আমাদের মানচিত্র  |  বর্ষ: ৪, সংখ্যা: ২৮     ঢাকা, বাংলাদেশ  |  আজ শুক্রবার, ২১ জুলাই ২০১৭  |  




আর্কাইভ সংখ্যা - বিএনপি’র দুর্বলতা ও রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা!

আর্কাইভ সংখ্যার প্রচ্ছদ



বর্ষ: ৪, সংখ্যা: ২৮
রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬




 
একনজরে এই সংখ্যা -

  সম্পাদকীয় : পবিত্র ঈদুল আজহা ও ত্যাগের পরীক্ষা
  প্রবাস : জন্ম ও মৃত্যু নিয়ে এলিজাবেথ কুবলার রস
  বিশেষ প্রতিবেদন : অর্থের জোরও ঠেকাতে পারেনি মীর কাসেম আলীর ফাঁসি
  ফিচার : রূপকথার এক প্রেমকাহিনী!
  অনুসন্ধান : পিলার চুরি ও বজ্রপাতে প্রাণহানির নেপথ্যে...
  পোস্টমর্টেম : ফারাক্কা নিয়ে নীতিশের প্রস্তাব ও প্রকৃতির প্রতিশোধ!
  স্মরণ : ঢাকায় থাকেন সিরাজ উদ-দৌলার বংশধর!
  ইনফোটেক : স্মার্ট কার্ড: যেভাবে পাবেন
  স্মৃতিচারণ : আঠারোটি বুলেট ও রক্তস্নাত বাংলাদেশ
  প্রতিবেদন : দুই জোটের অর্ধেক রাজনৈতিক দলেরই নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ নেই
  অর্থনীতি : গ্যাসের মূল্য: আবার বাড়ছে কার স্বার্থে?
  প্রচ্ছদ প্রতিবেদন : বিএনপি’র দুর্বলতা ও রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা!
  ধর্ম : জরথ্রুস্টঃ ইরানের প্রাচীন ধর্ম
  বিশেষ প্রতিবেদন : জঙ্গি দমনে সরকারের জিরো টলারেন্স!
  রাজনীতি : দুই ডজনেরও বেশি নেতা বিএনপিকে বিদায় জানাচ্ছেন!
  কলাম : জেলা, মহকুমা ও উপজেলার ইতিবৃত্ত
  দুর্নীতি প্রতিবেদন : মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রতারণা?
  চমক! : ফেরাউন ও মূসা
 



পোস্টমর্টেম পড়া হয়েছে ২১২ বার

ফারাক্কা নিয়ে নীতিশের প্রস্তাব ও

প্রকৃতির প্রতিশোধ!

