আমাদের মানচিত্র  |  বর্ষ: , সংখ্যা:     ঢাকা, বাংলাদেশ  |  আজ শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৭  |  




চলতি সংখ্যার প্রচ্ছদ



বর্ষ: ৪, সংখ্যা: ৪৪
রবিবার, ১ জানুয়ারী ২০১৭










free counters






প্রবাস পড়া হয়েছে ৩৭৪ বার

মৃত্যুর অধিকার

কেয়া মুখোপাধ্যায়


ইচ্ছে! ইচ্ছে!
সেই তো ভাঙছে, সেই তো গড়ছে,
সেই তো দিচ্ছে নিচ্ছে।।
যুগ যুগ ধরে মানুষ ইচ্ছের বশবর্তী হয়ে আছে। ইচ্ছের কোন সীমা পরিসীমা নেই। কতকমের ইচ্ছে যে মানুষের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে তারও তো কোন ইয়ত্তা নেই। শুধু ইচ্ছে বললে অবশ্য সবটা বলা হয় না। ইচ্ছে হল, ইচ্ছেপূরণ হল না, সে বড় নিদারুণ, বড় যন্ত্রণার।
যা-ইচ্ছে, ইচ্ছে করি
ইচ্ছে যেন হয় পূরণ
তবেই হবে জীবন ভরে
সপ্তরঙের বিচ্ছুরণ।
তবে সেই যে অর্থনীতির গোড়ার কথায় লেখা আছে মানুষের চাহিদা অসীম!
প্রাণমন লয়ে সেই অসীমের অভিলাষী হয়ে এত দূর ধাইবার বাসনা মনে মনে পোষণ করছে মানুষ, যে তা এখন জীবনের সীমারেখা অতিক্রম করে হাত বাড়াচ্ছে মৃত্যুর দিকে। নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে জীবনকে , এমনকি মৃত্যুর নিরিখে। চাইছে ইচ্ছামৃত্যু
কবে প্রথম এমন ইচ্ছে পোষণ করল মানুষ, তার অন্বেষণে তন্ন তন্ন করে বিশ্বজুড়ে পরিক্রমা করার ইচ্ছে হতেই মনে পড়ল ভীষ্মর কথা। হ্যাঁ, আমাদের মহাভারতের পিতামহ ভীষ্ম। পিতা শান্তনুকে বহুদিন ধরে চিন্তামগ্ন দেখে খোঁজ নিয়ে দেবব্রত জানতে পারলেন ধীবররাজের কন্যা সত্যবতীর চিন্তায় আচ্ছন্ন তিনি। দেবব্রত নিজেই ধীবররাজের সঙ্গে দেখা করলেন। ধীবররাজের শর্ত, তাঁর কন্যার সন্তানকে সিংহাসনের উত্তরাধিকার দিতে হবে। দেবব্রত কথা দিলেন, তিনি সিংহাসনের দাবী করবেন না। তাতেও। খুশী না হয়ে ধীবররাজ বললেন, তুমি না হয় বসবে না, তোমার উপর এ বিশ্বাস আমার আছে। কিন্তু তোমার পুত্ররা যদি সিংহাসনের দাবি করে? তখন দেবব্রত চরাচর সাক্ষী রেখে প্রতিজ্ঞা করলেন যে কোনদিন তিনি বিবাহ করবেন না। এই ভীষণ প্রতিজ্ঞার ফলে তাঁর নাম হল ‘ভীষ্ম’। পিতার অভীপ্সিতা কন্যা সত্যবতীকে তিনি নিয়ে এলেন হস্তিনাপুরে। পুত্রের এই কাজে আপ্লুত পিতা শান্তনু কৃতজ্ঞতা জানাতে পুত্রকে দিলেন অনায়াস মৃত্যুর বর, ‘ইচ্ছামৃত্যু’র অধিকার। মৃত্যু অমোঘ, মৃত্যু একদিন আসবেই, কিন্তু যখন তখন দুম করে এসে পড়বে না। যখন সত্যি সত্যি মনে হবে এবার জীবন থেকে ছুটি নেওয়া যায়- তখন মৃত্যুকে ডাক পাঠালে সে এসে দাঁড়াবে। ইচ্ছামৃত্যু বর পাওয়ায় শরশয্যায় শায়িত অবস্থাতেও পিতামহ ভীষ্ম মৃত্যুকে বিলম্বিত করেছেন, জীবনকে দীর্ঘায়িত করেছেন। উত্তরাধিকারীদের কল্যাণের কথা ভেবে আটান্ন দিন ধরে সূর্যের উত্তরায়নের অপেক্ষা করেছেন। যদি এত উদার আর মহান না হতেন দেবব্রত, যদি শুধু ব্যক্তিগত ইচ্ছা পূরণের জন্য পরিবার ও জীবনের স্বাভাবিক বন্ধনকে মেনে নিতেন, ভীষ্মের প্রতিজ্ঞা করে না বসতেন, তবে তো গোটা মহাভারতটাই অন্যভাবে লেখা হত!
