আমাদের মানচিত্র  |  বর্ষ: , সংখ্যা:     ঢাকা, বাংলাদেশ  |  আজ শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৭  |  




চলতি সংখ্যার প্রচ্ছদ



বর্ষ: ৪, সংখ্যা: ৪৪
রবিবার, ১ জানুয়ারী ২০১৭










free counters






স্বাস্থ্য পড়া হয়েছে ৩৭৪ বার

অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার ও স্বাস্থ্যহানির ভয়ঙ্কর ঝুঁকি

রবিউল ইসলাম সোহেল


দেশে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের মাত্রা বাড়ছে বিপজ্জনকহারে। এরফলে অনেক ক্ষেত্রে এর প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যাচ্ছে। এতেই স্বাস্থ্যহানির ঝুঁকিতে পড়ছে রোগীরা। বিভিন্ন অলিগলির দোকানিরাও এখন ডাক্তার! দোকানদাররা শুধু অ্যান্টিবায়োটিক দিয়েই ক্ষতিসাধন করেন না, বেশির ভাগ সময় তারা অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো কোর্স না দিয়ে দুই-এক ডোজ প্রদান করেন। যেটা রোগীর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বলে দেশের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। বাইরের দুনিয়ায় রোগীকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার পরামর্শ তো দূরের কথা, ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির কোনো নিয়ম নেই বলেও তারা উলে­খ করেন। অথচ আমাদের দেশে এই ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ ব্যাপক উদাসীন বলে উলে­খ করেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমাদের হাতে কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিকের সংখ্যা দিনে দিনে কমে আসছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোয় সংক্রামক রোগ বেশি, অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজনও বেশি। কিন্তু বিশ্বে যত ওষুধ তৈরি হচ্ছে তার মাত্র নয় ভাগ কেনে উন্নয়নশীল দেশগুলো। উন্নত দেশগুলোর দৃষ্টি এখন অসংক্রামক ব্যাধির দিকে। উন্নত দেশগুলো নতুন অ্যান্টিবায়োটিক তৈরিতে খুব একটা আগ্রহী নয়। কাজেই বিষয়টি বেশ উদ্বেগজনক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলছে, একদিকে যেমন আরও নতুন নতুন অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার হওয়া প্রয়োজন তেমনি একই সঙ্গে সরকার ও সাধারণ মানুষের উচিত হবে অ্যান্টিবায়োটিকের সুচিন্তিত ব্যবহার নিশ্চিত করা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন যা বলছে: গেলো বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহারে জীবাণুগুলো ওষুধ প্রতিরোধী এবং ওষুধের বিরুদ্ধে লড়াই করে টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জন করছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটানো সম্ভব না হলে অচিরেই খুব সাধারণ সংক্রমণ, সামান্য কাটাছেঁড়া থেকে মৃত্যু হবে মানুষের। বিশ্বের ১১৪টি দেশ থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অ্যান্টিবায়োটিকের ওপর প্রথম প্রতিবেদন দিয়েছিল সেই বছর। সাধারণত ব্যাকটেরিয়া, প্যারাসাইট, ভাইরাস অথবা ছত্রাকজনিত কারণে সৃষ্ট রোগের চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। অ্যান্টিবায়োটিক কাজ না করার ঝুঁকির বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাধারণ স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তাবিষয়ক কর্মকর্তা। বিশ্বব্যাপী অনেক সংক্রমণের ঘটনাই একটি নিত্যদিনের বিষয়।
নিউমোনিয়ায় সংক্রমিত হয় ফুসফুস, মূত্রনালীতে সংক্রমণ হয়, রক্তপ্রবাহে সংক্রমণ ঘটে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায় ডায়রিয়ার সংক্রমণ এবং যৌনসংসর্গের কারণেও বিভিন্ন যৌনরোগ সংক্রমণের বিস্তার ঘটে। বিশ্বের সর্বত্রই নিয়মিতভাবে এসব সংক্রমণ ঘটছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যেসব রোগের সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে সেসব দেশে ওইসব রোগ মোকাবিলার ক্ষমতা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে তুলা ধরা হয়। প্রতিবেদনে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও রক্তের সংক্রমণের জন্য দায়ী সাতটি আলাদা ধরনের ব্যাকটেরিয়া নিয়ে গবেষণার তথ্য উপস্থাপন করা হয়। বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের রোগীদের ওপর দুটি প্রধান অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করে দেখা গেছে, এগুলো আর কাজ করছে না। এদের একটি কার্বাপেনম। নিউমোনিয়া, রক্তে প্রদাহ ও নবজাতকদের দেহে প্রদাহের মতো রোগ নিরাময়ে এই অ্যান্টিবায়োটিকটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অ্যান্টিবায়োটিক কাজ না করার কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, চিকিৎসকরা এ ধরনের ওষুধ বেশি ব্যবহার করায় এবং রোগীরা ওষুধ ঠিকমতো না খাওয়ায় জীবাণু ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে। মূত্রতন্ত্রের প্রদাহে যে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হচ্ছে গত শতকের আশির দশক থেকে তা খুব কম কাজ করছিল। বর্তমানে এ রোগের ওষুধ একেবারেই অকার্যকর হয়ে গেছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়। গনোরিয়ার মতো রোগে বছরে ১০৬ মিলিয়ন লোক আক্রান্ত হচ্ছেন।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ, হাসপাতালে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং রোগ প্রতিরোধে টিকা ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয় অঞ্চলে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে চলেছে। পৃথিবীর এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এ অঞ্চলেই বাস করে। এই অঞ্চলের কিছু কিছু অংশে অ্যান্টিবায়োটিক এখনই কোনো কাজ করছে না বলে প্রতিবেদনে উলে­খ করা হয়।
