আমাদের মানচিত্র  |  বর্ষ: , সংখ্যা:     ঢাকা, বাংলাদেশ  |  আজ শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৭  |  




চলতি সংখ্যার প্রচ্ছদ



বর্ষ: ৪, সংখ্যা: ৪৪
রবিবার, ১ জানুয়ারী ২০১৭










free counters






প্রচ্ছদ প্রতিবেদন পড়া হয়েছে ৪৪৭ বার

ইমেজ সংকটে বিমান!

জিয়াউল হক শামীম


পর পর তিনটি ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং (জরুরি অবতরণ)-এর কারণে ইমেজ সংকটে পড়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এর মধ্যে খোদ প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান জরুরি অবতরণ করায় যাত্রীদের ভীতির মাত্রা অনেকখানি বেড়ে গেছে। এছাড়া, কয়েক দিন আগে বৃটিশ সংবাদ মাধ্যম টেলিগ্রাফে বিশ্বের ২১টি নিকৃষ্টতম বিমান সংস্থার নাম প্রকাশ করা হয়েছে। ওই তালিকায়ও রয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এ প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে নিরাপত্তা কাঠামো নিশ্চিতের পূর্ব শর্তগুলো নিশ্চিতে ব্যর্থ হওয়ায় বৃটেন, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের উন্নত কয়েকটি দেশে বাংলাদেশ বিমানের কার্গো অবতরণে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। এসব নানা কারণে ভয়াবহ ইমেজ সংকটে পড়েছে বিমান। বিমানের সাথে সম্পর্কিত একটি সূত্রের মতে, কয়েকটি ঘটনায় বিমান ইমেজ সংকটে পড়েছে এতে কোন সন্দেহ নেই। তবে ইমেজ সংকট কাটাতে ২০১৭ সালের জন্য বিমান কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনটি ধাপে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। সূত্রটি আরো বলেন, নেতিবাচক প্রচারণার কারণে বর্তমানে নাজুক অবস্থা বিমানের। এরমধ্যে রাষ্ট্রীয় এ বিমান সংস্থাটি আগামী ৪ জানুয়ারি ৪৫ বছর পার করতে যাচ্ছে। এটা কম পাওয়া নয়। গেল দুই বছর বিমান লাভের মুখ দেখেছে। বিদেশ থেকে ফ্রি লাশ বয়ে নিয়ে আসছে বিমান। এসব ভালো অর্জনও রয়েছে।
বিমান সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ নভেম্বর হাঙ্গেরি যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৭৭ বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এ সময় তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশখাবাদে জরুরি অবতরণ করে বিমানটি। কয়েক ঘণ্টা পর প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান ত্রুটি সারিয়ে সেটি আবার হাঙ্গেরির উদ্দেশে আশখাবাদ ত্যাগ করে। এ ঘটনায় গঠিত তিনটি তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে বিমানের নয় জন কর্মকর্তা- কর্মচারীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী জেল হাজতে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর বিমানের ত্রুটি সংক্রান্ত ঝামেলার রেশ কাটতে না কাটতেই গত ১২ ডিসেম্বর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আরেকটি উড়োজাহাজ মিয়ানমারের উদ্দেশে যাত্রা করেও ঢাকা ফিরে আসে। পরে ত্রুটি মেরামত শেষে ফের মিয়ানমারের উদ্দেশে যাত্রা করে বিমানটি। সর্বশেষ গত ২২ ডিসেম্বর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের ফ্লাইট বিজি-১২২ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। এ কারণে ওই দিন সকাল ১০টা ৭ মিনিট থেকে দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা শাহজালালের রানওয়ে বন্ধ ছিল। ফলে দেশি-বিদেশি কয়েকটি ফ্লাইটের যাত্রীরা আকাশে আতঙ্কের মধ্যে সময় পার করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২২ ডিসেম্বর ভোর ৪টা ৪৮ মিনিটের দিকে মাসকাট থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা করে বিমানের বিজি-১২২ ফ্লাইট। বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ফ্লাইটটি টেক অফ করার পর মাসকাট বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে ক্যাপ্টেনকে জানানো হয়, রানওয়েতে টায়ারের কিছু অংশ পাওয়া গেছে তা সম্ভবত বিমানের ফ্লাইটের হতে পারে। এরপর পাইলট দেখতে পান উড়োজাহাজের পেছনের বাম দিকের ২ নম্বর টায়ারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপর শাহজালালে বিমানটি নামানো হলে রানওয়ে বন্ধ হয়ে যায়।  এদিকে গত ২০ ডিসেম্বর বিশ্বের নিকৃষ্টতম ২১টি বিমান সংস্থার নাম প্রকাশ করেছে বৃটিশ সংবাদসংস্থা টেলিগ্রাফ। এ তালিকায় নাম আছে দেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সেরও। ‘দ্য টুয়েন্টি ওয়ান ওয়ার্স্ট এয়ারলাইন্স ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ শিরোনামে ওই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
সূত্রগুলোর মতে, শিডিউল বিপর্যয়, দুর্নীতি এবং অনুন্নত সেবা নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ রয়েছে এবং অভিযোগগুলি পুরাতন। একটি দেশের একটি জাতীয় বিমান হল ঐতিহ্য বিশেষ-এটি হল সারা বিশ্বে দেশটির ‘ফ্ল্যাগ ক্যারিয়ার’, একটি দেশের ব্র্যান্ডবিশেষ। এমিরেটস, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স প্রভৃতি নিজ নিজ দেশের সম্মান বৃদ্ধি করে থাকে। কিন্তু দুঃখের বিষয় বাংলাদেশ বিমান ওইসকল এয়ারলাইন্সের ধারেকাছে যেতে পারে না। বরং অনুন্নত সেবা, লোকসান ও দুর্নীতির কারণে এই প্রতিষ্ঠান যেন বাংলাদেশের দুর্নাম বহন করে চলছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে বাংলাদেশ বিমান তার সেবাপ্রদানের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। তাই বিমানের ভবিষ্যৎ নিয়ে একেবারে ভিন্নরূপে নূতন করে ভাবতে হবে। পৃথিবীর বহু দেশের বিমান সংস্থা কেবল উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে মালিকানায় ও ব্যবস্থাপনায় অদলবদল করেছে,  বিখ্যাত সুইসএয়ারকে জার্মান এয়ারলাইন লুফথানসা কিনে নিয়েছে ২০০৫ সালে। আবার লুফথানসা ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত সরকারি ছিল, ২০১৪ সাল হতে ৪০ শতাংশ শেয়ার শেয়ারহোল্ডারদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে এবং ৬০ শতাংশ শেয়ার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মালিকানাধীন আছে। হংকংয়ের ক্যাথে প্যাসিফিক এয়ার চায়নার সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারহোল্ডার। ১৯৮৮ সালে এয়ার কানাডার বেসরকারিকরণ হয়েছে। এয়ার ফ্রান্স ডাচ এয়ারলাইন কেএলএম-এর সাথে মার্জার ঘটিয়েছে দুই দেশের এয়ারলাইন এখন একত্রে এয়ার ফ্রান্স-কেএলএম নামে পরিচিত। জাপান এয়ারলাইন্স ১৯৮৭ সালে ও কোরিয়ান এয়ার ১৯৬৯ সালে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। অন্যদিকে স্টার এলায়েন্স জার্মানিভিত্তিক, কিন্তু তার অধীনে আছে ২৭টি পূর্ণসদস্য এয়ারলাইন্স-যার বেশিরভাগই বিভিন্ন দেশের এয়ারলাইন্স। বিশেষজ্ঞদের মতে এখন সময় হয়েছে অন্য দেশের এয়ারলাইন্সের সাথে বাংলাদেশ বিমানের যুক্ত হওয়া, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘিষ্ঠ শেয়ার অন্যদের দেয়া কিংবা পুরাপুরি বেসরকারিকরণ ইত্যাদি যেকোনো একটি পদ্ধতি গ্রহণ করা। অবশ্য তার পূর্বে যথেষ্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে এবং দেশের স্বার্থ সমুন্নত রাখতে হবে।


