রস্তুত। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার কারণে এরা প্রতিনিয়ত তাদের অবস্থান পাল্টাচ্ছে। সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেছেন, জঙ্গি নিধনে সারাবিশ্বে ‘ক্যাচ কিল অ্যান্ড ডেসট্রয়’ নীতি অনুসরণ করা হয়। তাতে করে শীর্ষ ব্যক্তিকে বা যারা নেতৃত্বে রয়েছে তাদের ধ্বংস করা গেলেই নিচের স্তরের সদস্যরা দুর্বল হয়ে পড়ে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সংগঠনটির সেকেন্ড ইন কমান্ড সামরিক কমান্ডার মারজান এখন সদস্যদের পরিচালনা করছে। কোথায় কীভাবে হামলা চালাতে হবে, তা সেই এখন নির্ধারণ করছে। সূত্র জানায়, গুলশান হামলার পর থেকে এ পর্যন্ত ২১ জঙ্গি নিহত হয়েছে। এদের একজন দলের শীর্ষ নেতা তামিম চৌধুরী। বাকি ২০ জন সংগঠনের আত্মঘাতী সদস্য।
জঙ্গি দমনে কাজ করছেন গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, নিহত আত্মঘাতী সদস্যরা প্রত্যেকেই দ্বিতীয় সারির। প্রথম সারির আত্মঘাতীদের এখনো নিশ্চিহ্ন করা যায়নি। এমন ১৫ জনকে ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরা সব ধরনের অস্ত্র চালনায় পারদর্শী। দেশ-বিদেশে এদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে রিপন, মানিক, বাদল, আজাদুল কবিরাজ, খালেদ, ইয়াসিন তালুকদার, গালিব, ইকবাল এবং সালাউদ্দিন অন্যতম। এরা নিজেরা আত্মঘাতী ছাড়াও নতুন সদস্যদের অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। সূত্র জানায়, সংগঠনের সবচেয়ে দুর্র্ধষ সদস্য এরাই। খুন-খারাবি আর ডাকাতি থেকে শুরু করে যে কোনো ধরনের অপরাধে এরা পারদর্শী। এরাই এখন মানুষের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদের অবস্থান জানতে গোয়েন্দারা কাজ করছে।
সূত্র জানায়, নিউ জেএমবি’র সদস্যরা কয়েক স্তরে বিভক্ত। তবে প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরটি খুবই ভয়ঙ্কর। এরা প্রত্যেকেই আত্মঘাতী স্কোয়াডের সদস্য। দ্বিতীয় স্তরের আত্মঘাতী সদস্যদের মধ্যে ইতিমধ্যে ২০ জন নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে গুলশান হামলার পর কমান্ডো অভিযানে নিহত হয়েছে মীর সামিহ মোবাশ্বের, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, নিবরাস ইসলাম, খায়রুল ইসলাম পায়েল এবং শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল। ২৬ জুলাই কল্যাণপুরের জঙ্গি ঘাঁটিতে অভিযানে নিহত হয়েছে রংপুরের রায়হান কবির তারেক, দিনাজপুরের আবদুল­াহ, পটুয়াখালীর আবু হাকিম নাঈম, সাতক্ষীরার মতিউর রহমান, নোয়াখালীর জোবায়ের হোসেন, ঢাকার ধানমন্ডির তাজ উল হক রসিক, গুলশানের আকিফুজ্জামান এবং ভাটারা এলাকার মার্কিন নাগরিক শেহজাদ রউফ অর্ক। ঈদের দিন শোলাকিয়া ঈদগাহ জামাতের কাছে হামলা চালানোর সময় নিহত হয়েছে আবির রহমান এবং শফিকুল ইসলাম সোহান ওরফে আবু মুক্তাদিল।  নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় দেওয়ানবাড়িতে অভিযান চলাকালে তামিম চৌধুরীসহ নিহত হয়েছে তাওসিফ হাসান এবং কাজি ফজলে রাব্বী। তামিম চৌধুরীর সবচেয়ে অনুগত ছিল তাওসিফ ও ফজলে রাব্বী। এই দুজনের একজনকেই সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবছিল তামিম চৌধুরী। কিন্তু এরা একসঙ্গেই নিহত হয়। গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে মিরপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় জাহাঙ্গীর ওরফে মেজর মুরাদ। তাকেও অনেকেই তামিমের স্থলাভিষিক্ত হবে বলে জেনেছিলেন। সূত্র জানায়, ছদ্ম নামে আরও বেশ কিছু আত্মঘাতী স্কোয়াডের সদস্য রয়েছে। যাদের বিষয়ে গোয়েন্দারা কাজ করছে। ইতিমধ্যে ৪০ জন নিখোঁজ যুবকের নাম জানা গেছে। যাদের অধিকাংশই জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছে। এরা আত্মঘাতী স্কোয়াডের সদস্য হয়েছে কি-না, গোয়েন্দাদের ভাবিয়ে তুলেছে।
