আমাদের মানচিত্র  |  বর্ষ: , সংখ্যা:     ঢাকা, বাংলাদেশ  |  আজ বূধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭  |  




চলতি সংখ্যার প্রচ্ছদ



বর্ষ: ৪, সংখ্যা: ৪৪
রবিবার, ১ জানুয়ারী ২০১৭










free counters






গল্প পড়া হয়েছে ৩১৪ বার

অন্তরালবাসিনী

উম্মে কুলসুম



প্রথম পর্ব
হোস্টেলে পৌঁছাতে রূপকের অনেক বেলা হল। দশটা প্রায় ছুঁই ছুঁই। ইচ্ছে ছিল সকাল আটটার মধ্যে পৌঁছে যাবে। সে কারণে ভোর পাঁচটার প্রথম বাস ধরতে মাঝ রাতে উঠে বসেছিল। কিন্তু মায়ের হাউ মাউ কান্না আর বাপের চোখের পানি থামাতে অনেকটা সময় খামোখা ব্যয় হয়ে গেছে। হোস্টেলের বারান্দায় মালামালগুলো নামিয়ে রাখল সে। মালামাল বলতে তোষক, মশারি, বেডসিট, কাঁথা আর একটা তালাবদ্ধ ট্রাংক। আশেপাশে কাউকে দেখা যাচেছ না, অগত্যা এই অবস্থায় সবকিছু ফেলে রেখে সে কলেজে গেলো। কারণ এখুনি তাকে ক্লাসের জন্যে ছুটতে হবে। এ কলেজে আজই তার প্রথম ক্লাস। ক্লাস রুমটার খোঁজখবর নিতে নিতে কিছুটা সময় পার হয়ে গেলো। অবশেষে গন্তব্যে এসে বুঝল, রুমের ভিতরে আজকের পাঠের উপর জমজমাট আলোচনা চলছে। রূপক কিছুক্ষণ চিন্তা করল, ঢুকবে কি ঢুকবে না? হঠাৎ মার কথা মনে হলো- সবসময় আলহামদু সূরা পড়ে সামনের দিকে যাবি, কখনো পিছপা হবি না। অতএব সূরাটি পড়ে বুকে দুটো ফুঁ দিয়ে পিছনের দরজা দিয়ে সে টুপ করে ঢুকে পড়ল। বসল পিছনের বেঞ্চে। কিন্তু বিধি বাম। সবার চোঁখ এড়িয়ে গেলেও বেরসিক টিচার এর চোঁখ এড়ানো গেলো না। তিনি প্রশ্ন করলেন-
: জনাব কি নতুন আমদানি?
 সবাই ফিরে তাকালো।
:জ্বি!
:নাম?
:রূপক।
:ধাম?
:সুমন্তকাঠি।
:রুটিন জানেন?
:না।
:ঘড়ি আছে?
:না।
:এ দুটো সংগ্রহ করবেন।
:জি,ওকে।
:অতঃপর ইউজ করবেন কিন্ত।
:জি, করবো।
রূপকের কেন জানি মনে হলো বেশিরভাগ টিচারই এইরকম। ছাত্রদের তাঁরা নিছক নির্বোধ প্রাণী মনে করে। কারণে অকারণে তাই বেকায়দায় ফেলে যেমন নাজেহাল করে, তেমনি অযাচিত পরামর্শ দিতেও কৃপণতা করে না। ক্লাসটা শেষ হতেই বাইরে এলো রূপক। মেজাজটা কেমন যেন তেতো হয়ে গেছে। ক্লাস চলাকালীন তাকে নিয়ে অনেকেই অহেতুক মশকরা করেছে। আজ আর কোন ক্লাস করা যাবে না। আনমনে হাঁটতে হাঁটতে কখন যেন কলেজে গেটেই চলে এসেছে সে। হঠাৎ মাইকের শব্দ- সিনেমার বিজ্ঞাপণ। ছবির নাম-বাঘা কুত্তার বাচচা, তাঁর মনে হলো-নামটা চমৎকার। দেখলে না জানি শরীরে চাঙ্গা ভাব চলে আসবে হয়ত। টিকেট কেটে হলে ঢুকেই কেমন জানি অস্বস্তি বোধ করল সে। সিনেমা এখনো শুরু হয়নি। কিছু দর্শক মনের সুখে বিড়ি টানছে, কেউ বিচিত্র কায়দায় শীষ দিচ্ছে, আবার কেউবা গলা ফাটিয়ে চিৎকার করছে। এরি মধ্যে সিনেমা শুরু হয়ে গেলো। কিছুক্ষণ দেখার পর মনে হলো, এই ধরনের ছবি এর আগে সে অনেক দেখেছে। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একি ঘটনা, ধুম-ধাড়াকা নাচ। এর সাথে সুড়সুড়ি দেয়া গান, খামোখা চিৎকার-চেচামেচি, মারামারি, ফাটাফাটি। ভাল লাগছে না, বেরিয়ে এলো সে। এখন আর কোথাও নয়, হোস্টেলে ফিরে খেয়ে দেয়ে টানা বিশ্রাম। হোস্টেলে ফিরে দেখে বেড পত্র যথাস্থানে নেই। কিন্তু খিদেই পেটটা এত বেশি চোঁ চোঁ করছে যে, খোঁজ নিতে ইচেছ হলো না। ডাইনিং এ গেলো। অর্ডার না থাকায় বাবুর্চিরা বার দিতে অপারগতা জানল। অগত্যা এক ঠোঙ্গা মুড়ি আর একটা কলা কিনে চিবুতে লাগলো, খাওয়া শেষে বিছানাপত্রের খোঁজ নিতেই জানল, হোস্টেলের কাজের ছেলেটা কোথায় যেন রেখেছে। একটু পরেই ছেলেটাকে পেল।

