আমাদের মানচিত্র  |  বর্ষ: ৪, সংখ্যা: ২৮     ঢাকা, বাংলাদেশ  |  আজ বূধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭  |  




আর্কাইভ সংখ্যা - বিএনপি’র দুর্বলতা ও রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা!

আর্কাইভ সংখ্যার প্রচ্ছদ



বর্ষ: ৪, সংখ্যা: ২৮
রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬




 
একনজরে এই সংখ্যা -

  সম্পাদকীয় : পবিত্র ঈদুল আজহা ও ত্যাগের পরীক্ষা
  প্রবাস : জন্ম ও মৃত্যু নিয়ে এলিজাবেথ কুবলার রস
  বিশেষ প্রতিবেদন : অর্থের জোরও ঠেকাতে পারেনি মীর কাসেম আলীর ফাঁসি
  ফিচার : রূপকথার এক প্রেমকাহিনী!
  অনুসন্ধান : পিলার চুরি ও বজ্রপাতে প্রাণহানির নেপথ্যে...
  পোস্টমর্টেম : ফারাক্কা নিয়ে নীতিশের প্রস্তাব ও প্রকৃতির প্রতিশোধ!
  স্মরণ : ঢাকায় থাকেন সিরাজ উদ-দৌলার বংশধর!
  ইনফোটেক : স্মার্ট কার্ড: যেভাবে পাবেন
  স্মৃতিচারণ : আঠারোটি বুলেট ও রক্তস্নাত বাংলাদেশ
  প্রতিবেদন : দুই জোটের অর্ধেক রাজনৈতিক দলেরই নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ নেই
  অর্থনীতি : গ্যাসের মূল্য: আবার বাড়ছে কার স্বার্থে?
  প্রচ্ছদ প্রতিবেদন : বিএনপি’র দুর্বলতা ও রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা!
  ধর্ম : জরথ্রুস্টঃ ইরানের প্রাচীন ধর্ম
  বিশেষ প্রতিবেদন : জঙ্গি দমনে সরকারের জিরো টলারেন্স!
  রাজনীতি : দুই ডজনেরও বেশি নেতা বিএনপিকে বিদায় জানাচ্ছেন!
  কলাম : জেলা, মহকুমা ও উপজেলার ইতিবৃত্ত
  দুর্নীতি প্রতিবেদন : মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রতারণা?
  চমক! : ফেরাউন ও মূসা
 