দুর্নীতির আকাশ ছুঁয়েছে বিমান
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রায় প্রতিটি শাখায় চলছে দুর্নীতির ‘মহোৎসব’। প্রতিটি শাখায় রয়েছে অসাধু চক্র বা সিন্ডিকেট। তারা লুটপাট চালাচ্ছে বেপরোয়াভাবে। তাদের দাপটের কাছে কর্তৃপক্ষ অসহায়। নানা মহল থেকে অভিযোগ পেয়ে দফায় দফায় কমিটি গঠন করে বিমান কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালায়। কমিটিগুলো তদন্ত প্রতিবেদনও জমা দেয়। সেসব প্রতিবেদনে উঠে আসে দুর্নীতি-অনিয়ম-অর্থ লুটপাটের ভয়াবহ সব চিত্র। প্রতিবেদনে অসাধু চক্রের সদস্যদের নামধাম পর্যন্ত উলে­খ থাকে। কিন্তু তারা এতটাই প্রভাবশালী যে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না কর্তৃপক্ষ। ফলে বছরের পর বছর তারা একই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে অবলীলায়। বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদন ও কর্মকর্তা-কর্মচারী সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। জানা যায়, বিমানের হ্যান্ডলিং কাজে, কেনাকাটায়, মেরামতে, মালামাল পরিবহনে- প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে সিন্ডিকেটের অপকর্ম। বিমানে খাবারদাবার সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে সিন্ডিকেট। লোক নিয়োগ নিয়ন্ত্রণ করে সিন্ডিকেট। জ্বালানি তেল পাচার করে দিচ্ছে সিন্ডিকেট। অসাধু সিন্ডিকেটগুলোয় পাইলট, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কর্মচারী, সিবিএ নেতা, সিভিল এভিয়েশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জড়িত বলে অভিযোগ আছে।
বেসরকারি বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, বিমানকে লাভজনক করতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। রাষ্ট্রের এই সম্পদকে কেউ ধ্বংস করতে পারবে না। অসাধু সিন্ডিকেটের তৎপরতা ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হবে। এরই মধ্যে তাদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। বিমানের শিডিউল বিপর্যয় সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, অভ্যন্তরীণ রুটে মাত্র দুটি উড়োজাহাজ চলছে। যাত্রীর তুলনায় এগুলোর সংখ্যা কম। উড়োজাহাজ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তার পরও নির্দিষ্ট সময়ে যাতে বিমান ছেড়ে যায় সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক রুটগুলোতে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এখন নির্দিষ্ট সময়েই বিমান ছাড়ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিমানে কোনো চোরের জায়গা হবে না। তাদের প্রতিরোধ করা হবেই। কেউ অপতৎপরতা চালালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
বিমান সূত্র জানায়, নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বিমান কর্তৃপক্ষ জিসিই (গ্রাউন্ড সাপোর্ট ইকুইপমেন্ট) বিভাগের সব বিষয়ে তদন্ত করে দেখার জন্য গত বছর সাবেক পরিচালক (গ্রাহক সেবা) কানাডিয়ান নাগরিক জর্জ-রি-লিভার্সকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করে। এক সদস্যের এই কমিটির প্রাথমিক তদন্তে হ্যান্ডলিং শাখার জেনারেল ম্যানেজার আমিনুল ইসলামসহ পুরো বিভাগের দুর্নীতির চিত্র এবং এর সঙ্গে জড়িত সবার নাম তুলে ধরেন তিনি। এই প্রতিবেদন দেওয়ার পর রোষাণলে পড়তে হয়েছে তাঁকে। শেষ পর্যন্ত তিনি চাকরি ছেড়ে স্বদেশে চলে যান।
পরে ওই বছরই বিমান কর্মকর্তাদের দিয়ে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। মাস ছয়েক আগে কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এ প্রতিবেদনেও দুর্নীতি-লুটপাটের জন্য হ্যান্ডলিং শাখার জেনারেল ম্যানেজার আমিনুল ইসলামকেই দায়ী করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে শ্রমিক লীগ সমর্থিত সিবিএর শীর্ষ নেতাদের সুসম্পর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। আমিনুল ইসলাম মোটর ট্রান্সপোর্ট (এমটি) শাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও কাজ করে আসছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানবন্দরে দেশি-বিদেশি সব ফ্লাইট ট্যাক্সিওয়েতে আসার পরপরই এয়ারক্রাফটের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর গ্রাউন্ড সাপোর্ট যন্ত্রপাতির মাধ্যমে চলে এয়ারক্রাফটের সব কার্যক্রম। বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় গ্রাউন্ড পাওয়ার ইউনিট (জিপিইউ) দিয়ে। এয়ারকন্ডিশন চলে এসি ভ্যানের মাধ্যমে। পানি সরবরাহ হয় 'ওয়াটার কার্ড', বাথরুমগুলোর মলমূত্র পরিষ্কার করতে 'পাঞ্চ কার্ড', উড়োজাহাজকে সরাতে 'পুশ কার্ড' এবং বন্ধ ইঞ্জিন পুনরায় চালুর জন্য 'স্টার্ট কার্ড' ব্যবহার করতে হয়। তা ছাড়া যাত্রীসেবার জন্য