সূত্র জানায়, শিক্ষিত এবং ধনী পরিবার থেকে সদস্য সংগ্রহের কাজটি বেশি করেছিল নিবরাস। সদস্য সংগ্রহের জন্য নিবরাস প্রত্যেকের গ্রামের বাড়ি পর্যন্ত যাতায়াত করেছে। রাব্বীকে দলে ভেড়াতে নিবরাস তাদের ঝিনাইদহের সোনালিপাড়া পর্যন্ত গিয়েছে। এ ছাড়া পাইকপাড়ায় নিহত অর্ককেও সংগ্রহ করেছিল নিবরাস। ধানমন্ডির বাসা থেকে অর্ক বের হয়েছিল নিবরাসের কথা বলেই।


তামিম, মুরাদের পর কে?
‘নব্য জেএমবি’র নেতা তামিম চৌধুরী ও জাহাঙ্গীর মুরদসহসহ অন্তত পাঁচজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নিহত হওয়ায় জঙ্গি সংগঠনটি বড় ধরনের ধাক্কা খেলেও এখনো অনেকে ধরা পড়েননি। তামিম চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন মুরাদ ওরফে জাহাঙ্গীর বলে যে জঙ্গী সেও গত ২ সেপ্টেম্বর পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, এর আগে ধরা পড়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং নারায়ণগঞ্জে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের পর প্রাপ্ত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত মিলিয়ে তাঁদের মনে হচ্ছে, তামিমের স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছিলেন মুরাদ ওরফে জাহাঙ্গীর।
জঙ্গি মোকাবিলায় যুক্ত একজন কর্মকর্তা বলেন, মুরাদ তাঁর সাংগঠনিক নাম। প্রকৃত নাম এখনো পাওয়া যায়নি। মুরাদ সমরবিদ্যায় দক্ষ এবং তিনি জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন বলে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তাই এই মুরাদ ওরফে জাহাঙ্গীর অতীতে সরকারি কোনো বাহিনীতে ছিলেন কি না, এমন একটা সন্দেহ তৈরি হয়েছে। যদিও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে মুরাদ নামে তাদের কোন মেজর নেই।
এ ছাড়া মানিক (সাংগঠনিক নাম) নামের আরেকজন জঙ্গির নাম পেয়েছে পুলিশ। এই মানিকও ‘নব্য জেএমবি’র গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্বে রয়েছেন। এই মানিকও নিহত তামিমের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার যোগ্যতা রাখেন বলে কর্মকর্তারা মনে করছেন।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় তামিম চৌধুরীর আস্তানা চিনতেন এমন এক জঙ্গি ময়মনসিংহের ত্রিশালে ধরা পড়েন। তাঁর কাছ থেকে তথ্য পেয়ে পাইকপাড়ায় অভিযান চালানো হয় এবং তাতে তামিম ও তাঁর দুই সহযোগী নিহত হন। ত্রিশালে ধরা পড়া ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পেরেছে, গত ৫ জুলাই নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার বাড়িটি সাত হাজার টাকায় ভাড়া নেন মুরাদ। ওই বাড়িতে তামিম ওঠেন চলতি মাসের শুরুতে। এরপর থেকে ফজলে রাব্বী ও তাওসিফ হোসেন সব সময় তামিমের সঙ্গে থাকতেন। মুরাদ সেখানে মাঝেমধ্যে যেতেন।
পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগের প্রধান মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, তামিম নব্য জেএমবির সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করতেন। তামিম নিহত হওয়ার আগে ঢাকার কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে এই জঙ্গি সংগঠনের অন্তত চারজন গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়ক নিহত হয়েছেন। এর ফলে জেএমবির কার্যক্রম অনেকটা স্তিমিত হবে, তবে নিশ্চিহ্ন হবে না। তিনি বলেন, গুলশান হামলার নেপথ্যে ছিলেন এমন আরও আট-নয়জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে।


‘ক্যালগ্যারি ক্লাস্টার’ জঙ্গি গ্র“পে যুক্ত ছিলেন তামিম
তামিম চৌধুরী গুলশান হামলার অন্যতম ‘সমন্বয়কারী’   সে কানাডায় থাকতেই কিছু জঙ্গি সদস্যের একটি গ্র“পে যুক্ত হন। ‘ক্যালগ্যারি ক্লাস্টার’ নামের এই গ্র“পের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা ও পাঠচক্রে অংশ নিতেন তিনি। ক্যালগ্যারি শহরভিত্তিক ছোট অথচ ভয়ংকর এই গ্র“পকে দেশটির বাইরে বিভিন্ন হামলার ঘটনায় দায়ী করা হয়ে থাকে। এসব হামলায় ৭০ জনের বেশি প্রাণ হারান। কানাডার দৈনিক পত্রিকা দ্য গ্লোব অ্যান্ড মেইল এ তথ্য দিয়েছে।
স¤প্রতি নারায়ণগঞ্জে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত হন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরী। জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) নামে গত ১ জুলাই ঢাকার হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার তিনি মূল পরিকল্পনাকারী বলে দাবি করছে পুলিশ। ঢাকায় ইমিগ্রেশন পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, কানাডীয় নাগরিক তামিম চৌধুরী দুবাই হয়ে ইতিহাদ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে বাংলাদেশে আসেন ২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর।
কানাডার পত্রিকাটি লিখেছে, কানাডায় থাকাকালে স্থানীয় উগ্রবাদীদের সঙ্গে তামিমের যোগাযোগের ব্যাপারে খুব কম জানা যায়। ‘ক্যালগ্যারি ক্লাস্টার’ নামে পরিচিত ক্যালগ্যারি শহরভিত্তিক একটি ছোট জঙ্গি গ্রুপের সদস্যদের সময় দিতেন তিনি। গ্রুপটিকে অন্তত দুটি বড় সন্ত্রাসী হামলার জন্য দায়ী করা হয়।
গ্রুপটির সঙ্গে তামিমের এই যোগাযোগের খবর নিশ্চিত করেছেন ক্যালগ্যারি শহরে উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে কাজ করে চলা ইমাম নাভায়েদ আজিজ। এক দশক আগে তামিম সপরিবারে কানাডার উইন্ডসরে বসবাস শুরু করেন। সেখানে একটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং পরে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন। ইতিমধ্যে হাতে গোনা কয়েকবার বাংলাদেশেও এসেছেন তিনি।
২০০৯ সালে ইউনিভার্সিটি অব উইন্ডসরে পাঠ্যক্রমবহির্ভূত দুই সপ্তাহের একটি ইসলাম শিক্ষার ক্লাসে অংশ নেন তামিম। ক্লাসটি নিতেন ইমাম নাভায়েদ আজিজ। তামিমকে তিনি বেশ ভালোভাবে চিনতেন জানিয়ে আজিজ বলেন, তিনি খুব ভালো ছাত্র ছিলেন। তাঁর মধ্যে উগ্রপন্থার কোনো লক্ষণ দেখেননি। সন্ত্রাসী সংগঠনের একজন নেতা হিসেবে একদিন তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ‘মানুষ শিকারি’ হয়ে উঠবেন, তা কখনো কল্পনা করেননি আজিজ।
