আমাদের মানচিত্র  |  বর্ষ: ৪, সংখ্যা: ২৮     ঢাকা, বাংলাদেশ  |  আজ বূধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭  |  




আর্কাইভ সংখ্যা - বিএনপি’র দুর্বলতা ও রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা!

আর্কাইভ সংখ্যার প্রচ্ছদ



বর্ষ: ৪, সংখ্যা: ২৮
রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬




 
একনজরে এই সংখ্যা -

  সম্পাদকীয় : পবিত্র ঈদুল আজহা ও ত্যাগের পরীক্ষা
  প্রবাস : জন্ম ও মৃত্যু নিয়ে এলিজাবেথ কুবলার রস
  বিশেষ প্রতিবেদন : অর্থের জোরও ঠেকাতে পারেনি মীর কাসেম আলীর ফাঁসি
  ফিচার : রূপকথার এক প্রেমকাহিনী!
  অনুসন্ধান : পিলার চুরি ও বজ্রপাতে প্রাণহানির নেপথ্যে...
  পোস্টমর্টেম : ফারাক্কা নিয়ে নীতিশের প্রস্তাব ও প্রকৃতির প্রতিশোধ!
  স্মরণ : ঢাকায় থাকেন সিরাজ উদ-দৌলার বংশধর!
  ইনফোটেক : স্মার্ট কার্ড: যেভাবে পাবেন
  স্মৃতিচারণ : আঠারোটি বুলেট ও রক্তস্নাত বাংলাদেশ
  প্রতিবেদন : দুই জোটের অর্ধেক রাজনৈতিক দলেরই নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ নেই
  অর্থনীতি : গ্যাসের মূল্য: আবার বাড়ছে কার স্বার্থে?
  প্রচ্ছদ প্রতিবেদন : বিএনপি’র দুর্বলতা ও রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা!
  ধর্ম : জরথ্রুস্টঃ ইরানের প্রাচীন ধর্ম
  বিশেষ প্রতিবেদন : জঙ্গি দমনে সরকারের জিরো টলারেন্স!
  রাজনীতি : দুই ডজনেরও বেশি নেতা বিএনপিকে বিদায় জানাচ্ছেন!
  কলাম : জেলা, মহকুমা ও উপজেলার ইতিবৃত্ত
  দুর্নীতি প্রতিবেদন : মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রতারণা?
  চমক! : ফেরাউন ও মূসা
 