কন্ট্রোলার প্যালেস ট্রান্সপোর্টার (সিপিটি), সেফটি প্যাসেঞ্জার প্যালেস (সিপিএল), মালামাল পরিবহনের জন্য টো-ট্রাক্টর, ফর্ক লিফট, প্যাসেঞ্জার স্টেপ ও বেল্ট লোডার ব্যবহৃত হয়। উড়োজাহাজে জ্বালানি তেল সরবরাহ, ফ্লাইট ছাড়ার আগে প্রতিটি যন্ত্রপাতি তল­াশি করা, উড়োজাহাজের মেরামত ও মেইনটেন্যান্স, বোর্ডিং কার্ড ইস্যু, লাগেজ আনা-নেওয়া, ওজন করাসহ আনুষঙ্গিক সব কিছু গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের মাধ্যমে করতে হয়। একটি বিদেশি উজোড়াহাজে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সার্ভিস দিলে বিমানকে জিপিইউ বাবদ ভাড়া দিতে হয় ১৪ হাজার ৭০০ টাকা। প্রতিটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে গড়ে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা ও কার্গো ফ্লাইটে গড়ে তিন-চার ঘণ্টা জিপিইউ প্রয়োজন হয়। সে হিসাবে প্রতিদিন ৩৩০ ঘণ্টা হিসাবে এই জিপিইউ থেকে বিমানের আয় হওয়ার কথা মাসে ১৫ কোটি টাকা। কিন্তু নথিপত্রে দেখানো হয় পাঁচ কোটি টাকা। বাকি ১০ কোটি টাকাই তসরুপ করা হয়। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এয়ারকন্ডিশন ইউনিট থেকে মাসে গড়ে ২৫ কোটি টাকা আয় হলেও দেখানো হয় ১৩ কোটি টাকা। প্যাসেঞ্জার বাস প্রতিটি একবার চললে মাসে আয় হওয়ার কথা পাঁচ কোটি টাকা, কিন্তু আয় দেখানো হয় মাত্র ৬০ লাখ টাকা। এয়ারক্রাফট পুশ টো-ট্রাক্টর থেকে মাসে গড়ে পাঁচ কোটি টাকার জায়গায় আয় দেখানো হচ্ছে দেড় কোটি টাকা। এয়ারক্রাফট টো-বার থেকে মাসে দেড় কোটি টাকার স্থলে ১৫ লাখ, কার্গো লোডার থেকে দুই কোটির স্থলে ৬৫ লাখ, মেইন ডেক কার্গো লোডার থেকে পাঁচ কোটি টাকার স্থলে দুই কোটি, ওয়াটার সার্ভিস ট্রাক থেকে সাত কোটি টাকার স্থলে তিন কোটি, ট্রলি সার্ভিস ট্রাক থেকে মাসে সাড়ে সাত কোটির স্থলে তিন কোটি, কনভেয়র বেল্ট থেকে মাসে এক কোটি টাকার স্থলে ৫০ লাখ, কার্গো ব্যাগেজ কার্ট ট্রলি থেকে মাসে আয় ১৫ লাখ টাকার স্থলে তিন লাখ টাকা, ফর্ক লিফট থেকে মাসে আট কোটি টাকার স্থলে চার কোটি টাকা, ক্রু ট্রান্সপোর্ট কোচ থেকে দুই কোটি টাকার স্থলে এক কোটি টাকা, চার টন মোবাইল ক্রেন থেকে মাসে ২০ কোটি টাকার স্থলে ছয় থেকে সাত কোটি টাকা, ইন্টেরিয়র এয়ারকন্ডিশনার ক্লিনিং থেকে মাসে সাত কোটি টাকার স্থলে তিন কোটি টাকা আয় দেখানো হয়। সিন্ডিকেট পুরো টাকাই আত্মসাৎ করছে বলে জানান বিমানের এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, সিন্ডিকেটের প্রতিটি সদস্য প্রভাবশালী হওয়ায় কোনো ব্যবস্থা নেয়া যায় না। বিমানেরই এক কর্মকর্তার ভাষ্য, সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয় হ্যান্ডলিং শাখায়। বছর দুয়েক আগে এই শাখার অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেবার মান বাড়ানোর জন্য ৭৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অসাধু সিন্ডিকেট এই টাকা থেকে ৩৫০ কোটি টাকা লুটে নিয়েছে। অভিযোগ সম্পর্কে হ্যান্ডলিং শাখার জিএম আমিনুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমার কাজে ঈর্ষান্বিত হয়ে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। আমি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত না।'
বিমান মেরামতের নামেও টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একাধিক চক্র। ২০১৩ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পর্যন্ত বিষয়টি গড়িয়েছে। বিমান এ-৩১০ (এস-২ এডিকে) এয়ারবাস ২০১৩ সালে সিঙ্গাপুরে নিয়ে মেরামত করার কাজে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। দুদক অভিযোগ পায়, ওই এয়ারবাস মেরামতের নামে ২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে নথিপত্র চেয়ে বিমানের তৎকালীন এমডি ও প্রধান নির্বাহী কেভিন স্টিলের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিল দুদক। কিন্তু বিমান দুদককে কোনো ধরনের সহায়তা করেনি।
সূত্র জানায়, ২০১৪ সালেও আরেকটি বিমান সিঙ্গাপুরে মেরামতের নামে ১০০ কোটি টাকার অনিয়ম হয়। বিষয়টি জানতে পেরে বিমান কর্তৃপক্ষ ওই বছরই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কিন্তু সূত্র জানায়, সিন্ডিকেটের রাজনৈতিক দাপট বেশি হওয়ায় কমিটি কাজই করতে পারেনি। ওই কমিটির এক সদস্য বলেন, এই সিন্ডিকেটেরও হোতা হ্যান্ডলিং শাখার জিএম আমিনুল ইসলাম। তিনি সাবেক এক মন্ত্রীর আত্মীয়। এই চক্রের আরেক প্রভাবশালী সদস্য মেরামত শাখার কর্মচারী রুহুল আমিন। তিনি কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের এক নেতার জামাতা। অসাধু সিন্ডিকেটের সদস্য প্রায় ১৫ জন। তারা সবাই এখন কোটিপতি। তিনি আরো বলেন, চলতি বছরেও বিমানের দুটি উড়োজাহাজ মেরামতের নামে অন্তত দেড় শ কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে।
