আমাদের মানচিত্র  |  বর্ষ: ৪, সংখ্যা: ২৮     ঢাকা, বাংলাদেশ  |  আজ বূধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭  |  




আর্কাইভ সংখ্যা - বিএনপি’র দুর্বলতা ও রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা!

আর্কাইভ সংখ্যার প্রচ্ছদ



বর্ষ: ৪, সংখ্যা: ২৮
রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬




 
একনজরে এই সংখ্যা -

  সম্পাদকীয় : পবিত্র ঈদুল আজহা ও ত্যাগের পরীক্ষা
  প্রবাস : জন্ম ও মৃত্যু নিয়ে এলিজাবেথ কুবলার রস
  বিশেষ প্রতিবেদন : অর্থের জোরও ঠেকাতে পারেনি মীর কাসেম আলীর ফাঁসি
  ফিচার : রূপকথার এক প্রেমকাহিনী!
  অনুসন্ধান : পিলার চুরি ও বজ্রপাতে প্রাণহানির নেপথ্যে...
  পোস্টমর্টেম : ফারাক্কা নিয়ে নীতিশের প্রস্তাব ও প্রকৃতির প্রতিশোধ!
  স্মরণ : ঢাকায় থাকেন সিরাজ উদ-দৌলার বংশধর!
  ইনফোটেক : স্মার্ট কার্ড: যেভাবে পাবেন
  স্মৃতিচারণ : আঠারোটি বুলেট ও রক্তস্নাত বাংলাদেশ
  প্রতিবেদন : দুই জোটের অর্ধেক রাজনৈতিক দলেরই নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ নেই
  অর্থনীতি : গ্যাসের মূল্য: আবার বাড়ছে কার স্বার্থে?
  প্রচ্ছদ প্রতিবেদন : বিএনপি’র দুর্বলতা ও রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা!
  ধর্ম : জরথ্রুস্টঃ ইরানের প্রাচীন ধর্ম
  বিশেষ প্রতিবেদন : জঙ্গি দমনে সরকারের জিরো টলারেন্স!
  রাজনীতি : দুই ডজনেরও বেশি নেতা বিএনপিকে বিদায় জানাচ্ছেন!
  কলাম : জেলা, মহকুমা ও উপজেলার ইতিবৃত্ত
  দুর্নীতি প্রতিবেদন : মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রতারণা?
  চমক! : ফেরাউন ও মূসা
 



স্মরণ পড়া হয়েছে ২৮৮ বার

ঢাকায় থাকেন সিরাজ উদ-দৌলার বংশধর!