বিশেষ প্রতিবেদন পড়া হয়েছে ৩৫২ বার

অর্থের জোরও ঠেকাতে পারেনি মীর কাসেম আলীর ফাঁসি

রবিউল ইসলাম সোহেল

প্রচুর অর্থ ব্যয়, আন্তর্জাতিক লবিং কোনকিছুই বাঁচাতে পারেনি তাকে। গত ৩ সেপ্টেম্বর কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে কার্যকর হয় যুদ্ধাপরাধ মামলায় অভিযুক্ত আসামি বদর কমান্ডার মীর কাসেম আলীর ফাঁসি। এর বাইরে যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামিদের মধ্যে কেবল জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ে শাস্তি কমেছে আপিল বিভাগে। ট্রাইব্যুনালে তাকে দেওয়া সর্বোচ্চ সাজার রায় কমিয়ে আপিল বিভাগ আমৃত্যু কারাভোগের আদেশ দিয়েছেন। এ রায় রিভিউ চেয়েছে দুই পক্ষই। রিভিউ আবেদন দুটি শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে, বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ফাঁসির দণ্ডের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে আপিল বিচারাধীন রয়েছে এক ডজন যুদ্ধাপরাধীর। তারা হলেন আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোবারক হোসেন, জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও আবদুস সুবহান, জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা হবিগঞ্জের সৈয়দ মুহম্মদ কায়সার, সাবেক মুসলিম লীগ নেতা চাঁপাইনবাবগঞ্জের আফসার হোসেন চুটু ও মাহিদুর রহমান, পটুয়াখালীর ফোরকান মলি­ক, বাগেরহাটের সিরাজুল হক ওরফে কসাই সিরাজ, খান আকরাম হোসেন, নেত্রকোনার আতাউর রহমান ননী ও ওবায়দুল হক তাহের। এ ছাড়া ট্রাইব্যুনালের রায়ে আমৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত পিরোজপুরের সাবেক এমপি পলাতক জব্বার ইঞ্জিনিয়ারের সাজা বৃদ্ধি তথা মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
অভিযুক্ত আসামী মির কাসেম ১৯৭০ সালে ইসলামি ছাত্রসংঘের চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি ছিলো। সেই সময়েই স্থানীয় মহামায়া ভবন দখল করে বানিয়েছিলো টর্চার ক্যাম্প। পেয়েছে তার পুরস্কারও। সে বছরই ৭ নভেম্বর থেকে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রসংঘের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পায় সে। ১৯৭১ সালে তার নেতৃত্বেই চট্টগ্রামে সংগঠিত হয় ‘ডেথ স্কোয়াড’ নামে পরিচিত আল বদর বাহিনী। শুরু হয় ভয়ঙ্কর সব অত্যাচারের পর্ব। মির কাসেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ৭১-এর ৮ নভেম্বর থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত তার নেতৃত্বে আল বদর ও রাজাকারেরা চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে তোলে নির্যাতন কেন্দ্র। অকথ্য নির্যাতনের শিকার হন ২৪ জন। নির্যাতনের পর হত্যার করা হয় আটজনকে। গোটা নির্যাতন পর্বেই কখনও সরাসরি কখনও পরোক্ষ নেতৃত্বে ছিলেন কাসেম।
একাত্তরে তার নির্দেশেই চট্টগ্রাম টেলিগ্রাফ অফিস সংলগ্ন এলাকায় এক হিন্দুর মালিকানাধীন মহামায়া ভবন দখল করে, তার নাম দেওয়া হয় ডালিম হোটেল। সেখানে গড়ে তোলা হয় বদর বাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের ঘাঁটি এবং বন্দিশিবির। সেখানে অসংখ্য মানুষকে নির্যাতন ও হত্যা করা হয়, যাদের লাশ পরে ফেলে দেওয়া হত চাক্তাই চামড়ার গুদাম সংলগ্ন কর্ণফুলি নদীতে।
এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হল জসিম হত্যাকাণ্ড। ১৯৭১ সালে উদ-উল-ফিতরের পরে পরেই মির কাসেমের পরিকল্পনা মতো আলবদর বাহিনী চট্টগ্রাম শহরের কোনও এক অজ্ঞাত জায়গা থেকে মুক্তিযোদ্ধা জসিমকে অপহরণ করে আন্দরকিল­ার ডালিম হোটেলে নিয়ে যায়। তাকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত সেখানে আটকে রেখে চরম নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের ফলে জসিমের মৃত্যু হলে আরও পাঁচ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশসহ তার মৃতদেহ কর্ণফুলি নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এই অপরাধই শেষ পর্যন্ত ফাঁসির মঞ্চে ঠেলে দিল তাঁকে।