তা সেকালে নাহয় ইচ্ছামৃত্যুর বর পাওয়া যেত। কিন্তু একালে? এখন আর বর দেবে কে? তাই মৃত্যুর ইচ্ছাকরলেই আর তা পূর্ণ হয় না। অন্য নানা পদ্ধতির সাহায্য নিতে হয় সেই ইচ্ছা পূরণের জন্যে তবে এই মৃত্যুর ইচ্ছা মানে কিন্তু আত্মহত্যা নয়। প্রশ্ন হল, একজন মানুষ মৃত্যু চাইবে কেন? মৃত্যু মানুষ তখনই চায়, যখন জীবনটাকে বয়ে নিয়ে চলা তার কাছে খুব দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। যখন তার মনে হয়, ‘ ফুরায়েছে জীবনের সব লেনদেন। ’ এই জগতের কাছ থেকে তার আর কিছু পাওয়ার নেই, দেবারও নেই। শুধু আছে অস্তিত্বকে বয়ে নিতে চলার তাড়নাটুকু। সেই অস্তিত্ব যদি অসহায়, অসুস্থ, অথর্ব কিংবা পরমুখাপেক্ষী হয়, তখন মৃত্যুর ইচ্ছাটাও তীব্রতর হয়।
এ তো গেল স্বেচ্ছামৃত্যুর কথা। এই স্বেছামৃত্যু আর আত্মহত্যা কিন্তু এক নয়। মানুষ যখন বহু বাসনায় প্রাণপণে কিছু চায়, তা সে যা- ই হোক, অর্থ, যশ, প্রতিপত্তি, খ্যাতি, কিংবা এইসব কিছুই নয়, চায় শুধু আর একজন মানুষকে; আর যদি তার সেই চাওয়া- পাওয়া না মেলে, উল্টে আরো দূরে সরে যায় মরীচিকার মত, তখন সেই চাওয়া আর পাওয়ার মধ্যেকার উত্তরোত্তর বেড়ে চলা দূরত্ব জন্ম দেয় ক্ষোভের। ক্ষোভের থেকে জন্ম নেয় হতাশা আর তার থেকেই মৃত্যুর ইচ্ছে বা আত্মহনন। আত্মহননের মধ্যে কোথায় যেন একটা আত্মকেন্দ্রিকতা আছে সুনিশ্চিতভাবে। যখন মানুষ তার নিজের লিমিটেশন নিয়ে মোটেই ভাবে না; যা চায়, তা পাওয়ার কতটা যোগ্যতা তার আছে তা নিয়ে কোনও পর্যালোচনা করে না, শুধু অতিরিক্ত ভাবাবেগ আর ক্ষোভে হতাশ হয়ে পড়ে, তখনই জীবনটাকে শেষ করে দেবার সিদ্ধান্ত নিতে পারে কেউ অনায়াসে। কখনো কখনো আত্মকেন্দ্রিকতা ছাড়া হীনম্মন্যতাও এসে উঁকি দেয় এইসব ক্ষেত্রে। অন্য একজন যা পেল, তা আমি কেন পেলাম না, এই প্রশ্নে জেরবার হয়ে হতাশ মানুষ জীবন সম্পর্কে চরম উদাসীন হয়ে পড়ে নিজেকেই পৃথিবী থেকে সরিয়ে নেবার সিদ্ধান্ত নেয়।
বলতে দ্বিধা নেই, জীবনের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা না করে দু’বেলা মরার আগেই মরে থাকা আর শেষপর্যন্ত জীবন থেকে পালিয়ে যাওয়া একটা বড় ভুল। আর তাই আত্মহননের যুক্তি বা কারণ যা- ই থাক, আমাদের দেশে আত্মহত্যার অধিকার স্বীকৃত নয়। আবার আত্মহননের ইচ্ছা আর মৃত্যুর ইচ্ছা বা ইউথ্যানাশিয়া। এরা কিন্তু পরস্পরের থেকে আলাদা। এই সবের থেকে আলাদা ইচ্ছামৃত্যুও। ইচ্ছামৃত্যু হয়েছিল পিতামহ ভীষ্মর, হত মুনি ঋষিদের। সে এক ভারি শান্ত সমাহিত ব্যাপার। কিন্তু ইচ্ছামৃত্যু নয়, আমাদের আলোচনা ইউথ্যানাশিয়া বা স্বেচ্ছামৃত্যু নিয়ে।