বিমানসংশ্লিষ্টরা জানান, যান্ত্রিক ত্রুটি, ইঞ্জিন বিকল কিংবা আগুন লাগার অভিযোগ না থাকলে খুচরা যন্ত্রাংশ কেনাবেচার সুযোগ সৃষ্টি হয় না। এই কারণেই মূলত নানা রকম যান্ত্রিক ত্রুটি দেখিয়ে উড়োজাহাজের জন্য যন্ত্রপাতি কেনা ও মেরামতের নামে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা লোপাট করা হচ্ছে। আবার এয়ারক্রাফটে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানি তেল ফেলে দিয়ে ওই ফ্লাইটটিকে জরুরি অবতরণ করানো হয়। এ ক্ষেত্রেও চলে অনিয়ম। ওই সিন্ডিকেট ১০ লাখ টাকার তেল ফেলে দিয়ে কোটি টাকার বিল করেছে- এমন অভিযোগও আছে। এসব ক্ষেত্রে প্রকৌশল বিভাগের পাশাপাশি পাইলট, কো-পাইলট, ট্রেনিং ও সেফটি বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারাও জড়িত বলে সূত্র জানায়।
দুদক তথ্য পায়, প্রতিদিন অতিরিক্ত মালামাল বহন করে প্রায় দুই কোটি টাকা লুটে নেয় বিমানের কার্গো শাখার একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী। অভিযোগে বলা হয়, গত ৩ জুলাই ২০১৬ সালে সকাল ১০টায় লন্ডনের একটি ফ্লাইটে (বিজি ০০১) স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত মাল বহন করা হচ্ছে বলে পাইলটরা নিশ্চিত হন। ওই ফ্লাইটের দায়িত্বে ছিলেন ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ইশতিয়াক ও ক্যাপ্টেন নাদিম। আর যাত্রীর সংখ্যা ছিল ৪৯। বিমানটি ওড়ার পর পাইলটরা বুঝতে পারেন, অন্য দিনের চেয়ে বেশি তেল খরচ হচ্ছে। তারা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন। লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে যাত্রীরা নেমে গেলে কার্গোতে মালামাল ওজন করা হয়। দেখা যায়, ঢাকা থেকে দেওয়া হিসাবের চেয়েও তিন হাজার ৩৪৪ কেজি বেশি মালামাল রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, 'প্রতিদিনই এভাবে মাল বহন করে অর্থ লুটপাট করা হচ্ছে। বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে অফিস সহকারী পর্যন্ত এই টাকার ভাগ পাচ্ছে। চক্রের বিরুদ্ধে আমরা অনুসন্ধান শুরু করেছি। বিমান কর্তৃপক্ষও আমাদের সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছে।' এক প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, 'লন্ডন থেকেই আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। তারপর আমরা বিষয়টি তদন্ত শুরু করি। বিমান কর্তৃপক্ষ ওই ফ্লাইটের নথি আমাদের কাছে পাঠিয়েছে। আশা করি, অল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারব।'
বিভিন্ন তদন্ত ও কর্মী সূত্রে জানা যায়, বিমান লোকসানের একটি বড় কারণ তেল কেনায় দুর্নীতি। একাধিক সিন্ডিকেট বিমানের তেল লুটপাট করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। বাংলাদেশ বিমানের মোট ১১টি উড়োজাহাজে বছরে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি তেল প্রয়োজন হয়। তার মধ্যে বিমান ৪৬ শতাংশ বাংলাদেশ থেকে এবং ৫৪ শতাংশ সংগ্রহ করে বিদেশ থেকে। বিমানের জ্বালানি তেলের মূল্য বাংলাদেশে গ্যালনপ্রতি ৩২৭.১৯ টাকা। অথচ বিদেশে গ্যালনপ্রতি গড় মূল্য ২৪২.৮৮ টাকা। বিদেশের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানির মূল্য প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি। এই মূল্যবান তেল নিয়ে চলে নানা কারসাজি। এর একটি হলো যা ক্রয় দেখানো হয়, তার চেয়ে কম তেল বিমানে ভরা হয়। বাকিটা পাচার করে দেওয়া হয়। এই সিন্ডিকেটের মধ্যে বাদশা, রহিম, মোহাম্মদ কিবরিয়াসহ অন্তত এক ডজন কর্মচারী সক্রিয়। তাদের সঙ্গে ঊর্ধ্বতন আটজন কর্মকর্তা জড়িত বলে সূত্র জানায়।
বিমানে পরিবেশিত খাবারের মান নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে। প্রায় সময়ই নিম্নমানের খাবার দেওয়া হচ্ছে বলে যাত্রীদের অভিযোগ। জানা যায়, মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস, ড্রাগন, মিহিনলংকা, সাউদিয়া, কাতার, এমিরেটস এয়ারলাইনসসহ বাংলাদেশ বিমানও খাবার সংগ্রহ করে বিএফসিসি শাখার মাধ্যমে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাঁচ বছর ধরে এই শাখায় নানা অনিয়ম হয়ে আসছিল। বিনা টেন্ডারেই অনেকে খাবার সরবারহ করতে পারত। কিন্তু কোনো বছরই বিএফসিসি শাখা থেকে বিমানের কোনো আয় হতো না। কিন্তু গত কয়েকমাস ধরে কিছুটা আয় হচ্ছে। এর কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, এখন ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে খাবার সংগ্রহ করা হচ্ছে। গত বছর খাবার বাবদ বিএফসিসি শাখার বাজেট ছিল ১২ কোটি ৯৪ লাখ ২৮ হাজার ৪৭৭ টাকা। আর এবার বাজেট চূড়ান্ত হয়েছে ছয় কোটি টাকা। সূত্রের দাবি, খাবারের ক্ষেত্রে যে অর্ধেক টাকাই লুটপাট হতো, বাজেটেই তার প্রমাণ মেলে।