স্মৃতিচারণ পড়া হয়েছে ১৯৯ বার

আঠারোটি বুলেট ও রক্তস্নাত বাংলাদেশ

বাহালুল মজনুন চুন্নু

সেই পনেরো আগস্টের ভোরে পুরো ধরিত্রীই থমকে গিয়েছিল, বেদনায় মুষড়ে পড়েছিল বিষম। বাতাস ফুঁপিয়ে কাঁদছিল, আকাশ হয়ে গিয়েছিল অধিক শোকে পাথর। সৃষ্টির পর থেকে এমন শোকের ঘটনা বিশ্বপ্রকৃতি আর কখনোই বোধ হয় প্রত্যক্ষ করেনি। এমন বিশ্বাসঘাতকতাও বোধ হয় আর কখনোই দেখেনি। তাই পুরো বিশ্বপ্রকৃতিই হয়ে গিয়েছিল নিস্তব্ধ, শোকে মুহ্যমান পাষাণ। আর বিমূঢ়, বাকহারা হয়ে গিয়েছিল বিশ্বমানব স¤প্রদায়। যে মহান ব্যক্তি একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিল, সেই তাকেই তারই দেশের মানুষের হাতে সপরিবারে নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হয়েছে, তা বিশ্ববাসীর কাছে ছিল যেমন অবাক বিস্ময়ের, তেমনি শোকের। তারা সেদিন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাঙালি জাতির পিতা, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের খবর শুনে কেঁদেছিলেন। কেঁদে কেটে বুক ভাসিয়েছিলেন। অশ্র“ তাদের বাঁধ মানেনি। অকূল ধারায় বহমান তাদের সেই অশ্র“ বাষ্প হয়ে ধরণীর নানা প্রান্ত থেকে এসে জড়ো হয়েছিল ধানমন্ডির বত্রিশ নম্বরের ছয়শ সাতাত্তর নম্বর বাড়ির আঙিনায়। তারপর সিঁড়িতে পড়ে থাকা মহামানবের রক্তের স্রোতের সঙ্গে মিশে গিয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য, যাদের জন্য তিনি আজীবন মরণপণ লড়াই করে গিয়েছিলেন, যাদের সুখের জন্য, যাদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য নিজের জীবনের সব আরাম-আয়েশ ত্যাগ করেছিলেন, জেলজুলুম-অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেছিলেন, সেই তারাই তার নির্মম মৃত্যুতে উচ্চৈঃস্বরে কাঁদতে পারেনি। ঘাতকের উদ্ধত সঙ্গিন তাদের কাঁদতে দেয়নি, পিতা হারানোর শোকগাথা তৈরি করতে দেয়নি। কিন্তু সর্বত্রই ছিল চাপা দীর্ঘশ্বাস, চাপা কান্না। গুটিকয়েক নরপিশাচ তথা পাকিস্তানি হানাদারের প্রেতাত্মারা ছাড়া দিগ্ভ্রান্ত, দিশাহারা পুরো জাতি চাপা দীর্ঘশ্বাস আর চাপা কান্নার মধ্য দিয়েই তাদের পিতাকে মনে মনে শ্রদ্ধা জানিয়েছিল।
সেই রাতটি ছিল বাঙালি জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কময়, অশ্রুভেজা এক রাত। সেই রাতের কথা ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল জনপদের প্রতিটি ধূলিকণা কখনো ভুলতে পারবে না। পারা সম্ভবও নয়। রক্তের কালিতে লেখা সেই রাতের শোকগাথা বীণার করুণ সুর হয়ে বাঙালির হৃদয়ে বেজে চলে অনবরত। আমার হৃদয়ে অহর্নিশ সেই সুর বেজে চলে। ভাবিত হই মানুষের মাঝের মনুষ্যত্ব নিয়ে, অহমবোধ নিয়ে। কতটুকু নীচ প্রজাতির হলে, কত পাষাণে বাঁধানো বুক হলে এত নির্দয়ভাবে গুলি করে শিশু, গর্ভবতী নারীসহ জাতির পিতার পরিবারসহ মোট তিনটি পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করা যায়, তা ভাবলেই গায়ে কাঁটা দেয়। শিউরে উঠি, চোখ জ্বালা করে ওঠে। পলাশী যুদ্ধের প্রহসন শেষে মীরজাফরের নির্দেশে মোহাম্মদ আলী বেগ নবাব সিরাজদেদৗলাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। সেই বিশ্বাসঘাতকতা, সেই নৃশংসতা আবারও দেখল বিশ্ববাসী। সেই রাতে স্ত্রী বেগম শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল ও দশ বছরের শিশুপুত্র শেখ রাসেল, দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল এবং ভাই শেখ নাসের ও দুজন কর্মকর্তাসহ নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। প্রায় একই সময় ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবলীগ নেতা শেখ ফজলুল হক মণির বাসায় হামলা চালিয়ে শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি, বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াতের বাসায় হামলা করে সেরনিয়াবাত ও তার চৌদ্দ বছরের কন্যা বেবী, দশ বছরের পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, চার বছর বয়সী নাতি বাবু, শহীদ সেরনিয়াবাত, ভাগ্নে রিন্টু, তিনজন অতিথি ও চারজন ভৃত্যকে হত্যা করে। সবমিলিয়ে সেই কালরাতে পঁচিশজনকে বিশ্বাসঘাতকরা হত্যা করে এ দেশের মানচিত্র, এ দেশের মাটিকে কলঙ্কিত করে। এ দেশের বাতাসকে দূষিত বিষবাষ্পে ছেয়ে ফেলে।
