আমাদের মানচিত্র  |  বর্ষ: , সংখ্যা:     ঢাকা, বাংলাদেশ  |  আজ বূধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭  |  




চলতি সংখ্যার প্রচ্ছদ



বর্ষ: ৪, সংখ্যা: ৪৪
রবিবার, ১ জানুয়ারী ২০১৭










free counters






মুক্তিযুদ্ধ পড়া হয়েছে ২৭১ বার

অপারেশন নাট ক্র্যাক

ডা. এম এ হাসান


আমাদের দুই ভাইয়ের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল ১৯৬৯-এ দুর্বার গণআন্দোলনে। বড় ভাই সেলিম তখন রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ডাকসাইট ছাত্রনেতা, দুর্দান্ত অ্যাথলেট এবং ছাত্রলীগের একনিষ্ঠ কর্মী। আমি তখন ঢাকা মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। পড়াশোনা ছেড়ে প্রথমে পথে পথে আন্দোলন, তারপর আন্দোলনের শেষে শ্রমিক ও কৃষকের সঙ্গে মিশে যাওয়া। মনে পড়ে ’৬৯-এর ২৩ ফেব্র“য়ারি স্কুটার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সেলিমকে নিয়ে লাঙ্গল মিছিলের কথা এবং জয়দেবপুরের পাঁজুরিয়া গ্রামে কৃষকদের নিয়ে জয়দেবপুরের অস্ত্র কারখানা ঘিরে সামরিক পরিকল্পনার কথা। সেসব অনেক কথা।
২৫ মার্চ তেজগাঁও সাত রাস্তার মোড় ও সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোরের সামনে পুলিশের রাইফেল নিয়ে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে আমাদের প্রথম প্রতিরোধ তথা মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। সেদিন বাবার অফিসে পাহারারত এক প্লাটুন পুলিশ নিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করেছিলাম সার্ভে অব পাকিস্তান ও মেডিকেল স্টোরের সামনে। আমাদের কয়েকজন রাইফেল নিয়ে দাঁড়িয়েছিল চতুর্থতলা সার্ভে অফিসের ছাদে। হাতে তখন ওই অফিস থেকে সংগ্রহ করা ক’টি ম্যাপসহ একটি শহরযুদ্ধ তথা গেরিলা যুদ্ধের দিকনির্দেশনা।
প্রথাগত যুদ্ধে শরিক হলাম ১ এপ্রিল ওই দ্বিতীয় ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে। তখন ওরা সরাইলে। এরপর যুদ্ধে যুদ্ধে দ্বিতীয় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের সঙ্গে ৯ মাস কেটে গেল। এভাবে এল ’৭১-এর নভেম্বর। আমি তখন দ্বিতীয় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে আলফা কোম্পানি অফিসার। সেলিম ও লে. হেলাল মোর্শেদ (বর্তমানে অব. মেজর জেনারেল মোর্শেদ) তখন নোয়াখালিতে; বেলোনিয়া, পরশুরাম ও ফেনী অঞ্চলে যুদ্ধ করছেন এবং এক-একটি এলাকা মুক্ত করছেন। তারা চতুর্থ ইস্টবেঙ্গলকে সহায়তা দিচ্ছিলেন। শহীদ লে. সেলিম ও ক্যাপ্টেন হেলাল মোর্শেদ ফেনী ও বেলোনিয়া যুদ্ধ শেষে আখাউড়া যুদ্ধে যোগ দেন ডিসেম্বরের শুরুতে। ’৭১-এর ৪ ডিসেম্বর দ্বিতীয় বেঙ্গলের বি কোম্পানি কমান্ডার লে. বদিউজ্জামান শহীদ হলে সেলিম বি কোম্পানির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। আর আমি প্রথম থেকেই আখাউড়া যুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। প্রকৃতপক্ষে ওই যুদ্ধ ভ্যানগার্ড কোম্পানিকে নেতৃত্ব দেয় এই অধম। দেশের মাটিতে ওই পথে প্রথমে আমিই প্রবেশ করি।