দ্বিতীয় পর্ব
:তোর নাম কি?
:বিলা।
:বিলা কারো নাম হয় নাকি -
:মুই কি জানি, বাপ মায়ে রাখছে।
:তাইলে ঠিক আছে। তা বাবা বিলা! আমার বেডটা কোথায় রেখেছ?
:রাখছি, জায়গা মতন।
:তার মানে-
:আসেন মোর সাথে,-দেখাইতেছি।
বিলার পিছনে যেতে যেতে হোস্টেলের ছাদে উঠে গেলো রূপক। তাঁর মনে হলো বেটা একটা আস্ত ফাজিল। বেডিংটা ছাদে ফেলে রেখেছে বোধহয়। ভীষণ রেগে গেলো সে-
:এই বেটা ছাগল! তুই আমাকে ছাদে আনলি কেন?
:ছার তাঁর আগে কন, আপনি কি মোর উপর রাগ করছেন?
:অবশ্যই,
:খুব বেশি?
:হ,
:তাইলে এখন থাক।
:কি থাকবে?
:বেডিং দেখান।
:তুই কি ইয়ার্কি করিস নাকি আমার সাথে!
:ছি ছি কি যে বলেন ছার, ইয়ার্কি করবো কেন! তুই রাগ না কমলে দেখান যাবেনা।
:আমার রাগ এত তাড়াতাড়ি কমবে না।
:এক কাম করেন ছার।
:কি?
:গান ধরেন।
:তাঁর মানে।
:এখুনি রাগ পড়ে যাবে।
:এই মুহূর্তে কোন গান মনে পড়ছে না।
:দয়া করে একটু চেষ্টা করেন ছার।
:আচ্ছা চুপ থাক,তাহলে -
বেসুরো গলায় গান ধরল রূপক -
মিলন হবে কত দিনে
আমার মনের মানুষের সনে -
অন্যদিকে বিলা তাঁর সব কটা দাঁত বের করে হাসছে,
:ছার গানে কি কাম হইছে?
:মনে হয় হইছে।
:তয় আহেন।
ছাদে উঠার সিঁড়ি ঘরটার পাশের রুমে গেলো দুজন। বেডিংটা সেইখানে আছে। রূপকের পছন্দ হলো। বেশ নিরিবিলি রুম। একটা মাত্র।খাট ছোট হলেও মন্দ নয়। চারিদিক খোলামেলা। ইচেছ মত সামনের ছাদে ঘোরাঘুরি করা যাবে
:ছার কামডা কি। খারাপ করছি?
:না।
:তাহলে থাংকু বলেন।
:থাংক ইউ।
:ওয়েল কাম।
রূপক প্রকৃতই একজন ভাল মানুষ। পৃথিবীর সকল ভাল মানুষরা একটু সরল সোজা হয়। রূপক সেইদিকে থেকে একেবারে প্রথম সারির। কিন্তু ঘটনা হলো কলেজে কিংবা হোস্টেলে কেউ তাঁর সাথে মিশতে চাই না। তাহলে কি সবাই তাকে অপছন্দ করে? কিন্তু কেন? এর কোন উত্তর সে।ুঁজে পাইনি আজও।
তাহলে কি তাঁর চেহারা টা দৃষ্টিকটু না, তাও নয়। এই বেপারে সে আইনার সামনে দাঁড়িয়ে বহু পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছে। এ নিয়ে কোন সন্দেহজনক কিছু তার চোখে পড়েনি। আর একটা বিষয় সে দেখেছে -স্কুল,কলেজ থেকে শুরু করে এ পযন্ত অনেক মেয়েই কারণে অকারণে তার দিকে তাকিয়ে থাকে।
চেহারা ভাল না হলে তাঁরা এভাবে তাকে দেখবে কেন? তাছাড়া চেহারা। খারাপ এমন অনেকেই আছে যাদের অনেক বন্ধু বান্ধবী। তাহলে কারণ টা কি? সবাই কি তাকে বোকা ভাবে? আর বোকা বলেই কি তার সাথে কেঊ মিশে না? খুবই চিন্তার বিষয়। কিন্তু দুঃখের কথা কোন কিছু নিয়ে বেশিক্ষণ সে চিন্তা করতে পারে না। মাথা ঝিম ঝিম করে। গা বমি বমি করে। তার চেয়ে একা একা থাকায় ভাল। আপাতত একজন কবির কথা মনে করে সে নিজেকে সান্ত্বনা দিল।  ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলরে’ রূপক শতভাগ নিশ্চিত- এই কবির সাথেও তারই মত কেউ মিশত না।
 