আমাদের দেশে জীবাণুগুলো ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে ওঠার অন্যতম কারণগুলোর একটি ওষুধের দোকানগুলোতে কোনো ধরনের ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ বিক্রি করা। অনেক সময় দেখা যায়, ওষুধ বিক্রেতারাই হয়ে ওঠেন ডাক্তার। সামান্য জ্বর সর্দিতেও কোনো বাছবিচার না করে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে বলেন, এটা খান ঠিক হয়ে যাবে। এটি অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। দোকানদাররা শুধু অ্যান্টিবায়োটিক দিয়েই ক্ষতিসাধন করেন না, বেশিরভাগ সময় তারা অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো কোর্স না দিয়ে দুই-এক ডোজ প্রদান করেন। যেটা রোগীর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বাইরের দেশে রোগীকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার পরামর্শ তো দূরের কথা, ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির কোনো নিয়ম নেই। অথচ আমাদের দেশে এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ ব্যাপক উদাসীন।
আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষের আশ্রয়স্থল গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে থাকা পল­ী চিকিৎসকরা। অ্যান্টিবায়োটিক সম্পর্কে কোনো ধরনের জ্ঞান না থাকার পরও একশ্রেণির পল­ী চিকিৎসক তাদের ব্যবস্থাপত্রে অ্যান্টিবায়োটিক লেখেন। শুধু তাই নয়, রোগীকে দ্রুত সারিয়ে তোলার জন্য কোন কোন পল­ী চিকিৎসক একসঙ্গে কয়েক পদের অ্যান্টিবায়োটিক লিখে থাকেন। এই অ্যান্টিবায়োটিকে বিরোধী ব্যাক্টেরিয়াগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জন করে।
এদিকে, অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া বা কেনার মাধ্যমে যে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় তার জন্য অনেক সময় দায়ী রোগী বা তার অভিভাবক নিজেই। ডাক্তাররা রোগ বুঝে কয়েক দিনব্যাপী অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার কথা বলেন। অর্থাৎ সাত দিন বা ১৫ দিনের কোর্স কমপ্লিট করতে বলেন। কিন্তু অসচেতন রোগীরা তিন-চার দিন অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার পর সুস্থ হয়ে গেলে আর খান না। ফলে পরবর্তীতে ওই অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করে না। এভাবেই রোগীদের অসচেতনতার ফলে অ্যান্টিবায়োটিক তার কার্যকারিতা হারায়।
ফলে শরীরের ভেতরে নিস্তেজ হয়ে যাওয়া রোগ জীবাণুগুলো অ্যান্টিবায়োটিক বিরোধী হয়ে ওঠে এবং পরে আবার সক্রিয় হয়ে অ্যান্টিবায়োটিককে অকার্যকর করে দেয়। ফার্মেসির কর্মচারী বা মালিকই ডাক্তার হয়ে যান। এটা সত্যিই জনস্বাস্থ্যের জন্য অনেক বিপজ্জনক। মূলত এসব কারণেই অ্যান্টিবায়োটিক তার কার্যকারিতা হারাচ্ছে এবং সামনে আমাদের জন্য কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। এখনই অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে বলে তারা মনে করেন।
ডাক্তারদের চিকিৎসা প্রদানের ক্ষেত্রে ত্রুটির বিষয়টি তুলে ধরে অনেক চিকিৎসকই বলেন, আমরা ডাক্তারদের একটি সমস্যা আছে। অনেক সময় দেখা যায়, যেখানে অল্প মাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক বা পুরনো একটি অ্যান্টিবায়োটিক দিয়েই কাজ হবে সেখানে রোগীকে দ্রুত আরোগ্য করার জন্য ডাক্তাররা সর্বশেষ জেনারেশনের অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার পরামর্শ দেন। অথচ এ ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক আমাদের প্রিজার্ভ করার কথা বা নির্দিষ্ট কোনো রোগে ব্যবহার করার কথা। সামান্য রোগে দ্রুত আরোগ্যের জন্য এসব অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার ক্ষতিকর। এভাবেও অ্যান্টিবায়োটিক তার কার্যকারিতা হারায়। কোনোক্রমেই রেজিস্টার্ড, ডাক্তার ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করা যাবে না। ডাক্তারদের সর্বশেষ জেনারেশনের অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ব্যাপারে আরও সংযমি হতে হবে। রোগীদের অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স পূর্ণ করার ব্যাপারে জোর দিতে হবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। অসুখ ভালো হয়ে গেলেও অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স অবশ্যই পূরণ করতে হবে। অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবস্থাপত্রে লেখার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার কথা উলে­খ করে তারা বলেন, চিকিৎসাপত্রে অ্যান্টিবায়োটিক পরামর্শ দেয়ার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা যেমন- কী ধরনের ওষুধ পল­ী চিকিৎসক প্রেসক্রিপশন করতে পারবেন সে সম্পর্কে বিধিনিষেধের অভাব রয়েছে। পাশাপাশি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো তাদের বর্ণিত মাত্রার ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চয়তা দেয় না বলেও জানান বিশেষজ্ঞরা। অ্যান্টিবায়োটিক ভবিষ্যতে ব্যবহার করার জন্য ঘরে সংরক্ষণ করা যাবে না। এতে ওষুধের কার্যকারিতা নষ্ট হয়। অ্যান্টিবায়োটিক সিরাপ একবার ব্যবহারের পর কিছু দিন গ্যাপ হয়ে গেলে সেই সিরাপের মেয়াদ দীর্ঘদিন থাকলেও তা ব্যবহার করা যাবে না।