আখাউড়া যুদ্ধের মূল যুদ্ধপরিকল্পনার নথি, অপারেশন ম্যাপ, কোডসহ সবকিছুই আমি স্বহস্তে ২৭ নভেম্বর রাতে ভারতীয় বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ড সেন্টার থেকে গ্রহণ করি। উলে­খ্য, আমার সাহস ও কর্তব্যপরায়ণতার ওপর আমাদের ব্যাটালিয়ন কমান্ডারের অগাধ বিশ্বাস ছিল। তাই ওই ব্যাটালিয়নের আলফা কোম্পানি অফিসার হিসেবে যুদ্ধ পরিকল্পনার গোপন দলিলটি ব্যাটালিয়ন কমান্ডার ও এস ফোর্সের প্রধানের পক্ষে মিত্রবাহিনীর কাছ থেকে আমিই সংগ্রহ করেছিলাম। তারিখটি ছিল ২৭ নভেম্বর ১৯৭১। একজন ভারতীয় ব্রিগেড কমান্ডার সিলগালা করা কাগজগুলো আমার হাতে দিয়ে বলেছিলেন ঐড়ঢ়ব ুড়ঁ ড়িঁষফ নব ঃযব ষঁপশু পযধঢ় ঃড় বহঃবৎ ইধহমষধফবংয ভরৎংঃ। এরপর অনেক কথা। জানা গেল আমাদের অপারেশনের নাম ‘অপারেশন নাট ক্র্যাক’। অপারেশন কোড ওয়ার্ড আমাকে জানিয়ে দেয়া হল। ওই কোড ওয়ার্ডটি মুজিব ব্যাটারিসহ ভারতীয় আর্টিলারির জন্য ফায়ারিং সংকেত ছিল। ওই গোপন কোড ওয়ার্ডটিকে মহামূল্যবান সংকেত হিসেবে হৃদয়ে ধারণ করে ২৯ নভেম্বর দ্বিতীয় ইস্টবেঙ্গলের আলফা কোম্পানি নিয়ে আখাউড়া সীমান্তে হাজির হই। কথা ছিল পরিকল্পনা মতো আমি প্রথমে বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করার পর অন্যরা আমাকে অনুসরণ করবে। তখন সন্ধ্যা হয় হয়। আমরা আখাউড়া সীমান্তে জড়ো হয়েছি। এরই মধ্যে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে প্রচণ্ড ফায়ারিং শুরু হল, বেশিরভাগই ‘এয়ার বার্স্ট’ শেল। ছিটকে পড়লাম একটা গর্তের মধ্যে। আমাদের বেশ কয়েকজন হতাহত হল। ওইদিন ভেতরে ঢুকলাম না। ভোলা যায় না সহযোদ্ধাদের মৃত্যু; ওইদিন সন্ধ্যায় আক্রমণ শুরুর আগেই আমাদের ওয়্যারলেস অপারেটরসহ ১১ সৈন্য হতাহত হয়েছিল।
৩০ নভেম্বর ১৯৭১, কুয়াশাচ্ছন্ন জ্যোৎস্নাভরা এক শীতের রাতে আখাউড়া যুদ্ধে আমার রেজিমেন্টের আলফা কোম্পানির অগ্রবর্তী দলটি নিয়ে কয়েক মাইল বিস্তীর্ণ মাইন ফিল্ডের ওপর দিয়ে পাকিস্তানি প্রতিরক্ষা ব্যুহের মধ্যে ঢুকতে হয়েছিল। অস্পষ্ট চাঁদের আলোয় আমাদের দেখা যাচ্ছিল। তাই প্রতি মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, এই বুঝি শত্র“র লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হই। চষা ক্ষেতের আইলের মধ্যে মাইন খুঁজে এগোবার সময় ছিল না। সব হৃদয় ছিল ভয়ংকর উত্তেজনা ও কিছুটা বিষাদে