তৃতীয় পর্ব
রূপকের প্রতিদিনের রুটিন এখন ছকে বাঁধা। কলেজে যাওয়া। ক্লাসের পিছন সারিতে বসা। রুমে ফেরা। খাওয়া দাওয়া। একটু ঘুমানো। আর বিকেলে কলেজের পাশের ছোট পার্কটার একটা বেঞ্চে কিছুক্ষণ একটু বসে থাকা। একসময় সেখান থেকে রুমে ফিরে সন্ধায় বই নিয়ে বসে। তবে বেশিখন পড়তে ইচেছ করে না। তখন সে চুপ চাপ শুয়ে থাকে। কখনো কখনো শুয়ে শুয়ে আকাশের তারা গুনে। আজও যথারীতি পার্কের সেই নিদৃষ্ট জায়গাটাতে রূপক বসে আছে। একসময় একজন বুড়ো মত লোক এলো সেখানে। লোকটির মাথা ভর্তি উসকো।ুশকো কাঁচা পাঁকা চুল। মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি গোঁফ। পরনে লুঙ্গি ও পাঞ্জাবি। লোকটি রূপকের কাছে জানতে চাইল-
:আমি কি বসতে পারি?
:এর আগে আপনাকে তো বসা অবস্থায় দেখিনি। আমি কি করে জানব, আপনি বসতে পারেন কিনা!
:না, বিষয়টি তা নয়।
:তবে?
:বলছিলাম যে,আপনার পাশে কি একটু বসব?
:কেন? একেবারে আমার পাশেই বসতে হবে এমন কোন কারণ আছে! একটু দূরে বসলে কী হয়?
:আচ্ছা একটু দূরেই বসি তাহলে।
লোকটি বেঞ্চের ওপর মাথায় বসলো। কিছুক্ষণ দুজনে চুপচাপ। তারপর লোকটি বলল -
:জানতে চাইলেন না, আমি কে? কোথায় থাকি?
:আমার মন বলছে, আপনি নিজের থেকেই সব বলবেন। সে জন্যে জানতে চায়নি।
:ঠিকই বলেছেন। আমি বেশিক্ষণ চুপ করে থাকতে পারিনা। তা যা বলছিলাম-আমি হনুমান আলী। মানে বাপের দেয়া নাম। তবে এখন অবশ্য ওই নামে আর কেউ ডাকে না।
:এত নাম থাকতে আপনার বাবার হনুমান নাম টাই পছন্দ হলো কেন?
:এর পিছনে মস্ত এক ইতিহাস আছে।
:ইতিহাস!
হা, তাহলে শুনুন, আমি যখন মায়ের পেটে তখন একদিন এক হনুমান আমার মায়ের আঁচল ধরে টেনেছিল। পরে আমার জন্মের পর বাবা আমাকে দেখেই চিনতে পারলেন,আমি সেই হনুমান। সেখান থেকে আমি হয়ে গেলাম হনুমান আলী। অবশ্য কথাটা আমারও বিশ্বাস হয়। কারণ আমি হনুমানের ছবি। খুবই ভাল আঁকতে পারি।
:খুবই মজার বেপার তো।
:মজার কী বলছেন ,এটা একটা জীবন্ত ইতিহাস। তবে এখন তা কালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
:সে কেমন?
:এই ইতিহাস বিকৃতির যুগে আমি হনুমান আলী থেকে হয়ে গেছি কেরামত আলী।
:কীভাবে?