ট্রাইবুনালের রায়ের পর্যবেক্ষণে সেই ডালিম হোটেলকে বলা হয়েছে ‘ডেথ ফ্যাক্টরি’। ডালিম হোটেল ছাড়াও শহরের চাক্তাই চামড়ার গুদামের দোস্ত মহম্মদ বিল্ডিং, দেওয়ানহাটের দেওয়ান হোটেল এবং পাঁচলাইশ এলাকার সালমা মঞ্জিলে বদর বাহিনীর আলাদা ক্যাম্প ও নির্যাতন কেন্দ্র ছিল সে সময়।
ট্রাইবুলালের কাছে মির কাসেমের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১৪ অভিযোগ:
অভিযোগ ১: একাত্তরের ৮ নভেম্বর সকাল ১০টা নাগাদ মির কাসেম আলির নেতৃত্বে আলবদর বাহিনী চাক্তাই সাম্পান ঘাট থেকে মহম্মদ ওমর-উল-ইসলাম চৌধুরীকে অপহরণ করে। তাঁকে কোতোয়ালি থানার দোস্ত মোহম্মদ পাঞ্জাবি বিল্ডিংয়ে চামড়ার গুদামে টর্চার সেলে এবং পরে পাঁচলাইশ থানার আসাদগঞ্জের সালমা মঞ্জিলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরবর্তীতে ১২ নভেম্বর একটি গাড়িতে করে তাঁকে ডালিম হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জোর করে সাদা কাগজে সই নিয়ে তাঁর মামার কাছে তাঁকে হস্তান্তর করা হয়।
অভিযোগ ২: মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯ নভেম্বর দুপুর ২ টার দিকে মির কাসেম আলির নেতৃত্বে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও আলবদর বাহিনী লুতফর রহমান ফারুক ও সিরাজকে চাক্তাই এলাকার বকশিরহাটে জনৈক সৈয়দের বাড়ি থেকে অপহরণ করে। এর পর তাঁদের ডালিম হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে লুতফর রহমান ফারুককে বাইরে নিয়ে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়িগুলো চিহ্নিত করিয়ে সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ফারুককে আরও দু’তিন দিন ডালিম হোটেলে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। এর পর তাকে সার্কিট হাউজে নিয়ে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে তুলে দেয় আলবদর। সেখানেও তার উপর নির্যাতন চালানো হয় এবং চট্টগ্রাম কারাগারে পাঠানো হয়। ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের পরে সেখান থেকে ছাড়া পান ফারুক।
অভিযোগ ৩: ওই বছর ২২ অথবা ২৩ নভেম্বর জাহাঙ্গির আলম চৌধুরীকে ডবলমুরিং থানার কদমতলিতে তাঁর বাড়ি থেকে মির কাসেম আলির নেতৃত্বে অপহরণ করে আলবদর বাহিনী ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর লোকেরা। তাকে ডালিম হোটেলের নির্যাতন কেন্দ্রে নিয়ে নির্যাতন চালানো হয়। দেশ স্বাধীন হলে ১৬ ডিসেম্বর সকালে ডালিম হোটেল থেকে জাহাঙ্গিরকে উদ্ধার করা হয়।
অভিযোগ ৪: ১৯৭১ সালের ২৪ নভেম্বর গভীর রাতে আজিজ কলোনি থেকে সাইফুদ্দিন খানকে অপহরণ করে ডালিম হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অন্য অনেকের সঙ্গে তাঁকেও প্রচণ্ড মারধর করা হয়। ডিসেম্বরের ২ অথবা ৩ তারিখে বন্দিদের চট্টগ্রাম কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানে জেলারের মাধ্যমে সাইফুদ্দিনের স্ত্রী তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। স্বামীকে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। ১৬ ডিসেম্বর জেল থেকে ছাড়া পান সাইফুদ্দিন।
অভিযোগ ৫: ১৯৭১ সালের ২৫ নভেম্বর দুপুর আড়াইটে নাগাদ মির কাসেম আলির নির্দেশে রাজাকার কমান্ডার জালাল চৌধুরী ওরফে জালাল জল­াল নন্দন কানন এলাকার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সামনে থেকে আব্দুল জব্বার মেম্বারকে অপহরণ করে ডালিম হোটেলে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে ১৭/১৮ দিন আটকে রেখে হাত ও চোখ বেঁধে নির্যাতন চলে। নির্যাতনের সময় জল খেতে চাইলে তাঁকে প্রস্রাব খেতে দেওয়া হয়। ১৩ ডিসেম্বর মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেয়া হয়।
