আমাদের মানচিত্র  |  বর্ষ: ৪, সংখ্যা: ২৮     ঢাকা, বাংলাদেশ  |  আজ শুক্রবার, ২১ জুলাই ২০১৭  |  




আর্কাইভ সংখ্যা - বিএনপি’র দুর্বলতা ও রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা!

আর্কাইভ সংখ্যার প্রচ্ছদ



বর্ষ: ৪, সংখ্যা: ২৮
রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬




 
একনজরে এই সংখ্যা -

  সম্পাদকীয় : পবিত্র ঈদুল আজহা ও ত্যাগের পরীক্ষা
  প্রবাস : জন্ম ও মৃত্যু নিয়ে এলিজাবেথ কুবলার রস
  বিশেষ প্রতিবেদন : অর্থের জোরও ঠেকাতে পারেনি মীর কাসেম আলীর ফাঁসি
  ফিচার : রূপকথার এক প্রেমকাহিনী!
  অনুসন্ধান : পিলার চুরি ও বজ্রপাতে প্রাণহানির নেপথ্যে...
  পোস্টমর্টেম : ফারাক্কা নিয়ে নীতিশের প্রস্তাব ও প্রকৃতির প্রতিশোধ!
  স্মরণ : ঢাকায় থাকেন সিরাজ উদ-দৌলার বংশধর!
  ইনফোটেক : স্মার্ট কার্ড: যেভাবে পাবেন
  স্মৃতিচারণ : আঠারোটি বুলেট ও রক্তস্নাত বাংলাদেশ
  প্রতিবেদন : দুই জোটের অর্ধেক রাজনৈতিক দলেরই নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ নেই
  অর্থনীতি : গ্যাসের মূল্য: আবার বাড়ছে কার স্বার্থে?
  প্রচ্ছদ প্রতিবেদন : বিএনপি’র দুর্বলতা ও রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা!
  ধর্ম : জরথ্রুস্টঃ ইরানের প্রাচীন ধর্ম
  বিশেষ প্রতিবেদন : জঙ্গি দমনে সরকারের জিরো টলারেন্স!
  রাজনীতি : দুই ডজনেরও বেশি নেতা বিএনপিকে বিদায় জানাচ্ছেন!
  কলাম : জেলা, মহকুমা ও উপজেলার ইতিবৃত্ত
  দুর্নীতি প্রতিবেদন : মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রতারণা?
  চমক! : ফেরাউন ও মূসা
 



অনুসন্ধান পড়া হয়েছে ৬৮৪ বার

পিলার চুরি ও বজ্রপাতে প্রাণহানির নেপথ্যে...