এই ইমাম পত্রিকাটিকে আরও বলেন, তামিমকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো কোনো ব্যক্তি বলে মনে হতো না। ভালো ছাত্র হলেও ক্লাসে সামনের সারিতে না বসে সব সময় পেছনের আসনে বসতেই পছন্দ করতেন। ২০১২ সালে ইমাম নাভায়েদ আজিজ তাঁর কর্মস্থল ছেড়ে ক্যালগ্যারির ইসলামিক তথ্যকেন্দ্রে যোগ দেন। এ কেন্দ্রে তাঁর প্রথম জুমার খুতবা দেওয়া শেষে তামিমকে দেখে তিনি দারুণভাবে বিস্মিত হন। তামিমও একটি তেল বা প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে ওই সময় আলবার্টায় (ক্যালগ্যারি আলবার্টার একটি শহর) চলে আসেন।
আজিজ আরও বলেন, ওই সাক্ষাতে তামিম তাঁকে না দেখার ভান করেন। তামিম তখন ইসলাম ধর্মে নতুন দীক্ষিত হওয়া দামিয়ান ক্লেয়ারমন্ট নামে এক ব্যক্তির পাশে ছিলেন। ক্লেয়ারমন্ট পরে কানাডার একজন সুপরিচিত সন্ত্রাসী হয়ে ওঠেন এবং বিদেশে লড়াই করতে গিয়ে নিহত হন।
আজিজ জানান, ক্যালগ্যারির শহরতলির এক স্থানে একটি পাঠচক্রে নিয়মিত অংশ নিতেন কানাডার অন্তত ছয়জন; যাঁরা উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর হয়ে লড়াই করেছেন। তামিম ও ক্লেয়ারমন্টও এ পাঠচক্রে অংশ নিতেন। ‘ক্যালগ্যারি ক্লাস্টার’ গ্র“পের আরেক সদস্য সালমান আশরাফি ইরাকে আত্মঘাতী হামলায় নিজেকে উড়িয়ে দেন। এতে নিহত হন ৪৬ জন।
২০১৪ সালে সিরিয়া থেকে সম্প্রচারিত এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ওই গ্রুপের অপর এক সদস্য ফারাহ মোহামেদ শিরডন নিজেকে আইএসের যোদ্ধা হিসেবে দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে হুঁশিয়ার করে বলেন, আইএস হোয়াইট হাউসের মাটিতে তাদের কালো পতাকা উড়িয়ে ছাড়বে। এ বক্তব্য দেওয়ার পর তিনি তাঁর কানাডীয় পাসপোর্ট আগুনে ছুড়ে মারেন। ক্যালগ্যারি ক্লাস্টারের কথিত সদস্যদের মধ্যে ছিলেন দুই ভাই কলিন ও গ্রেগরি গর্ডন। দুজনই ২০১৪ সালে আইএসের হয়ে লড়াই করতে গিয়ে নিহত হন।
ইমাম আজিজ ২০১৩ সালে কানাডায় উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা রাখা শুরু করলেও তা অনেক দেরি হয়ে গেছে বলে জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কানাডার যেসব তরুণ উগ্রপন্থায় ঝুঁকে পড়েছিলেন, তাঁদের বেশিরভাগ এর আগে সিরিয়া ও ইরাকের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন। উগ্রপন্থা দমনে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি পুলিশের কাজে সহায়তাকারী আজিজ বলেন, ওই তরুণেরা খুব বিপজ্জনক বিষয়ের চর্চা শুরু করেছিলেন ২০১১ সালেই। আর সেটা তাঁদের নজরে আসে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে। অর্থাৎ আক্ষরিক অর্থে তাঁরা দুই বছর পিছিয়ে ছিলেন।
তামিমকে নিয়ে নাভায়েদ আজিজের এই বক্তব্য ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলুর অধ্যাপক অমরনাথ অমরাসিঙ্গামের কথার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। উগ্রপন্থা ও সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ অমরনাথ বলেন, তাঁর ধারণা, তামিম ২০১৪ সালে আবু দুজানা আল-মুহাজির নামে ব্লগে বেশ কিছু লেখা লিখেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে লড়াইকালে ক্লেয়ারমন্ট ও আশরাফি নিহত হওয়ার পর এসব লেখায় তাঁদের প্রশংসা করা হয়েছে।