লোকসানে ভাসছে বিমান
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং অব্যবস্থাপনা সমার্থক শব্দ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এর জন্মলগ্ন থেকেই। দেশবাসীর ট্যাক্সে টাকা লোপাট করাকে কর্তব্য হিসেবে ধরে নেওয়ায় এর লোকসানের পরিমাণও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। গত ৩০ বছরে বিমান লোকসান গুনেছে দেড় হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে গত পাঁচ বছরের লোকসানের পরিমাণ ১১০০ কোটি টাকা। এক সময় বলা হতো, উড়োজাহাজের অভাবে বিমান যাত্রী টানতে পারছে না। লোকসানের কারণ হিসেবেও বিবেচিত হতো এ কারণটি। বর্তমান সরকারের আমলে বেশ কিছু সুপরিসর উড়োজাহাজ বিমানের বহরে যুক্ত হওয়া সত্তে¡ও লোকসান কমার বদলে আরও বেড়েছে। যাচ্ছেতাই সেবার কারণে যাত্রীরা বিমান থেকে নিজেদের দূরে রাখাকেই নিরাপদ বলে মনে করেছে। যাত্রীরা বাধ্য না হলে জাতীয় বিমান পোতে ওঠার শখ কিংবা দুঃসাহস এড়াতেই পছন্দ করেন। যাত্রীসেবার দিক থেকে যাচ্ছেতাই রেকর্ড করলেও বাংলাদেশকে সোনা চোরাচালানের মৃগয়া ক্ষেত্র বানানোর ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা সোনার যেসব চোরাচালান ধরা পড়েছে তার সিংহভাগ পাওয়া গেছে বিমানের ফ্লাইটে। বিমানের বাথটবে ও সিটের নিচে সোনার বার থরে থরে পাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বহুবার। বলাই বাহুল্য, বিমান কর্মচারী-কর্মকর্তাদের সহযোগিতা ছাড়া এভাবে সোনা চোরাচালান হওয়ার কথা নয়।
ছয় মাস আগে চালু হয় বিমানের ফ্রাঙ্কফুর্ট রুট। উদ্বোধনী ফ্লাইটে যাত্রীসংখ্যা ছিল মাত্র ২৯ জন। বিমানের ৪১৯ আসনের সুপরিসর উড়োজাহাজটি এ রুটে কোনো ফ্লাইটেই গড়ে ২৪ থেকে ২৫ জনের বেশি যাত্রী পায়নি। শুধু তা-ই নয়, ১৩ জন যাত্রী নিয়েও ঢাকা ছাড়ার রেকর্ড রয়েছে ফ্লাইটটির। ছয় মাসে ৫০ কোটিরও বেশি টাকা গচ্চা দিয়ে বিমান কর্তৃপক্ষ বুঝতে পেরেছে, রুটটি লোকসানি। এর পরই রুটটি বন্ধ করতে বাধ্য হয় বিমান। ২০১৪ সালের ২৭ অক্টোবর শেষ ফ্লাইটে যাত্রীসংখ্যা ছিল ২১। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী একমাত্র আকাশ পরিবহন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে চালানো হচ্ছে এমনই ‘যা ইচ্ছে তা ভাবে’। পরিকল্পনা ছাড়াই চালু হচ্ছে নতুন রুট। মোটা অঙ্কের গচ্চা দিয়ে তা আবার বন্ধও করা হচ্ছে। বিদেশি এয়ারলাইনসের লাভজনক রুটগুলোতেও নিয়মিত লোকসান দিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি। সংশ্লিষ্টরা বলছে, আগে যাত্রী ছিল, কিন্তু ছিল না উড়োজাহাজ। এখন উড়োজাহাজ আছে, নেই যাত্রী। এতে বিমানের লোকসান ও দেনা দুটোই বাড়ছে। এর মধ্যে বিগত পাঁচ বছরেই হয়েছে ১১০০ কোটি টাকা। দেনাও দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এক দিন পার হলেই বিমানের লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন ভারপ্রাপ্তরা।  বিমান সূত্রগুলো বলছে, মার্কেটিং থেকে কাস্টমার সার্ভিস, প্রশাসন থেকে প্রকৌশল বিভাগ, দেশ থেকে বিদেশ- সর্বত্র চলছে নজিরবিহীন অরাজকতা, অনিয়ম, অপচয়, অব্যবস্থা ও দুর্নীতি। এ অবস্থায় নতুন নতুন উড়োজাহাজে সমৃদ্ধ হওয়া এ প্রতিষ্ঠানটির ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা ক্রমশ ফিকে হয়ে এসেছে। অবশ্য বিমানের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলেছেন, অভিযোগ এতটা সত্য নয়। পরিস্থিতি দিন দিন ভালো হচ্ছে। গড়পরতায় লোড ফ্যাক্টর ভালো। একইভাবে কলকাতা থেকে হংকং ফ্লাইটের কানেকশন দেওয়ায় এ রুটেও যাত্রী বাড়ছে।
২০১৪ সালের মার্চে ব্রিটিশ এমডি কেভিন স্টিল যোগ দেওয়ার আগে বিমানের শিডিউল ঠিক ছিল শতকরা ২৮ ভাগ। বিশ্ব বিমান চলাচল খাতে শিডিউলের এ চিত্র ছিল চরম লজ্জাকর। কেভিন যোগ দেওয়ার পরপরই তিনি সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দেন শিডিউল ঠিক করায়। তখন পুরনো আটটি উড়োজাহাজ দিয়েই চলছিল বহর। মাত্র তিন মাসের মাথায় শিডিউল ঠিক হয়ে আসে অভাবনীয় গতিতে। এক বছরের মাথায় তিনি যখন বিদায় নেন, সেদিন শিডিউল ঠিক ছিল ৭২ শতাংশ। বিশ্বমানের শিডিউল থেকে মাত্র আট শতাংশ কম। ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ শিডিউল ঠিক থাকলে বিশ্বমানের গ্রহণযোগতা পায়। কেভিন শিডিউলের সে টার্গেটের কাছাকাছি পৌঁছতে সক্ষম হয়েছিলেন। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহের শিডিউল পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, কেভিন আমলের তুলনায় শিডিউলের সফলতা হ্রাস পায় আশঙ্কাজনক হারে। শিডিউলের শতকরা হার ছিল গড়পরতা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ।যাত্রী নেই : ঢাকা থেকে প্রতি সপ্তাহেই কমপক্ষে ২০০ লোক জার্মানি যাচ্ছে। কিন্তু বিমান তাদের ধরতে পারেনি, যে কারণে ফ্রাঙ্কফুর্ট ফ্লাইট বন্ধ করতে হয়। একই অবস্থা ইয়াঙ্গুন, হংকং, কলকাতা ও দিলি­ ফ্লাইটের ক্ষেত্রে। অথচ বিমান ছাড়া ঢাকা থেকে অন্য সবকটি বিদেশি এয়ারলাইনসের লোড ফ্যাক্টর সন্তোষজনক। বিমান সূত্র জানায়, দেশ ও বিদেশে যাত্রী ধরার দায়িত্ব মার্কেটিং বিভাগের। স¤প্রতি বিমানের ভুক্তভোগী এক যাত্রী ব্যাংকক থেকে ফেরার আগের দিন টিকিট কনফার্ম করার জন্য ফোন করেন সেখানকার এক কর্মকর্তাকে। ওই কর্মকর্তার কাছ থেকে কোনো সদুত্তর না পেয়ে তিনি ফোন করেন স্টেশন ম্যানেজারের কাছে। এতে স্টেশন ম্যানেজার বিরক্ত হন তার ওপর। পাল্টা প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, কেন এ জাতীয় তথ্যের জন্য তাকে ফোন করা হলো। এর জন্য তিনি এয়ারপোর্টে কর্তব্যরত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের কথা বলেই ফোন রেখে দেন। স্টেশন ম্যানেজারের আচরণে বিস্ময় প্রকাশ করে ওই যাত্রী বলেন, একজন যাত্রীর সঙ্গে কী ধরনের ব্যবহার করতে হবে তা তারা জানেন না। এমন ব্যবহারের কারণে বিমান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন যাত্রীরা। বিমানের এক কর্মকর্তা বলেন, বিদেশের স্টেশনগুলোতে কান্ট্রি ম্যানেজার ও স্টেশন ম্যানেজারের কাজ হচ্ছে, প্রতিদিন সেখানকার প্রবাসী বাংলাদেশিসহ অন্যান্য নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিমান সম্পর্কে প্রচারণা চালানো, সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তাদের বিমানে চড়ার জন্য রাজি করানো, এয়ারপোর্টে বিমান কাউন্টারে কোনো যাত্রী অসুবিধায় পড়লে তাকে সহযোগিতা করা, পরামর্শ দেওয়া, সর্বোপরি সেবা দিয়ে যাত্রীদের সন্তুষ্ট করা। এসব দায়িত্ব পালন করার অঙ্গীকার করে তারা ঢাকা ছাড়লেও তাদের সম্পর্কে যাত্রীদের অভিযোগের শেষ নেই। বিমান সূত্র জানায়, বিমানের রয়েছে দুই হাজার কোটি টাকা দেনা। পদ্মা অয়েল, সিভিল এভিয়েশন ও রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য ক্লায়েন্ট এ টাকা পাবে। বিমান ২০০৭ সালে করপোরেশন থেকে কোম্পানি হওয়ার পর সরকার আগের সব দেনার দায়ভার থেকে মুক্তি দেয়। ওয়ান-ইলেভেনের সময় বিমানের তহবিলে লাভের ৫০০ কোটি টাকা জমাও পড়ে। হিসাব ও বাজেট শাখা থেকে জানা যায়, বিগত পাঁচ বছরে বিমানের লোকসান হয়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকা। এখনো প্রতি মাসে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। দৈনিক গড়পরতায় দেড় কোটি টাকা লোকসান গুনছে বিমান। বলতে গেলে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি রুট ছাড়া বিমানের সবকটি রুটই লোকসান গুনছে। লোকসান হচ্ছে দুবাই, মাসকাট, কাতার, কুয়েত, হংকং, দিলি­, ব্যাংকক ও ইয়াঙ্গুন রুটে। সূত্রগুলোর মতে,অভ্যন্তরীণ রুটে বেসরকারি পরিবহন সংস্থাগুলো রমরমা ব্যবসা করছে। কিন্তু কোনো রুটেই বিমানের ফ্লাইট নেই। কবে নাগাদ হবে সেটি বিমানের কেউ বলতে পারে না।
১৬ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশের জাতীয় বিমান সংস্থার যাত্রী সংকট কিংবা লোকসান কোনোটাই হওয়ার কথা নয়। দেশের প্রায় এক কোটি মানুষ বিদেশে থাকে। দেশে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তাদের প্রথম পছন্দ হওয়ার কথা। কিন্তু বিমান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অশোভন আচরণের কারণে যাত্রীদের টানতে তারা ব্যর্থ হচ্ছে। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, লাগাতার লোকসানের রেকর্ডধারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে টিকিয়ে রাখার যৌক্তিকতা কতটুকু। বিশেষজ্ঞদের মতে, জনগণের ট্যাক্সে টাকার অপচয় না চাইলে হয় বিমানের অব্যবস্থাপনা দূর করতে হবে নতুবা লোকসান এড়াতে এটি বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবতে হবে।
বিমানের লোকসান কাটাতে সরকার বছরের শুরুতে ব্রিটিশ এ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাইল হেউডকে এর প্রধান নির্বাহী (সিইও) হিসেবে নিয়োগ দিলেও লোকসান গুনেই চলেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বছরের প্রথম ৬ মাসেই ৩১.২ কোটি টাকা লোকসানের সম্মুখীন হয়েছে দেশের একমাত্র সরকারি এ বিমান সংস্থা। বিমানের একটি সূত্র জানিয়েছে, এই লোকসানের জন্য দায়ী ধারাবাহিক অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনা। কাইল হেউডকে নতুন সিইও হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর সবাই আশা করেছিল জাতীয় পতাকাবাহী এ সংস্থাটি লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখতে শুরু করবে। সম্পূর্ণ নতুন সব এয়ারক্রাফট থাকার পরও নানা অব্যবস্থাপনার কারণে একের পর এক ঘটেই চলেছে ফ্লাইট বিপত্তি।
নতুন সিইও বিমানের হাল ধরার পর বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন জাতীয় সংসদে জানিয়েছিলেন, দেশি রুটগুলোতে বিমান লোকসানের সম্মুখীন হলেও আন্তর্জাতিক রুটগুলোতে মুনাফা অর্জন করে যাচ্ছে সংস্থাটি। কিন্তু বিমান সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট বিভাগের তৈরি করা আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায় উল্টো দিকে হাঁটছে বিমান। সংস্থাটির মধ্যমসারির এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি কাইল হেউড। তাকে কয়েক মিলিয়ন টাকা বেতন দেওয়ার পরও সরকারি এ সংস্থাটি একটি লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।’
চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিমানের প্রধান নির্বাহী হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন কাইল। ফেব্র“য়ারিতেই বিমানের লোকসান গুনতে হয় ৭.৯৭ কোটি টাকা। জুনে বিমানের লোকসানের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৬.৯১ কোটি টাকা। সমস্যা থেকে উত্তরণের বারবার চেষ্টা সত্তে¡ও গত ৬ মাসের ধারাবাহিক লোকসানে অস্বস্তিতে আছে বিমানের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পর্ষদ বোর্ড অব ডিরেকটরস। কাইলের অনুপস্থিতে জুনে ভারপ্রাপ্ত সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেন বিমানের পরিচালক (প্রকৌশল) আসাদুজ্জামান। জুন মাসের তুলনায় জুলাই মাসে নিট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৪.৮৯ কোটি টাকা কম ছিল বিমানের। কোম্পানির স্বার্থের কথা বিবেচনা না করে কাইল এ পর্যন্ত তার সময়ের দুই মাসই ছিলেন ছুটিতে। বিমানের একটি সূত্র জানায়, সেপ্টেম্বরের ৯ ও ১৪ তারিখে দুইটি বোর্ড মিটিংয়ে অংশ নেননি কাইল। তার অনুপস্থিতির কারণে বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। নাম না প্রকাশ করার শর্তে বিমানের এক জেনারেল ম্যানেজার বলেন, ‘এর আগে বিমানের প্রধান নির্বাহী হিসেবে কেভিন স্টিলের দায়িত্ব পালনের সময় আমি প্রতিদিন বিভিন্ন কাজের ৮/১০ টি ইমেইল গ্রহণ করতাম। কিন্তু এখন আমি কাইলের কাছ থেকে দিনে একটি ইমেইলও পাই না।’তিনি আরও বলেন, ‘লক্ষ্য অর্জনে আমাদেরকে কোনও পরামর্শ কিংবা নির্দেশনা না দেওয়ায় মাঝে মাঝে আমরা ভাবি আমাদের কোনও সিইও দরকার নেই।’