ইউথ্যানাশিয়া ব্যাপারটা ঠিক কী? এর মানে কি মানবাধিকারের স্বীকৃতি? নাকি এমন স্বাধিকার থেকেই স্বেচ্ছাচারের জন্ম হতে পারে? ইউথ্যানাশিয়ার পিছনে রাজনীতি নেই তো? ধর্মই বা কী বলছে? ইউথ্যানাশিয়া নিয়ে এরকম নানা তর্ক-বিতর্ক, যুক্তি- পাল্টা যুক্তি গোটা বিশ্বজুড়ে চলছে দীর্ঘদিন। ইউথ্যানাশিয়ার পক্ষে যেমন যুক্তি আছে তেমনি বিপক্ষেও যুক্তি কম নয়। আমরা তো আর ভীষ্ম নই কেউ; তাই আমরা জানি না কবে কীভাবে মরব। অথচ মৃত্যু হল জীবনের সব চেয়ে অমোঘ সত্য। আমরা সকলেই চাই সে মৃত্যু যেন যন্ত্রণাদীর্ণ না হয়। যে মানুষ নিরাময়হীন রোগে জর্জর, যে রোগভোগে বোধশক্তিহীন, কিংবা যার অস্তিত্ব শুধু জড় বস্তুর মত, তাতে মানুষের শরীর আর মন- দুইয়েরই বড় কষ্ট হয়, বড় অমর্যাদা হয়। আসলে জীবন যখন কারো কাজে লাগে না, এমন কি নিজের কাজেও লাগে না; উল্টো নিজেকে প্রতিদিনের জীবনে পরমুখাপেক্ষী হয়ে অসহায় যাপন করতে হয়, তখন রোগীর ইচ্ছায়, তাকে সসম্মানে পৃথিবী থেকে বিদায় জানাবার ব্যবস্থাই হল ইউথ্যানাশিয়া। এতে যেমন যন্ত্রণাদীর্ণ মানুষটিকে সসম্মানে বিদায় জানানো গেল; তেমনি তার আত্মীয়-পরিজন- পরিবারও ওই নিদারুণ যন্ত্রণা প্রত্যক্ষ করা থেকে বেঁচে গেলেন। এর আবার একটা অন্যদিকও আছে। অনেকসময়ই মানুষটি হয়তো এমন শারীরিক অবস্থায় চলে গেছেন যেখান থেকে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা আর সম্ভব নয়। বোধহীন শরীর জীবিত আছে শুধু যন্ত্রের মাধ্যমে, উদ্ভিজ্জ- প্রায় প্রাণ- ধারণ আর তার জন্যে পরিবার প্রায় সর্বস্বান্ত হতে বসেছে। তখন কি কাম্য নয় তাঁর জীবনের অবসান ঘটিয়ে পরিবারটিকে বাঁচানো? সেই সিদ্ধান্ত তো ভুল নয়! না হলে এই রকম ‘লস্ট কজ’ এর জন্যে একটা জীবন বাঁচাতে গিয়ে তো পরিবারের বাকি জীবিত সদস্যদের শান্তি, সুস্থিতি, ধৈর্য , আর্থিক নিরাপত্তা সব বিঘিœত হতে পারে! কিন্তু সেই অসুস্থ, বোধহীন মানুষটির জীবনাবসানের অনুমতি কে দেবেন? পরিবারের নিকটতম আত্মীয়? না কি ডাক্তার? না কি আইনজ্ঞ? না কি তাঁর উত্তরসূরী? এটা আর এক বিতর্কিত বিষয়। অর্থই অনর্থের মূল। তাই অর্থ লোভে বা সম্পত্তির লোভে অসুস্থ মানুষটির উত্তরসূরীরা ইউথ্যানাশিয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন সেটাও খতিয়ে দেখা দরকার। আসলে স্বেচ্ছামৃত্যু বা ইউথ্যানাশিয়া নিয়ে এসব বিতর্ক আজকের নয়। এ বিতর্ক চলে আসছে কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত। ঐতিহাসিক কেম্প এর মতে উনিশ শতকের শেষ দিকে এর সূচনা। যদিও প্রাচীন গ্রীস বা রোমে এর অনেক আগে থেকেই স্বেচ্ছামৃত্যুর প্রচলন ছিল।