এনামূল হক ফরহাদ

ঝড়-বৃষ্টির দিনে বজ্রপাত স্বাভাবিক প্রাকৃতিক ঘটনা। তবে ইদানীং সামান্য বৃষ্টিপাত বা ঝড়ো বাতাস হলেই ঘটছে বজ্রপাত। এর আঘাতে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। বিষয়টি ভাবিয়ে তুলছে গবেষকদের। তাদের মতে, বজ্রপাতের বড় কারণ বায়ুদূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন, মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক টাওয়ার।
এছাড়া ধাতব পিলার (ম্যাগনেটিক পিলার) চুরিকেও এর অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন গবেষকরা। তারা বলছেন, এ পিলারের মধ্যে এক ধরনের বিশেষ ধাতব তার আছে, যা বজ্রপাতকে মাটিতে টেনে নেয়। কিন্তু এ পিলার চুরির ফলে বজ্রপাত যেখানে সেখানে আঘাত হানছে। ঘটছে প্রাণহানি।
খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে প্রচুর বজ্রপাত আঘাত হেনেছে। এতে মৃতের সংখ্যাও বেড়েছে বহুগুণ। কয়েক বছরে বজ্রপাতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কিত অনেকেই। শুধু মে ও জুন মাসের ২২ তারিখ পর্যন্ত বজ্রপাতে ১২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়।
ইতিহাস গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘রুটস’ সম্পাদক মোহাম্মাদ মাহমুদুজজামান গণমাধ্যমকে বলেন, স¤প্রতি মিডিয়াতে বজ্রপাতের খবর খুব বেশি দেখা যাচ্ছে। বিগত দুই দশকে এ ধরনের ঘটনার কথা খুব বেশি শোনা যেত না। শোনা গেলেও হতাহতের সংখ্যা কম ছিল।
বজ্রপাত কেন হঠাৎ এভাবে বেড়ে গেল? এর কারণ খুঁজতে গেলে কয়েকটি বিষয় সামনে চলে আসে। এগুলোর মধ্যে প্রধান হলো বায়ুদূষণ। বাতাসে অ্যারোসলের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় তা উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ফলে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে। ‘কার্বন, নাইট্রোজেন ও সালফার গ্যাসের পরিমাণ বাতাসে যত বাড়বে, বজ্রপাতের সংখ্যাও ততই বাড়তে থাকবে।’ একইসঙ্গে দেশজুড়ে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক টাওয়ার স্থাপন বজ্রপাত বাড়িয়ে দেয়ার পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে কেউ কেউ মনে করছেন।
এ বিষয়গুলোর পাশাপাশি বজ্রপাতে প্রাণহানি বৃদ্ধির আরেকটি কারণ নিয়ে কিছু মানুষ যে বিষয়টির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছে, সেটা হলো এক ধরনের ধাতব পিলার। বলা হয়ে থাকে, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে এ পিলারগুলো বসানো হয়। কেউ কেউ একে বলেন ক্যাডেস্ট্রাল সার্ভে বা সিএস পিলার, কেউ বলেন মৌজা পিলার, কারও মতে ম্যাগনেটিক পিলার, আবার কারও মতে ত্রিসীমানা পিলার বা সীমানা পিলার। এগুলোকে সীমানা নির্ধারণী পিলার হিসেবে বলা হলেও এর মধ্যে মূল্যবান ধাতব উপকরণ আছে বলে কিছু ব্যক্তি বিশ্বাস করেন।
ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় উদ্ধারকৃত ধাতব পিলারের গায়ে যে তারিখ পাওয়া গেছে, তাতে এগুলো গভর্নর জেনারেল ফ্রান্সিস রডন- হেস্টিংস বা প্রথম মার্কুইস অব হেস্টিংসের সময়ে (১৭৫৪-১৮২৬) কোম্পানির শাসনভুক্ত ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ভূমিতে স্থাপন করা হয় বলে মনে করা হয়। যারা মনে করেন এ ধাতব পিলারগুলো খুবই মূল্যবান, তাদের যুক্তি যদি শুধু সীমানা নির্ধারণের জন্য এ পিলার ব্যবহার করা হতো, তবে তা সাধারণ পিলারের মতোই থাকত। দামি ধাতু ব্যবহার করা হতো না। এটি অন্য উদ্দেশে বসানো হয়। যাতে কেউ সন্দেহ না করে বা চুরি না হয়, সে কারণে ব্রিটিশরা এগুলোকে সীমানা পিলার হিসেবে বর্ণনা করেছে।
নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে কাজটি করলেও তার সুফল পাচ্ছিল সাধারণ মানুষ। তিনি বলেন, মূলত এ মূল্যবান পিলারগুলো বসানো হয়েছিল বজ্রপাত নিয়ন্ত্রণের জন্য। এর ভেতর মূল্যবান ধাতব পদার্থ বজ্রপাতকে ভূমির ভেতর টেনে নিয়ে যেত। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থান থেকে পিলার চুরি এবং পাশাপাশি বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এ সন্দেহ প্রবল হয়।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে আমেরিকার জাতীয় আবহাওয়া সেবা বিভাগের অধীনে হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সংস্থা প্যাসিফিক এনসো ক্লাইমেট প্রেডিকশন সেন্টারের প্রিন্সিপাল রিসার্চ সায়েন্টিস্ট রাশেদ চৌধুরী সোনালি জানান, পিলারের বিষয়টি একবারে অবাস্তব নয়। আমরা যখন বাড়ি তৈরি করি, তখন বজ্রপাতের হাত থেকে বাঁচার জন্য বাড়িতে আর্থিং করা হয়। এখানেও তাই ঘটেছে। এ পিলারগুলো জনপদের আর্থিংয়ের কাজ করছে। ফলে যখন পিলারগুলো চুরি হচ্ছে, তখন সেখানে এর ব্যাঘাত ঘটছে। ফলে বজ্রপাতে মৃত্যুহার বেড়ে যাচ্ছে।