বিমান পাইলটদের যত অপরাধ
সোনা চোরাচালান থেকে জমির দালালি, মোবাইল ফোন সেট চুরি থেকে বিমান লিজের কমিশন বাণিজ্য- সব ধরনের অপকর্মে জড়িত বিমান পাইলটরা। দেশ-বিদেশে তাদের নানা অপরাধে বার বার বিতর্কিত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী একমাত্র আকাশ পরিবহন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। জানা গেছে, দুবাইয়ের শপিং মলে মোবাইল ফোন সেট চুরির অপরাধে কারাগারে যেতে হয় প্রায় সাত লাখ টাকা বেতনভুক বিমানের এক পাইলটকে। ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত হওয়া ওই পাইলটকে ধরতে বিমানের আরেক পাইলটকে জিম্মি করে রেখেছিল দুবাই পুলিশ। সোনা চোরাচালানে অভিযুক্ত আরেক পাইলট দেশের কারাগারে বন্দী দুই বছর ধরে। নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ পাইলটদের বিরুদ্ধে পুরনো হলেও হালে এক নারী নিয়ে দুই পাইলটের মারামারি থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েছে। পাসপোর্ট ছাড়া যুক্তরাজ্যে প্রবেশকালে সে দেশ থেকে ফেরত পাঠানো হয় বিমানের অন্য এক পাইলটকে। জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে বিদেশি এয়ারলাইনসে মাসের পর মাস চাকরি করার মতো নজিরবিহীন ঘটনাও ঘটিয়েছেন বিমানের দুই পাইলট। অঢেল সম্পদের মালিক বনে যাওয়া বেশ কয়েকজন পাইলটের বিরুদ্ধে তদন্তও করে দুদক। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিমানের অন্তত দুই ডজন পাইলটের বিরুদ্ধে এমন নানা অভিযোগ রয়েছে। তারা দেশ-বিদেশে একের পর এক অপরাধে জড়ালেও পাইলটদের সংগঠন বাপার চাপে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না। সাময়িক গ্রাউন্ডেড থাকার পর ফের কাজে যোগ দেন অভিযুক্ত পাইলটরা। বাপার সভাপতি নিজেও অভিযুক্ত জমির দালালিতে। এ ছাড়া দেশি পাইলট বসিয়ে রেখে বিদেশি পাইলট নিয়োগ করে কমিশন বাণিজ্যও করছে বাপা।  পাইলটদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উঠলেই তারা ধর্মঘটের হুমকি দেন। ইতিপূর্বে তাদের ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছিল বাংলাদেশের আকাশপথ। পাইলটদের এই অপকর্মে বিমান প্রশাসন শাখার একজন কর্মকর্তা বেশ ক্ষুব্ধ কণ্ঠেই বললেন, নিতান্তই অভাব-অনটনে পড়ে দু-চার হাজার টাকার জিনিস চুরি করলে একটা যৌক্তিক ব্যাখ্যা পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু একজন ক্যাপ্টেন বা পাইলট যিনি প্রায় সাত লাখ টাকা বেতন নিচ্ছেন, তিনি যদি এমন চুরির দায়ে বিদেশে গ্রেফতার হন, তা কখনো মেনে নেওয়া যায় না। অথচ এমন জঘন্য অপরাধ আদালতের মাধ্যমে বিদেশের মাটিতে প্রমাণিত হওয়ার পরও বিমান কর্তৃপক্ষ শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি। উল্টো ওই পাইলটকে বিমান নিজ খরচে দুবাইয়ের ফাইভ স্টার হোটেলে বেশ কদিন লালন-পালন করেছে।  এভাবেই বিমান যুগের পর যুগ অপরাধীদের শাস্তির পরিবর্তে পুরস্কৃত করেছে। বিমান পর্ষদের এক ঊর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, কোনো পাইলটের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে বিমান কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়। কেউ চোরাচালানে জড়িত থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করে। পাশাপাশি বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয় বিমান। ইতিমধ্যে এমন বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।