স্মৃতিময় ভট্টাচার্য

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার গঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত বিতর্কিত ফারাক্কা বাঁধ পুরোপুরি সরিয়ে দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তা বোঝার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশের ওপর প্রভাব, গঙ্গার পানিপ্রবাহের উপাত্ত নিয়ে যৌথ নদী কমিশনকে একটি মূল্যায়নপত্র তৈরির নির্দেশ দিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। নীতিশ কুমারের বক্তব্যের বিষয়ে পরিবেশ বিশেষজ্ঞেরা উদ্ধৃত হয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে তাঁদের মতে, যেকোনো অভিন্ন নদীর প্রবাহ অবাধ হলে দুই দেশের জন্যই মঙ্গল।
স¤প্রতি দিলি­তে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ফারাক্কা নিয়ে নীতিশ কুমার যে প্রস্তাব দিয়েছেন, সেটিকে আপাতত গণমাধ্যমের প্রতিবেদন হিসেবে বিবেচনায় নিচ্ছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়েছে কি না, জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নেতিবাচক উত্তর দেন। জানতে চাইলে মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিষয়টিকে (ফারাক্কা নিয়ে নীতিশ কুমারের প্রস্তাব) সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নেবে। বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনা হবে। আমরা যৌথ নদী কমিশনকে (জেআরসি) এটার ওপর একটা অবস্থানপত্র তৈরির জন্য বলেছি। সেটি পাওয়ার পর আমরা আমাদের অবস্থান ঠিক করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।’ তবে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথমবারের মতো নীতিশ কুমারের মতো ভারতের একজন প্রভাবশালী রাজনীতিকের ফারাক্কা বাঁধ তুলে দেওয়ার দাবি অনেককে অবাক করেছে। তিনি এ বিষয়টি সামনে নিয়ে আসায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ফারাক্কার প্রভাব নিয়ে যা বলছে, সেটি আবার সামনে চলে এল। এখন বিষয়টি ভালোভাবে জেনে-বুঝে একটা অবস্থান ঠিক করে ভারতের সঙ্গে কথা বলার কথা বিবেচনায় নেওয়া যায়।
বিবিসি বাংলা, এনডিটিভিসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করেন। বৈঠকের আগে সংবাদমাধ্যমকে নীতিশ কুমার বলেন, ফারাক্কা বাঁধের কারণে গঙ্গায় বিপুল পরিমাণ পলি জমছে। আর এ কারণে প্রতিবছর বিহারে বন্যা হচ্ছে। এর একটা স্থায়ী সমাধান হলো ফারাক্কা বাঁধটাই তুলে দেওয়া। ভারতের ফারাক্কা বাঁধ নিয়ে বাংলাদেশের আপত্তি দীর্ঘদিনের।
এদিকে নীতিশ কুমার এ কথা বললেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার তা মানছে না। পশ্চিমবঙ্গের সেচ দপ্তর এ বিষয় নিয়ে শ্বেতপত্র ধাঁচের একটি ‘ডসিয়ের’ তৈরির কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। ফারাক্কা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বক্তব্য সেখানেই তুলে ধরা হবে। নীতিশের দাবি প্রসঙ্গে নদী বিশেষজ্ঞ কল্যাণ রুদ্র কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি একসময় ফারাক্কা বাঁধের সমালোচনা করেছি। কিন্তু ১৯৭৫ সাল থেকে বাঁধটি রয়েছে। এর ফলে ফারাক্কা থেকে মোহনা পর্যন্ত পরিবেশ বদলে গেছে। একধরনের ইকোলজি তৈরি হয়েছে। কোনোভাবে বাঁধ ভেঙে দেওয়া হলে তার মারাত্মক প্রভাব পড়বে পরিবেশের ওপর।’
ভারতের নদী বিশেষজ্ঞ কপিল ভট্টাচার্যের বাংলা দেশের নদ-নদী ও পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশের সাবেক মন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক নদী বিশেষজ্ঞ বি এম আব্বাসের লেখা ফারাক্কা ব্যারাজ ও বাংলাদেশ-এর তথ্য অনুযায়ী, কলকাতা বন্দরকে পলির বিপদ থেকে রক্ষা করে নাব্যতা বজায় রাখার কথা বলে পশ্চিমবঙ্গে ফারাক্কা বাঁধ নির্মিত হয়। বাংলাদেশ থেকে ১৮ মাইল উজানে গঙ্গা নদীতে ১৯৭০ সালে বাঁধটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। ১৯৭৫ সালের ২১ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পরীক্ষামূলকভাবে ভারত সরকার এটি চালু করে। এর পর তা আর বন্ধ হয়নি। এটি চালু হওয়ার পর ভাটির দিকে থাকা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়া শুরু হয়।
ভারত ১৯৭৫ সালের ২১ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ফারাক্কা থেকে ৩১০-৪৫০ কিউবিক মিটার/সেকেন্ড গঙ্গার প্রবাহ প্রত্যাহার করে, যা ১৯৭৬ সালের পুরো শুষ্ক মৌসুম অব্যাহত থাকে। এর উদ্দেশ্য হিসেবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার থেকে বলা হয়, কলকাতা বন্দরের নাব্যতা উন্নয়নে পলি ধুয়ে নিতে শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গা নদী থেকে পশ্চিমবঙ্গের ভাগীরথী-হুগলী নদীতে ১১৩০ কিউবিক মিটারের বেশি পানি পৌঁছে দেওয়া।
ভারত ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে গঙ্গা থেকে পানি প্রত্যাহার অব্যাহত রাখায় ১৯৭৬ সালের ২৬ নভেম্বর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জাতিসংঘে তা উত্থাপন করা হয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এ বিষয়ে একটি সর্বসম্মত বিবৃতি গৃহীত হয়। যাতে ভারতকে সমস্যার একটি ন্যায্য ও দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনায় বসার নির্দেশ দেওয়া হয়। ১৯৭৭ সালের ৫ নভেম্বর দুই দেশ শুষ্ক মৌসুমে পানিবণ্টনের ওপর পাঁচ বছর মেয়াদি (১৯৭৮-৮২) একটি চুক্তি সই করে। ১৯৮২ সালের অক্টোবর মাসে দুই দেশের মধ্যে ১৯৮৩ ও ৮৪ সালের জন্য গঙ্গার পানিবণ্টন-সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। ১৯৮৫ সালের নভেম্বর মাসে ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৮ এই তিন বছরের জন্য পানিবণ্টনের ওপর আরেকটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারত গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি সই করে। ফারাক্কা-উত্তর আমলে গঙ্গার প্রবাহ-সংকট নৌপরিবহন খাতকেও আঘাত হেনেছে। এখন শুষ্ক মৌসুমে ৩২০ কিলোমিটারের বেশি প্রধান ও মধ্যম নৌপথ বন্ধ রাখতে হয়। ফারাক্কা বাঁধের ফলে গঙ্গানির্ভর এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানি অধিকাংশ স্থানে ৩ মিটারের বেশি নেমে গেছে।