মৃণাল দেবনাথ

ঢাকা শহরের একটি ছোট্ট ফ্ল্যাটে থাকেন নবাব সিরাজ উদ-দৌলার নবম বংশধর। বর্তমানে তারা ঢাকা শহরের খিলক্ষেত এলাকার লেকসিটি কনকর্ড-এর বৈকালী টাওয়ারে বসবাস করছেন। লোকচক্ষুর আড়ালে নীরবে নিভৃতে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাবের বংশধররা বসবাস করলেও এ খবর অনেকেই জানেন না।
ইরান থেকে আসার পর ১৭৪০ সালে ৬৬ বছর বয়সে বাংলার নবাব হন আলিবর্দী খাঁন। নবাব সিরাজ উদ-দৌলা ছিলেন আলিবর্দি খাঁন-এর খুবই আদরের নাতি। নবাব সিরাজ উদ-দৌলার জন্ম হয় ১৭৩৩ সালের ২ জুলাই। কারো মতে ১৭২৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর। নবাবের মৃত্যু হয় ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২ জুলাই।
১৭৫৬ সালে সিরাজ উদ-দৌলা বাংলার মসনদে বসেন। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর প্রান্তরে সিরাজের পরাজয় এবং ২ জুলাই ঘাতকের হাতে তার প্রাণ হারানোর মধ্য দিয়ে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়ে যায় বহুকালের জন্য। ১৭৫৭ সালের ২ জুলাই বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ উদ-দৌলাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।
সিরাজের বাবা আবুল হাশেম মুহম্মদ যয়েনউদ্দিন খাঁন ছিলেন বিহারের নবাব ও আলীবর্দি খাঁর বড় ভাই, হাজী আহমেদের ছেলে। সিরাজের মা, আমিনা বেগম ছিলেন নবাব আলীবর্দি খাঁর ছোট মেয়ে। যেহেতু আলীবর্দি খাঁর কোনো ছেলে ছিল না, সেহেতু সিরাজকে নবাব অনেক ভালোবাসতেন। সিরাজের বাল্যকাল থেকেই তাকে মুর্শিদাবাদের উত্তরসূরী হিসেবে দেখা হতো।
ভবিষ্যতের নবাব হিসেবে সিরাজকে নবাবের দুর্গে সব সুযোগ সুবিধা এবং শিক্ষা দেওয়া হয়। ১৭৪৬ সালে সিরাজ তার নানা আলীবর্দিকে, মিরাথাস্দের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সাহায্য করেন। ১৭৫২ সালে, ১৯ বছর বয়সী সিরাজকে তার নানা আলীবর্দি উত্তরসূরী (আলীবর্দির রাজ্যের নবাব) হিসেবে ঘোষিত করেন এবং তার রক্তের অন্য কাউকে তার কোনো সম্পত্তির মালিক করেননি। সিরাজ উদ-দৌলার প্রকৃত নাম মীর্জা মুহম্মদ আলী। সিরাজ উদ-দৌলার আরেক নাম ছিল ‘ঝরৎ জড়মবৎ উড়ষিষবঃ’ বা ‘স্যার রজার দৌলেত’ কারণ, অনেক ইংরেজ তার নাম উচ্চারণ করতে পারতেন না।
ঢাকার সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে বাধা হয়ে আছে নবাব পরিবারের দুর্দিন, দুঃসময়ের জীবন। সিরাজ উদ-দৌলার মৃত্যুর পর তার প্রিয়তমা স্ত্রী লুৎফুননিসা একমাত্র শিশু কন্যা উম্মে জোহরা, নানা আলীবর্দী খাঁনের স্ত্রী আশরাফুন্নেসাসহ নবাব পরিবারের নারীদের ৮ বছর বন্দি করে রাখা হয়েছিল বুড়িগঙ্গা পাড়ের জিঞ্জিরা এলাকার একটি প্রাসাদে। স্থানীয় লোকজন ওই জরাজীর্ণ প্রাসাদটিকে এখনও জানে ‘নাগরা’ নামে।
বর্তমানে ঢাকা শহরে বসবাসকারী নবাবের নবম বংশধরদের একজন সৈয়দ গোলাম আব্বাস আরেব। তিনি একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক। বর্তমানে ড. ফজলুল হক সম্পাদিত সাপ্তাহিক পলাশী পত্রিকার সহ-সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। তার বাবা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ গোলাম মোস্তাফা। তিনি নবাব সিরাজ উদ-দৌলার ৮ম বংশধর। তার প্রয়াত স্ত্রী সৈয়দা হোসনেআরা বেগম ছিলেন নবাবের স্ত্রী লুৎফুননিসার রক্তের উত্তরাধিকারী। খিলক্ষেতের ওই বাসাতেই দুই ছেলে গোলাম আব্বাস আরেব, ইমু ও দুই মেয়ে মাসুমা ও মুনমুনকে নিয়ে তিনি থাকেন।
কীভাবে তারা নবাব সিরাজ উদ-দৌলার বংশধর? বংশতালিকার সে হিসাব দিলেন গোলাম আব্বাস আরেব। ইরান থেকে ভাগ্য অন্বেষণে বাংলায় আসা নবাব আলীবর্দী খানের কোনো ছেলে সন্তান ছিল না। তার ছিল ৩ কন্যা। ঘসেটি বেগম, ময়মুনা বেগম ও আমেনা বেগম। আলীবর্দী খানের বড় ভাই হাজী মির্জা আহমেদের ছিল ৩ পুত্র। মুহাম্মদ রেজা, মুহাম্মদ সাঈদ ও মুহাম্মদ জয়েনউদ্দিন। আলীবর্দী খানের ৩ কন্যাকে বিয়ে দেন তার ভাই হাজী আহমেদের ৩ পুত্রের সঙ্গে। মুহাম্মদ রেজার সঙ্গে বিয়ে দেন ঘসেটি বেগমের। মুহাম্মদ সাঈদের সঙ্গে ময়মুনা বেগমের এবং আমেনা বেগমের বিয়ে দেন জয়েনউদ্দিনের সঙ্গে। জয়েনউদ্দিন ও আমেনা বেগমের ৩ ছেলে ও ২ মেয়ে। তাদের বড় সন্তান নবাব সিরাজ উদ-দৌলা, অপর ২ ছেলে হলেন একরামউদদৌলা ও মির্জা মেহেদি। ২ কন্যা আসমাতুন নেসা ও খায়রুন নেসা।