:বাবার মৃত্যুর পর মাদ্রাসার এক হুজুর আমার নাম দিয়েছে কেরামত আলী। তার বক্তব্য আমি বেঁচে থাকলে জীবনে বহু কেরামতি দেখাতে পারবো। সেই থেকে আজঅবধি এই নামেই টিকে আছি। থাকি পাশের। খাটিয়া পাড়ায়। মাঝে মাঝে বিকেলে এই পার্কটাতে ঘুরতে আসি। ছি ছি এতক্ষণ শুধু আমি একাই বক বক করছি।
তা বাবাজী আপনি কোথায় থাকেন?
:হোস্টেলে।
:পড়েন বুঝি?
:জি।
:কোন ক্লাসে?
:বি এ।
:প্রায় দেখি এই। এখানে এসে একা একা বসে থাকেন?
:কেউ আমার সাথে মিশতে চাই না তো তাই।
:তাই নাকি? এ সমস্যা তো আমার ও। তা আপনি কী জানেন ,লোকে কেন আপনার সাথে মিশে না?
:না ,এর কারণ আজও আমি জানিনা !
:আর একটা প্রশ্ন করবো?
:করেন।
:আপনি বোকা না বুদ্ধিমান?
:ঠিক বুঝতে পারিনা।
:তার মানে?
:মাঝে মাঝে নিজেকে বুদ্ধিমান মনে হয়।
:কোন সময় বলতে পারবেন?
:ছোট বাচ্চা আর পাগলের সাথে যখন কথা বলি।
:আমি যদি একটা ধাঁধাঁর মাধ্যমে আপনাকে এই বিষয়এ পরীক্ষা করি, আপনি কী রাগ করবেন?
:না, রাগ করবো কেন! বরং আমি যে কী, এটা জানতে পারলে। খুশি হব।
:তাহলে শোনেন, মনে করেন পূর্বদিক থেকে কয়েকটি কিছু পাখি উড়ে আসছে। ঠিক একই সময়ে পশ্চিম দিক থেকেও একটা পাখি উড়ে এলো। সামনা সামনি হতেই পশ্চিম দিকের পাখিটি পূর্বদিকের প্রথম পাখির দলের সরদার কে বলল,
:তোমরা কয় দলে আসছ?
:কোন দলে কতজন?
:তাহলে শোন,
আমরা আসছি যত
আর আসছে তত
আর আসবে আধা
আর আসবে পোয়া
তুমি এলে হবে শ,
কেরামত আলী রূপকের কাছে জানতে চাইল,
বলেনতো প্রথম দলে কটি পাখি ছিলো?
:জানিনা।
:হিসেব করে বলেন,
:আমি এতসব জটিল হিসেব করতে পারিনা।
:জটিল কোথায়? প্রথম দলে যত টি দিতীয় দলেও ততটি, তৃতীয় দলে প্রথম দলের অর্ধেক, চতুর্থ দলে প্রথম দলের সিকি এবং চার দল মিলে নিরানব্বইটি।
:তবুও পারবোনা।
:পারলেন না। তাহলে উত্তরটা আমিই বলি, প্রথম দলে ছিল ....টি পাখি।
:তা হবে হইতো।
:আপনি পিতা পুত্রের অংক করেন নি? যেখানে তাদের বয়স এর সমষ্টি দেয়া আছে। এবং পরে জানতে চেয়েছে, পিতার বয়স পুত্রের বয়সের তিনগুণ হলে পিতার বয়স কত?
:না, ঐসব আজেবাজে অংক আমি করিনি।
:আজেবাজে কেন?