ফারাক্কা ব্যারাজে গঙ্গার প্রতিশোধ?
শেখ রোকন: আমরা নানা সময়ে যতটা সহজে ‘প্রকৃতির প্রতিশোধ’ কথাটি বলে থাকি, তার সার্থক প্রয়োগ দেখানো ততটা বোধহয় সহজ নয়। কিন্তু বিস্ময়করভাবে এটা ফলে যাচ্ছে বাংলাদেশ-ভারতের অভিন্ন নদী গঙ্গার উজানে নির্মিত ফারাক্কা ব্যারাজের ক্ষেত্রে, খানিকটা বিলম্বে হলেও। স¤প্রতি নয়াদিলি­তে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার ফারাক্কা বাঁধ পুরোপুরি অপসারণ, সোজা কথায় ভেঙে ফেলার যে দাবি জানিয়েছেন, তার কথা বলছি না।
ষাট ও সত্তরের দশক ধরে ব্যারাজটি নির্মিত হয়েছিল স্পষ্টতই ভাটির অঞ্চল, পরবর্তীকালে স্বাধীন বাংলাদেশের ন্যায়সঙ্গত অধিকার খর্ব করে। অথচ প্রতিবেশগত দিক থেকে বিবেচনা করলে এভাবে প্রবহমান নদীতে আড়াআড়ি ব্যারাজ দেওয়া প্রাণ ও প্রকৃতির প্রতি বহুমাত্রিক অপরাধ ছাড়া কিছু নয়। আর যদি সেটা হয় অভিন্ন নদী, এর সঙ্গে ভাটির দেশের অধিকারের প্রশ্নটিও গায়ের জোরে অগ্রাহ্য করা হয়। যেভাবে চার দশক ধরে ফারাক্কা ব্যারাজ পরিচালিত হয়ে আসছে, তাও মহাকাব্যিক। আমাদের মনে আছে, মাত্র কয়েক সপ্তাহের জন্য ‘পরীক্ষামূলকভাবে’ চালু করার অনাপত্তি ‘আদায়’ করা হয়েছিল ঢাকার কাছ থেকে। তারপর সেই পরীক্ষামূলক সময়সীমা আর শেষ হয়নি। গত চার দশকে উজানের গঙ্গায় বরং আরও হাফ ডজনের বেশি বাঁধ ও ব্যারাজ নির্মিত হয়েছে। ১৯৯৬ সালে যে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়েও সীমান্তের এপাশের অসন্তোষ বহুল আলোচিত।
চার দশকের পরিক্রমায় ফারাক্কা পয়েন্ট থেকে গঙ্গার ভাটি বা বাংলাদেশ অংশ যে ভালো নেই, তা খালি চোখেই ধরা পড়ে। পানিশূন্যতা, ভাঙন জাগানিয়া চর, মৎস্যসম্পদহীনতা, ভূগর্ভস্থ পানির নিম্নগতি, শাখা নদীগুলোর দুরবস্থা, সেচ ব্যবস্থায় ধস, আরও ভাটিতে সুন্দরবনে মিঠাপানির সংকট, লবণাক্ততার বাড়াবাড়ি- গঙ্গা অববাহিকার বাংলাদেশ অংশ ভালো নেই। উজানের অংশও যে ভালো নেই, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের প্রতিক্রিয়া কিংবা প্রস্তাব তার প্রমাণ। গত চার দশকে ফারাক্কা রেখেই কীভাবে দুই দেশ গঙ্গার সুফল পেতে পারে, তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা, সমালোচনা, এমনকি সমঝোতাতেও প্রত্যাশিত ফল মেলেনি। এখন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী প্রস্তাব দিলেন, আর নয়াদিল্লি ফারাক্কা অপসারণের ব্যাপারে চিন্তাভাবনা শুরু করল- এমনটি ভাবলে বোকার স্বর্গে বাস করা হবে।
এমন পরিস্থিতি দেখেই কি-না জানি না, উজান-ভাটি মিলিয়ে ভালো না থাকা গঙ্গা নিজেই ‘বিকল্প’ পথ বের করে নিচ্ছে। হালে তিস্তা ইস্যুতে দুই বাংলাতেই ব্যাপক পরিচিতি পাওয়া নদী বিশেষজ্ঞ কল্যাণ রুদ্র সেই নব্বইয়ের দশক থেকেই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আসছেন যে ফারাক্কা ব্যারাজ অকেজো হয়ে পড়তে পারে। এ নিয়ে তার তথ্যসমৃদ্ধ অথচ সুখপাঠ্য একটি বই রয়েছে- গঙ্গা ভাঙন কথা। ওই বইয়ে