নবাব সিরাজ উদ-দৌলা বিয়ে করেন ইরাজ খানের কন্যা লুৎফুননিসাকে। ইরাজ খানের পূর্বপুরুষরা ছিলেন মোঘল দরবারের কর্মকর্তা। সিরাজ উদ-দৌলার একমাত্র কন্যা উম্মে জহুরা বেগম। সিরাজ উদ-দৌলার যখন মৃত্যু হয় তখন উম্মে জহুরা শিশু। সিরাজ কন্যা জহুরা বেগমের বিয়ে হয় সিরাজের ভাই একরামউদদৌলার পুত্র মুরাদউদদৌলার সঙ্গে। তাদের একমাত্র পুত্র শমসের আলী। তার পুত্র সৈয়দ লুৎফে আলী। তার কোনো ছেলে সন্তান ছিল না। তার একমাত্র কন্যা ফাতেমা বেগম। ফাতেমা বেগমের ২ কন্যা হাসমত আরা বেগম ও লুৎফুননিসা বেগম। লুৎফুননিসা নিঃসন্তান। হাসমত আরার ছেলে সৈয়দ জাকির রেজা। তার ছেলে সৈয়দ গোলাম মর্তুজা। সৈয়দ গোলাম মর্তুজার ছেলে এই সৈয়দ গোলাম মোস্তফা।
২৩ জুন পলাশীর প্রান্তরে পরাজয়ের পর ২৫ জুন নবাব সিরাজ উদ-দৌলা স্ত্রী লুৎফুননিসা ও শিশুকন্যা জহুরা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে আবার সৈন্য সংগ্রহ করে বাংলা উদ্ধার করতে বিহারের উদ্দেশে যাত্রা করেন। পথিমধ্যে ভগবানগোলায় ক্ষুধার্ত নবাব পরিবার দানা শাহ নামের এক লোকের বাড়িতে খাদ্য গ্রহণকালে ওই ব্যক্তি মুর্শিদাবাদে খবর দিয়ে ধরিয়ে দেন নবাব সিরাজ উদ-দৌলাকে। সেখানে গিয়ে মীর জাফরের ছেলে মিরন গ্রেপ্তার করে মুর্শিদাবাদে নিয়ে যান নবাবকে। বন্দি অবস্থায় ২ জুলাই মোহাম্মদী বেগ হত্যা করে নবাবকে।
নবাবকে হত্যার পর তার স্ত্রী শিশুকন্যাসহ নানা আলীবর্দী খাঁর স্ত্রী আশরাফুন নেসাকে নৌকায় করে ভাগীরথীর তীর থেকে বুড়িগঙ্গার পাড়ে জিঞ্জিরার একটি প্রাসাদে আটকে রাখা হয় ৮ বছর। সেখান থেকে আবার তাদের মুর্শিদাবাদে নিয়ে মুক্ত করা হয়। নবাব সিরাজ উদ-দৌলার মৃত্যুর পর থেকে তার ৫ম বংশধর পর্যন্ত কাউকে সরকারি কোনো চাকরি দেয়নি ব্রিটিশ সরকার।
নবাবের ৬ষ্ঠ বংশধর সৈয়দ জাকি রেজা ঢাকার নবাব সলিমুল­াহর কাছে এসে ধরনা দিলে ১৯১৩ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর তিনি বাংলার গভর্নরের কাছে তাকে একটি চাকরি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করে চিঠি লেখেন। চিঠিতে উলে­খ করা হয়, তিনি সিরাজ উদ-দৌলার বংশধর। সে অনুরোধের প্রেক্ষিতে ব্রিটিশ সরকার সৈয়দ জাকি রেজাকে মুর্শিদাবাদের ডেপুটি সাব-রেজিস্টার পদে নিয়োগ দেন। তার পুত্র সৈয়দ গোলাম মর্তুজা চাকরি করতেন মুর্শিদাবাদের কালেক্টরেট বিভাগে।
সপ্তম বংশধর সৈয়দ গোলাম মুর্তজা ১৯৪৭ সালে মুর্শিদাবাদ থেকে পূর্ব বাংলায় চলে যান। প্রথমে যান রাজশাহীতে। রাজশাহী থেকে খুলনা শহরে একটি বাড়ি কিনে স্থায়ী হন।
১৯৮৪ সালের ফেব্র“য়ারি মাসে প্রথিতযশা সাংবাদিক ফজলে লোহানী তার জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান (বিটিভি-তে প্রচারিত) ‘যদি কিছু মনে না করেন’-এ সৈয়দ গোলাম মুর্তজা-কে পরিচিত করিয়ে দেন। গোলাম মর্তুজার ছেলে সৈয়দ গোলাম মোস্তাফা পাকিস্তান আমলে চাকরি নেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পদে। তিনি এখন ছেলে সন্তানসহ বসবাস করছেন ঢাকা শহরে।
তার বড় ছেলে সৈয়দ গোলাম আব্বাস আরেব সমাজের গুণীজন, বিত্তবানসহ সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তারা নবাব সিরাজ উদ-দৌলার নামে একটি একাডেমি স্থাপন করতে চান। সে জন্য সহযোগিতার প্রয়োজন। ঢাকা শহরে বসবাস করা নবাব সিরাজ উদ-দৌলার বংশধরদের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে- এখনও এক ধরনের অজানা আতঙ্ক তাদের মাঝে। সম্ভবত সে আতঙ্ক থেকেই প্রচারবিমুখ হয়ে আছেন তারা। মিডিয়াকে এড়িয়ে চলেন, সমাজে নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে রাখেন।
তথ্যসূত্র: নতুনসময়.কম