চৌদ্দ আগস্টের সন্ধ্যায় টু-ফিল্ড রেজিমেন্টের কামানবাহী শকট যানগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। আঠারোটি কামান, আঠাশটি ট্যাংক জড়ো করা হয়েছিল ক্যান্টনমেন্টের উত্তর প্রান্তে। তখন চারদিকে ঘন কালো অন্ধকার। রাত সাড়ে এগারোটার দিকে সেখানে জড়ো হলো মানুষ নামধারী অমানুুষ মেজর ফারুক, মেজর ডালিম, মেজর হুদা, মেজর নূর, মেজর শাহরিয়ার, মেজর পাশা, মেজর রশিদ চৌধুরী। পনেরো আগস্টের প্রথম প্রহরে তারা তাদের অফিসারদের হেডকোয়ার্টার স্কোয়াড্রন অফিসে সমবেত হতে নির্দেশ দেয়। অফিসাররা সেখানে পৌঁছলে তাদের নিয়ে তিনটি গ্র“পে ভাগ করে শেখ মুজিবুর রহমান, সেরনিয়াবাত ও শেখ মণির বাসায় আক্রমণের জন্য প্রস্তুত করা হয়। ভোর চারটায় যখন ঢাকা শহরবাসী গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন, তখন হায়েনার দল কামান, ট্যাংক নিয়ে তাদের গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। সোয়া পাঁচটার দিকে মেজর ডালিম ও রিসালদার মোসলেম উদ্দিনের নেতৃত্বে প্রায় একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছিল সেরনিয়াবাত ও শেখ মণির বাসা। আর তার ঠিক মিনিট পনেরো বাদেই জাতির পিতার বাসায় আক্রমণ শুরু করেছিল তারা। রাষ্ট্রপতি ভবনের নিরাপত্তা বাহিনী সেই কুচক্রী সৈন্যদের দিকে অবিরাম গুলি চালিয়ে প্রাণপণ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছিল। বঙ্গবন্ধু তার দেশের মানুষকে বিশ্বাস করতেন, ভালোবাসতেন। তাকে কেউ মারতে আসবে, এ তিনি ভাবতেই পারেননি। তাই তো তিনি পুলিশ গার্ডদের গোলাগুলি থামানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। আর সেই সুযোগে হায়েনার দল নির্বিঘ্নে বাড়িতে ঢুকে যায়। শুরু করে হত্যার নৃৃত্য।
বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসেরকে বাথরুমে নিয়ে গুলি করা হয়েছিল। যখন তিনি পানি পানি বলে চিৎকার করছিলেন, তখন ঘাতকরা অঝোর বুলেট বৃষ্টি দিয়ে তাকে চিরতরে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। শিশু রাসেল বঙ্গবন্ধুর পিএস মুহিতুল ইসলামকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন, ভাইয়া আমাকে মারবে না তো? আমি মায়ের কাছে যাব। শিশুর সেই কাকুতিতে ওদের হৃদয় গলেনি। গলবেই কী। ওরা তো হৃদয়হীন এক একটা নরকের কীট। তাই তো মাছুম বাচ্চাকেও বুলেট দিয়ে স্তব্ধ করে দিতে ওদের একটুও হাত কাঁপেনি। জাতির পিতার সঙ্গে ঘাতকদের তর্কবির্তক হয়েছিল। মেজর মহিউদ্দিনকে পিতা চড়া সুরে ধমকাচ্ছিলেন। মৃত্যুর দূূত উপস্থিত দেখেও তিনি একটুও ঘাবড়াননি, যেমন ঘাবড়াননি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও। তার ব্যক্তিত্বের কাছে মহিউদ্দিন মিইয়ে গিয়েছিল। হুদা এসে পিতাকে উপরের তলা থেকে নিচের তলায় নিয়ে আসে। সেখানে পড়েছিল গুলিবিদ্ধ শেখ কামালের রক্তাক্ত লাশ। হঠাৎ মেজর নূর আর মোসলেম উদ্দিন নামের দুই মোহাম্মদী বেগের স্টেনগান থেকে বের হয়ে আসা আঠারোটি বুলেটে বিদ্ধ হয়ে সিঁড়ির ধাপে গড়িয়ে পড়েন সাদা পাঞ্জাবি আর চেক লুঙ্গি পরা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের স্থপতি, আমাদের পিতা। তিনি সিঁড়িতে পড়ে রইলেন এমনভাবে, যেন হঠাৎ পা পিছলে পড়ে গেছেন। পাশে পড়ে ছিল তার ভাঙা চশমা। তিনি সাতচল্লিশ, বায়ান্ন, ঊনসত্তর, সত্তর এবং একাত্তরসহ বিভিন্ন সময়ে দেশের মানুষের মুক্তির জন্য মৃত্যুর দ্বার থেকে বারে বারে ফিরে এসেছিলেন। সেই তাকেই পাকিস্তানি হায়েনারা যা করতে পারেনি, সেটাই করল তারই দেশের পাপিষ্ঠ নরাধম কয়েকজন ঘাতক। একদিন যে তর্জনী উঁচিয়ে বাঙালি জাতিকে জাগিয়ে তুলেছিলেন, বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ সেই স্বাধীন বাংলাদেশে তার তর্জনী ছিঁড়ে গিয়ে চামড়ার টুকরোর সঙ্গে ঝুলছিল। আর কোনোদিন সশরীরে ওই আঙ্গুল উঁচিয়ে আমাদের প্রেরণা দিতে আসবেন না তিনি। ঘাতকরা সেটাই চেয়েছিল। কেবল এতেই তারা থেমে থাকেনি। বত্রিশ নম্বরের সেই বাড়ির প্রতিটি ঘরে গিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে অন্য সবাইকে। চারদিকে বীভৎস দৃশ্য। রক্তের স্র্রোত বয়ে গিয়েছিল। সেই রক্তস্রোত জাতীয় পতাকার সবুজের মধ্যিখানের লাল বৃত্তে গিয়ে মিশে তাকে আরও দ্যুতিময় করে তোলে। পতাকার লাল বৃত্তের দিকে যখনই চোখ পড়ে তখনই চোখে ভেসে ওঠে রক্তস্রোতে ভেসে যাওয়া মহান নেতার সেই বাড়িটি। 