তো বটেই, কল্যাণ রুদ্র এবং আরও অনেকের সমীক্ষাতেই ফারাক্কার বিবর্ণ ভবিষ্যতের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি পরিষ্কার। মাঝে-মধ্যে তা সংবাদমাধ্যমেরও উপজীব্য হয়ে ওঠে। দেখা যাচ্ছে, প্রমত্ত গঙ্গার বুকে আজদাহা স্থাপনা তৈরির কারণে উজানে অস্বাভাবিক উচ্চতায় পানি জমছে। প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালের জুন মাসে ট্রেনে করে ফারাক্কা পার হওয়ার সময় বেদনার সঙ্গে দেখেছিলাম, উজানে টইটম্বুর পানি, জমে থাকতে থাকতে নীলচে হয়ে গেছে। এদিকে ভাটিতে হাড্ডিসার নদীতে চরাঞ্চল আর ঘোলা জলের মাখামাখি।
এ পর্যন্ত ঠিক থাকলেও ভারতের দিক থেকে চিন্তা ছিল না। মুশকিল হচ্ছে, গঙ্গা বিশ্বের অন্যতম প্রধান পলিবাহী নদী। এক হিসাবে দেখা গেছে, বছরে কমবেশি সাতশ মিলিয়ন টন পলি বহন করে। এখন ফারাক্কার কারণে উজানের স্রোত মন্থর হয়ে পড়ায়, ভাটিতে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত সেই স্রোত স্বাভাবিক গতিতে অব্যাহত না থাকায়; তার তিনশ মিলিয়ন টনই ফারাক্কার উজানে জমা হচ্ছে তলানি হিসেবে। উচ্চতা বাড়ছে গঙ্গাবক্ষের। ওদিকে গঙ্গা থেকে পানি টেনে নেওয়ার মাধ্যম ভাগীরথী নদীবক্ষের উচ্চতাও বাড়ছে। আগের মতো সহজে ভাগীরথীতে পানি প্রবেশ করানো যাচ্ছে না।
ফারাক্কার উজানে গঙ্গার এমন পরিস্থিতির অনিবার্য ফল প্রবল ভাঙন। মালদহ-মুর্শিদাবাদ এলাকায় মাইলকে মাইল চলে যাচ্ছে গঙ্গার গর্ভে। সেই ভাঙন এখন বিহারেও যে সম্প্রসারিত হয়েছে, তার প্রমাণ নীতিশের প্রতিবাদ। বিপদ কেবল ভূমি ও ভূমিপুত্রদের নিঃস্ব হওয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। গঙ্গা ভাঙতে ভাঙতে তার সমান্তরালে প্রবাহিত পাগলা নদীর কাছাকাছি চলে গেছে। ২০০৫ সালে আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করে জানানো হয়েছিল, ফারাক্কার উজানে দুই নদীর ব্যবধান এক কিলোমিটারে ঠেকেছে। গত জুন মাসে কল্যাণ রুদ্রের একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। সেখানেও তিনি বলেছিলেন, গঙ্গা-পাগলার মিলনের আশঙ্কা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের নথিতেই ব্যক্ত হয়েছিল, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের শাসনামলে। সেই মিলন ঠেকাতে ভারত যদিও বিপুল অর্থ ব্যয় করছে, ব্যবধান আরও কমছে বৈ বাড়ছে না। বস্তুত মাতৃনদী গঙ্গা কারও শাসন সহজে মানার কথা নয়। আশঙ্কা, ভাগীরথীতে ঠেলে দেওয়া গঙ্গার মূল স্রোত ফারাক্কা এড়িয়ে পাগলা-মহানন্দা হয়ে অর্ধশতকের বন্দিদশা কাটিয়ে ফের প্রাকৃতিক পথে বা রাজশাহীর পাশ দিয়ে প্রবাহিত গঙ্গায় ফিরতে পারে। হাজার বছরের ইতিহাসে গঙ্গা কয়েকবার গতিপথ বদল করেছে। স্মর্তব্য, গঙ্গার আরেক নাম কীর্তিনাশা। ফারাক্কার অপকীর্তি ঝেড়ে ফেলে নামের সার্থকতা আরেকবার প্রমাণ করতেই পারে। এটাকেই বলতে চাইছি ‘প্রকৃতির প্রতিশোধ’। আরও ভেঙে বললে, ফারাক্কা ব্যারাজে গঙ্গার প্রতিশোধ।