অভিযোগ ৬: একাত্তরের ২৮ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মির কাসেমের নির্দেশে পাকিস্তানি সেনাদের সহায়তায় আলবদর সদস্যরা হারুন-অল-রশিদকে অপহরণ করে ডালিম হোটেলে নিয়ে যায়। সেখানে চোখ ও হাত বেঁধে তাকে নির্যাতন করা হয়। পরে মির কাসেমের নির্দেশে তাকে চোখ-হাত বাঁধা অবস্থাতেই পাঁচলাইশের সালমা মঞ্জিলে আর একটি নির্যাতন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৬ ডিসেম্বর সালমা মঞ্জিল থেকেই তাকে উদ্ধার করা হয়।
অভিযোগ ৭: একাত্তরের ২৭ নভেম্বর মাগরিবের নামাজের পরে মির কাসেমের নির্দেশে ডবলমুরিং থানার ১১১ উত্তর নলাপাড়া থেকে মহম্মদ সানাউল­াহ চৌধুরী, হাবিবুর রহমান ও ইলিয়াসকে অপহরণ করে ডালিম হোটেলে নিয়ে যায় আলবদর বাহিনীর সদস্যরা। সেখানে তাঁদের আটকে রেখে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়। মির কাসেমের নিয়ন্ত্রণে থাকা এ নির্যাতন কেন্দ্রে আটক থাকার সময় তাঁরা আরও অনেককে আটক অবস্থায় দেখতে পান। এঁদের অনেককে আবার ডালিম হোটেল থেকে নিয়ে যেতেও দেখেন তাঁরা এবং পরে শুনতে পান যে বদর বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের মেরে ফেলেছে। পরে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সরবরাহ করার শর্তে মির কাসেমের নির্দেশে ৬ ডিসেম্বর হাবিবুর রহমান এবং ৯ ডিসেম্বর সানাউল­াহকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগ ৮: ১৯৭১ সালের ২৯ নভেম্বর রাত আড়াইটে নাগাদ মির কাসেমের পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে নিয়ে আলবদর বাহিনীর সশস্ত্র সদস্যরা চাঁদগাঁও থানার সাবহানঘাটা মহল­া ঘেরাও করে নুরুল কুদ্দুস, মহম্মদ নাসির, নুরুল হাসেম-সহ আরও কয়েক জনকে অপহরণ করে এনএমসি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে নিয়ে যায়। পরে ভোরবেলায় ওই তিনজন-সহ আরও অনেককে ডালিম হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিন জনকে ১০ দিন আটক রেখে নির্যাতন করা হয় এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম কারাগারে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ১৬ ডিসেম্বর তারা ছাড়া পান।
অভিযোগ ৯: মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে ২৯ নভেম্বর ভোরে মির কাসেমের পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে চাঁদগাঁও থানার নাজিরবাড়ি এলাকা থেকে পাঁচ খুড়তুতো-জেঠতুতো ভাই-সহ নুরুজ্জামানকে অপহরণ করে ডালিম হোটেলে নিয়ে যায় আলবদর বাহিনীর সশস্ত্র সদস্যরা। সেখানে তাদের আটকে রেখে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্যাতন করা হয়। ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের পরে তাদেরকে সেখান থেকে মুক্ত করা হয়।
অভিযোগ ১০: একাত্তরের ২৯ নভেম্বর ভোর ৫টার দিকে মির কাসেমের আলবদর বাহিনীর সশস্ত্র সদস্যরা নাজিরবাড়ি এলাকা ঘেরাও করে মহম্মদ জাকারিয়া, মহম্মদ সালাউদ্দিন ওরফে ছুট্টু মিয়াঁ, ইস্কান্দর আলম চৌধুরী, মহম্মদ নাজিম উদ্দিনসহ আরও অনেককে অপহরণ করে এবং এনএমসি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে নিয়ে যায়। পরে তাদের সবাইকে ডালিম হোটেলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। বয়সে ছোট হওয়ায় নাজিমুদ্দিনকে পর দিন ছেড়ে দেওয়া হয়। সাত-আটদিন পর জাকারিয়াকে, ১১ অথবা ১২ ডিসেম্বর সালাউদ্দিন ওরফে ছুট্টু মিয়াঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সবশেষে ইস্কান্দর আলম চৌধুরী ১৬ ডিসেম্বর ছাড়া পান।