:নয়তো কী? পিতার বয়স যায় হোক জানার দরকার কী ?আর আসল কথা বলতে কী এইরকম আরও অনেক অংক আছে যেগুলো দেখলেই আমার মাথা ঝিম ঝিম করে, গা বমি বমি করে এবং চোখে ঝাপসা দেখি।
:যেমন, বলেনতো দু একটার কথা।
:এই যেমন বাঁশের গায়ে তেল মাখিয়ে বাদরকে বাঁদরামি করতে বলা। চৌবাচ্চা ভর্তি করার পর ফুটো করে পানি বের করা। চালে কাঁকর মেশান। দুধে পানি মেশানো, এইসব।
:কিন্তু অংক না করে নিচের ক্লাস থেকে উপরের ক্লাসে গেলেন কী করে?
:হেঁটে হেঁটে। আমাদের স্কূল এ এটাই নিয়ম ছিল। কোন ক্লাসে এক বছরের বেশি থাকা যাবে না।
:সব বিষয়ে ফেল করলেও?
:জি, কারণ নিচের ক্লাস থেকে ছাত্রছাত্রী না গেলে উপরের ক্লাস চলবে কী করে। আবার সব ক্লাসে ছাত্র-ছাত্রী না থাকলে ¯কুল চলবে না। স্কুল না চললে টিচার রা নিরুপায় হয়ে পড়বে। অর্থাৎ একটার সাথে অন্যটার সম্পর্ক জড়িয়ে আছে।
:এতক্ষণ পরে কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছি। এবার বলেন এসএসসি পাশ করলেন কীভাবে?
:এটা। খুবই তুচ্ছ বিষয়ষ কারণ আমি পড়াশোনা করেছি, আক্কু মিঞা কলেজিয়েট স্কুল থেকে। এখনকার নিয়মেই হলো সবাইকে পাশ করতেই হবে। জানেন-আমাদের স্কূল এর দফতরি আর আয়াকেও এখান থেকে এস এস সি পাশ করান হয়েছে। তবে আয়াটার পাশ করতে সময় লেগেছে পাঁচ বছর। শেষপর্যন্ত টাকার জন্যে একজন ভাড়াটে ছাত্রী নিতে হয়েছিল।
:পরীক্ষার হলে গার্ড থাকেনা।
:থাকে, কিন্তু তাদের উপর নির্দেশ থাকে সবাই দেখবে, কাউকে কিছু বলবেনা।
:বাহ, বেশ ভাল নিয়ম তো।
:হা, আমাদের আক্কু মিঞা যত দিন বেঁচে থাকবে এই নিয়মই থাকবে।
:আক্কু মিঞা তো তাহলে অসীম ক্ষমতার অধিকারী।
:থাকবে না উনি একসময় এদেশের বিখ্যাত একজন সি আর সি ছিলেন।
:সি আর সি কী?
:চিফ রাজাকার কমান্ডার।
:এবার পুরোটাই বুঝলাম -যায় হোক বিষয় টা বুঝতে পেরে আমার ও স্বস্তি লাগছে।
এসএসসি এবং ইন্টার তাহলে ভাল ভাবেই পার করেছেন?
:না তেমন ভাল করতে পারিনি দুটো তেই থার্ড ডিভিশন।
:আপনি মাকাল ফলের অর্থ জানেন?
:না।
:আমি ধরতে পেরেছি।
:কি?
:আপনার সাথে কারো না মেশার কারণ। তবে এখন মতামত প্রকাশ করা ঠিক হবে না।
আজ তাহলে উঠি। কালকে এই বিষয় এ কথা হবে। রূপক ঠিক করল আজ থেকে আর পার্কে আসবে না।
 