ভারতের জন্য উপযুক্ত শিক্ষা
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান: গঙ্গা নদীর ওপর চার দশক ধরে চেপে বসা ফারাক্কা ব্যারাজ ভেঙে ফেলার দাবি খোদ ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের কাছ থেকেই ওঠার খবর চাঞ্চল্যকর হলেও আমি খুব বিস্মিত হইনি। কারণ এটাই স্বাভাবিক। আজ হোক, কাল হোক নদী মেরে ফেলার এই দৈত্যকায় আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। প্রথমে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের পর বিবিসির মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমগুলো স্বভাবতই এই খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে। কলকাতা থেকে প্রকাশিত আনন্দবাজার পত্রিকায় বুধবার এ বিষয়ে যে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে সেখানে বলা হয়েছে, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করেছেন। সেখানে তিনি যথার্থই বলেছেন, বিহারের গঙ্গা অববাহিকায় প্রায় প্রতি বছর বন্যা ও বন্যাকবলিত এলাকা সম্প্রসারিত হওয়ার জন্য ফারাক্কা ব্যারাজই দায়ী। এই ব্যারাজের কারণেই গঙ্গার পলি সমুদ্রের দিকে অপসারিত হচ্ছে না। ফলে গভীরতা কমছে এবং অল্পতেই দুকূল ছাপিয়ে যাচ্ছে।
বিষয়টিকে যদি বাংলাদেশ থেকে দেখি- প্রথমত, সরাসরি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে ফারাক্কা ব্যারাজ সরিয়ে ফেলার দাবি দেশটির ‘ড্যাম-হ্যাপি’ কর্তৃপক্ষের জন্য একটি উপযুক্ত শিক্ষা। সত্তরের দশকে এই ব্যারাজ যখন চালু করা হয়েছিল, তখন বাংলাদেশের দিক থেকে আপত্তি তুলে এসব কথাই বলা হয়েছিল। বলা হয়েছিল যে, ফারাক্কা দীর্ঘমেয়াদে কেবল বাংলাদেশের নয়, ভারতেও বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করবে। কিন্তু তারা তখন সেটা কানে তোলেনি। দাবিটি একটি প্রদেশের শীর্ষ স্থানীয় রাজনীতিকদের কাছ থেকে উঠলেও কারিগরিভাবে এটাকে বলা যেতে পারে ‘নির্মাণ-পরবর্তী বিরূপ প্রভাব নিরূপণ’। ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণের চার দশক পর গবেষণা করে নয়, খালি চোখেই দেখা যাচ্ছে যে তারা কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। মনে রাখতে হবে, পরিবেশগত প্রভাবের প্রশ্নেই মণিপুরের টিপাইমুখ ড্যাম প্রকল্প আটকে রয়েছে। তবে সেখানে করা হয়েছে ‘পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ’ বা ইআইএ। ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণের আগেও যদি সুষ্ঠু ইআইএ করা হতো এবং তা মেনে চলা হতো, তাহলে এই নদী মেরে ফেলা এই স্থাপনা নির্মিতই হতে পারত না। বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর যৌক্তিক দাবির মধ্য দিয়ে বিলম্বে হলেও প্রমাণ হলো যে, ব্যারাজটির পরিবেশগত কুপ্রভাব কতটা ভয়ানক এবং তারা এখন বুঝতে পারছেন। দ্বিতীয়ত, ফারাক্কা ব্যারাজের বিরুদ্ধে খোদ ভারত থেকেই অভিযোগ যে বিহারের মুখ্যমন্ত্রীই প্রথম তুললেন, এমন নয়। অনেকের মনে থাকার কথা, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পশ্চিমবঙ্গের নয়জন নাগরিক সে দেশের ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলেন। তাদের মধ্যে পরিবেশকর্মী ও মৎস্যজীবীও রয়েছেন। তাদের অভিযোগ, ফারাক্কা ব্যারাজ ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ক্ষতি করছে। এর প্রভাব পড়ছে জনজীবনে। বস্তুত এমন অভিযোগ ফারাক্কা ব্যারাজ যে দুই জেলায় অবস্থিত সেই মালদহ ও মুর্শিদাবাদের সাধারণ মানুষের কাছে গেলেও পাওয়া যাবে। ওই অঞ্চলের ব্যারাজের প্রভাবে নদীভাঙন বেড়ে