অভিযোগ ১১: ১৯৭১ সালে ইদুল ফিতরের পরে পরেই মির কাসেমের নেতৃত্বে আলবদর বাহিনীর সদস্যরা চট্টগ্রাম শহরের কোনও এক অজ্ঞাত স্থান থেকে মুক্তিযোদ্ধা জসিমকে অপহরণ করে আন্দরকিল­ার ডালিম হোটেলে নিয়ে যায়। তাঁকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত সেখানে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের ফলে জসিমের মৃত্যু হয়। আরও পাঁচ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশসহ তার মৃতদেহ কর্ণফুলি নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
অভিযোগ ১২: ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসের কোনও এক দিন মির কাসেমের আলবদর বাহিনীর সদস্যরা হিন্দু প্রধান হাজারি লেনের ১৩৯ নম্বর বাড়ি থেকে জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী এবং ১১৪ নম্বর বাড়ি থেকে রঞ্জিত দাস ওরফে লাঠুকে ও টুনটু সেন ওরফে রাজুকে অপহরণ করে ডালিম হোটেলে নিয়ে যায়। পর দিন জাহাঙ্গির আলম চৌধুরীকে ছেড়ে দেওয়া হলেও লাঠু ও রাজুকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলা হয়। এই তিন জনকে অপহরণের সময় আলবদর বাহিনী এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্যরা অনেক দোকানপাট লুঠ করে এবং অন্তত আড়াইশো বাড়ি পুড়িয়ে দেয়। এর ফলে অন্তত একশো হিন্দু পরিবার ভারতে চলে যেতে বাধ্য হয়।
অভিযোগ ১৩: নভেম্বরের কোনও এক দিন আন্দরকিল­ার সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার গোলাম মোস্তফা কাঞ্চনের বাড়ি থেকে নিজেদের বাড়িতে ফিরছিলেন সুনীলকান্তি বর্ধন ওরফে দুলাল, তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও একজন কিশোর গৃহকর্মী। পথে চাক্তাই সাম্পানঘাটে পৌঁছলে মির কাসেমের নির্দেশে দুলালকে অপহরণ করে চাক্তাইয়ের দোস্ত মহম্মদ পাঞ্জাবি বিল্ডিং-এর নির্যাতন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত আরও অনেক সাধারণ নাগরিকের সঙ্গে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় দুলালকে। পরে ১৪ ডিসেম্বর তাঁদের সবাইকে ডালিম হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৬ ডিসেম্বর ডালিম হোটেল থেকে দুলালকে উদ্ধার করা হয়।
অভিযোগ ১৪: নভেম্বর মাসের শেষ দিকে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার নাজির আহমেদ চৌধুরী রোডে এজেএম নাসিরুদ্দিনের বাড়িতে আশ্রয় নেন নাসিরুদ্দিন চৌধুরী। এক দিন গভীর রাতে মির কাসেম আলির নেতৃত্বে কয়েক জন আলবদর সদস্য ওই বাড়ি ঘিরে ফেলে। তারা নাসিরুদ্দিন চৌধুরীকে অপহরণ করে ডালিম হোটেলে নিয়ে যায় এবং সেখানে আটকে রেখে নির্যাতন চালায়। ১৬ ডিসেম্বর ডালিম হোটেল থেকে আরও এক-দেড়শো মানুষের সঙ্গে নাসিরুদ্দিনকেও উদ্ধার করা হয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর আত্মগোপন করেন মির কাসেম। পরে জেনারেল জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসনের সময়, তাঁরই বদান্যতায় ফিরে আসেন প্রকাশ্যে। নানান পথে উপার্জন করতে শুরু করেন বিপুল অর্থ। জামাতে ইসলামের নেতা হয়ে ওঠেন। পরে হয়ে ওঠেন প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং অর্থ সরবরাহকারী। তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা শুরু হওয়ার পর তা আটকাতে আমেরিকার এক লবিস্ট সংস্থাকে বিপুল অর্থ দিয়ে নিয়োগ করেন বলে অভিযোগ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিচার ঠেকাতে পারেননি।
গ্রেফতারি পরোয়ানা: জামাতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য মির কাসেম আলির বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ১৭ জুন গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইবুনাল। ওই দিন বিকেলেই মতিঝিলে দৈনিক নয়া দিগন্ত কার্যালয়ের (দিগন্ত মিডিয়া কর্পোরেশন) থেকে তাকে গ্রেফতার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। ২০১৫ সালের ১৬ মে মির কাসেমের বিরুদ্ধে ১৪টি অভিযোগ দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। ২৬ মে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ করে ট্রাইবুনাল-১। এরপর মামলাটি ট্রাইবুনাল-২-এ স্থানান্তর করা হয়। এর পর ২০১৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর মির কাসেম আলিকে ১৪টি ঘটনায় অভিযুক্ত করে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইবুনাল।