পত্রিকাটি বলেছে, লন্ডনে সম্ভাব্য আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী সন্দেহে এক ব্যক্তিকে কানাডার পুলিশ গুলি করে হত্যার দুই সপ্তাহ পর নারায়ণগঞ্জে জঙ্গিবিরোধী পুলিশের অভিযানে তামিম নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটল। অনলাইনে ওই ব্যক্তির উগ্রবাদী তৎপরতার বিষয়টি ফুটে উঠলেও ক্যালগ্যারি ক্লাস্টার গ্রুপের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার কোনো তথ্য জানা যায়নি। অমরনাথ বলেন, তিনি মনে করেন, আইএস ও আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাবাত আল-নুসরার মতো বিভিন্ন গোষ্ঠীর হয়ে বিদেশে ৯০ জনের বেশি কানাডীয় বর্তমানে লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন।
এদিকে ক্যালগ্যারি ক্লাস্টার গ্র“পের নিহত সদস্য ক্লেয়ারমন্টের মা ক্রিস্টিয়ানা বুদরিউ বলেন, জঙ্গিবাদ দমনে উগ্রপন্থায় জড়িত সন্দেহে ব্যক্তিবিশেষকে না ধরে বরং তাঁর পরিবার ও কমিউনিটির সঙ্গে কাজ করাটা বেশি প্রয়োজন। তা না করলে তাঁর আশঙ্কা, জঙ্গিবাদের প্রক্রিয়া উল্টো গতিশীল হবে।
সরকারের সমালোচনা করে ক্রিস্টিয়ানা যুক্তি দেন, তিনি ও তাঁর পরিবার তাঁদের ছেলের ব্যাপারে কিছু করার সুযোগ পাননি। কর্তৃপক্ষ তাঁদের ছেলের ওপর দুই বছর ধরে শুধু নজরই রেখেছিল। এই সময়ে তারা ইতিবাচক কিছু করেনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন মিডিয়াকে বলেন, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ বলছে জঙ্গিরা সব দেশজ (হোমগ্রোন)। কিন্তু তামিম তো দেশজ জঙ্গি না। তামিমের বিষয়টাতেই প্রমাণিত হয়, এদের আন্তর্জাতিক যোগাযোগও রয়েছে। তামিম কানাডা থেকেই উগ্রপন্থার দীক্ষা নিয়ে সিরিয়া গিয়েছিলেন বলে সেখানকার পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সিরিয়া থেকে আবার কানাডা ফিরে তিনি বাংলাদেশে এসেছেন। ধরে নেওয়া যায় কানাডায় দীক্ষা নিয়ে, সিরিয়ায় প্রশিক্ষণ শেষে সাংগঠনিক একটা সিদ্ধান্তেই তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন। এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তামিমের সম্পর্কে যতটুকু জানা গেছে তাতে মনে হয়েছে, তিনি মাঠের একজন সমন্বয়ক, যিনি সিদ্ধান্তগুলোকে বাস্তবায়নের পরিকল্পনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাত্তি¡ক পর্যায়ের নেতা নন। তাদের তাত্তি¡ক নেতা নিশ্চয়ই কেউ আছেন। যিনি হয় বাংলাদেশে বা সিরিয়ায় বা অন্য কোনো জায়গায় আছেন। তাত্তি¡ক বিষয়টি তাদের কাছ থেকে আসছে।


সন্ধান মিলেছে তামিমের আধ্যাত্মিক গুরু কাশেমের
গুলশান ও শোলাকিয়া হামলার মাস্টারমাইন্ড তামিম আহমেদ চৌধুরীর আধ্যাত্মিক গুরু শায়খ আবুল কাশেমের সন্ধান পেয়েছেন গোয়েন্দারা। বারবার অবস্থান পরিবর্তন করলেও তাকে ধরতে গোয়েন্দাদের চতুর্মুখী অভিযান অব্যাহত আছে। সে যাতে দেশত্যাগ করতে না পারে সেজন্য বসানো হয়েছে কড়া নজরদারি। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বেশিক্ষণ সে পালিয়ে থাকতে পারবে না। এছাড়া নারাণগঞ্জে অভিযান ‘হিট স্ট্রং ২৭’-এর পর আরও চার জঙ্গিকে ধরতে অভিযান চলছে। এদের মধ্যে একজন অভিযানের আগে পালিয়ে যায়। তবে সেও বেশিদূর যেতে পারেনি। গোয়েন্দা জালে আটকে আছে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন নিউ জেএমবির থিংকট্যাংক শায়খ আবুল কাশেমের মাধ্যমে তামিম ২০১৩ সালে এ পথে আসে। এর আগে কাশেমের সঙ্গে কানাডায় তার দেখা হয়েছিল। এ জঙ্গি নেতার দেশত্যাগ ঠেকাতে সব ইমিগ্রেশন চেক পয়েন্টে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানো হয়েছে। দায়িত্বশীল এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, তিন-চার বছর ধরে কাশেম নিউ জেএমবির হাল ধরে। বিভিন্ন জেলায় সফর করে সে জঙ্গিদের দীক্ষা দেয়। লোকটি নিজেকে আধ্যাত্মিক নেতা বলেও পরিচয় দেয় জঙ্গি সদস্যদের কাছে। কয়েক মাস আগে উত্তরাঞ্চলের গাইবান্ধা ও দিনাজপুর সে সফর করেছে। তার হাত ধরেই তামিম সামরিক কমান্ডারের দায়িত্ব পায়। এ আবুল কাশেম ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলা পরিকল্পনাকারীদের একজন। ত্রিশালে জঙ্গি ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় জড়িত হিসেবে তার নাম আসে।
জানা গেছে, কাসেমকে জঙ্গি তৎপরতার কাজে মধ্যপ্রাচ্য থেকে নানাভাবে সহায়তা দিয়েছে আরেক জঙ্গি। এজন্য জঙ্গিদের কাছে কথিত আধ্যাত্মিক নেতা কাসেম এখন পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানের মুখে মধ্যপ্রাচ্যে পালানোর চেষ্টা করছে। এ আবুল কাশেম ছিল সিরিজ বোমা হামলার নায়ক জঙ্গি নেতা আবদুর রহমানের গুরুত্বপূর্ণ এক সঙ্গী।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের অভিযানে নিউ জেএমবির তিন জঙ্গি তামিম, তাওসীফ ও ফজলে রাব্বী নিহতের আগে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় জাহাঙ্গীর ওরফে মুরাদ। সেও নিহত তিনজনের মতো জঙ্গি টিমের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলো। কিন্তু ২ সেপ্টেম্বর সেও পুলিশের সাথে গুলিবিনিময়ের কাছে নিহত হয়। তবে আশার কথা, পালিয়ে যাওয়া এ জঙ্গিসহ এ দলের আরও বেশ ক’জনের সন্ধান পেয়েছেন গোয়েন্দারা। এদের মধ্যে নিহত জঙ্গি তাওসীফের এক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার বন্ধুকেও খোঁজা হচ্ছে। সে গুলশান ও শোলাকিয়ায় নিহত নিবরাস ও আবীরের ঘনিষ্ঠ ছিল। সেই মেরিন ইঞ্জিনিয়ারের নাম মাসুদ ওরফে তৌকির বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। নিউ জেএমবির সঙ্গে মাসুদ জড়িত। কিন্তু সেও রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ আছে। তার বাড়ি ঝিনাইদহ এলাকায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, মুরাদের নেতৃত্বে ছিল একটি সেল। যারা ভারি অস্ত্র চালাতে পারদর্শী। এদের কাছে বেশকিছু অস্ত্র পাওয়া যেতে পারে। তদন্তে নাম আসা ওই আস্তানায় মারজান, রিপন ও অভিকে পাওয়ার আশাও করছেন তারা।
কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, তদন্তে যাদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে। তিনি বলেন, নিউ জেএমবিকে দমনে প্রয়োজনীয় যা করণীয় তাই করা হবে। একই সঙ্গে কেউ তথ্য গোপন করলে তাকেও আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। মনিরুল ইসলাম বলেন, হ্যালো অ্যাপসে কিছু তথ্য এসেছে- যা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অভিযানসংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানার ঘটনায় করা মামলার অন্যতম এক আসামি জঙ্গি রিপন। সে নিউ জেএমবির একজন কমান্ডার। তাকে পাওয়ার ব্যাপারে অনেকটাই আশাবাদী গোয়েন্দারা। এরই মধ্যে তার নেটওয়ার্কের তথ্য পাওয়া গেছে। এ নেটওয়ার্কে আছে গুলশান হামলার আরেক মাস্টারমাইন্ড মারজানও। এ দু’জনসহ চারজন যে কোনো মুহূর্তে গোয়েন্দা জালে ধরা পড়বে।


নব্য জেএমবির দুই শীর্ষ নেতা ভারতে