গেছে; তার জের ধরে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে ও জীবিকা হারাচ্ছে। ব্যারাজের ভাটিতে বাংলাদেশ অংশের পরিস্থিতি আরও গুরুতর, বলা বাহুল্য। এর প্রভাবে গঙ্গা নদীর বাংলাদেশ অংশে নৌপরিবহন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে, ভাঙন বেড়েছে। নদীতে চর পড়েছে, মৎস্যসম্পদ বিনষ্ট হয়েছে, ভূগর্ভস্থ পানিস্তর নিচে নেমে গিয়েছে। প্রবাহশূন্যতার প্রভাব পড়েছে গঙ্গার শাখা নদীগুলোতে। গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প অকার্যকর তো বটেই, আরও ক্ষুদ্র ও অনানুষ্ঠানিক সেচ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে। প্রবাহ স্বল্পতা ও শূন্যতার কারণে সুন্দরবন প্রয়োজনীয় মিঠা পানি পাচ্ছে না। লবণাক্ততার প্রভাব বাড়ছে। প্রসঙ্গত, ভারতের দিক থেকে কেউ কেউ বলার চেষ্টা করেন যে বাংলাদেশ থেকে নদী খাত ধরে বঙ্গোপসাগরে যাওয়া পানি আসলে ‘অপচয়’ হচ্ছে। অথচ এটা সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক ধারণা। কারণ নদীপ্রবাহের কারণেই বাংলাদেশের কৃষি, নৌ পরিবহন, মৎস্যসম্পদ, সেচ ব্যবস্থা ঠিক থাকছে, লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণে থাকছে, ব-দ্বীপ সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে। পানির তথাকথিত ‘অপচয় রোধে ফারাক্কার মতো ব্যারাজ তৈরি গোটা বাংলাদেশকেই অপচয়ের অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়। এসব কথা আমরা বছরের পর বছর বলে গেছি; এখন ভারত থেকেও অভিযোগ ওঠা শুরু হয়েছে। তৃতীয়ত, ফারাক্কা ব্যারাজের উপকারিতা কী? নির্মাণের সময় বলা হয়েছিল যে এর মূল উদ্দেশ্য ভাগীরথী বা হুগলিতে প্রবাহ বৃদ্ধি করে কলকাতা বন্দর সচল রাখা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফারাক্কা ব্যারাজ কলকাতা বন্দরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রবাহ সরবরাহ করতে পারেনি। কল্যাণ রুদ্রের একটি গবেষণাতেই দেখা গেছে যে, ভাগীরথী নদী ক্রমশ নাব্যতা হারিয়েই চলছে। আমরা এখান থেকেই দেখতে পাচ্ছি, শেষ পর্যন্ত কলকাতা বন্দর আরও ভাটিতে হলদিয়ায় স্থানান্তর করতে হয়েছে। এর মধ্যে একটি সান্ত্বনা হতে পারত, ব্যারাজটি দিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হলে। কিন্তু বন্যা নিয়ন্ত্রণেও কাজে আসছে না।
বরং বন্যার প্রকোপ বাড়িয়ে তুলেছে। আগে পশ্চিমবঙ্গে বন্যা ঘটাত, এখন সেটা বিহার পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। আর ভাঙন যে বাড়িয়ে চলছে, সেটা আগেই বলেছি। গঙ্গা নদীর চরিত্রই হচ্ছে বিপুল পলি বা সিল্ট উৎপন্ন করা। যে কারণে বলা হয় ‘গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ’। ফারাক্কা ব্যারাজ হাজার বছরের সেই প্রাকৃতিক পলি ব্যবস্থাপনাও বিনষ্ট করে দিয়েছে। এখন এর ভাটিতে যেমন, তেমনই উজানেও ভরাট হচ্ছে, চর পড়েছে। গঙ্গার পলি বঙ্গোপসাগরে গিয়ে নতুন ভূমি গঠনে যে অবদান রাখত, তা এখন বন্ধ হয়েছে। তার মানে, ফারাক্কা ব্যারাজ কোনোই কাজে আসছে না। না বন্দর নাব্য রাখতে পেরেছে; না সেচের কাজে আসছে; না বন্যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে; না পলি ব্যবস্থাপনা করতে পারছে। বরং বাড়িয়ে তুলছে ভরাট প্রক্রিয়া, বন্যা, ভাঙন, লবণাক্ততা, ভূগর্ভস্থ পানিস্তরের ভারসাম্যহীনতা।