জাতির পিতাকে এ দেশের আলো-হাওয়ায় বেড়ে ওঠা সেই নরকের কীটরা না চিনলেও চিনেছিলেন বিশ্বের সব রথী মহারথীরা। কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বলেছিলেন, আমি হিমালয় দেখিনি, কিন্তু শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্বে, সাহসিকতাই এই মানবই হিমালয়। আর এভাবেই আমি হিমালয় দেখার অভিজ্ঞতা লাভ করেছি। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালামের ভাষায় বঙ্গবন্ধু নিজেই ছিলেন ‘ঐশ্বরিক আগুন’ এবং তিনি নিজেই সে আগুনে ডানা যুক্ত করতে পেরেছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন কখনো পছন্দ করেনি। তবুও তারা কী চোখে দেখত বঙ্গবন্ধুকে তার একটি উদাহরণ ১৯৭০ সালে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের কনসাল জেনারেলের যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো রিপোর্ট।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজের লেখা অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়লেই বোঝা যায় তিনি আসলে কেমন ছিলেন। তিনি তাঁর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে লিখেছেন : ‘একজন মানুষ হিসেবে সমগ্র মানব জাতি নিয়েই আমি ভাবি। একজন বাঙালি হিসেবে যা কিছু বাঙালির সঙ্গে সম্পর্কিত তাই আমাকে গভীরভাবে ভাবায়। এই নিরন্তর সম্পৃক্তির উৎস ভালোবাসা, অক্ষয় ভালোবাসা, যে ভালোবাসা আমার রাজনীতি এবং অস্তিত্বকে অর্থবহ করে তোলে।’ মানুুষের প্রতি তাঁর যে অসীম মমত্ববোধ তা এ কয়টি ছত্রেই ফুটে ওঠে। অথচ তাঁকেই নির্মমভাবে আঠারোটি বুলেটে বিদ্ধ হতে হয়েছিল। যে তিনি সদ্য স্বাধীন দেশের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সংবিধান প্রণয়নের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই তিনিই স্বাভাবিক মৃত্যুর অধিকারটুকু পাননি। এর চেয়ে লজ্জা বাঙালি জাতির জন্য আর কী হতে পারে।
ইতিহাসের পাতা ঘাঁটলেই বোঝা যায়, কেন জাতির পিতাকে সপরিবারে নির্মম মৃত্যুর শিকার হতে হয়েছিল। য্্ুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠন, কার্যকরী সংবিধান প্রণয়ন, সাধারণ নির্বাচন, কমনওয়েলথ, জাতিসংঘ, ওআইসির সদস্যপদ লাভ, দু’একটি রাষ্ট্রছাড়া বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের স্বীকৃতি অর্জনসহ শিক্ষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসহ প্রায় সব খাতকে তিনি ভঙ্গুর অবস্থা থেকে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সামনের দিকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন। এ অগ্রগতি পাকিস্তান আর সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার পছন্দ হয়নি। তাদের চক্রান্তে আর ক্ষমতালিপ্সু মেজর জিয়াউর রহমানের প্রচ্ছন্ন প্রশ্রয়ে পাকিস্তানের প্রেতাত্মারূপে আবির্ভূত সেই ঘাতকরা নিজেদের পিতাকে অবলীলায় হত্যা করে দেশকে ওই অপশক্তির করতলে নিয়ে যায় আর দেশ নিমজ্জিত হয় অতল অন্ধকারে। 
১৫ আগস্টের কালরাতে ঘাতকদের সেই আঠারোটি বুলেটে বিদ্ধ জাতির পিতাই কেবল স্তব্ধ হয়ে যাননি, স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল এ দেশের অগ্রযাত্রা। গভীর গিরি খাতের অতল অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছিল দেশের মানুষ। বিষবাষ্পে এ দেশের মানুষের নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হতে থাকে। আবারও যেন তারা পরাধীনতার শিকলে বাঁধা পড়ে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা তিনবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে সেই অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে এসেছেন। আজ বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ। আজ এ দেশের মানুষকে না খেয়ে থাকতে হয় না। যুদ্ধাপরাধীদের একে একে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে দেশ আজ অনেকটাই কলঙ্কমুক্ত হয়ে উঠছে। তবে ইদানীং স্বাধীনতার পরাজিত শক্তিরা জঙ্গিবাদের প্রসার ঘটানোর চেষ্টা করছে। মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে তারা। কিন্তু জাতির জনকের অসাম্প্রদায়িকতা, ধর্ম নিরপেক্ষতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের আদর্শে উজ্জীবিত বাঙালি তা হতে দেবে না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে লালন করে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে তারা ধিকৃত জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদী রাজনীতির শিকড় উত্পাটন করবে। বঙ্গবন্ধু এভাবেই তার আদর্শ ও চেতনার মধ্য দিয়েই চিরঞ্জীব হয়ে আছেন। তিনি অনশ্বর প্রতিভাস হয়ে বাংলার মানুষকে তাঁর আদর্শে বলীয়ান করে যাবেন, অনুপ্রাণিত করে যাবেন। আর মানুষ তাঁকে স্মরণ করে যাবে পরম শ্রদ্ধাভরে। এ জন্যই কবি সুফিয়া কামাল বলেছিলেন— ‘এই বাংলার আকাশ-বাতাস, সাগর-গিরি ও নদী/ ডাকিছে তোমারে বঙ্গবন্ধু, ফিরিয়া আসিতে যদি/ হেরিতে এখনও মানবহৃদয়ে তোমার আসন পাতা/ এখনও মানুষ স্মরিছে তোমারে, মাতা-পিতা-বোন-ভ্রাতা।’
লেখক : সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।