  একনজরে চলতি সংখ্যা

  সম্পাদকীয় : স্বাগত ২০১৭! প্রশস্ত হোক সমৃদ্ধি অর্জনের পথ
  গল্প : অন্তরালবাসিনী
  অনুগল্প : দোলা
  ফিচার : জিগোলো! রমরমা এক ব্যবসা
  প্রবাস : মৃত্যুর অধিকার
  বিশ্লেষণ : রোহিঙ্গা নিধনে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ ও ভূরাজনীতির সঙ্কটে বাংলাদেশ!
  চমক! : পলিটিশিয়ান অব দ্যা ইয়ার শেখ হাসিনা
  মতামত : রাজধানীর যানজট সমাধান অসম্ভব নয়
  আন্তর্জাতিক : ট্রাম্পের পরমাণু ঘোষণায় ভয়ংকর পথে বিশ্ব!!
  প্রচ্ছদ প্রতিবেদন : ইমেজ সংকটে বিমান!
  অনুসন্ধান : ইতিহাসের কালো অধ্যায়, মানুষ হয়েছে গিনিপিগ!
  রাজনীতি : রাষ্ট্রপতির সাথে সংলাপ, বাড়ছে অচলাবস্থা অবসানের প্রত্যাশা
  মুক্তিযুদ্ধ : অপারেশন নাট ক্র্যাক
  বিশেষ প্রতিবেদন : জামায়াতের অন্তর্দ্ব›দ্ব চরমে...
  প্রতিবেদন : নাসিকে পরাজয়ে বিএনপিতে অস্বস্তি
  স্বাস্থ্য : অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার ও স্বাস্থ্যহানির ভয়ঙ্কর ঝুঁকি
  ফিচার : মাঞ্জারুল ইসলাম জিপিএ ৫ পেয়েছে
 
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবদুল্লাহ আল-হারুন   |  সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ জিয়াউল হক   |  প্রধান সম্পাদক : আসিফ হাসান

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: দেওয়ান কমপ্লেক্স, ৬০/ই/১ (৭ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: +৮৮-০২-৯৫৬৬৯৮৭, ০১৯১৪ ৮৭৫৬৪০  |  ফ্যাক্স: +৮৮-০২-৯৫৬৬৩৯৮

ইমেইল: editor@weeklymanchitra.com, manchitra.bd@gmail.com
©  |  Amader Manchitra

Developed by   |  AminMehedi@gmail.com