আমাদের মানচিত্র  |  বর্ষ: , সংখ্যা:     ঢাকা, বাংলাদেশ  |  আজ বূধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭  |  




চলতি সংখ্যার প্রচ্ছদ



বর্ষ: ৪, সংখ্যা: ৪৪
রবিবার, ১ জানুয়ারী ২০১৭










free counters






আন্তর্জাতিক পড়া হয়েছে ৩৯২ বার

ট্রাম্পের পরমাণু ঘোষণায় ভয়ংকর পথে বিশ্ব!!

আসিফ হাসান


নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিন নিজ দেশের পরমাণু অস্ত্র জোরদার ও প্রসারিত করতে চান। স¤প্রতি রাশিয়ার প্রতিরক্ষা-প্রধানদের বার্ষিক বৈঠকের সমাপনী অধিবেশনে দেশটির পরমাণু সমর্থ বাড়ানোর আহ্বান জানান পুতিন। তিনি বলেন, রাশিয়ার সেনাবাহিনী যে কোনো সম্ভাব্য শত্রুকে পরাভূত করার সামর্থ্য রাখে। তবে তার পারমাণবিক সামর্থ্য বাড়ানো উচিত। পুতিন আরও বলেন, ‘আমাদের সেনাবাহিনীর কৌশলগত পরমাণু শক্তি জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে পরমাণু অস্ত্রবাহী মিসাইল ব্যবস্থাকে এমনভাবে জোরদার করতে হবে যেন বিদ্যমান ও সম্ভাব্য সব ধরনের মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আতংকগ্রস্ত করে তুলতে পারে।’ পুতিনের এ বক্তব্যের এক ঘণ্টা পর মার্কিন পরমাণু অস্ত্রপ্রসারের আহ্বান জানিয়ে টুইট করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। টুইটে তিনি লেখেন, বিশ্ব এখন পরমাণু শক্তি নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে, তাই যুক্তরাষ্ট্রকেও অবশ্যই তার পরমাণু সামর্থ্য ব্যাপকভাবে জোরদার এবং বিস্তার ঘটাতে হবে।
আমেরিকার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট তার এই টুইটার বার্তা দিয়ে যদি পরমাণু অস্ত্রবিস্তারের কথাই বুঝিয়ে থাকেন তবে তার বিশ্বের জন্য অনেক ভয়ংকর হতে পারে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ট্রাম্পের পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতা বিশ্বকে একটা অনিশ্চিত পথে চালিত করতে পারে। ট্রাম্পের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য খেয়াল করলে দেখা যায়, সব বিষয়ে তার তর্জন-গর্জন করার ইতিহাস রয়েছে। আর তার এই পরমাণু অস্ত্র বিস্তারের ঘোষণা ধাপ্পাবাজিও হতে পারে। কিন্তু তিনি যদি প্রকৃতই পরমাণু অস্ত্র বিস্তার ও স¤প্রসারণ চালিয়ে যান, তাহলে তার পরিণতি মারাত্মক ভয়ংকর হতে পারে। এদিকে রাশিয়া ও আমেরিকার পরমাণু অস্ত্র বিস্তারের ঘোষণাকে চীন সূ²ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গেছে। পরমাণু অস্ত্র বিস্তারের প্রতিযোগিতা কোনো রাষ্ট্রই স্বেচ্ছায় করে না বরং ইচ্ছার বিরুদ্ধে করতে বাধ্য হয়। যেমন শীতল যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন তাদের নিজ নিজ অস্তিত্বের প্রশ্নে ও কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখতে একে অপরের প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখাত এবং নিত্যনতুন অস্ত্রের পরীক্ষা চালাত।
উইনস্টল চার্চিল একবার মন্তব্য করেছিলেন যে অধিক পরমাণু অস্ত্র ধ্বংসস্তূপ তৈরি করার চেয়ে একটু বেশি কাজে দেয়। রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র প্রকল্প যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় কোনো অংশেই কম নয় এবং চীনের যে পারমাণবিক প্রকল্প আছে আছে তা এই দুই দেশের তুলনায় যৎসামান্যই বলতে হয়। যদিও তাদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা লক্ষ্য রয়েছে, রাশিয়া ও চীন তাদের প্রকল্পগুলোকে ডিজাইন করেছে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিরোধ করার জন্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু পারমাণবিক অস্ত্রের দিক দিয়ে ইতোমধ্যে খুব বেশি শক্তিশালী, রাশিয়া ও চীন তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়ানোর ব্যাপারে আরও পদক্ষেপ নিতে পারে যা পুরো বিশ্বকে একটা ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিতে পারে। শীতল যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকে মস্কো ওয়াশিংটনের সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্রের দিক দিয়ে টক্কর দিয়ে চলেছে শুধু নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য। কারণ পশ্চিমা শক্তিকে রাশিয়া সব সময় তাদের জন্য হুমকি মনে করে এসেছে। মস্কো মনে করে, এই প্রতিযোগিতা থেকে একটু পিছিয়ে পড়া মানেই রাশিয়ার ধ্বংস। যদিও রাশিয়ার অর্থনীতি আমেরিকার অর্থনীতির আকারের ভগ্নাংশমাত্র তবু রাশিয়া তার পারমাণবিক প্রতিযোগতা চালিয়ে গেছে। অন্যদিকে বেইজিংয়ের পারমাণবিক অস্ত্র প্রকল্পের লক্ষ্য রাশিয়া বা আমেরিকার মতো ততো উচ্চাভিলাষী নয়। পারমাণবিক অস্ত্রের দিকে দিয়ে চীন শুধু এতটুকু সক্ষম হতে চায় যে, যদি যুক্তরাষ্ট্র কখনও তাদের ওপর প্রথমে আক্রমণ করে বসে তাহলে তার বদলা নিতে কিছু পরমাণু অস্ত্র নিক্ষেপ করতে পারে। ট্রাম্প যদি আমেরিকার পারমাণবিক সক্ষমতা আরও এগিয়ে নেয়, এমনকি তারা যদি রাশিয়ার দিকে তাক করে মোতায়েন রাখা হয় চীন তাতে ভীত হতে পারে যে, আমেরিকা প্রথমে আক্রমণ করে চীনের পরমাণু অস্ত্রগুলোকে ধ্বংস করে দিতে পারে এবং তা চীনের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবস্থাকে অচল করে দিকে পারে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের বক্তব্যের জের ধরে পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতা বাড়ানোর ব্যাপারে ট্রাম্পের টুইটার বার্তা ব্যাখ্যা চাওয়া হলে ট্রাম্পের হবু প্রেস সচিব সন স্পাইসার বলেছেন, কোনো দেশের পরমাণু অস্ত্র জোরদার ও সম্প্রসারণ করাকে ট্রাম্প জবাব না দিয়ে মুখ বুজে সহ্য করবেন না। স্পাইসার এমএসএনবিসি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘বিশ্বে হাতে গোনা কয়েকটি দেশ মাত্র পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী। রাশিয়া হচ্ছে তাদের অন্যতম। চীন হচ্ছে আরেকটা দেশ যারা পারমাণবিক অস্ত্রবিস্তারের ব্যাপারে কথা বলেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য হচ্ছে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের এই বোধ না হচ্ছে যে, পরমাণু অস্ত্র সক্ষমতা বাড়ানো ভালো কোনো ব্যাপার নয়, পরমাণু অস্ত্র জোরদার কারও জন্য মঙ্গলজনক নয়, যুক্তরাষ্ট্র শুধু বসে বসে দেখে যাবে না।’ পর্যবেক্ষকদের মতে, বিশ্ববাসী  বিশেষ এক উৎকণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষায় আছে, তিনি কি আমেরিকার অন্যান্য প্রেসিডেন্টের মতো হবেন, না হিটলারের মাসতুতো ভাই হবেন, তা দেখার জন্য।
অ্যাডলফ হিটলারও কিন্তু মুক্ত ও অবাধ স্বাধীন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জার্মানির চ্যান্সেলর পদ অলঙ্কৃত করেছিলেন। তিনিও গ্রেট জার্মানির স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং মানুষকেও সে স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। জার্মান জাতি আর্য, সে গর্বও ছিল তার। সম্ভবতো ৬০ আখ ইহুদি হত্যা করে তিনি জার্মানিকে আর্যদের জন্য প্রোমিজ ল্যান্ড বানাতে চেয়েছিলেন।
সমস্যা জর্জরিত জার্মানিতে অর্থনৈতিক মন্দা ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে পুরানো সরকার যখন বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছিল এমতাবস্থায় জার্মানির সাধারণ জনগণ নাজি পার্টির হিটলারের বড় বড় কথায় আকৃষ্ট হয়েছিলেন এবং ১৯৩৩ সালের নির্বাচনে ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়ে হিটলার সরকার গঠন করতে সমর্থ হয়েছিলেন। একই অবস্থা বিরাজ করছিল আমেরিকায় এবং বড় বড় কথা বলে ডোনাল্ড ট্রাম্পও নির্বাচিত হলেন। ২০০৮ সাল থেকে আমেরিকা চরম অর্থনৈতিক মন্দার মাঝে দিন অতিবাহিত করছিল।
২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারির ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের দিন। সম্ভবত সেদিন থেকে বিশ্ব এক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে পথ চলা শুরু করবে। ট্রাম্প যে সব ব্যবসায়ী ও জেনারেলের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন, তা দেখে মনে হচ্ছে বিশ্বের বিরাজমান সংকট নিরসন হওয়া তো দূরের কথা, যেকোনও ঠুনকো বিষয়েও বিশ্ব বড় বিপদের সম্মুখীন হতে পারে।