‘ইউথ্যানাশিয়া’ শব্দটি গ্রীক। ‘ইউ’ অর্থ ভাল, আর ‘থ্যনাটোস’ অর্থ হল মৃত্যু। শারীরিক ব্যথা- যন্ত্রণার উপশম যখন আর কোনভাবেই সম্ভব নয়, তখন সেই যন্ত্রণা মুক্তি ঘটাতে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণই হলই ইউথ্যানাশিয়া। ইউথ্যানাশিয়ার সূচনা কবে আর কোথায় খুঁজতে গিয়ে দেখি গ্রীসের কিয়া দ্বীপে আর মার্সেইলিসে হেমলক ব্যবহার করে ইউথ্যানাশিয়ার চল ছিল। সক্রেটিস স্বয়ং হেমলকের মাধ্যমে ইউথ্যানাশিয়ার প্রচলন করেন এথেন্সে। আবার সক্রেটিস, প্লেটো বা সেনেকার মত গ্রীক দার্শনিকরা জীবনাবসান ঘটাতে ইউথ্যানাশিয়ার পক্ষপাতী হলেও হিপোক্রেটিস কিন্তু এর ঘোর বিরোধী ছিলেন।
ইউথ্যানাশিয়া তিন রকম। ভল্যান্টারি, নন- ভল্যান্টারি আর ইনভল্যান্টারি। অসুস্থ ব্যক্তির সম্মতিতে স্বেচ্ছামৃত্যু হল ভল্যান্টারি ইউথ্যানাশিয়া। রোগীর সম্মতি ছাড়া ইউথ্যানাশিয়া হল নন- ভল্যান্টারি। আর স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিতে সক্ষম, এমন ব্যক্তির সম্মতি না নিয়ে বা তার অসম্মতিতে ঘটানো ইউথ্যানাশিয়া হল ইনভল্যান্টারি। এই তিন ধরণের ইউথ্যানাশিয়াকে আবার দু’ভাগে ভাগ করা যায় - অ্যাক্টিভ ইউথ্যানাশিয়া আর প্যাসিভ ইউথ্যানাশিয়া। অ্যাক্টিভ ইউথ্যানাশিয়াতে কোন প্রাণঘাতী ওষুধ বা ইঞ্জেকশন সরাসরি প্রয়োগ করা হয়। প্যাসিভ ইউথ্যানাশিয়াতে জীবনদায়ী ওষুধ, যেমন অ্যান্টিবায়োটিক কিংবা লাইফ সাপোর্ট প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। বিভিন্ন দেশে ইউথ্যানাশিয়া কার্যকর করার আইনও বিভিন্ন রকম। ব্রিটেনের হাউস অফ লর্ডস- এ মেডিক্যাল এথিকস সিলেক্ট কমিটির মতে ইউথ্যানাশিয়া হল অপরিসীম রোগ-যন্ত্রণা থেকে মুক্তির জন্য ‘ডেলিবারেট ইন্টারভেনশন’। আবার নেদারল্যান্ডের আইন অনুযায়ী ইউথ্যানাশিয়া হল রোগীর অনুরোধক্রমে ডাক্তারের মাধ্যমে তার জীবনাবসান ঘটানো। বর্তমানে নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, সুইজারল্যান্ড, এস্তোনিয়া আর আমেরিকার ওয়াশিংটন, ওরিগন আর মন্টানা রাজ্যগুলোতে ভল্যান্টারি ইউথ্যানাশিয়া আইনানুগভাবে স্বীকৃত। কানাডার কিউবেকেও ভল্যান্টারি ইউথ্যানাশিয়া আইনী স্বীকৃতি পেয়েছে ২০১১৫ সালে। নন- ভল্যান্টারি ইউথ্যানাশিয়া কোনো দেশেই আইনী স্বীকৃতি পায়নি আর ইনভল্যান্টারি ইউথ্যানাশিয়া তো খুন করার সামিল।