চতুর্থ পর্ব
রূপক এখন নিয়মিত কলেজে যায়। হোস্টেলে ফিরে। খায় দায় আর শুয়ে বসে সময় কাটায়। আজ পূর্ণিমা রাত। চারিদিকে ধবধবে আলো। পুরো ছাদটা যেন আলোর বন্যাই ভাসছে। কিছুতেই ঘুম আসছে না। রূপক ছাদে এসে দাঁড়াল। অসম্ভব এক ভাল লাগা কাজ করছে। এভাবে যে কতক্ষণ দাঁড়িয়ে আছে মনে নেই। এমন সময়ই একটা ফুলের গন্ধ ভেসে এলো। মিষ্টি সুবাস। রাশি রাশি। প্রতিটি প্রশ্বাসের সাথে যেন মাদকতার নেশা ধরছে। কিন্ত কোথা থেকে আসছে এ মাতাল করা সুবাস? চারতলা বিশাল বিল্ডিংয়ের ছাদে এতরাতে ফুলের গন্ধ পাওয়ার তো কথা না। কারণ এর চার পাশে কোথাও কোন ফুলের গাছ নেই। তবু সে কি করে এমন সুবাস.......
চারিদিকে তাকালো। ভাল করে দেখল। হঠাত ছাদের অন্ন প্রান্তে পানির ট্রাংক এর কাছে চোঁখ আটকে গেলো, একি! কে এখানে! দুধের মত সাদা পোশাক পরে ছাদের কার্ণিশে বসে আছে। এ মুহূর্তে কি করা উচিত তা মাথায় আসছে না। মাথা ঝিম ঝিম করছে। গা বমি বমি করছে। সে বসে পড়ল।
একটু সুস্থ হয়ে দু বার আলহামদু সূরা পড়ে বুকে ফুঁ দিল। তারপর ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলো সে। কাছে গিয়ে দুবার গলা। খাকারি দিল। কিন্ত কোন পরিবর্তন হলো না। ঠিক আগের মত। সে জানতে চাইল কে আপনি? কোন উত্তর নেই। রূপক এগিয়ে গেলো।। খানিকটা দূরে সেও কার্ণিশে বসলো। এত পরে সুগন্ধের জায়গা। খুঁজে পেল সে। আরও একটা বিষয় সে বুঝতে পারল, যে বসে আছে সে পুরুষ নয়-একটা মেয়ে। একসময় নারী মূর্তিটি তার দিকে ফিরে তাকালো। রূপক আচমকা এক ধাক্কা খেল। ভাগ্যিস দু হাতে কার্নিশটা ধরা ছিল। না হলে একেবারে গড়িয়ে পড়ত নিচে। নিজের চোখকে সে বিশ্বাস করতে পারছেনা। ঠিক ঠিক দেখছে কিনা। নিজের পেটে একটা চিমটি কাটল সে। উফ। খুব লাগে। তাহলে এটা কল্পনা নয়। নিজের মনে বিড়বিড় করে বলল সে। কিন্তু কোন মেয়ের চেহারা এত সুন্দর হতে পারে তা তার কল্পনারও অতীত ছিল। যদিও তার কল্পনা শক্তি। খুবই কম। সে বলল -
:কে আপনি?
:অহনা।
:এখানে এলেন কীভাবে?
:জানিনা।
:তার মানে?
:বাসায় ঘুমিয়ে ছিলাম। জেগে দেখি এখানে বসে আছি।
:তাজ্জব বেপার!
:আমারও সেই রকম মনে হচেছ।
:বাড়ি কোথায়?
:মনে পড়ছে না।
:অসাংঘাতিক ব্যাপার!
এখন কি করবেন?
:এখানে বসে থাকব।
:বাড়িতে কে কে আছে?
:মনে করতে পারছিনা।