বিশ্লেষকেরা এমনও কথা বলছেন, ট্রাম্পের সময়ে বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হওয়াও বিচিত্র নয়। শুধু একটা ইতিবাচক দিক দেখা যাচ্ছে যে, ট্রাম্প সম্ভবত রাশিয়ার সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে ইচ্ছুক। ইতোমধ্যে ট্রাম্প তার মন্ত্রিসভায় সেক্রেটারি অব স্টেট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন রেক্স টিলারসনকে। টিলারসন বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল কোম্পানি এক্সন মবিলের প্রধান নির্বাহী এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের বন্ধু। তিনি শুধু পুতিনের বন্ধু নন, রাশিয়ার দ্বিতীয় শক্তিশালী ব্যক্তি আইগর ইভানোভিচ সেচিনেরও ব্যক্তিগত বন্ধু। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জ্বালানি কোম্পানি রোজনেফটে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে এক্সন মবিল। ক্রিমিয়ার অন্তর্ভুক্তির পর রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন যখন অবরোধে বসেছিল, তখন রেক্স টিলারসন তার প্রকাশ্য বিরোধিতা করেছিলেন। রাশিয়া তার এ সাহসী ভূমিকার জন্য ২০১৩ সালে রেক্স টিনারসনকে ‘অর্ডার অব ফ্রেন্ডশিপ’ খেতাবে ভূষিত করেছিলেন।
আমেরিকার প্রজন্মের পর প্রজন্মের মানুষ রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকার বৈরিতা দেখতে অভ্যস্ত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের রাশিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্বের উদ্যোগ আমেরিকার মানুষ কিভাবে গ্রহণ করে ভবিষ্যৎ দেখে বোঝা যাবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়ে দুর্ভোগ পোহাবে সম্ভবত মুসলিম বিশ্ব। ট্রাম্প তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন মেরিন কর্পসের অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল জেমস ম্যাটিসকে। তিনি ম্যাড ডগ (পাগলা কুকুর) নামে পরিচিত আবার কেউ কেউ তাকে তার যুদ্ধপ্রীতির জন্য যুদ্ধবাজ সন্ন্যাসী বলেও আখ্যায়িত করেন। মাট্টিস ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধ ও ২০০১ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা অভিযানের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। ২০১৩ সালে তিনি অবসরে যান। তার বয়স এখন ৬৬ বছর। এই যুদ্ধবাজ লোকটি মুসলিমবিদ্বেষী, বিশেষ করে ইরান তার চক্ষুশূল।
ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইকেল ফ্লিনকে। মার্কিন গোয়েন্দা এজেন্সির সাবেক প্রধান ফ্লিন মুসলমানদের আমেরিকা প্রবেশেরও বিরোধী। অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে ট্রাম্প নিয়োগ দিয়েছেন সিনেটর জেফ সেশন্সকে। তিনি ইসলামকে বিষাক্ত মতাদর্শ বলে মনে করেন। এছাড়া মুসলিমবিদ্বেষী হিসেবে পরিচিত মাইকেল পম্পিওকে সিআই-এর প্রধান হিসাবে নিয়োগ দিয়েছেন।
গুরুত্বপূর্ণ পদে যাদের ট্রাম্প নিয়োগ দিলেন, তারা সবাই একতরফা লোক। একতরফা লোকের বিচার-বিবেচনা একতরফাই থাকে। এ বিবেচনাহীন মানুষগুলো বিশ্বকে যেকোনও সময় বিপদের মুখে ঠেলে দিতে কুণ্ঠিত হবে বলে মনে হয় না। ট্রাম্প এরই মাঝে ঘোষণা করেছেন প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনের কোনও কিছুই তিনি মানবেন না।
১৯৯২ সালের ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত ধরিত্রী সম্মেলন থেকে কোনও কথাই আমলে নিচ্ছিল না আমেরিকা। শেষ পর্যন্ত বারাক ওবামা প্যারিস সম্মেলনের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু ট্রাম্পের সুস্পষ্ট ঘোষণা তিনি আমেরিকায় বেকার সৃষ্টিতে সহায়তা করে এমন কোনও পরিকল্পনায় সায় দেবেন না। তিনি আরও বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদ কল্পনাপ্রসূত। জুনিয়ার বুশও প্রেসিডেন্ট থাকার সময় অনুরূপ কথাই বলতেন।
আমেরিকাকে কোনও কাজে বাধ্য করা বাদবাকি দুনিয়ার সাধ্যাতীত। তারা ভোগবাদী, তারা দুনিয়ার স্বনিয়োজিত অভিভাবক। তারা সহজে কারও মতামত গ্রাহ্য করে না। নগরে আগুন লাগলে যেমন দেবালয় রক্ষা পায় না, তেমনি পৃথিবীর এ সংকট থেকে সুখী দেশগুলোও রক্ষা পাবে না। এ সংকট তাদের ওপরও প্রতিশোধ নেবে।