ভারতে অবশ্য প্যাসিভ ইউথ্যানাশিয়া আইনী স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০১১-র ৭ মার্চ সুপ্রীম কোর্ট জানান যে ‘পার্মানেন্ট ভেজিটেটিভ স্টেট’ - এ দীর্ঘদিন থাকা ব্যক্তির ক্ষেত্রে ‘ লাইফ সাপোর্ট ’ প্রত্যাহার করে পরোক্ষে স্বেচ্ছামৃত্যুকে ত্বরান্বিত করা যেতে পারে। এর পিছনেও এক নিদারুণ যন্ত্রণার কাহিনী রয়েছে। ১৯৭৩ সালের ২৭ মার্চ মুম্বাইয়ের এডোয়ার্ড কিং মেমোরিয়াল হসপিটালের নার্স অরুণা শানবাগকে যৌননিগ্রহ করার সময় ওই হসপিটালের ওয়ার্ডবয় চেন দিয়ে অরুণার শ্বাসরোধের চেষ্টা করে। ব্রেনে সাময়িকভাবে অক্সিজেন চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়ে অরুণার ব্রেন - স্টেম আর সার্ভিক্যাল কর্ড মারাত্মক জখম করে, তাকে অন্ধ করে দেয়। তখন থেকেই ‘পার্মানেন্ট ভেজিটেটিভ স্টেট’- এ অরুণা। তাঁর বন্ধু সাংবাদিক পিনাকী বিরানী মার্সি কিলিং-এর আবেদন করেন ২০১০- এ। মার্সি কিলিং এর আবেদন নাকচ করে দিলেও ঐতিহাসিক রায়ে সুপ্রীম কোর্ট প্রথমবার ভারতে প্যাসিভ ইউথ্যানাশিয়ায় সম্মতি দেন। বলা হয়, কোনো রোগী যদি দীর্ঘদিন কোমায় থাকেন, তবে তাঁকে খাবার খেতে না দিয়ে স্বেচ্ছামৃত্যুর জন্য পরোক্ষে ইন্ধন দেওয়া যেতে পারে; কিন্তু অবশ্যই পরিবারের লোক আর আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে। ‘খাবার খেতে না দিয়ে’ স্বেচ্ছামৃত্যুর এই ধারণা হিন্দু ও জৈন ধর্ম থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। এই দুই ধর্মেই না- খেয়ে মৃত্যুর অধিকার স্বীকৃত। সুপ্রীম কোর্ট বলেছেন - ‘সরংংরড়হ ড়ভ ংঁঢ়ঢ়ড়ৎঃ ঃড়।রভব’ কখনোই ‘ধপঃ ড়ভ শরষষরহম’ নয়; তাই এভাবে পরোক্ষে মৃত্যুর ইন্ধন দেওয়া কখনোই ভুল সিদ্ধান্ত নয়।
মনে পড়ছে স্প্যানিশ ছবি ‘দ্য সি ইনসাইড’-এর কথা। ১৯৬৮ সালে মাত্র পঁচিশ বছর বয়সে একটা ড্রাইভিং অ্যাক্সিডেন্টের পর কোয়াড্রিপ্লেজিক শারীরিক অবস্থায় চলে যান র্যা মোন। স্পেনের উত্তরে গ্যালিসিয়ায় বাড়ির কাছেই সমুদ্রে ঝাঁপাবার সময় জলের গভীরতা আঁচ করতে পারেননি র্যারমোন। সমুদ্রের তলার পাথরে গিয়ে ধাক্কা খায় তাঁর মাথা। সেই আঘাতে স্পাইনাল কর্ডে ভয়াবহ জখমের জন্য ঘাড় থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত প্যারালাইজড হয়ে যায়। সেই পঁচিশ বছর বয়স থেকে শুরু করে জীবনের পরবর্তী ২৯ বছর র্যা মোন লড়াই চালিয়ে গেছেন মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যুর অধিকার পাওয়ার জন্য। জীবন যখন এমন দুর্বহ আর পরমুখাপেক্ষী, তখন ইউথ্যানাশিয়ার মাধ্যমে তার শেষ সীমাটুকু নির্ধারণ করে নেয়ার অধিকার চাওয়া কি মানুষের ভুল?