জেএমবির সমন্বয়ক তামিম চৌধুরী নিহত হওয়ার পর সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীর ব্যাপারে আরও নিবিড়ভাবে খোঁজ নিচ্ছেন গোয়েন্দারা। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, নব্য জেএমবির দুই শীর্ষ নেতা ভারতে পালিয়েছে।
তারা হলো শরিফুল ইসলাম খালিদ ও মামুনুর রশিদ রিপন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক রেজাউল করিম হত্যার পর পরই একই দিন তারা দেশ ছাড়ে। রেজাউল হত্যায় খালিদ মূল সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছে। রিপনও শিক্ষক রেজাউল করিম হত্যায় সম্পৃক্ত। সে জেএমবির উত্তরাঞ্চল এলাকার একজন শীর্ষ নেতা। খালিদ ও রিপনের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় উত্তরাঞ্চলে আরও একাধিক টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি গুলশান ও শোলাকিয়ার হামলায় তাদের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জে জঙ্গি আস্তানায় নিহত তামিমের ডিএনএ আলামতের নমুনা কানাডায় পাঠানো হচ্ছে। সেখানে তামিমের মাসহ অনেক আত্মীয়স্বজন রয়েছেন। তাদের রক্তের আলামতের সঙ্গে তামিমের আলামতের নমুনা মিলিয়ে দেখা হবে। এ ছাড়া তামিম নিহত হওয়ার ঘটনায় কানাডার পক্ষ থেকে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। কানাডিয়ান প্রতিনিধি দল কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশের পাশাপাশি তারাও স্বস্তি প্রকাশ করেছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, তামিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিল খালিদ, রিপন, মানিক, মুরাদ ওরফে জাহাঙ্গীর। তামিম ও মুরাদ নিহত হওয়ায় পর তাদের কেউ আবার সংগঠনের ‘হাল’ ধরতে পারে। এর বাইরে বসুন্ধরা এলাকার বাসিন্দা বর্তমানে পলাতক ইব্রাহিম হাসান খানও নব্য জেএমবির দায়িত্ব নিতে পারে। তবে বর্তমানে ইব্রাহিম ও তার আপন ভাই জুনায়েন খান পলাতক রয়েছে। তাদের মধ্যে ইব্রাহিম দেশের বাইরে।
দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, তামিম নিহত হওয়ার পর নব্য জেএমবির সঙ্গে কথিত আইএসের যে যোগসূত্র ছিল, তা অনেকাংশে নষ্ট হবে। এ ছাড়া বিদেশ থেকে তামিম জেএমবির জন্য যে অর্থ সংগ্রহ করত, তাতেও ভাটা পড়তে পারে। মূলত তামিম দেশীয় জঙ্গিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের যোগসূত্র স্থাপনের দায়িত্ব ছিল। গোয়েন্দারা বলছেন, জেএমবির বর্তমান নেতৃত্বের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রিপন। সংগঠনের অধিকাংশ নেতাকর্মী তাকে বেশি মান্য করে। এর একটি কারণ, বিভিন্ন সময় জেএমবির যে শীর্ষ নেতাদের বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়েছিল, এমন একাধিক নেতা তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। বর্তমানে জেএমবির অনেকে মনে করে, যেহেতু রিপন তার একাধিক স্বজনকে হারিয়েছে, তাই সংগঠনের প্রতি তার কমিটমেন্টও সবচেয়ে বেশি। গোয়েন্দারা বলছেন, তামিম ও রিপন ২০১৩ সালের দিকে নব্য জেএমবির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ‘দুর্বল’ জেএমবির পুনর্জন্ম হয়। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সমমনা তরুণ ও যুবকদের একত্র করে দলকে গুছিয়ে নেয় তামিম ও রিপন।