কিন্তু তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলো এ সংকট সামাল দেই কিভাবে! এ সংকট সামাল দিতে তো প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। দারিদ্র্য তো বিপদ বুঝবে না। খেয়ে না খেয়ে হলেও এখাতে তো প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় করতে হবে।
ইসরায়েল পশ্চিম তীরে পুনরায় ইহুদি বসতির জন্য গৃহ নির্মাণের কাজ আরম্ভ করেছে। মিশর নিরাপত্তা পরিষদে নিন্দাপ্রস্তাব গ্রহণের জন্য একটা প্রস্তাব এনেছিল। আমেরিকা এ প্রস্তাবের ভেটো দেবে না বুঝতে পেরে ট্রাম্প মিশরের প্রেসিডেন্ট শিশিকে টেলিফোন করেছেন নিন্দাপ্রস্তাব ভোটাভুটির আগে প্রত্যাহার করে নিতে। শিশিও ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পর ট্রাম্প এর কথা না শুনলে বিপদ আসতে পারে-সম্ভবত তা চিন্তা করে নিন্দাপ্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেয়।
এ যাবৎ ইসরায়েল চেষ্টা করছে আমেরিকার দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের জন্য। কোনও প্রেসিডেন্ট সম্মত হননি কিন্তু ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন তিনি ক্ষমতা গ্রহণের পর দূতাবাস জেরুজালেমে নিয়ে যাওয়ার আদেশ দেবেন। নিরাপত্তা পরিষদে মিশর প্রস্তাব প্রত্যাহারের কথা বলার পরও নিরাপত্তা পরিষদ ভোটাভুটি থেকে বিরত হয়নি। যথাযথ ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দেয়নি অবশ্য,  বিরত ছিল। প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।
ইহুদির ছেলের কাছে ট্রাম্প মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন আর তার ছেলেও বিয়ে করেছে ইহুদি সম্প্রদায় থেকে। ট্রাম্প পারিবারিক পরিবেশেও ইহুদি সম্প্রদায় কর্তৃক প্রভাবিত হবেন। এখন ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কী করবে, তার একটা স্বচ্ছ ধারণা পেয়ে গেছি। ফিলিস্তিনিরা কখনও আমেরিকার সহানভূতি পায়নি। মাঝে মাঝে কার্টার, ক্লিনটন আর ওবামার মতো প্রেসিডেন্টের ছিটেফোঁটা যে সহানভূতি পেতো, এবার ফিলিস্তিনিদের ভাগ্যে তাও জুটবে না। সুতরাং ফিলিস্তিন এলাকায় নিশ্চয়ই সন্ত্রাস বাড়বে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল নীলনকশা ছিল, তার অস্তিত্বের প্রয়োজনে ইরাককে শেষ করা। ইরাক ধ্বংস হয়েছে এবং এখন তার প্রচেষ্টা হচ্ছে ইরানকে ধ্বংস করে দেওয়া। ইরানের দিকে নাকি ১০০ ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েল তাক করে বসিয়ে রেখেছে। ট্রাম্পও এ ব্যাপারে একমত। পরাজিত প্রার্থী হিলারিও নির্বাচনি প্রচারের সময় বলেছিলেন তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে ইরান আক্রমণ করবেন। সুতরাং বলা যায় ইরান এখন ঝুঁকির মুখে।
ইরান যে পারমাণবিক চুক্তি করেছে, তা নাকি ট্রাম্প টুকরা টুকরা করে ছিঁড়ে ফেলে দেবেন। অথচ এ চুক্তিটা জাতিসংঘ অনুমোদন দিয়েছে। ছয় জাতি গোষ্ঠীর সঙ্গে যে পারমাণবিক চুক্তি করেছিল ইরান, শুরু থেকে এই চুক্তিবিরোধী ম্যাকফারল্যান্ডকে ট্রাম্প তার নিরাপত্তা উপ-উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দিয়েছেন। ইরানকে সামাল দেওয়া নাকি হবে তার কাজ। ইরান পরমাণুশক্তি চালিত জাহাজ নির্মাণের কাজ আরম্ভ করেছে এবং তার আন্তর্জাতিক মিত্র রাশিয়াও চীনের সঙ্গে কথাবার্তা বলছে।
চীনকে নিয়ে ট্রাম্পের মাথাব্যথা সবচেয়ে বেশি। ট্রাম্প চীনের সঙ্গে আমেরিকার ব্যবসা বাণিজ্যের পুনর্বিন্যাস করবেন। এ কথা ঘোষণা দিয়েছেন। চীনও পাল্টা ব্যবস্থা আরম্ভ করে দিয়েছে। চীন আমেরিকা থেকে ৩২০ কোটি ডলার বার্ষিক খাদ্যশস্য কেনার একটা রুটিন ব্যবসা ছিল। চীন খাদ্য কেনার সে ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছে।
বিশ্ব চরম এক অস্থিতিশীল যুগে প্রবেশ করছে। সমগ্র বিশ্বের মানুষ চেয়ে আছে ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর কী পদক্ষেপ  নেন তার দিকে। ট্রাম্প যে সব কথা বলছেন, তা যদি সত্যই বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন, তবে বিশ্ব পরিস্থিতি উত্তপ্ত হবে এবং আমেরিকার অর্থনীতি ও মহামন্দার কবলে পড়বে।
বিশৃঙ্খলা ও মন্দার কবলে পড়লে আমেরিকার রাষ্ট্রীয় কাঠামোই হুমকির মুখে পড়বে। বিশ্বশান্তি যেমন বিধ্বস্ত হবে, ঠিক তেমনি বিশ্বব্যবস্থাও ক্ষতবিক্ষত হবে।