চূড়ান্ত রায়: ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে দুই অভিযোগে মির কাসেমের মৃত্যুদণ্ড এবং আট অভিযোগে সব মিলিয়ে ৭২ বছরের কারাদণ্ড হয়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেন কাসেম। আপিলের রায়ে একটা অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও ছয় অভিযোগে ৫৮ বছর কারাদণ্ডের সাজা বহাল রাখে সর্বোচ্চ আদালত।
মীর কাসেমের এত সম্পদের কী হবে?
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতা মীর কাসেমের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। এই ধনকুবের জামায়াত নেতাকে দলটির খুঁটি বলে মনে করা হত। বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতার সুযোগে হাজার-কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছে এই যুদ্ধাপরাধী। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে লবিস্ট নিয়োগ ও আর্থিক লেনদেনের নেতৃত্বেও ছিলো মীর কাসেম। যদিও সরকারের সর্বোচ্চ তৎপরতায় কোন ফায়দা হয়নি শেষ পর্যন্ত। তবে মীর কাসেমের ফাঁসির পর সেসব সম্পদ কী হবে তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে আলোচনা।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের পর স্থায়ীভাবে ঢাকায় আসেন মীর কাসেম। এরপর অনুকূল পরিবেশ না থাকায় সেখান থেকে সৌদি আরবে গিয়ে রাজাকারদের জীবনমানের উন্নয়নের জন্য বিপুল অর্থ সহায়তা জোগাড় করেন তিনি। পরে ওই অর্থ নিজেই ভোগ করতে থাকেন পুরোটা, গড়ে তোলেন এনজিও। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর দেশে ফিরে আসা মীর কাসেম মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনৈতিক সাহায্যপুষ্ট রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামী নামের এনজিওর কান্ট্রি ডিরেক্টর হন। সেই এনজিওর অর্থে তিনি একের পর এক গড়ে তোলেন ব্যবসায়িক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। সেই থেকে জামায়াতের সাংগঠনিক ব্যয় নির্বাহে সবচেয়ে বেশি অর্থের জোগানদাতা মীর কাসেম। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে লবিস্ট নিয়োগ ও আর্থিক লেনদেনের নেতৃত্বেও ছিলেন হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক মীর কাসেম আলী।
জানা গেছে, কেবল জামায়াত নেতাদের মধ্যেই নয়, গত তিন দশকে দেশের অন্যতম বড় ব্যবসায়ীতে পরিণত হন মীর কাসেম আলী। ব্যাংক, হাসপাতাল, কৃষি ব্যবসা, গণমাধ্যম, বিশ্ববিদ্যালয়, ওষুধশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তার করেন তার ব্যবসা। এসব ব্যবসা থেকে বিপুল আয়ের বড় একটি অংশ তিনি ব্যয় করতেন জামায়াতের রাজনীতির পেছনে, বিভিন্ন নামে গড়া ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে। সূত্র জানায়, বেশকিছু আর্থিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক মীর কাসেমের সম্পদ হাজার কোটি টাকার বেশি। কিন্তু সে তুলনায় তার ব্যক্তি নামে সম্পদ কম দেখানো হয়েছে। তার তত্ত¡াবধানের বেশিরভাগ সম্পদই বিভিন্ন কোম্পানি, ট্রাস্ট ও বেসরকারি সংস্থার নামে রয়েছে। ঢাকা কর অঞ্চল-৫-এর সার্কেল ৫০-এর করদাতা মীর কাসেম আলীর কর শনাক্তকরণ নম্বর বা ই-টিআইএন নম্বর হলো ০৭৬-১০৩-৯৬৬৩। তিনি ঢাকার মিরপুরের দক্ষিণ মনিপুরে ২৮৭ নম্বর প্লটের বহুতল ভবন পেয়েছেন পৈতৃকসূত্রে। এ ছাড়া তার ব্যক্তি নামে ঢাকার মোহাম্মদপুরে একতা সোসাইটির ৫ কাঠা জমি ও মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের চালায় সাড়ে ৫০ শতক জমি রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মীর কাসেমের ধানমন্ডির বহুতল ভবন কেয়ারী প্লাজার অবিক্রীত ১৭৮.