গোয়েন্দা সূত্র বলছে, গুলশানে হলি আর্টিসান বেকারিতে হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ‘চকোলেট’ নামে জেএমবির এক নেতাকে খুঁজছে পুলিশ। তার বাড়ি রাজশাহীতে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় হাসনাতের কাছে যেসব সূত্র থেকে টাকা আসত, তার বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। তবে অধিকাংশ সময় টাকা আসত হুন্ডির মাধ্যমে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে হুন্ডির মাধ্যমে তামিমের কাছে ১৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা আসার তথ্য গোয়েন্দাদের কাছে রয়েছে। এ ছাড়া মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা বর্তমানে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কারাবন্দি হাসনাতের মাধ্যমে দেশের বাইরে আরেকটি সূত্র থেকে তামিমের কাছে ৩৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা আসে। যদিও তামিমের হাতে পৌঁছার আগেই তা আটকে দেন গোয়েন্দারা। এ ছাড়া জেএমবির আরেক শীর্ষ নেতা নুরুল ইসলাম মারজান মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা সিরিয়ায় নিহত জঙ্গি সাইফুল ইসলাম সুজনের বাবা হাসনাতের আরেক ছেলের গৃহশিক্ষক ছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
সূত্র বলছে, উত্তরাঞ্চলে একের পর এক জঙ্গি হামলার ঘটনায় পুলিশি তদন্তে খালিদ ও রিপনের নাম বেরিয়ে আসায় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা ভারতে পালিয়ে যায়। এপ্রিল মাসের পর গুলশানসহ অন্যান্য জঙ্গি হামলায় ব্যবহার করতে তামিম চৌধুরীসহ একাধিক জঙ্গি নেতার কাছে অস্ত্র ও বিস্ফোরকের চালান আসে। ওই অস্ত্র ও বিস্ফোরক ভারত ও নেপাল থেকে বাংলাদেশে পাঠাতে রিপন ও খালিদ মুখ্য ভূমিকা রাখে বলে সন্দেহ তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের।


 
এ পর্যন্ত সর্বাধিক পঠিত

  ইনফোটেক : ইন্টারনেট নিয়ে গ্রাহক প্রতারণা!
  অনুসন্ধান : কয়টি সিম রাখা যাবে?
  পোস্টমর্টেম : নকল ডিমে রাজধানী সয়লাব
  প্রবাস : চিতোর, ইতিহাসের তিন নারী
  সাহিত্য : নাথ সাহিত্যের স্বরূপ
  অর্থনীতি : মূল বেতন দ্বিগুণ করার সুপারিশজাতীয় বেতন কমিশনের রিপোর্টে যা আছে
  আন্তর্জাতিক : যেভাবে যৌনদাসীদের ভোগ করছে আইএস জঙ্গিরা
  সমকালীন : বাংলাদেশ নিয়ে চীন-ভারত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও কূটনীতির দৃষ্টিতে মোদীর ঢাকা সফর
  বিশেষ প্রতিবেদন : ক্যাপ্টাগন: জঙ্গিদের টেরোরিস্ট ড্রাগ!
  প্রশাসন : চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল হচ্ছে!
  সাহিত্য : শিরোমণি আলাওল
  আন্তর্জাতিক : ভয়ঙ্কর আইএস-এর উত্থান ও নৃশংসতা!
  চমক! : জমজমের পানি নিয়ে জাপানী বিজ্ঞানীদের রহস্য আবিষ্কার!
  সাহিত্য : মগের মুল্লুকে বাংলা সাহিত্যের বিকাশ
  প্রচ্ছদ প্রতিবেদন : গুলশান ট্র্যাজেডি! কেন এই নৃশংসতা?
 





free counters



উপদেষ্টা সম্পাদক : আবদুল্লাহ আল-হারুন   |  সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ জিয়াউল হক   |  প্রধান সম্পাদক : আসিফ হাসান

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: দেওয়ান কমপ্লেক্স, ৬০/ই/১ (৭ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: +৮৮-০২-৯৫৬৬৯৮৭, ০১৯১৪ ৮৭৫৬৪০  |  ফ্যাক্স: +৮৮-০২-৯৫৬৬৩৯৮

ইমেইল: editor@weeklymanchitra.com, manchitra.bd@gmail.com
©  |  Amader Manchitra

Developed by   |  AminMehedi@gmail.com