চতুর্থত, কেবল আর্থ-সামাজিক, পরিবেশ, প্রতিবেশগত সংকট নয়, ফারাক্কা ব্যারাজের কারণেই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাভাবিক প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক বিঘ্নিত হচ্ছে। এ নিয়ে সীমান্তের দুই পাশেই রাজনীতি হচ্ছে; ফারাক্কার কারণে অন্যান্য অমীমাংসিত ইস্যু চাপা পড়ে যাচ্ছে। ফারাক্কা হয়ে উঠছে বৃহৎ রাষ্ট্র ভারতের দিক থেকে ছোট রাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রতি অবিচারের প্রতীক। একই সঙ্গে খবর বের হয়েছে, বিহারের বন্যা সামাল দেওয়ার জন্য ফারাক্কার সবগুলো গেট খুলে দেওয়া হবে। ফলে আমাদের দেশে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্য দিয়েই প্রমাণ হয় না যে, ভাটির দেশ বাংলাদেশের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে উজানের ভারতের কিছু যায় আসে না! তারা যখন খুশি গেট বন্ধ করে দিচ্ছে, যখন খুশি খুলে দিচ্ছে। পঞ্চমত, বাংলাদেশ কী করতে পারে। আমাদের কেউ কেউ যদিও বলছেন যে, ফারাক্কার সব গেট খুলে দিলে বন্যা হবে না, সেটাতে আমি খুব ভরসা পাই না। আর ভাঙন তো বাড়তেই পারে। বড় কথা হচ্ছে, যখন খুশি পানি আটকিয়ে, যখন খুশি ছেড়ে দেওয়া কোনো যৌক্তিক অবস্থান হতে পারে না। এ ব্যাপারে ঢাকার উচিত জোরের সঙ্গে কথা বলা। আর যে বিষয়টি আমাদের অবশ্যই করা উচিত, তা হচ্ছে জাতিসংঘ পানিপ্রবাহ সনদ ১৯৯৭ অনুসমর্থন করা। ভারত তো ওই সনদের সঙ্গে একমতই ছিল না। সৌভাগ্যবশত বাংলাদেশ তা স্বাক্ষর করেছে; কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সংসদে উত্থাপন করে অনুসমর্থন বা রেটিফাই করছে না। প্রয়োজনীয় ৩৫টি দেশ অনুসমর্থন করায় দলিলটি ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে। আমরা যদি অনুসমর্থন করি, তাহলে ফারাক্কা কেবল নয়, অভিন্ন যে কোনো নদীর পানি ব্যবস্থাপনার প্রশ্নে জোরের সঙ্গে অবস্থান নিতে পারব। ওই দলিলে বলা হয়েছে, যদি অভিন্ন নদীর প্রশ্নে দুই দেশ একমত হতে না পারে, তাহলে যে কোনো পক্ষে জাতিসংঘ যেতে পারবে এবং সেখান থেকে তৃতীয় কাউকে মীমাংসার জন্য নিযুক্ত করা যাবে। বড় কথা, এই দলিলে নদীর প্রতিবেশ ও পরিবেশ সুরক্ষিত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় প্রবাহ নদীতে রাখার কথা বলা হয়েছে। ষষ্ঠত, এই পরিস্থিতিতে ভারতের দিক থেকে কী করার রয়েছে? আমরা এতদিন বলেছি, গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যার কথা। ফারাক্কা ব্যারাজ থেকে পর্যাপ্ত পানি ছাড়া হলে নদীটি বেঁচে থাকত, বাংলাদেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশও সুরক্ষিত থাকত। আর্থ-সামাজিক বিপর্যয়ও হতো না। ভারতে ফারাক্কা ব্যারাজ দিয়ে সাময়িক উপকার হলেও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি হয়েছে। সেই ক্ষতি ক্রমে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যত দিন যাবে, তত বিপর্যয় আরও গভীর ও সম্প্রসারিত হতে থাকবে। আনন্দবাজারের সংবাদ, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার বিষয়টি মূল্যায়নের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর দাবি জানালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তা নীতিগতভাবে মেনে নিয়েছেন। আমি মনে করি, ভারতের উচিত হবে বাস্তবতা মেনে নিয়ে, বিলম্বে হলেও ভুল শোধরানোর জন্য ফারাক্কা ব্যারাজ সরিয়ে ফেলা বা ‘ডিকমিশন’ করা। তাতে করে বাংলাদেশ তো উপকৃত হবেই, ভারতও উপকৃত হবে। বাংলাদেশ-ভারত ‘বন্ধুত্বের- সেটাই হবে উৎকৃষ্ট নিদর্শন।
শেষ করার আগে আরেকটি কথা বলতে চাই। ফারাক্কা ব্যারাজ যখন নির্মিত হয়, তখন এর ‘সুফল’ তুলে ধরার মতো ‘বিশেষজ্ঞ’ কম ছিল না। এখন সময় এসেছে, এমন বিপর্যয়কর ও অপচয়মূলক একটি প্রকল্পের জন্য ভারতের দিক থেকেই তাদের জবাবদিহি করা।