৬৯ বর্গমিটারের মালিক। বাকি অংশ ইতোমধ্যেই বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মোট ২৭ হাজার ২৭৭টি শেয়ার রয়েছে তার নিজ নামে। স্ত্রীর নামে রয়েছে ১০০টি এবং দুই ছেলে-তিন মেয়ের নামে রয়েছে ৫০০টি। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের ২ হাজার ১১৩টি শেয়ার, কেয়ারী লিমিটেডের ১৪ হাজার শেয়ার, কেয়ারী টেলিকমের ১০ হাজার, কেয়ারী ট্যুরস অ্যান্ড সার্ভিসেসের ১ হাজার শেয়ার, কেয়ারী ঝর্না লিমিটেডের ২০টি, কেয়ারী তাজ লিমিটেডের ৫টি, কেয়ারী সান লিমিটেডের ৫টি, কেয়ারী স্প্রিং লিমিটেডের ২০টি, সেভেল স্কাই লিমিটেডের ১০০, মীর আলী লিমিটেডের ২৫টি এবং দিগন্ত মাল্টিমিডিয়া লিমিটেডের ১০০টি শেয়ার রয়েছে মীর কাসেম আলীর নামে। এছাড়া, তিনি কেয়ারী লিমিটেডের চেয়ারম্যান, ইবনে সিনা ট্রাস্টের সদস্য (প্রশাসন), ইবনে সিনা হাসপাতালের পরিচালক, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের পরিচালক, এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রাস্টের সদস্য ও ফুয়াদ আল খতিব চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের সদস্য। তিনি ইসলামী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন, রাবেতা আল আলম আল ইসলামী, ইবনে সিনা ট্রাস্ট, অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রাস্ট, ফুয়াদ আল খতিব চ্যারিটি ফাউন্ডেশন এবং অ্যাসোসিয়েশন অব মাল্টিপারপাস ওয়েলফেয়ার এজেন্সিসের বিভিন্ন বোর্ড মিটিংয়ে উপস্থিতির জন্য নিয়মিত ভাতা পেতেন। এ ছাড়া পরিচালনা পর্ষদে আছেন ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট অ্যান্ড বিজনেসম্যান চ্যারিটি ফাউন্ডেশন, আল­ামা ইকবাল সংসদ, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রাম, দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটি, সেন্টার ফর স্ট্রাটেজি অ্যান্ড পিস, বায়তুশ শরফ ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ ইসলামিক ট্রাস্ট ও ইসলামিক ইকোনমিক্স রিসার্চ সেন্টারের।
সূত্র জানায়, মীর কাসেম আলীর ২০১০ সালের আয়কর রিটার্নে ব্যক্তিগত ঘোষিত মোট পরিসম্পদ ৩ কোটি ৩৩ লাখ ৯৯ হাজার ৩২৪ টাকা। এর মধ্যে তার নামে থাকা শেয়ারগুলোর মূল্য ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। ঢাকার বাড়ি ও জমির দাম মাত্র কয়েক লাখ টাকা করে উলে­খ করা হয়েছে রিটার্নে। সে সময় তার বার্ষিক আয় ছিল ১৫ লাখ ৪২ হাজার ৫২৯ এবং ব্যাংকে ছিল ১৮ লাখ ৪৫ হাজার ৭০১ টাকা। তবে মীর কাসেম আলী-সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের অঙ্কগুলোও বড় এবং এর কোনোটিই খেলাপি নয়। কেয়ারী লিমিটেডের নামে ঋণ ৬০ কোটি ৯৩ লাখ, ইবনে সিনা ট্রাস্টের নামে ৫০ কোটি, ইবনে সিনা হাসপাতালের ৬ কোটি ৩৪ লাখ, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের ২০ কোটি, দিগন্ত মিডিয়া কর্পোরেশনের নামে ৪১ কোটি ৩৫ লাখ, এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়ালের ২৩ কোটি ৭৫ লাখ এবং ফুয়াদ আল খতিবের নামে ২ কোটি ৯৬ লাখ টাকার ঋণ রয়েছে।
যদিও ২০১২ সালের ১৭ জুন যুদ্ধাপরাধের মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে তার নাম বাতিল করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘একাত্তর-পরবর্তী সময়ে জামায়াত ও তাদের সহযোগী সংগঠন মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপকভাবে প্রচারণা চালায় যে বাংলাদেশে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় হাজার হাজার মসজিদ, মাদ্রাসা ভেঙে ফেলেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদ-মাদ্রাসা পুনরায় নির্মাণ ও মৃত রাজাকার-আলবদরদের পরিবার পরিচালনার জন্য তারা মধ্যপ্রাচ্য থেকে অনেক অর্থ সহযোগিতা পায়।