অনলাইনে এ পিলার সম্পর্কে নানা তথ্য পাওয়া যায়। বিশেষ করে আলিবাবা ডটকমসহ কিছু ই-কমার্স সাইটে এ পিলার কেনা ও বিক্রির প্রকাশ্য ঘোষণা দেখা যায়। বলা হয় এর ভেতর ব্যবহৃত অতি মূল্যবান ইরিডিয়াম কপার আছে, যা সাধারণভাবে প্রচলিত নয়; কিন্তু এটা মহাকাশ গবেষণায় ব্যবহার করা হয়। তারা দাবি করেন, নাসার জন এইচ গ্যান রিসার্চ সেন্টারে এ ইরিডিয়াম কপারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
ইরিডিয়াম কপারের সাধারণ ব্যবহার নেই বলে এর সম্পর্কে ধারণা কম। কিছু সাইটে এমন তথ্য দেয়া হয়েছে যে, ইরিডিয়াম কপার পৃথিবীতে খুব কম পাওয়া যায়। এমন তথ্যও পাওয়া যায়, মহাকাশ থেকে উল্কাপিণ্ড যখন পৃথিবীতে পড়ে, তখন রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে ইরিডিয়াম কপার তৈরি হয়; যা এমনিতে সুলভ নয়।
আরেকটি সূত্রে জানা যায়, এ পিলারগুলো ফ্রিকোয়েন্সি অনুযায়ী একটি থেকে আরেকটির দূরত্ব মেপে মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল। পিতল, তামা, লোহা, টাইটেনিয়ামসহ ধাতব চুম্বক সমন্বয়ে গঠিত হওয়ার কারণে বজ্রপাত হওয়ার সময় ইলেকট্রিক চার্জ তৈরি হয়, সেটি সরাসরি এ পিলারগুলো টেনে নেয়া বা আর্থিংয়ের কাজ করত। এতে বজ্রপাত হতো কিন্তু মানুষ মারা যেত না।
রুটসের গবেষণায় উঠে এসেছে পিলার নিয়ে নানা রহস্য। তারা বলেছেন, ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকাতে প্রাথমিকভাবে কিছু পিলার পাওয়া যায়। এ কারণে একে সীমান্ত পিলারও বলা শুরু হয় আর এর মধ্যে থাকা তামা, পিতল, টাইটেনিয়াম জাতীয় ধাতবের সমন্বয়ে তৈরি বিদ্যুৎ সুপরিবাহী হওয়াতে একে মহামূল্যবান বলে অপপ্রচারের ফলে এসব পিলার চুরি হতে থাকে।
ব্রিটিশদের স্থাপন করা এ ধাতব পিলার নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতে রহস্যের কোনো শেষ নেই। পিলার আবিষ্কার করতে পারলে একজন মানুষ রাতারাতি বিপুল টাকার মালিক হয়ে যাবেন! এমন বিশ্বাস থেকে বিভিন্ন জায়গায় মাটি খুঁড়ে পিলার খোঁজার ঘটনা ঘটছে। কিছু জায়গায় প্রভাবশালী ব্যক্তি এমনকি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানও এ ‘গুপ্তধন’ উদ্ধার অভিযানে নেমে যায় এমন খবরও পাওয়া যায়।
জানা যায়, এসব ধাতব পিলারের এক ধরনের চৌম্বক শক্তি আছে। ফলে পিলারের আশপাশে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক কাজ করে না। এখন সর্বত্র মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে পড়ায় খুব সহজেই পিলারের জায়গা চিহ্নিত করা যায়। ফলে চুরি করাও সহজ হয়ে যায়, যা আগে করা কঠিন ছিল।
সংবাদ মাধ্যমে কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধাতব পিলার বিষয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
৩০ জানুয়ারি একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের খবরে বলা হয়, ল²ীপুরে মাটি খুঁড়তেই ‘ম্যাগনেটিক’ পিলার। সাতক্ষীরায় ধাতব পিলার পাচারের সময় ধরা পড়া এবং তাতে বিদেশি জড়িত থাকার সংবাদ ১৯ মে একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাতের কারণ নিয়ে গবেষণার সময় এসেছে। এটার প্রতিকারও খুঁজতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত বজ্রপাতের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে পরিসংখ্যান নেই সরকারের কোনো দফতরে। সম্পূর্ণই প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করায় বজ্রপাত প্রতিরোধেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এ পিলার প্রতœতাত্তি¡ক নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সে হিসেবে এগুলোর আলাদা মূল্য থেকেই যায়। কিছু মানুষের লোভের কারণে এভাবে জাতীয় সম্পদ চুরি ও পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়া জরুরি। এগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।