  একনজরে চলতি সংখ্যা

  সম্পাদকীয় : স্বাগত ২০১৭! প্রশস্ত হোক সমৃদ্ধি অর্জনের পথ
  গল্প : অন্তরালবাসিনী
  অনুগল্প : দোলা
  ফিচার : জিগোলো! রমরমা এক ব্যবসা
  প্রবাস : মৃত্যুর অধিকার
  বিশ্লেষণ : রোহিঙ্গা নিধনে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ ও ভূরাজনীতির সঙ্কটে বাংলাদেশ!
  চমক! : পলিটিশিয়ান অব দ্যা ইয়ার শেখ হাসিনা
  মতামত : রাজধানীর যানজট সমাধান অসম্ভব নয়
  আন্তর্জাতিক : ট্রাম্পের পরমাণু ঘোষণায় ভয়ংকর পথে বিশ্ব!!
  প্রচ্ছদ প্রতিবেদন : ইমেজ সংকটে বিমান!
  অনুসন্ধান : ইতিহাসের কালো অধ্যায়, মানুষ হয়েছে গিনিপিগ!
  রাজনীতি : রাষ্ট্রপতির সাথে সংলাপ, বাড়ছে অচলাবস্থা অবসানের প্রত্যাশা
  মুক্তিযুদ্ধ : অপারেশন নাট ক্র্যাক
  বিশেষ প্রতিবেদন : জামায়াতের অন্তর্দ্ব›দ্ব চরমে...
  প্রতিবেদন : নাসিকে পরাজয়ে বিএনপিতে অস্বস্তি
  স্বাস্থ্য : অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার ও স্বাস্থ্যহানির ভয়ঙ্কর ঝুঁকি
  ফিচার : মাঞ্জারুল ইসলাম জিপিএ ৫ পেয়েছে
 
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবদুল্লাহ আল-হারুন   |  সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ জিয়াউল হক   |  প্রধান সম্পাদক : আসিফ হাসান

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: দেওয়ান কমপ্লেক্স, ৬০/ই/১ (৭ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: +৮৮-০২-৯৫৬৬৯৮৭, ০১৯১৪ ৮৭৫৬৪০  |  ফ্যাক্স: +৮৮-০২-৯৫৬৬৩৯৮

ইমেইল: editor@weeklymanchitra.com, manchitra.bd@gmail.com
©  |  Amader Manchitra

Developed by   |  AminMehedi@gmail.com