পূর্ণ। তারপরও সেনাসদস্যদের মনোবল অক্ষুণœ রাখার জন্য নিজের মনোবল সর্বোচ্চ পর্যায় রেখেছিলাম। শারীরিক শক্তি ও সামর্থ্য তো ছিলই। যা হোক, এইচ-আওয়ার (ঐ-যড়ঁৎ) ১ ডিসেম্বর ভোর ১টার আগেই আমি আমার গন্তব্যে পৌঁছে যেতে সক্ষম হলাম। অবস্থান গ্রহণ করলাম শত্রু ব্যূহের চার-পাঁচশ’ মিটারের মধ্যে- দ্রুত হাতে খুঁড়ে নেয়া ফক্সহোলে। আমার একটু পরই পৌঁছালেন আমার কোম্পানি কমান্ডার ক্যাপ্টেন মতিউর রহমান (প্রয়াত মেজর জেনারেল অব.)।
রাত ১টা বাজতেই আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশমতো পাকিস্তানি সেনাদের বাংকার ও রক্ষণ ব্যুহগুলো গোলার আঘাতে চুরমার করার জন্য ওয়্যারলেসে সংকেত পাঠালাম ভারতীয় গোলন্দাজ বাহিনী ও আমাদের মুজিব ব্যাটারিকে। চরম উত্তেজনার মধ্যে ‘ধামাকা’ সংকেতটি উচ্চারণের পরপরই শুরু হল প্রচণ্ড গোলাবর্ষণ। এর সঙ্গেই শুরু হল পূর্বাঞ্চলে পরিচালিত শক্তিশালী যুদ্ধ ‘অপারেশন জ্যাকপট’। বিরামহীন ভারি গোলাবর্ষণের শব্দে আজমপুর রেলস্টেশন এবং আশপাশের জনপদগুলো কেঁপে কেঁপে উঠছিল। ওই সময় কিছু গোলা আখাউড়া রেলস্টেশনকেও আঘাত করেছিল।
মিত্রবাহিনীর উদ্দেশ্য ছিল শত্রু ব্যুহগুলো চুরমার করার সঙ্গে সঙ্গে তাদের রি-ইনফোর্সমেন্টের সাহস ও শক্তিটুকু নিঃশেষ করে দেয়া।
আমার প্রতি নির্দেশ ছিল পুনরায় ‘ধামাকা’ শব্দটি উচ্চারণের পরই গোলাবর্ষণ বন্ধ হবে। আমি অনেকটা ইচ্ছা করেই প্রায় তিন ঘণ্টা পর বন্ধুদের পুনরায় সংকেত পাঠালাম ‘ধামাকা...’। ততক্ষণে শত্র“বাহিনীর অনেক বাংকারই চুরমার হয়ে গেছে। গোলাবর্ষণ বন্ধ হওয়ার পরপরই হালকা মেশিনগান ও গ্রেনেড নিয়ে আমরা পাকিস্তানি বাহিনীর রক্ষণ ব্যুহের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লাম। চার্লি কোম্পানি কমান্ডার ছিলেন ঠাণ্ডা মাথার ধীমান যোদ্ধা লে. ইবরাহিম (পরবর্তীকালে মেজর জেনারেল)। তিনি আমার পাশ দিয়ে এগিয়ে গেলেন আজমপুরের উত্তরে প্রায় শুকনো একটি নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত পুরনো জেটি এলাকায়। ওদিকে আজমপুর রেলস্টেশনের কাছে অবস্থান নিয়েছিল ব্রাভো কোম্পানি।
ভোর ৫টার দিকে আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থানে নিজেদের সুসংগঠিত করে পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর আঘাত হানতে শুরু করলাম। হঠাৎ লক্ষ্য করলাম, তাদের বেশকিছু কংক্রিট বাংকার অক্ষতই রয়ে গেছে। ঘন কুয়াশার মধ্যে সেখান থেকে তারা আমাদের দিকে গুলিবর্ষণ করে চলেছে। একসময় আজমপুর রেলস্টেশন থেকে কিছু পাকিস্তানি সেনা পূর্বদিকে নেমে এসে আমাদের ওপর প্রচণ্ড পাল্টা আঘাত শুরু করল।