 
এ পর্যন্ত সর্বাধিক পঠিত

  ইনফোটেক : ইন্টারনেট নিয়ে গ্রাহক প্রতারণা!
  অনুসন্ধান : কয়টি সিম রাখা যাবে?
  পোস্টমর্টেম : নকল ডিমে রাজধানী সয়লাব
  সাহিত্য : নাথ সাহিত্যের স্বরূপ
  প্রবাস : চিতোর, ইতিহাসের তিন নারী
  অর্থনীতি : মূল বেতন দ্বিগুণ করার সুপারিশজাতীয় বেতন কমিশনের রিপোর্টে যা আছে
  আন্তর্জাতিক : যেভাবে যৌনদাসীদের ভোগ করছে আইএস জঙ্গিরা
  বিশেষ প্রতিবেদন : ক্যাপ্টাগন: জঙ্গিদের টেরোরিস্ট ড্রাগ!
  সমকালীন : বাংলাদেশ নিয়ে চীন-ভারত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও কূটনীতির দৃষ্টিতে মোদীর ঢাকা সফর
  সাহিত্য : শিরোমণি আলাওল
  আন্তর্জাতিক : ভয়ঙ্কর আইএস-এর উত্থান ও নৃশংসতা!
  প্রশাসন : চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল হচ্ছে!
  চমক! : জমজমের পানি নিয়ে জাপানী বিজ্ঞানীদের রহস্য আবিষ্কার!
  সাহিত্য : মগের মুল্লুকে বাংলা সাহিত্যের বিকাশ
  প্রচ্ছদ প্রতিবেদন : গুলশান ট্র্যাজেডি! কেন এই নৃশংসতা?
 





free counters



উপদেষ্টা সম্পাদক : আবদুল্লাহ আল-হারুন   |  সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ জিয়াউল হক   |  প্রধান সম্পাদক : আসিফ হাসান

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: দেওয়ান কমপ্লেক্স, ৬০/ই/১ (৭ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: +৮৮-০২-৯৫৬৬৯৮৭, ০১৯১৪ ৮৭৫৬৪০  |  ফ্যাক্স: +৮৮-০২-৯৫৬৬৩৯৮

ইমেইল: editor@weeklymanchitra.com, manchitra.bd@gmail.com
©  |  Amader Manchitra

Developed by   |  AminMehedi@gmail.com