আসলে অন্য যে কোন বিষয়ের মতই ইউথ্যানাশিয়ার ব্যাপারেও ঠিক না ভুল - এই বিতর্ক বারে বারেই উঠে আসে। ১৯৩৯ সালের ২৪ জুলাই জার্মানীতে হিটলারের নির্দেশে কয়েক লক্ষ জার্মান -ইহুদিকে মারা হয় , যাঁরা শারীরিক বা মানসিকভাবে অসুস্থ। হিটলারের এই প্ল্যানটির নাম ছিল ‘অ্যাকশন টি - ৪। ’ এই প্ল্যান রূপায়নের দায়িত্বে ছিলেন ফিলিপ বোহলার এবং ডঃ কার্ল ব্র্যান্ড। অসুস্থ আর অকেজো মানুষদের দায়িত্ব নিতে পারবে না রাষ্ট্র - এই যুক্তি দিয়েই সাজানো হয়েছিল কুখ্যাত অ্যাকশন টি - ৪ - এর কর্মসূচী। দেশের জাতীয় স্বাস্থ্য সম্পর্কে খুব নাক উঁচু ছিলেন
হিটলার। ‘নীচু জাত’ হিসেবে ইহুদি আর জিপসিদের চিহ্নিত করে তাদের হত্যার পাশাপাশি ‘মানসিকভাবে অসুস্থ’ আর্যদেরও হত্যা করে হিটলারের এই অ্যাকশন টি- ৪ প্ল্যান। বিবিসি এই প্ল্যানকে বিবৃত করেছিল প্রথম ‘স্টেট-স্পনসর্ড ইউথ্যানাশিয়া’ বলে। ১৯৩৯ থেকে ১৯৪১ পর্যন্ত প্রায় ষাট হাজার জার্মানকেও গোপনে ইঞ্জেকশন দিয়ে হত্যা করে অ্যাকশন টি - ৪ প্ল্যান। এর অন্যতম হোতা, অধ্যাপক রবার্ট জে. লিফটন বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়ে বলেছিলেন, ‘রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব হত্যা করা। সমাজকে শৃঙ্খলাবদ্ধ আর সুস্থ রাখার জন্য রাষ্ট্র হত্যা করতে পারে।’ নিঃসন্দেহে এই স্টেট-স্পনসর্ড ইউথ্যানাশিয়া এক বিরাট ভুল। এর মধ্যে কোনও ‘মার্সি ’ নেই, শুধু চূড়ান্ত আত্মশ্লাঘায় যথেচ্ছাচারী ‘কিলিং’ ব্যাপারটাই আছে। কোনও অবস্থাতেই এটা সমর্থনযোগ্য নয়।
মানুষের জীবনে বার্ধক্য, জরা, অসুস্থতা খুবই স্বাভাবিক। তার থেকে ছুটি চাওয়ার প্রশ্নই নেই, কারণ তা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু দেহ আর মন যদি মানুষের মত অবস্থায় আর না থাকে, বোধহীন আর যন্ত্রচালিত হয়; তখনও সে জীবনকে প্রলম্বিত করাতে অর্থ, মর্যাদা, উত্তরসূরীদের ধৈর্য- সবেরই ক্ষতি। সেখানে ইউথ্যানাশিয়ার মাধ্যমে মর্যাদাপূর্ণভাবে জীবনকে শেষ করা কি ভুল? নিশ্চয়ই নয়! অরুণা শাহবাগের কথা ভাবুন। সুদীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে কি নিদারুণ জীবন! সেই জীবনের একটা মর্যাদাপূর্ণ ইতি টানতে চাওয়া তো ভুল হতে পারে না! তাই দীর্ঘদিন ধরে সেই অধিকারটুকু পাওয়ার জন্য লড়াই চালিয়ে গেছেন তাঁর বন্ধু-পরিজনরা। তবে আশঙ্কা ও থেকে যায়, আমাদের দেশে প্যাসিভ ইউথ্যানাশিয়ার আইনী স্বীকৃতি পাওয়া,ইউথ্যানাশিয়ার ‘ভুল’ প্রয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আসবে না তো? রোগী যদি নিজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অক্ষম হন, তাহলে তাঁর নিকট- আত্মীয় বা বন্ধু কি উত্তরাধিকারী দুরভিসন্ধিতে সম্পত্তি হস্তগত করতে খুনখারাপি শুরু হবে না তো? এইসব ভেবেই আমাদের দেশে প্যাসিভ ইউথ্যানাশিয়ার ভুল বা অপব্যবহার ঠেকাতে সুপ্রীম কোর্ট গাইডলাইন ঠিক করে দিয়েছেন। বলেছেন, লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে নিয়ে অসুস্থ মানুষটিকে পরোক্ষে মৃত্যুর ইন্ধন দেয়া হবে কিনা, সে ব্যাপারে অসুস্থ মানুষটির পরিবার-পরিজন, বন্ধু এবং ডাক্তাররা সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টের অনুমতি নিতে হবে। হাইকোর্টে আবেদন করার পর, অন্তত দু’জন বিচারপতিকে নিয়ে একটি বেঞ্চ গঠন করে প্রধান বিচারপতি সব খতিয়ে দেখবেন, আত্মীয়-পরিজন ডাক্তার এবং রাজ্যের মতামত জানবেন আর তারপরে সিদ্ধান্ত নেবেন। এ ব্যাপারে শেষ কথা বলার দায়িত্ব হাইকোর্টের। আশা করা যায় এভাবে ইউথ্যানাশিয়ার ভুল প্রয়োগ ঠেকানো যাবে।