 
এ পর্যন্ত সর্বাধিক পঠিত

  ইনফোটেক : ইন্টারনেট নিয়ে গ্রাহক প্রতারণা!
  অনুসন্ধান : কয়টি সিম রাখা যাবে?
  পোস্টমর্টেম : নকল ডিমে রাজধানী সয়লাব
  সাহিত্য : নাথ সাহিত্যের স্বরূপ
  প্রবাস : চিতোর, ইতিহাসের তিন নারী
  অর্থনীতি : মূল বেতন দ্বিগুণ করার সুপারিশজাতীয় বেতন কমিশনের রিপোর্টে যা আছে
  আন্তর্জাতিক : যেভাবে যৌনদাসীদের ভোগ করছে আইএস জঙ্গিরা
  বিশেষ প্রতিবেদন : ক্যাপ্টাগন: জঙ্গিদের টেরোরিস্ট ড্রাগ!
  সমকালীন : বাংলাদেশ নিয়ে চীন-ভারত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও কূটনীতির দৃষ্টিতে মোদীর ঢাকা সফর
  সাহিত্য : শিরোমণি আলাওল
  আন্তর্জাতিক : ভয়ঙ্কর আইএস-এর উত্থান ও নৃশংসতা!
  প্রশাসন : চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল হচ্ছে!
  চমক! : জমজমের পানি নিয়ে জাপানী বিজ্ঞানীদের রহস্য আবিষ্কার!
  সাহিত্য : মগের মুল্লুকে বাংলা সাহিত্যের বিকাশ
  প্রচ্ছদ প্রতিবেদন : গুলশান ট্র্যাজেডি! কেন এই নৃশংসতা?
 





free counters



উপদেষ্টা সম্পাদক : আবদুল্লাহ আল-হারুন   |  সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ জিয়াউল হক   |  প্রধান সম্পাদক : আসিফ হাসান

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: দেওয়ান কমপ্লেক্স, ৬০/ই/১ (৭ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: +৮৮-০২-৯৫৬৬৯৮৭, ০১৯১৪ ৮৭৫৬৪০  |  ফ্যাক্স: +৮৮-০২-৯৫৬৬৩৯৮

ইমেইল: editor@weeklymanchitra.com, manchitra.bd@gmail.com
©  |  Amader Manchitra

Developed by   |  AminMehedi@gmail.com