 
এ পর্যন্ত সর্বাধিক পঠিত

  ইনফোটেক : ইন্টারনেট নিয়ে গ্রাহক প্রতারণা!
  অনুসন্ধান : কয়টি সিম রাখা যাবে?
  পোস্টমর্টেম : নকল ডিমে রাজধানী সয়লাব
  অর্থনীতি : মূল বেতন দ্বিগুণ করার সুপারিশজাতীয় বেতন কমিশনের রিপোর্টে যা আছে
  সাহিত্য : নাথ সাহিত্যের স্বরূপ
  প্রবাস : চিতোর, ইতিহাসের তিন নারী
  বিশেষ প্রতিবেদন : ক্যাপ্টাগন: জঙ্গিদের টেরোরিস্ট ড্রাগ!
  সমকালীন : বাংলাদেশ নিয়ে চীন-ভারত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও কূটনীতির দৃষ্টিতে মোদীর ঢাকা সফর
  আন্তর্জাতিক : যেভাবে যৌনদাসীদের ভোগ করছে আইএস জঙ্গিরা
  সাহিত্য : শিরোমণি আলাওল
  আন্তর্জাতিক : ভয়ঙ্কর আইএস-এর উত্থান ও নৃশংসতা!
  প্রশাসন : চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল হচ্ছে!
  সাহিত্য : মগের মুল্লুকে বাংলা সাহিত্যের বিকাশ
  চমক! : জমজমের পানি নিয়ে জাপানী বিজ্ঞানীদের রহস্য আবিষ্কার!
  প্রচ্ছদ প্রতিবেদন : গুলশান ট্র্যাজেডি! কেন এই নৃশংসতা?
 





free counters



উপদেষ্টা সম্পাদক : আবদুল্লাহ আল-হারুন   |  সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ জিয়াউল হক   |  প্রধান সম্পাদক : আসিফ হাসান

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: দেওয়ান কমপ্লেক্স, ৬০/ই/১ (৭ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: +৮৮-০২-৯৫৬৬৯৮৭, ০১৯১৪ ৮৭৫৬৪০  |  ফ্যাক্স: +৮৮-০২-৯৫৬৬৩৯৮

ইমেইল: editor@weeklymanchitra.com, manchitra.bd@gmail.com
©  |  Amader Manchitra

Developed by   |  AminMehedi@gmail.com