তথ্যসূত্র: অনলাইন










  একনজরে চলতি সংখ্যা

  সম্পাদকীয় : স্বাগত ২০১৭! প্রশস্ত হোক সমৃদ্ধি অর্জনের পথ
  গল্প : অন্তরালবাসিনী
  অনুগল্প : দোলা
  ফিচার : জিগোলো! রমরমা এক ব্যবসা
  প্রবাস : মৃত্যুর অধিকার
  বিশ্লেষণ : রোহিঙ্গা নিধনে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ ও ভূরাজনীতির সঙ্কটে বাংলাদেশ!
  চমক! : পলিটিশিয়ান অব দ্যা ইয়ার শেখ হাসিনা
  মতামত : রাজধানীর যানজট সমাধান অসম্ভব নয়
  আন্তর্জাতিক : ট্রাম্পের পরমাণু ঘোষণায় ভয়ংকর পথে বিশ্ব!!
  প্রচ্ছদ প্রতিবেদন : ইমেজ সংকটে বিমান!
  অনুসন্ধান : ইতিহাসের কালো অধ্যায়, মানুষ হয়েছে গিনিপিগ!
  রাজনীতি : রাষ্ট্রপতির সাথে সংলাপ, বাড়ছে অচলাবস্থা অবসানের প্রত্যাশা
  মুক্তিযুদ্ধ : অপারেশন নাট ক্র্যাক
  বিশেষ প্রতিবেদন : জামায়াতের অন্তর্দ্ব›দ্ব চরমে...
  প্রতিবেদন : নাসিকে পরাজয়ে বিএনপিতে অস্বস্তি
  স্বাস্থ্য : অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার ও স্বাস্থ্যহানির ভয়ঙ্কর ঝুঁকি
  ফিচার : মাঞ্জারুল ইসলাম জিপিএ ৫ পেয়েছে
 
উপদেষ্টা সম্পাদক : আবদুল্লাহ আল-হারুন   |  সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ জিয়াউল হক   |  প্রধান সম্পাদক : আসিফ হাসান

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: দেওয়ান কমপ্লেক্স, ৬০/ই/১ (৭ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: +৮৮-০২-৯৫৬৬৯৮৭, ০১৯১৪ ৮৭৫৬৪০  |  ফ্যাক্স: +৮৮-০২-৯৫৬৬৩৯৮

ইমেইল: editor@weeklymanchitra.com, manchitra.bd@gmail.com
©  |  Amader Manchitra

Developed by   |  AminMehedi@gmail.com