:আপনি মনে হয় ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখেছিলেন?
:কেন? বলুন তো?
:না, শুনেছি মানুষ নাকি ঘুমের মধ্যেই অনেকে একখান থেকে অন্য। এখানে হেঁটে চলে যায়।
:হবে হইতো।
:এখন আপনাকে নিয়ে কিযে করি।
:কিছুই করতে হবেনা।
:তাই বললে কি চলে?
:কি করতে চান?
:সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করবো।
:তারপর?
:একটা মাইক ভাড়া করে মাইকিং করবো।
:কি বলবেন?
:বলব, একজন অপূরূপ সুন্দরী যুবতী গত রাতে স্বপ্নের মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে কলেজ হোস্টেলের ছাদে চলে এসেছে। এখন সে কিছুই মনে করতে পারছেনা। উপযুক্ত প্রমাণ সাপেক্ষে তার অভিভাবকদের নিয়ে যাওয়ার জন্যে আহ্বান জাননো যাচেছ।
:ভাল কথা। তাই করবেন তাহলে।
:আপনি পড়ালেখা করেন?
:বোধহয় করতে পারি।
:সে কি! এইটাও মনে করতে পারছেন না?
:না, কিছুই মনে পড়ছে না।
:আপনারা কয় ভাই বোন মনে আছে?
:হা, আমরা দু বোন। ছোট বোনের নাম মোহনা।
:বাহ্, খুব সুন্দর নাম তো। সেও কি আপনার মত সুন্দর!
:কেন বিয়ে করবেন?
:যাহ্, আমি কি তাই বলেছি?
:তবে?
:আপনি। খুব সুন্দর তো তাই জানতে চাইলাম আর কি।
: সুন্দর না ছাই। আপনি একটু বাড়িয়ে বলছেন।
:একটুও না আমি আমর চোঁখ ছুঁয়ে বলছি, হাত ছুঁয়ে বলছি।
:আমাকে আপনার পছন্দ হয়েছে?
:খুউ ব।
:শুনে ভাল লাগলো।
:আমি আপনাকে একটু ছঁয়ে দেখব?
:কেন?
:খুব ইচ্ছে করছে।
:কারণ?
:আমার মনে হচেছ আপনার শরীরটা মাখনের তৈরি।
:তাহলে তো আবার খেতে শুরু করবেন।
:যাহ্, কি যে বলেন।
:বলা যায় না। পুরুষ মানুষের বিশ্বাস নেই।
:আমাকে আপনি বিশ্বাস করতে পারেন।
:তবুও ছোঁয়া ছুঁইই এখন থাক।
:আপনার হাতে ওটা কি?
:চুইংগাম।
:আপনি এখনো চুইংগাম। খান?
:হা, হাতে নিয়ে ঘুমিয়েছিলাম। সেই অবস্থায় চলে এসেছি ত। সে জন্যে হাতে রয়ে গেছে। ধরেন এখন আপনি এটা। খান।
:দেন, তবে আপনার সামনে। খাব না।
:কেন?
:লজ্জা করে।
:ঠিক আছে, রেখে দেন পরে সুযোগমত খেয়ে নেবেন।
হঠাৎ রূপকের কেমন ঘুম ঘুম পেতে লাগলো। চেষ্টা করেও কিছুতেই ঘুমটাকে তাড়াতে পারছে না। কথাগুলো কেমন এলোমেলো হয়ে যাচেছ। কিছুই গুছিয়ে বলতে পারছেনা। চোখের সামনে থেকে সব কিছুই যেন ঝাপসা হয়ে আসছে। একসময় একটু একটু করে সব অস্পষ্ট হতে হতে কোথায় যেন সব তলিয়ে গেলো।
তানোর, রাজশাহী