স্বেচ্ছা মৃত্যুর ব্যাপারে আর একটা মাইলস্টোন হল ‘মরণ পর্যটন’। মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে অন্য লোকে বেড়াতে যাওয়ার যে পৌরাণিক ধারণা, ভাষার সামান্য পরিবর্তন করে সেটাই হয়ে দাঁড়ালো মৃত্যুর জন্যে বেড়াতে যাওয়া, যাকে বলে ‘মরণপর্যটন।’ এ ব্যাপারেও অগ্রণী সুইজারল্যান্ড, জীবন যন্ত্রণা থেকে নিষ্কৃতি পেতে যারা স্বেচ্ছামৃত্যু
বা ইউথ্যানাশিয়ার অধিকারকে ইতিমধ্যেই বৈধ করেছে। নিজেদের দেশে অধিকার না পেলে স্বেচ্ছামৃত্যুর সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা প্রমাণ করে আবেদন করতে পারেন। অনুমতি পেলে, পরবর্তী দায়িত্ব নেবে সেখানকার পর্যটন সংস্থা গুলো একেবারে শেষ নি:শ্বাস পরিত্যাগ করা পর্যন্ত। অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটা বাস্তব। ইউরোপের নানা দেশ থেকে মরণ পর্যটনে শামিল হয়েছেন প্রায় কয়েকহাজার মানুষ  ‘এমন চাঁদের আলো, মরি যদি সেও ভালো, সে মরণ স্বর্গ সমান’- বলেছেন ডি.এল.রায়। ভাবুন একবার, সুইজারল্যান্ডের ওই অলোক সামান্য শুভ্র বরফাস্তীর্ণ নিসর্গ দৃশ্য দেখলে তিনি কী বলতেন! এটাও ঠিক, অমন নয়নাভিরাম সৌন্দর্য দেখতে দেখতে জীবনকে চিরবিরাম দিতে নয়ন মুদে ফেলার তৃপ্তিই আলাদা! ঠিকই তো- ‘মেজাজ টাই তো আসল রাজা, আমি রাজা নয়।’ দু’দুটো স্বেচ্ছামৃত্যুর অধিকারে সাহায্যকারী সংস্থা আছে সুইজারল্যান্ডে। তাদেরই অন্যতম ‘ডিগনিটাস’। শুধু মৃত্যুর সিদ্ধান্ত নেওয়া আর তার বৈধতার অনুমোদন পাওয়া। তারপর জুতো সেলাই করা থেকে চন্ডীপাঠ - সব করে দেবে ‘ডিগনিটাস।’ ব্রিটেনের স্যর এওয়ার্ড ডাউনস তাঁর পতœী জোন - এর সঙ্গে এককথায় সহমরণেই তো গেলেন! নিজে দূরারোগ্য ব্যাধির শিকার না হলেও স্ত্রীর ক্যান্সার খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল শরীরজুড়ে। ২০১০ এর জুলাইতে সহমরণের সিদ্ধান্ত নিয়ে যুগল চলে গেলেন জুরিখে, মরণ পর্যটনে। আবার সম্প্রতি আমেরিকার পিবিএস টিভিতে দেখা গেল এক তথ্যচিত্র, ‘দ্য সুইসাইড ট্যুরিস্ট।’ সেখানেই পর্দায় ফুটে উঠল অধ্যাপক ক্রেগ ইউয়ার্ট-এর পরিবারের গল্প। দূরারোগ্য অখঝ রোগে আক্রান্ত অধ্যাপক কীভাবে সুইজারল্যান্ডে মরণ পর্যটনে গিয়ে ‘ডিগনিটাস ’-এর সহায়তায় মরণ বরণ করলেন। সবসময়েই সব কিছুর বিরোধিতা করার জন্যে তো আর লোকের অভাব নেই। এখানেও কিছু লোক জুটে গেল। মরণ পর্যটন আর সহায়ক সংস্থার ভূমিকা নিয়ে শোরগোল তুলল তারা। মামলা গড়াল ভোটাভুটি পর্যন্ত। একেবারে ফুটিফাটা হয়ে গোহারান হেরে গেল বিরোধীরা। মরণ পর্যটনের স্বপক্ষে ৮৫ শতাংশ ভোট বিরোধীদের নাক কেটে দিল ঘচাং করে। এর মানে দাঁড়াল এই, মানুষকে ইউথ্যানাশিয়া বা স্বেচ্ছামৃত্যুর অধিকার দিতে মরণ পর্যটন ভুল নয় কিছুতেই। এবার ভাবুন, নিজের দেশের ইমিগ্রেশন দপ্তরকে ‘বেড়াতে যাচ্ছি’ বলে সুইজারল্যান্ড গেলেন কেউ, সেখানে গিয়ে স্বেচ্ছামৃত্যু বরণ করলেন, আর ফিরে এলেন না। যতক্ষণ তাঁর দেশে ব্যাপারটা না জানানো হচ্ছে, ততক্ষণ। খাতায় কলমে নিজের দেশে তিনি জীবিত! ঠিক বা ভুল- সব কি রকম গোলমাল হয়ে যাচ্ছে না? এ সব তো গেল আমাদের জীবনের কথা। আমাদের শরীরের কোষেও রয়েছে আর এক স্বেচ্ছামৃত্যুর কাহিনী। আমাদের মত সব বহুকোষী প্রাণীর শরীরে ঘটে চলেছে এই স্বেচ্ছামৃত্যু, যার পোষাকী নাম ‘অ্যাপোপটোসিস।’ গ্রীক শব্দ অ্যাপোপটোসিস-এর অর্থ ঝরে যাওয়া; বিজ্ঞানের পরিভাষায় এ হল ‘প্রোগ্র্যামড সেল ডেথ।’ ভ্রুণ থেকে শুরু করে আমাদের পূর্ণাঙ্গ দেহ ঝরে যাওয়া প্রকৃতির নিয়মে খুব প্রয়োজনীয়। একটি কোষের কার্যকালের মেয়াদ শেষ হবার মুহূর্তে জিন বার্তা পাঠায় কোষের নিউক্লিয়াস থেকে- ‘সময় শেষ। এবার তোমার ঝরে যাওয়ার পালা।’ সেই বার্তা পেয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে আত্মহননকারী প্রোটিনের দল। প্রকৃতির নিখুঁত নিয়মে স্বেচ্ছামৃত্যু হয় কোষটির। এই স্বেচ্ছামৃত্যুও কিন্তু তার আপনজনের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য। কিন্তু কোষ যখন ভুল করে, তখন? যখন ভুল করে জিনের বার্তাকে নাকচ করে, অ্যাপোপটোসিসের ডাকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে ওঠে কোষ - তখন এই ঝরে যাওয়া ব্যহত হয়। সেই স্বেচ্ছাচারী কোষগুলো তখন অমর হয়ে ওঠে, নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়তে থাকে শরীরে। সেটাই ক্যান্সারের সূচনা। কোষ স্বেচ্ছামৃত্যুর সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করলে, তা শরীরকে ঠেলে দেয় ক্যান্সারের অনিবার্য পরিণতির দিকে। (সংকলিত)










  একনজরে চলতি সংখ্যা

  সম্পাদকীয় : স্বাগত ২০১৭! প্রশস্ত হোক সমৃদ্ধি অর্জনের পথ
  গল্প : অন্তরালবাসিনী
  অনুগল্প : দোলা
  ফিচার : জিগোলো! রমরমা এক ব্যবসা
  প্রবাস : মৃত্যুর অধিকার
  বিশ্লেষণ : রোহিঙ্গা নিধনে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ ও ভূরাজনীতির সঙ্কটে বাংলাদেশ!
  চমক! : পলিটিশিয়ান অব দ্যা ইয়ার শেখ হাসিনা
  মতামত : রাজধানীর যানজট সমাধান অসম্ভব নয়
  আন্তর্জাতিক : ট্রাম্পের পরমাণু ঘোষণায় ভয়ংকর পথে বিশ্ব!!
  প্রচ্ছদ প্রতিবেদন : ইমেজ সংকটে বিমান!
  অনুসন্ধান : ইতিহাসের কালো অধ্যায়, মানুষ হয়েছে গিনিপিগ!
  রাজনীতি : রাষ্ট্রপতির সাথে সংলাপ, বাড়ছে অচলাবস্থা অবসানের প্রত্যাশা
  মুক্তিযুদ্ধ : অপারেশন নাট ক্র্যাক
  বিশেষ প্রতিবেদন : জামায়াতের অন্তর্দ্ব›দ্ব চরমে...
  প্রতিবেদন : নাসিকে পরাজয়ে বিএনপিতে অস্বস্তি
  স্বাস্থ্য : অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার ও স্বাস্থ্যহানির ভয়ঙ্কর ঝুঁকি
  ফিচার : মাঞ্জারুল ইসলাম জিপিএ ৫ পেয়েছে
 
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবদুল্লাহ আল-হারুন   |  সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ জিয়াউল হক   |  প্রধান সম্পাদক : আসিফ হাসান

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: দেওয়ান কমপ্লেক্স, ৬০/ই/১ (৭ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: +৮৮-০২-৯৫৬৬৯৮৭, ০১৯১৪ ৮৭৫৬৪০  |  ফ্যাক্স: +৮৮-০২-৯৫৬৬৩৯৮

ইমেইল: editor@weeklymanchitra.com, manchitra.bd@gmail.com
©  |  Amader Manchitra

Developed by   |  AminMehedi@gmail.com