 
এ পর্যন্ত সর্বাধিক পঠিত

  ইনফোটেক : ইন্টারনেট নিয়ে গ্রাহক প্রতারণা!
  অনুসন্ধান : কয়টি সিম রাখা যাবে?
  পোস্টমর্টেম : নকল ডিমে রাজধানী সয়লাব
  অর্থনীতি : মূল বেতন দ্বিগুণ করার সুপারিশজাতীয় বেতন কমিশনের রিপোর্টে যা আছে
  সাহিত্য : নাথ সাহিত্যের স্বরূপ
  প্রবাস : চিতোর, ইতিহাসের তিন নারী
  বিশেষ প্রতিবেদন : ক্যাপ্টাগন: জঙ্গিদের টেরোরিস্ট ড্রাগ!
  সমকালীন : বাংলাদেশ নিয়ে চীন-ভারত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও কূটনীতির দৃষ্টিতে মোদীর ঢাকা সফর
  আন্তর্জাতিক : যেভাবে যৌনদাসীদের ভোগ করছে আইএস জঙ্গিরা
  সাহিত্য : শিরোমণি আলাওল
  আন্তর্জাতিক : ভয়ঙ্কর আইএস-এর উত্থান ও নৃশংসতা!
  প্রশাসন : চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল হচ্ছে!
  সাহিত্য : মগের মুল্লুকে বাংলা সাহিত্যের বিকাশ
  চমক! : জমজমের পানি নিয়ে জাপানী বিজ্ঞানীদের রহস্য আবিষ্কার!
  প্রচ্ছদ প্রতিবেদন : গুলশান ট্র্যাজেডি! কেন এই নৃশংসতা?
 





free counters



উপদেষ্টা সম্পাদক : আবদুল্লাহ আল-হারুন   |  সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ জিয়াউল হক   |  প্রধান সম্পাদক : আসিফ হাসান

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: দেওয়ান কমপ্লেক্স, ৬০/ই/১ (৭ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: +৮৮-০২-৯৫৬৬৯৮৭, ০১৯১৪ ৮৭৫৬৪০  |  ফ্যাক্স: +৮৮-০২-৯৫৬৬৩৯৮

ইমেইল: editor@weeklymanchitra.com, manchitra.bd@gmail.com
©  |  Amader Manchitra

Developed by   |  AminMehedi@gmail.com