সকাল হয়ে আসছিল। কিন্তু চারদিকে এত বেশি ঘন কুয়াশা ছড়িয়ে ছিল যে দু-তিন ফুট দূরের বস্তুও দৃষ্টিগোচর হচ্ছিল না। আমাদের অনেকেই তখন খোলা স্থানে। অন্যদিকে পাকিস্তানিদের অনেকে তাদের বাংকার ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা ব্যূহের আড়ালে।
একসময় তাদের সুতীব্র আক্রমণের মুখে কুয়াশার মধ্যে বিভ্রান্ত হয়ে আমার কোম্পানি কমান্ডার (আলফা কোম্পানি) অধিকাংশ প্লাটুন নিয়ে আমার দু’পাশ থেকে পিছু হটে গেলেন। ইচ্ছাকৃত বা অন্য কোনো ত্র“টির জন্য নয়, নেহাতই ভুল বোঝাবুঝির জন্য। আমি মাত্র তিন-চারজন সৈন্য নিয়ে একটি গাছের আড়াল থেকে পাকিস্তানিদের প্রতিহত করে যাচ্ছিলাম। এমন সময় সুবেদার সুলতান আমার পেছন থেকে এসে এ বিভ্রান্তি ও বিশৃংখলার খবর দিল। আমি তাকে ধরে রাখার চেষ্টা করলাম এবং পিছু হটতে অসম্মতি জানালাম। শেষ পর্যন্ত একরকম জোর করেই সুবেদার সুলতান আমাকে পেছনে টেনে নিয়ে গেল। এ অবস্থায় লে. ইব্রাহিমও পেছনে হটে গেলেন।
এ উইথড্রলের পর ডিসেম্বরের ১ তারিখ সকাল ৮টা-৯টার দিকে বিমর্ষ ক্যাপ্টেন মতিউর রহমান ও অন্যদের দেখলাম কর্নেল শফিউল­াহ (পরবর্তীকালে মেজর জেনারেল) ও মেজর মঈনের কাছে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করছেন। এরপর আমরা নিজেদের সংগঠিত করে পুনরায় নিজ নিজ অবস্থানে ফিরে গেলাম এবং বিকাল ৩টার মধ্যেই শত্র“দের ওপর কর্তৃত্ব স্থাপনে সক্ষম হলাম।
এ বিশৃংখলার মধ্যে আমি ক্যাপ্টেন (বর্তমানে অব. মেজর জেনারেল) মতিনকে দেখলাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে। অসম সাহসিকতার সঙ্গে তিনি কেবল পূর্বদিকে ধেয়ে আসা পাকিস্তানিদের প্রতিহতই করেননি, উপরন্তু পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে আজমপুর স্টেশনের উত্তরে অবস্থান নিলেন। তার সঙ্গে ছিল তিন নম্বর সেক্টরের দুই কোম্পানি সেনা। ওই যুদ্ধে লে. ইবরাহিমের ভূমিকাও ছিল প্রশংসনীয়। অগ্রসরমান পাকিস্তানি সেনাদের ওপর প্রচণ্ড আক্রমণ চালিয়ে আমরা সন্ধ্যার মধ্যেই আজমপুর স্টেশনের উত্তর দিকটা মুক্ত করে ফেললাম। ব্রাভো কোম্পানি কমান্ডার লে. বদিউজ্জামানও তার অবস্থান থেকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছিল। বিকালের পর আমাদের সম্মিলিত আক্রমণে আজমপুর রেলস্টেশনের দক্ষিণ দিকের কিছু অংশও শত্রুমুক্ত হয়ে গেল। তবে ওই এলাকায় অসংখ্য মাইন পোঁতা থাকায় এবং পাকিস্তানিদের কয়েকটি কংক্রিট বাংকার অক্ষত থাকায় আমরা এগোতে পারছিলাম না।
২ তারিখ ভোর থেকে আবার আমরা পাকিস্তানি বাহিনীর প্রচণ্ড আক্রমণের সম্মুখীন হলাম। আকস্মিক আক্রমণে আজমপুর স্টেশনের দখলকৃত স্থানটুকুও তাদের হাতে চলে গেল। রেলস্টেশনের দক্ষিণে পাকিস্তানিদের বাংকারগুলোতে প্রচুর অস্ত্র ও গোলাবারুদ ছিল এবং আমাদের প্রাথমিক আক্রমণের পরও তাদের কেউ কেউ সেখানে লুকিয়ে ছিল। যার ফলে ২ তারিখ রাতে প্রচণ্ড যুদ্ধের পরও আমরা ওই এলাকা কব্জা করতে পারলাম না। এর মধ্যে বিরামহীনভাবে চলছিল পাকিস্তানি আর্টিলারির গোলাবর্ষণ এবং দিনের বেলায় বিমান হামলা।