  একনজরে চলতি সংখ্যা

  সম্পাদকীয় : স্বাগত ২০১৭! প্রশস্ত হোক সমৃদ্ধি অর্জনের পথ
  গল্প : অন্তরালবাসিনী
  অনুগল্প : দোলা
  ফিচার : জিগোলো! রমরমা এক ব্যবসা
  প্রবাস : মৃত্যুর অধিকার
  বিশ্লেষণ : রোহিঙ্গা নিধনে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ ও ভূরাজনীতির সঙ্কটে বাংলাদেশ!
  চমক! : পলিটিশিয়ান অব দ্যা ইয়ার শেখ হাসিনা
  মতামত : রাজধানীর যানজট সমাধান অসম্ভব নয়
  আন্তর্জাতিক : ট্রাম্পের পরমাণু ঘোষণায় ভয়ংকর পথে বিশ্ব!!
  প্রচ্ছদ প্রতিবেদন : ইমেজ সংকটে বিমান!
  অনুসন্ধান : ইতিহাসের কালো অধ্যায়, মানুষ হয়েছে গিনিপিগ!
  রাজনীতি : রাষ্ট্রপতির সাথে সংলাপ, বাড়ছে অচলাবস্থা অবসানের প্রত্যাশা
  মুক্তিযুদ্ধ : অপারেশন নাট ক্র্যাক
  বিশেষ প্রতিবেদন : জামায়াতের অন্তর্দ্ব›দ্ব চরমে...
  প্রতিবেদন : নাসিকে পরাজয়ে বিএনপিতে অস্বস্তি
  স্বাস্থ্য : অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার ও স্বাস্থ্যহানির ভয়ঙ্কর ঝুঁকি
  ফিচার : মাঞ্জারুল ইসলাম জিপিএ ৫ পেয়েছে
 
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবদুল্লাহ আল-হারুন   |  সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ জিয়াউল হক   |  প্রধান সম্পাদক : আসিফ হাসান

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: দেওয়ান কমপ্লেক্স, ৬০/ই/১ (৭ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: +৮৮-০২-৯৫৬৬৯৮৭, ০১৯১৪ ৮৭৫৬৪০  |  ফ্যাক্স: +৮৮-০২-৯৫৬৬৩৯৮

ইমেইল: editor@weeklymanchitra.com, manchitra.bd@gmail.com
©  |  Amader Manchitra

Developed by   |  AminMehedi@gmail.com