 
এ পর্যন্ত সর্বাধিক পঠিত

  ইনফোটেক : ইন্টারনেট নিয়ে গ্রাহক প্রতারণা!
  অনুসন্ধান : কয়টি সিম রাখা যাবে?
  পোস্টমর্টেম : নকল ডিমে রাজধানী সয়লাব
  সাহিত্য : নাথ সাহিত্যের স্বরূপ
  প্রবাস : চিতোর, ইতিহাসের তিন নারী
  অর্থনীতি : মূল বেতন দ্বিগুণ করার সুপারিশজাতীয় বেতন কমিশনের রিপোর্টে যা আছে
  আন্তর্জাতিক : যেভাবে যৌনদাসীদের ভোগ করছে আইএস জঙ্গিরা
  বিশেষ প্রতিবেদন : ক্যাপ্টাগন: জঙ্গিদের টেরোরিস্ট ড্রাগ!
  সমকালীন : বাংলাদেশ নিয়ে চীন-ভারত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও কূটনীতির দৃষ্টিতে মোদীর ঢাকা সফর
  সাহিত্য : শিরোমণি আলাওল
  আন্তর্জাতিক : ভয়ঙ্কর আইএস-এর উত্থান ও নৃশংসতা!
  প্রশাসন : চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল হচ্ছে!
  চমক! : জমজমের পানি নিয়ে জাপানী বিজ্ঞানীদের রহস্য আবিষ্কার!
  সাহিত্য : মগের মুল্লুকে বাংলা সাহিত্যের বিকাশ
  প্রচ্ছদ প্রতিবেদন : গুলশান ট্র্যাজেডি! কেন এই নৃশংসতা?
 





free counters



উপদেষ্টা সম্পাদক : আবদুল্লাহ আল-হারুন   |  সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ জিয়াউল হক   |  প্রধান সম্পাদক : আসিফ হাসান

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: দেওয়ান কমপ্লেক্স, ৬০/ই/১ (৭ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: +৮৮-০২-৯৫৬৬৯৮৭, ০১৯১৪ ৮৭৫৬৪০  |  ফ্যাক্স: +৮৮-০২-৯৫৬৬৩৯৮

ইমেইল: editor@weeklymanchitra.com, manchitra.bd@gmail.com
©  |  Amader Manchitra

Developed by   |  AminMehedi@gmail.com