৩ ও ৪ তারিখে যুদ্ধ ভয়ংকর আকার ধারণ করে। পাকিস্তানি কামান ও বিমান হামলা ভারতীয় আর্টিলারির সহায়তাকে অনেকটা গৌণ করে তোলে। তবুও এর মধ্যে আমরা এক ইঞ্চিও পিছু হটিনি। বৃষ্টির মতো গোলাগুলি উপেক্ষা করে আমাদের সেনারা অসম্ভব মরিয়া হয়ে পাকিস্তানি বাংকারগুলোর মধ্যে ঢুকে আক্রমণ চালায়। কোনো কোনো স্থানে যুদ্ধটা হাতাহাতি পর্যায়েও হয়েছিল। এতে ৩ ডিসেম্বর বেশকিছু অসম সাহসী যোদ্ধা বিজয় ছিনিয়ে আনতে শাহাদাৎবরণ করেন। এ সময়ই বেলোনিয়া অপারেশন থেকে ফিরে লে. সেলিম যোগ দিল ব্রাভো কোম্পানিতে। এ স্থানের যুদ্ধটা ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ভয়ংকরতম যুদ্ধগুলোর মতোই একটি। বীরত্বের শ্রেষ্ঠ ছবি হতে পারত এসব ঘটনাকে উপজীব্য করে।
৩ ডিসেম্বর শেষ বেলা থেকেই আমরা আখাউড়ার দিকে এগোচ্ছিলাম। এ পরিস্থিতিতে ৪ ডিসেম্বর আমাদের ওপর প্রচণ্ড পাল্টা আক্রমণ শুরু করল পাকিস্তানিরা। দুটি পাকিস্তানি সেবর জেটও ওই হামলায় অংশ নিয়েছিল। প্রচণ্ড গোলা এবং শেলের আঘাতে ৪ ডিসেম্বর শহীদ হন লে. বদিউজ্জামান। তিনি তখন নিজ বাংকার ছেড়ে শত্রুর বাংকারের দিকে এগোনোর চেষ্টা করছিলেন। তার চোয়াল ও মুখের একাংশ উড়ে গিয়েছিল গোলার আঘাতে। নায়েক সুবেদার আশরাফ ও সিপাহি আমিরসহ বেশ ক’জন শহীদ হয় এ যুদ্ধে।
লে. সেলিম এ সময় লে. বদির স্থানে অধিনায়কত্ব গ্রহণ করল ব্রাভো কোম্পানির। বদির হাত থেকে ছিটকে পড়া রক্তাক্ত ঘড়িটি সযতেœ বুকে রেখে সে প্রচণ্ড আক্রমণ চালাতে লাগল পাকিস্তানিদের ওপর। একসময় সে তার সৈন্যদের নিয়ে পাকিস্তানিদের কংক্রিটের বাংকারগুলোর ভেতরে বেপরোয়া হামলা চালাল প্রচণ্ড ক্রোধ ও প্রতিশোধ স্পৃহা নিয়ে।
এ সময় আমাদের অধিকাংশ সেনাকেই থাকতে হচ্ছিল খোলা আকাশের নিচে। যুদ্ধ করতে হচ্ছিল গাছের আড়াল থেকে এবং গুটিকয় ফক্সহোল থেকে। এতে পাকিস্তানিদের প্রচণ্ড গোলাগুলি এবং বিমান আক্রমণের মুখে আমরা সাময়িকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম।
তবে আমাদের মনোবল ভাঙেনি। সুতীব্র আক্রমণ চালিয়ে আমরা ৪ তারিখেই পাকিস্তানিদের প্রায় সম্পূর্ণ কাবু করে ফেললাম। এর মধ্যে ভারতীয় বাহিনী আমাদর সঙ্গে যোগ দিল। ৪ ডিসেম্বরের শেষ বেলায় ‘এস ফোর্স’ ও ভারতীয় ৫৭ মাউন্টেন ডিভিশন আখাউড়া ঘিরে ফেলল। ৫ তারিখে আখাউড়ায় সব পাকিস্তানি সেনা যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করল।
ডা. এমএ হাসান : আহ্বায়ক, ওয়ার ক্রাইম্স ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি










  একনজরে চলতি সংখ্যা

  সম্পাদকীয় : স্বাগত ২০১৭! প্রশস্ত হোক সমৃদ্ধি অর্জনের পথ
  গল্প : অন্তরালবাসিনী
  অনুগল্প : দোলা
  ফিচার : জিগোলো! রমরমা এক ব্যবসা
  প্রবাস : মৃত্যুর অধিকার
  বিশ্লেষণ : রোহিঙ্গা নিধনে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ ও ভূরাজনীতির সঙ্কটে বাংলাদেশ!
  চমক! : পলিটিশিয়ান অব দ্যা ইয়ার শেখ হাসিনা
  মতামত : রাজধানীর যানজট সমাধান অসম্ভব নয়
  আন্তর্জাতিক : ট্রাম্পের পরমাণু ঘোষণায় ভয়ংকর পথে বিশ্ব!!
  প্রচ্ছদ প্রতিবেদন : ইমেজ সংকটে বিমান!
  অনুসন্ধান : ইতিহাসের কালো অধ্যায়, মানুষ হয়েছে গিনিপিগ!
  রাজনীতি : রাষ্ট্রপতির সাথে সংলাপ, বাড়ছে অচলাবস্থা অবসানের প্রত্যাশা
  মুক্তিযুদ্ধ : অপারেশন নাট ক্র্যাক
  বিশেষ প্রতিবেদন : জামায়াতের অন্তর্দ্ব›দ্ব চরমে...
  প্রতিবেদন : নাসিকে পরাজয়ে বিএনপিতে অস্বস্তি
  স্বাস্থ্য : অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার ও স্বাস্থ্যহানির ভয়ঙ্কর ঝুঁকি
  ফিচার : মাঞ্জারুল ইসলাম জিপিএ ৫ পেয়েছে
 
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবদুল্লাহ আল-হারুন   |  সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ জিয়াউল হক   |  প্রধান সম্পাদক : আসিফ হাসান

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: দেওয়ান কমপ্লেক্স, ৬০/ই/১ (৭ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: +৮৮-০২-৯৫৬৬৯৮৭, ০১৯১৪ ৮৭৫৬৪০  |  ফ্যাক্স: +৮৮-০২-৯৫৬৬৩৯৮

ইমেইল: editor@weeklymanchitra.com, manchitra.bd@gmail.com
©  |  Amader Manchitra

Developed by   |  AminMehedi@gmail.com